১৭ জুন ২০১৯

তুর্কি সেনাদের অগ্রাভিযান-আফরিন থেকে মানবিজ

তুর্কি সেনাদের অগ্রাভিযান-আফরিন থেকে মানবিজ - সংগৃহীত

তুরস্ক ও সিরিয়ার সম্পর্ক হাজার বছরের পুরনো। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্ক আলেপ্পো, দামেশক, হামা, হোমস ও রাকা এলাকা হারায়। ফ্রান্স আফরিন দখল করে রেখেছিল বহু দিন। কিন্তু ওই এলাকার বাসিন্দারা তাদের পছন্দ করেনি। সীমান্ত এলাকায় ফ্রান্স বারবার বোমাবর্ষণ করেছিল। সিরিয়া টুকরা টুকরা হোক, এটা তুরস্ক চাইতে পারে না। ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে প্রবেশ করে আলকায়েদার বাহানা দিয়ে এবং ২০০৩ সালে ইরাকে প্রবেশ করে ‘ওয়েপন অব মাস ডেস্ট্রাকশন’-এর ছুতায়। বিগত ও বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা ও ট্রাম্প দু’জনই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, এই দুই স্থান থেকে মার্কিন সেনা ফিরিয়ে নেয়া হবে। কিন্তু তা হয়নি।

কুর্দি সেনা পিকেকে/পিওয়াইডি সদস্যদের তুরস্ক ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তুরস্ক-সিরিয়ার সীমান্তে আফরিন এনক্লেভের কাছে বিরাট অংশ পিকেকে দখল করে রেখেছিল। পিকেকে তুর্কিদের রাজনৈতিক সংগঠন এবং পিওয়াইডি-ওয়াইজিপি তাদের সামরিক সংগঠন। বৃহত্তর কুর্দি রাষ্ট্রের যে ডাক মোল্লা মোস্তফা বারজানি দিয়েছিলেন, সে রাষ্ট্রে সিরিয়ার এই অংশটিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। আফরিন সে দেশের আলেপ্পো প্রদেশের বড় জেলা। তুরস্কের সীমান্ত এলাকা ‘হাতেই’ ও ‘কিলিস’-এর সাথেও আফরিনের সীমান্ত রয়েছে। পার্বত্য ও তুলনামূলকভাবে দুর্গম হওয়ায় ২০১১ সাল থেকে পিকেকের সশস্ত্র দল সেখানে নিরাপদ আশ্রয় স্থল গড়ে তুলেছে। বিভিন্ন যুদ্ধে অংশ নিয়ে আসছে তারা।

এক সময় দামেশকের আসাদ সরকার ও রাশিয়ার সহায়তায় ওই দল শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ফোরাত নদীর পূর্বাংশে ওদের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্র সামরিক ও আর্থিক সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে। এক সময় যুক্তরাষ্ট্রের সমরসম্ভারে পুষ্ট হয়ে এরা তুরস্ক-সিরিয়া সীমান্তের ৭০ শতাংশ দখল করে নেয়। তুরস্কের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসী কাজের জন্য এখান থেকে ওয়াইপিজি মিলিশিয়া, অস্ত্র, গোলাবারুদ ইত্যাদি তুরস্কে সরবরাহ করে। এখান থেকে তুরস্কের অভ্যন্তরে অ্যান্টি-ট্যাংক ওয়েপন, রকেট লাঞ্চার, ভারী মেশিনগান, কালাশনিকভ রাইফেল, যুক্তরাষ্ট্র নির্মিত এম ১৬ ইনফেনট্র্রি রাইফেল পাঠানোর বিষয় তুরস্কের সমর ইন্টেলিজেন্স নিশ্চিত করেছে।

এসব কারণে তুরস্ক আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান রেখে, জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তকে পাশ না কাটিয়ে, দেশের সার্বভৌমত্ব, জনগণের নিরাপত্তা এবং সিরিয়ার ভূখণ্ডের অখণ্ডতার প্রতি সম্মানবোধ রেখেই আফরিনে অভিযান পরিচালনা করেছিল। তা ছাড়া, আফরিন আইএসেরও বড় ঘাঁটি।
ওয়াইপিজির আক্রমণে ইতোমধ্যে এক লাখ ৫০ হাজার মানুষ আফরিন থেকে আজাজে পালিয়ে গেছে এবং মানবিক সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছে। তুরস্ক আজাজে তিন হাজার গৃহত্যাগীর জন্য ৫০০ তাঁবু তৈরি করেছে। আরো তাঁবু বানানো হচ্ছে। তুরস্কের অভ্যন্তরে সিরিয়ার ৩৫ লাখ উদ্বাস্তু আশ্রয় নিয়েছে। তাদের খাদ্য, চিকিৎসা ও শিক্ষার ব্যবস্থা করেছে তুর্কি সরকার। এই বিপুল শরণার্থীর সিরিয়ায় নিরাপদে ফিরে যাওয়া এবং সেখানে বসবাস করানোর জন্য তুরস্কও চেষ্টা চালাচ্ছে।

তুরস্ক ওয়াইপিজিকে সহায়তা দিতে নিষেধ করলেও যুক্তরাষ্ট্র ২০১৬ সাল থেকে সঙ্ঘাত জিইয়ে রাখার জন্য তাদের সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে। এর মধ্যে রয়েছে বহুমুখী রকেট লাঞ্চার, মিসাইল লাঞ্চার ও বহনযোগ্য লাঞ্চার প্যাড, ৮০ ও ১২০ মিমি মর্টার, এমকে ১৯ গ্রেনেড লাঞ্চার, যুক্তরাষ্ট্র নির্মিত বিজেএম ৭১টাও অ্যান্টি-ট্যাংক মিসাইল ও রিকনেসেন্স ভেহিক্যাল, এফজিএম ১৪৮ জ্যাভেলিন অ্যান্টি-ট্যাংক মিসাইল প্রভৃতি। অথচ এক সময় তুরস্ক এসব কেনার জন্য চেষ্টা করলেও আমেরিকা তা অনুমোদন করেনি। ভূ-অঞ্চলগত সুবিধার কারণে পিকেকে/ওয়াইপিজি তুরস্কের কিলিস প্রদেশে ও হাতেইয়ের বেশ কিছু এলাকা তাদের ফায়ারিং রেঞ্জের ভেতরে রেখেছে।

ইতঃপূর্বে একটি শক্তিশালী কুর্দিস্তানের বিরোধিতা করেছে তুরস্ক, ইরাক ও ইরান। ২০১৭ সালের মার্চে তুরস্ক ‘অপারেশন ফোরাত রিভার শিল্ড’ শেষ করে পূর্ব ও পশ্চিমের সংযোগ কেটে দিতে সক্ষম হয়। কিন্তু ইরাক সীমান্ত দিয়ে সিরীয় বাহিনীর সহায়তায় সেনারা আফরিনে চাইলে প্রবেশ করতে পারে। ২০১৫ সালে আরব ও তুর্কমেন অধ্যুষিত তেল-আবিয়াদে হত্যাযজ্ঞ চালানোর চেষ্টা করেছে এবং স্থানীয়দের দেশছাড়া করার চেষ্টা চালায়। অভিযান শুরু হওয়ার আগেই পর্বতমালা থেকে নিক্ষিপ্ত গোলাগুলিতে নিহত হয়েছে শ’খানেক সাধারণ নাগরিক।

তা ছাড়া, সুযোগ পেলেই তুর্কি সেনাদের ওপর হামলা চালানো হয়। আফরিন অভিযানে তুরস্ক এসব পয়েন্ট থেকে ওয়াইপিজির অবস্থান বিনষ্ট করে দিয়েছে। ওয়াইপিজির অবরোধে ৫০ হাজার অধিবাসী আজাজে পালিয়ে গেছে। তাদের ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু করেছে তুর্কি বাহিনী। ওয়াইপিজির ঘাঁটি ফোরাত নদীর পূর্ব তীরে। সেখানে আমেরিকার সেনারাও আছে।

১৯ জানুয়ারি ২০১৮ গভীর রাতে অভিযান শুরু হয় এবং পরদিন বিশ্বব্যাপী এই সংবাদ তুরস্ক প্রচার করে। ‘অপারেশন অলিভ ব্রাঞ্চের’ উদ্দেশ্য ছিল ওয়াইপিজির দীর্ঘ দিনের অবরুদ্ধ অবস্থানকে ‘পরিচ্ছন্ন’ করা। এক সময় আফরিন থেকেই ওয়াইপিজি নেতা আবদুল্লাহ ওকালান তুর্কিদের ওপর আক্রমণ চালাতেন। ২৫ হাজারেরও বেশি ফ্রি সিরিয়ান আর্মির সদস্য বা এফএসআর তুর্কি বাহিনীকে সহায়তা করছে। ইউফ্রেটিস রিভার শিল্ড অপারেশনেও তুরস্ককে সহায়তা করেছিল। এফএসআর আফরিনে প্রবেশ করতে চায় না; তবে এখানকার বাসিন্দারা নিরাপদে ফিরে আসুক এবং ওয়াইপিজিকে বহিষ্কার করা হোক- এটি চাচ্ছে।

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওয়াইপিজি তেল-রিফাত ও ১৬টি আরব গ্রাম রাশিয়ানদের সহায়তায় দখল করে নেয় এবং হাজার হাজার অধিবাসীকে উদ্বাস্তু বানায়। ওয়াইপিজি ওদের আশ্রয়স্থলেও বোমাবর্ষণ করেছে। তুরস্ক সীমান্তের বাফার জোনে ওয়াইপিজি অধিকৃত এলাকা দিয়েই ইদলিব প্রদেশে বা অন্যত্র যেতে হয়, তখন ওয়াইপিজিকে বড় অঙ্কের ‘ট্যাক্স’ দিতে হয় সাধারণ নাগরিকদের। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ কুর্দি মিলিশিয়াদের এ জন্য সহ্য করেছেন যে, বিদ্রোহীরা যখন বাশারের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরে তখন তার বাহিনীকে সহায়তা করে। অথচ বিদ্রোহী আরবরা অনেকেই সুুন্নি। কুর্দিরাও সুন্নি। কী বিচিত্র রাজনীতি।

একটি বিষয় দেখার মতো। তা হলো, তুরস্কের বিমানবাহিনী আফরিনের আকাশ নির্বিঘেœ ব্যবহার করছে; যা সিরিয়া ও রাশিয়া নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। মনে করা হচ্ছে, তুরস্ক ও রাশিয়ার গোপন সমঝোতা হয়েছে নতুবা ওই এলাকায় তুর্কি যুদ্ধবিমান ওড়া সম্ভব হতো না। এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য চিন্তার বিষয়। কেননা, সিরিয়া ইস্যুতে তুরস্ক হয়তো আরো বেশি রাশিয়ার কাছাকাছি চলে যাবে। আমেরিকা যদি সেনা-ক্যু, গুলেন ইস্যু, ন্যাটো ঘাঁটি প্রত্যাহার, ফেটো বা গুলেনপন্থীদের বিচার এবং ওয়াইপিজিকে সমরাস্ত্র সহায়তা বন্ধের বিষয়ে তুরস্ককে সমর্থন-সহযোগিতা করত, তুরস্ক হয়তো কখনো আফরিনে অভিযান চালাত না এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হতো না।এসব ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি ছাড়া কোনো লাভ হয়নি।

সমালোচকেরা বলছেন, বহিঃশক্তিগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়াকে ধবংস করেছে বেশি। যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা দিয়েছিল, তারা সীমান্তে বড় একটি অংশ দখলে নেবে, এ জন্য কুর্দিদের সহায়তা তাদের দরকার। তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য, যদি কোনো কারণে আমেরিকা ন্যাটোর সৈন্য নামাতে চায়, তবে তুরস্ক সে ময়দান যুদ্ধের জন্য উপযুক্ত মনে করবে না। তখন রাশিয়া ও ইরানকে সে অবস্থা সামাল দিতে হবে। সিরিয়ার কাছে তুরস্কের উপস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতির মতোই।

যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তারা সীমান্তে ৩০ হাজার বর্ডার ফোর্স মোতায়েন করবে সিরিয়ার ‘শান্তি’র জন্য। যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত ইসরাইল ছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ‘শান্তি’র নামে সৈন্য পাঠায়। সীমান্ত এলাকায় বিরাট একটি অংশ তার দরকার। যেখানে কুর্দিরা থাকবে, আমেরিকার সৈন্যরাও থাকবে। সেখান থেকে কখনো প্রয়োজন হলে তুরস্কের অভ্যন্তরে এবং মূলত ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াইপিজির মাধ্যমে আক্রমণ চালাবে। দোসর হিসেবে কাজ করবে ইসরাইল। যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি কাজ হলো- বাশারকে উৎখাত করা। আমেরিকা বলেছে, বাশারের প্রস্থানের পর সিরিয়া পুনর্গঠনের কাজ শুরু হবে। সেটা কবে হবে বলা মোটেই সম্ভব নয়। মসুল ও রাকা পুনর্গঠনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র এখনো কিছু করেনি। এতটুকু কাজও করেনি, যাতে বাস্তুহারা লোকজন অন্তত ঘরে ফিরতে পারে; ‘পুনর্গঠন’ তো অনেক পরের কথা।

তুর্কি নেতা এরদোগান ওয়াইপিজিকে সহায়তা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিন্দা জানিয়ে আসছেন। তিনি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ওয়াইপিজির কাছে চার হাজার ৯০০ ট্রাক অস্ত্র পাঠিয়েছে, এসব আমরা জানি। এসব সন্ত্রাসী বাহিনীকে আমরা শুরুতেই বিনাশ করব।’ দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তুরস্কের সরকার ও জনগণের চেয়ে ‘ওয়াইপিজি’ ও আমেরিকায় নির্বাসিত নেতা ফতেহ উল্লেহ গুলেন বেশি প্রিয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এরদোগানকে অভিযানের লাগাম টানতে বলেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ন্যাটো বাহিনীর আগমনের কোনো ক্ষেত্র যেন তৈরি করা না হয়। ট্রাম্প আরো বলেছেন, তুর্কি ও আমেরিকান সৈন্যদের মধ্যে যেন সংঘর্ষ শুরু না হয়, সেটিও লক্ষ রাখতে হবে। এরদোগান বলে আসছেন, তিন দশক ধরে ওয়াইপিজি তুরস্কে নাশকতামূলক কাজ চালিয়ে আসছে। ওরা সৈন্য, জনসাধারণ ও সম্পদের ক্ষতি করছে। তুরস্কের অভিযান এবং আমেরিকার ৩০ হাজার বর্ডার গার্ড মোতায়েনের প্রস্তুতি সিরিয়ার সাত বছরের পুরনো ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের পরিণতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

তুরস্ক আরো বলেছে, আরেকটি কুর্দি ছিটমহল মানবিজেও তুর্কি সেনাবাহিনী অভিযান পরিচালনা করবে। মানবিজ আফরিন থেকে ১০০ কিলোমিটার পূর্বে। সেখানে আমেরিকার সেনা এসডিএফের সাথে রয়েছে। মানবিজ মিলিটারি কাউন্সিল জানিয়েছে- যদি তুর্কিবাহিনী অগ্রসর হয়, তারাও আক্রমণের জন্য পূর্ণ প্রস্তুত। তুরস্ক এই যুদ্ধকে ইরাক সীমান্ত ও মানবিজ পর্যন্ত নিয়ে যেতে চায়। মানবিজ যুদ্ধ যদি শুরু হয় তা আফরিনের মতো হবে না, আরো অনেক ভয়ঙ্কর হবে।

তুরস্কের সেনারা ফোরাতের পূর্ব ও মানবিজের দিকে অগ্রসর হয়ে গেছে। তুরস্কের সীমান্তে কুর্দিরা কিংবা সিরীয় কুর্দি ওয়াইপিজি যেন কোনো স্বায়ত্তশাসিত এলাকা গঠন করতে না পারে, এ জন্য মানবিজ থেকে ওয়াইপিজিকে সরে যেতে তুরস্ক বার্তা পাঠিয়েছে। নতুবা তুরস্ক অগ্রসর হবে বলা হয়েছে। মানবিজে রয়েছে আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রধারী যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী।

জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা ওয়াইপিজির পোশাক পরিধান করে কুর্দিদের সাথে যুদ্ধ করছে এবং কুর্দিরা মানবিজেই রয়ে গেছে। ফলে ‘সন্ত্রাসীর আখড়া’ তৈরি হয়েই আছে। মার্কিন সেনারা এতে সহযোগিতা করছে। যুক্তরাষ্ট্র শর্ত ভঙ্গ করায় তুরস্ক মানবিজ অভিযানে নেমেছে। সাথে ফোরাত নদীর পূর্ব পাড়েও সামরিক আভিযান চলবে।

যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ায় আইএস বা দায়েশকে রাখতে চায়। যারা দায়েশকে সন্ত্রাসী আখ্যায়িত করে ডজন ডজন দেশে তাদের নির্মূলের জন্য কর্মসূচি নিয়েছে, তারাই সিরিয়ায় দায়েশকে লালন করছে। তুরস্কের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য দায়েশ এবং ওয়াইপিজিকে আমেরিকার দরকার। জেমস জেফরি বলেছেন, সিরিয়ায় মার্কিনিদের ‘ওয়ান মিশন’ হলো, দায়েশকে খতম করা। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি সম্পূর্ণ উল্টো। অভ্যন্তরীণ কোন্দলে সিরিয়া শেষ না হওয়ায় সরাসরি মাঠে নেমেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিগত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামাও ২০১১ সালের আগস্টে বলেছিলেন, ‘আসাদকে যেতেই হবে।’ তবে কার্যত ওবামা পাঁচ বছর চুপ ছিলেন।

ওয়াইপিজি ১৯৮৪ থেকে তুরস্কের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। এমন একটি শক্তিকে যুক্তরাষ্ট্র কার স্বার্থে ছেড়ে দেবে? তুরস্ক বনাম পিকেকে কোন্দলে ৫০ হাজার লোক মারা গেছে। ২০১৫ সালে এরদোগান তুর্কিদের সাথে শান্তিপ্রক্রিয়া বেশ কিছু দূর এগিয়ে নিয়েছিলেন। কিন্তু বিভক্তি, কোন্দল আর সিআইএ’র অপারেশনে সেটি সার্থকতা লাভ করেনি। কুর্দিস্তান ফ্রিডম ফ্যালকন তুরস্কের অভ্যন্তরে মারাত্মক বোমা হামলা চালায়। তুরস্ক তখন যুদ্ধের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদ দমনে এগিয়ে গিয়েছিল। তখন সীমান্তে ও তুরস্কের শহরতলিতে বোমা হামলা উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়।

পরপর দু’টি সার্থক অভিযানে তুরস্ক জয়ী হওয়ার পর এখন মানবিজে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। ফোরাতের পূর্ব দিকে মার্কিন সেনারা ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তুর্কি হামলা প্রতিরোধ করতে অপেক্ষা করছে। তুরস্ক বলছে, মার্কিন সেনারা আমাদের লক্ষ্য নয়। কিন্তু মার্কিন সেনারা ওয়াইপিজির পোশাক পরেই যুদ্ধ করেছে বিভিন্ন স্থানে। তারা যেকোনো মূল্যে ওয়াইপিজিকে রক্ষা করতে চায়।

আসন্ন এই সঙ্ঘাত তুর্কি-মার্কিন যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। তড়িঘড়ি করে ট্রাম্প মানবিজে যৌথ তুর্কি-মার্কিন প্রশাসনিক তদারকির তাস ছুড়ে দিয়েছেন। সেটা ফলপ্রসূ হলে এ পদ্ধতি অন্যান্য স্থানে কার্যকর করার মুলাও ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। আগামী কয়েক দিনে বিষয়টি পরিস্ফুট হবে।

লেখক : অবসরপ্রাপ্ত যুগ্মসচিব, বাংলাদেশ সরকার ও গ্রন্থকার


আরো সংবাদ