২০ মে ২০১৯

হত্যাযজ্ঞটি শত বছর আগের

-

১৯১৮ সালের ১০ ডিসেম্বর। শত বছর আগের একটি দিন। এই দিনে অস্ট্রেলিয়ান অ্যান্ড নিউজিল্যান্ড আর্মি কোর (এএনজেডএসি)-এর সৈন্যরা নির্বিচারে হত্যা করে ১০০ জনের মতো ফিলিস্তিনি গ্রামবাসীকে। এরা ছিল সুরাফেন্দ গ্রাম ও পাশের বেদুইন শিবিরের বাসিন্দা। এদের হত্যার পর সৈন্যরা ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়। এই নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালানোর পেছনে ছিল ছোট্ট একটি ঘটনা। পালিয়ে যাওয়া একজন চোরকে একজন নিউজিল্যান্ডার সৈন্য ধরে ফেললে এই চোরের হাতে এই সৈন্য নিহত হয়। এরই প্রতিশোধ নিতে এএনজেডএসি (আনজাক) সৈন্যরা ফিলিস্তিনিদের ওপর এই হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। সেই যে ফিলিস্তিনি গণহত্যার শুরু, তা নানা বাহিনীর হাতে নানাভাবে আজো অব্যাহত। এর পর থেকে এই শত বছরে নানা ধরনের সন্ত্রাসের শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছে ২৩ লাখ ফিলিস্তিনি, এক লাখের মৃত্যু হয়েছে আরোপিত বঞ্চনার প্রভাবে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ফিলিস্তিনে ব্রিটিশ আগ্রাসনের পরবর্তী সময়ে মৃত্যু হয়েছে ২২ লাখের।

এই হত্যাযজ্ঞ ইতিহাসে পরিচিত ‘সুরাফেন্দ ম্যাসাকার’ নামে। উইকিপিডিয়া এই সুরাফেন্দ ম্যাসাকারের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দিয়েছে এভাবে : সুরাফেন্দের ঘটনা ছিল ফিলিস্তিনের আরব গ্রাম সুরাফেন্দের ও একটি বেদুইন শিবিরের অধিবাসী পুরুষদের জন্য ছিল একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ। এ এলাকাটি এখন ইসরাইলের Tzrifin এলাকা নামে পরিচিত। এএনজেডএসি’র মাউন্টেড ডিভিশনের সৈন্যরা এই হত্যাকাণ্ড চালায় ১৯১৮ সালের ১০ ডিসেম্বর। নিউজিল্যান্ডের একজন সৈন্যকে হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে এই হত্যাকাণ্ড চালায় সৈন্যরা। এই ডিভিশনের সামরিক সাফল্যের নিচে চাপা পড়ে যায় এই নির্বিচার হত্যযজ্ঞের ঘটনা। তবে এই ঘটনা এই ডিভিশন ও ব্রিটিশ কমান্ডার-ইন-চিফ জেনারেল স্যার এডমন্ড অ্যালেনবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ধরনের এক বিভাজনের সৃষ্টি করে।

... ঘটনার আগে সন্ধ্যায় ২০০-এর মতো সৈন্য গ্রামটিতে প্রবেশ করে নারী ও শিশুকে গ্রাম থেকে বের করে দেয়। ভারী লাঠিসোটা ও বেয়নেট নিয়ে সৈন্যরা তখন বাকি গ্রামবাসীর ওপর হামলা চালায় এবং বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়। সুরাফেন্দ গ্রামের ও গ্রামের বাইরের বেদুইন ক্যাম্পের ৪০ জনের মতো লোককে এই হামলায় হত্যা করা হয়। লোকক্ষয়ের সংখ্যা নির্ভর করে রিপোর্টিং অথরিটির দেয়া স্বীকারোক্তি থেকে। তেমন কোনো নিশ্চিত সংখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে একটি বিবরণ মতে, সেদিন ১০০ জনেরও বেশি লোককে হত্যা করা হয়। অজানাসংখ্যক গ্রামবাসী আহত হয়। ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্স ইউনিট এদের চিকিৎসাসেবা দেয়। ... এই হত্যাকাণ্ডের জন্য কাউকে অভিযুক্ত করা হয়নি। কিন্তু ১৯২১ সালে অস্ট্রেলিয়া ৫১৫ পাউন্ড ব্রিটেনকে দেয় গ্রাম ধ্বংসের ক্ষতিপূরণ হিসেবে। নিউজিল্যান্ড দেয় ৮৫৮ পাউন্ড। আর ব্রিটিশ সরকার প্যালেস্টাইন কর্তৃপক্ষকে দেয় ৬৮৬ পাউন্ড। কারণ, স্কটিশ সৈন্যদের একটি ছোট্ট অংশ এই হত্যাযজ্ঞে অংশ নিয়েছিল।

এই বর্বর হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার ৯০ বছর পর টিম ইলিয়ট সিডনি মর্নিং হেরাল্ডে লিখেন : ‘রেজিনাল মেসেঞ্জারের কাছে এটি ছিল ঠিক এমন একটি ঘটনা, যা ছিল অবশ্য ঘটনীয়। তিনি ১৯১৮ সালে ছিলেন বীরসেবায় অস্ট্রেলীয় ষষ্ঠ লাইট হর্স রেজিমেন্টের ট্রুপার। তিনি এই ঘটনায় অংশ নিয়েছিলেন। এটি বিবেচিত অস্ট্রেলিয়ার সামরিক ইতিহাসের ‘ডার্কেস্ট অ্যান্ড ওভারলুকড চাপ্টার’গুলোর অন্যতম একটি চ্যাপ্টার হিসেবে। ... ঘটনাটি ঘটে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার অল্প কিছু সময় পর। আর তা সব ধরনের সরকারি রেকর্ড থেকে মুছে ফেলা হয়। শুধু Gullet-এর ৮৪৪ পৃষ্ঠার সরকারি সামরিক ইতিহাসে এর উল্লেখ করা হয়। এনএসডব্লিউ রিটার্নড অ্যান্ড সার্ভিস লিগ কিংবা লাইট হর্স অ্যাসোসিয়েশন এ সম্পর্কে শোনেওনি। Beersheba নামের একটি নতুন বই লিখেন সাংবাদিক পল ডেলে। তিনি পর্যালোচনা করেন সুরাফেন্দ ম্যাসাকার এবং লাইট হর্সের কাহিনীর ওপর। এই লাইট হর্স বিখ্যাত হয়ে উঠেছিল ১৯১৭ সালের বীরসেবায় ক্যাবালরি চার্জে।

অস্ট্রেলিয়া এই ঘটনার জন্য নিউজিল্যান্ড বাহিনীকে অভিযুক্ত করতে চেয়েছে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ান ওয়ার মেমোরিয়ালের দলিলপত্রে সাক্ষ্যপ্রমাণ রয়েছে এ ঘটনার সাথে অস্ট্রেলিয়ার সংশ্লিষ্টতার। অস্ট্রেলিয়ার সাংবাদিক ও গবেষক পল ডেলে সুরাফেন্দ ম্যাসাকারের শতবর্ষপূর্তির এই সময়ে এমনটিই মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘পূর্বপরিকল্পিত প্রকৃতির এই প্রতিশোধ হামলার পরিকল্পনা করা হয় আরব সরদাররা দশম দিনে খুনিকে আত্মসমর্পণ করাতে অস্বীকৃতি জানানোর পর। দশম দিনের সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রতিশোধ কর্মসূচি প্রণয়ন করা হয় খুবই সতর্কতার সাথে। সৈন্যরা, যাদের মধ্যে বেশ কিছু অস্ট্রেলীয়ও ছিল- সিদ্ধান্ত নেয় এরা অস্ত্র ও বেয়নেট, কুঠারের হাতল ও ধারালো লাঠিসজ্জিত হয়ে সব নারী ও শিশুকে গ্রাম থেকে বের করে দেবে এবং ১৬ বছরের বেশি বয়সী সব পুরুষকে হত্যা করবে এবং বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেবে। এরপর এরা পাশের বেদুইন শিবিরের পুরুষদের হত্যা করবে ও শিবিরও জ্বালিয়ে দেবে। এ ঘটনার জন্য স্কটেরা দোষ দেয় নিউজিল্যান্ডের সৈন্যদের। নিউজিল্যান্ডাররা অভিযোগ করে অস্ট্রেলিয়ানদের ওপর। অস্ট্রেলিয়ানদের অভিযোগ নিউজিল্যান্ডার ও স্কটিশদের ওপর। সরকারি তদন্ত ছিল একটি আইওয়াশ মাত্র। ফলে ব্যাপকভাবে চলে মিথ্যাচার একে অন্যকে রক্ষা করার জন্য। কতজনকে হত্যা করা হয়েছে, এ হিসাবেও আছে গরমিল। সাক্ষ্যপ্রমাণ মতে, নিহতের সংখ্যা ৪০ থেকে ১০০ জন। তদন্তে কোনো এএনজেডএসি (আনজাক) ও স্কটিশ সৈন্যকে দায়ী করা হয়নি সুরাফেন্দ ও বেদুইন শিবির হত্যাকাণ্ড এবং গ্রামটি ধ্বংস করার জন্য।

অবশ্য এসব কিছু থেকে এবং আনজাক সৈন্যদের বেয়নেট থেকে বেঁচে যাওয়া ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুদের ভাগ্যে কী ঘটেছিল, তাও মানুষ জানে না কিংবা ভুলে গেছে। তবে কল্পনা করা যায়, হঠাৎ করে পুরুষসাথীহারা ও ঘরবাড়ি হারা, সেই সাথে ঘর-গেরস্থালি-খাবার-গৃহপালিত পশুপাখি প্রভৃতি সব কিছু হারা এই নারী-শিশুরা কী ভয়াবহ পরিস্থিতিতেই না সেদিন নিপতিত হয়েছিল। এ ধরনের বঞ্চনা ভয়াবহ গণহত্যার বর্ণবাদী প্রপঞ্চ ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না। এ ধরনের প্রপঞ্চ বা ফেনোমেননের সাথে অস্ট্রেলীয় ও নিউজিল্যান্ডার আনজাক বাহিনীর সৈন্যরা পরিচিত যথাক্রমে অস্ট্রেলীয় আদিবাসী গণহত্যা এবং নিউজিল্যান্ড মাওরি গণহত্যা পরিচালনার মধ্য দিয়ে। অস্ট্রেলীয় আদিবাসী গণহত্যাকাণ্ডের ফলে ১৭৭৮ সালের ব্রিটিশ অনুপ্রবেশের ১০০ বছরের সন্ত্রাস ও বঞ্চনায় এই আদিবাসীর সংখ্যা আনুমানিক ১০ লাখ থেকে নেমে এসেছিল এক লাখে। অস্ট্রেলীয় অদিবাসীদের ওপর সর্বশেষ হত্যাযজ্ঞটি চলে মধ্য-অস্ট্রেলিয়ায়, ১৯২৮ সালে। একই কারণে আদিবাসী মাওরি জনগোষ্ঠীর ওপর পরিচালিত গণহত্যার ফলে ১৮০০ সালে যেখানে এই আদিবাসীর সংখ্যা ছিল দুই লাখ, ১৮৯৩ সালে তা নেমে আসে ৪০ হাজারে।

সুদীর্ঘ এক শতাব্দী ধরে ফিলিস্তিনিদের ওপর পরিচালিত গণহত্যার প্রথম সন্ত্রাসী ঘটনা হিসেবে দেখা যেতে পারে সুরাফেন্দ ম্যাসাকারকে। ফিলিস্তিনি গণহত্যায় সন্ত্রাসের শিকার হয়ে নিহত হয়েছে ২৩ লাখ ফিলিস্তিনি। কিংবা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ফিলিস্তিনে ব্রিটিশ অনুপ্রবেশের পর থেকে আজ পর্যন্ত সন্ত্রাসের প্রভাবে সৃষ্ট বঞ্চনার শিকার হয়ে মারা গেছে ২২ লাখ ফিলিস্তিনি। তা সত্ত্বেও প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় সন্ত্রাসবহির্ভূত চলমান দুর্ভিক্ষের কারণে গণহত্যার শিকার হয়েছে এক লাখ ফিলিস্তিনি। ফিলিস্তিনে ব্রিটিশ ও এর অস্ট্রেলীয় ও নিউজিল্যান্ডার চামচাদের সৃষ্ট যুদ্ধে এই দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। লক্ষ করুন, এই জেনোসাইড সংজ্ঞায়িত হয় এভাবে : “In the present Convention, genocide means any of the following acts committed with intent to destroy, in whole or in part, a national, ethnic, racial or religious group, as such : a) Killing members of the group; b) Causing serious bodily or mental harm to members of the group; c) Deliberately inflicting on the group conditions of life calculated to bring about its physical destruction in whole or in part; d) Imposing measures intended to prevent births within the group; e) Forcibly transferring children of the group to another group.”

সুরাফেন্দ ম্যাসাকার ও প্যালেস্টানিয়ান জেনোসাইডকে দেখতে হবে পৈশাচিক ইউরোপিয়ান কলোনিয়াল জেনোসাইডেরই একটি অংশ হিসেবে। অস্ট্রেলীয় লেখক জন ডকারের অভিমত হচ্ছে, অস্ট্রেলীয় সামরিক ইতিহাসে দীর্ঘ দিন ধরে সুরাফেন্দ ঘটনাকে একটি স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখা হলেও তিনি আদিবাসীদের ইতিহাস পাঠ করে এই হত্যাযজ্ঞ ও আদিবাসী ফিলিস্তিনিদের গ্রাম ধ্বংস করার ঘটনাকে অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপনিবেশ স্থাপনের একটি রূপক ঘটনা হিসেবে দেখতে চান। তার মতে, এটি ছিল আদিবাসীদের সরিয়ে সেখানে শেতাঙ্গদের বসত গড়ে তোলারই একটি ঔপনিবেশিক পরিকল্পনা।

যুদ্ধ হচ্ছে বর্ণবাদের একটি পূর্ববর্তী ঘটনা, আর জেনোসাইড হচ্ছে বর্ণবাদের চূড়ান্ত বাস্তবায়ন। বিভিন্নভাবে যুক্তরাজ্যের সেবাদাস কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের সেবাদাস অস্ট্রেলিয়ানরা ৮৫টি দেশে অনুপ্রবেশ করেছে, ব্রিটিশরা ১৯৩টি দেশে, যুক্তরাষ্ট্র ৭২টিতে (দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ৫২টিতে), জার্মানি ৩৯টিতে, জাপান ৩০টিতে, রাশিয়া ২৫টিতে, কানাডা ২৫টিতে, বর্ণবাদী ইসরাইল ১২টিতে, চীন দু’টিতে এবং উত্তর কোরিয়া একটিতেও নয়। অস্ট্রেলিয়া যে ৮৫টি দেশে অনুপ্রবেশ করেছে, এর ৩০টিতেই জেনোসাইড সংঘটিত হয়েছে। ফিলিস্তিনি জেনোসাইডের মাত্রা (সন্ত্রাসে নিহত হয়েছে এক লাখ, আরোপিত বঞ্চনার শিকার হয়ে নিহত হয়েছে ২২ লাখ) ও অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী জেনোসাইডের মাত্রা (সন্ত্রাসের শিকার হয়ে মৃত্যু এক লাখ এবং আরোপিত বঞ্চনার শিকার হয়ে মৃত্যু ২০ লাখ) একই। ফিলিস্তিনি গণহত্যা ও অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী গণহত্যা উভয়ের আকার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর ইহুদি হলোকাস্টের আকার (সন্ত্রাসের অথবা আরোপিত বঞ্চনার শিকার হয়ে মারা গেছে ৫০-৬০ লাখ ইহুদি) একই।

ফিলিস্তিনি জেনোসাইড হচ্ছে বৃহত্তর পরিসরের মুসলিম হলোকাস্ট ও মুসলিম জেনোসাইডের একটি অংশ (তিন কোটি ২০ লাখ মুসলিম নিহত হয়েছে সন্ত্রাসের শিকার হয়ে, ৫০ লাখ মারা গেছে আরোপিত বঞ্চনার শিকার হয়ে এবং ৫০ লাখ নিহত হয়েছে আরোপিত বঞ্চনার ফলে এবং ৯-১১’র ঘটনার পর মিথ্যা অভিযোগে ৩০টি দেশে যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্রদের অনুপ্রবেশের ফলে নিহত হয়েছে দুই কোটি ৭০ লাখ। একইভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের ইহুদি হলোকাস্ট ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের ইউরোপীয় হলেকাস্টেরই অংশ, আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভুলে যাওয়া চীনা হলোকাস্টে অন্তর্ভুক্ত আছে ১৯৩৭-১৯৪৫ সময়ে জাপানের অধীনে চাইনিজ হলোকাস্ট। আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সময়ে বেঙ্গলি হলোকাস্ট (ইন্ডিয়ান হলো কাস্ট) চলেছিল ছিল ব্রিটিশ ও অস্ট্রেলীয়দের কৌশলগত কারণে, যাতে ৬০-৭০ লাখ ভারতীয় নিহত হয়েছিল আরোপিত দুর্ভিক্ষের কারণে।

ইতিহাস এড়িয়ে চললে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটে। তেমনি ম্যাসাকার অস্বীকার করলে ম্যাসাকারের পুনরাবৃত্তি ঘটে। জেনোসাইডকে অস্বীকার করলে জেনোসাইডের পুনরাবৃত্তি ঘটে। হলোকাস্টকে অস্বীকার করলে হলোকাস্টের পুনরাবৃত্তি ঘটে। যুক্তরাজ্যের বিবিসির সমকক্ষ অস্ট্রেলিয়ার জনগণের টাকায় পরিচালিত এবিসি মিডিয়া ‘সুরাফেন্দ ম্যাসাকার’ সম্পর্কে সার্চ দিলে জিরো রেজাল্ট পাওয়া যায়। এ বিষয়ে বিবিসির ওয়েবসাইটে সার্চ দিলে অন্যান্য ম্যাসাকার সম্পর্কে অসংখ্য রেজাল্ট পেলেও সুরাফেন্দ ম্যাসাকার সম্পর্কে জিরো রেজাল্ট পাওয়া যায়। সুরাফেন্দ ম্যাসাকার সম্পর্কে অস্ট্রেলিয়ান ওয়ার মেমোরিয়ালে অ্যাডভান্স সার্চ দিলে বলা হয়- ‘স্যরি, নো রেজাল্ট ফাউন্ড’। এ সম্পর্কে গুগল সার্চ দিলে আসে ৩৫০টি রেজাল্ট। কিন্তু ‘প্যালেস্টাইনি জেনোসাইড’ নামে সার্চ দিলে গুগল এই নামে রেজাল্ট প্রকাশে বাধা দিতে ব্যর্থ হয়। বিং সার্চে ‘প্যালেস্টাইন জেনোসাইড’ নামের সার্চে বাধা আসে। এতে এটি স্পষ্ট, গুগল অবলম্বন করে কুখ্যাত অ্যান্টি-আরব সেন্সরশিপ। গুগলের বোর্ডে রয়েছে ৫০ শতাংশ জায়নবাদী ইহুদি।

সুরাফেন্দ ম্যাসাকারের ঘটনা লুকানোর প্রবল চেষ্টা করেছে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। ঘটনাটি পুরোপুরি ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার অপপ্রয়াস চলেছে। কিন্তু ইতিহাস কখনো চাপা থাকে না। ম্যাসাকার, জেনোসাইড, হলোকাস্ট, মানবাধিকার লঙ্ঘন ইত্যাদি অপকর্ম লুকানোর চেষ্টা কখনো সফল হতে পারে না। ২০১৮ সালের ১০ ডিসেম্বর হচ্ছে জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার সনদ গ্রহণের ৭০ বছর পূর্তির দিন। তেমনি ১০ ডিসেম্বর ২০১৮ হচ্ছে সুরাফেন্দ ম্যাসাকারের শতবর্ষ পূর্তির দিন। এই ঘটনার শত বছর পরও আজকের এই দিনে ফিলিস্তিনিরা চরম নির্যাতিত-নিপীড়িত। সব ধরনের অধিকারহারা। এরা জাতিসঙ্ঘের সার্বজনীন মানবাধিকার সনদের ৩০টি অনুচ্ছেদ থেকে বঞ্চিত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক অধিকারগুলোর একটি হচ্ছে স্বাধীন জীবনের অধিকার। ফিলিস্তিনিরা সন্ত্রাসের শিকার হয়ে সে অধিকার থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত। যারা মানুষকে এই জীবনের অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে, তারা মানবতার শত্রু। তাদের বিরুদ্ধে গড়ে উঠছে ডিভিএস (বয়কট, ডিভেস্টমেন্ট অ্যান্ড স্যাঙ্কশন) আন্দোলন। আপনি যদি মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হন, তবে এই আন্দোলনে একাত্ম হোন। পুরো বিশ্বকে করে তুলুন এক মানবিক পৃথিবী। প্রতিটি মানুষের জীবন করে তুলুন বাধাহীনভাবে উপভোগ্য।


আরো সংবাদ