১৭ আগস্ট ২০১৯

প্রার্থীদের হলফনামা সমাচার

-

নির্বাচনে প্রার্থী হতে হলে হলফনামা দাখিল বাধ্যতামূলক। মনোনয়ন দাখিল করার আগে একজন প্রথম শ্রেণীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে শপথ করে এই হলফনামা দিতে হয়। হলফনামায় ঘোষণা করতে হয় প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা, আয়, সম্পদ, মামলাসংক্রান্ত তথ্যাদি। একান্ত বাধ্য হয়েই আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক সবাই এই নির্বাচনী হলফনামা জমা দিয়েছেন। এসব হলফনামায় দেয়া প্রার্থীদের তথ্য এখন বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। এ কথা সত্য, এই হলফনামায় অনেক প্রার্থী নানা কৌশলে তাদের সম্পদের হিসাব সঠিকভাবে প্রদান করেন না। আবার এমন কিছু সম্পদ আছে যেমন- বাড়ি, জমি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মতো সম্পদের কথা গোপন রাখা তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না।

এমনও দেখা গেছে, একজন সংসদ সদস্য পাঁচ বছর আগে দেয়া হলফনামায় তার আয় ও সম্পদের যে বিবরণ দিয়েছেন, পাঁচ বছর পরও হুবহু এ ব্যাপারে একই পরিমাণ আয় ও সম্পদের তথ্য দিয়েছেন। ব্যাপারটি স্বাভাবিক মনে হয় না। স্বাভাবিকভাবে মনে হয়, এই সংসদ সদস্য তার সম্পদ ও আয় সম্পর্কিত তথ্য দেয়ার ক্ষেত্রে লুকোচুরি করেছেন। আবার বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে একজন এমপির পাঁচ বছর আগে যে পরিমাণ সম্পদ ও আয় ছিল, পাঁচ বছর পর তা বহুগুণে বেড়ে গেছে। এবার এই বেড়ে যাওয়ার পরিমাণ অস্বাভাবিক বলেই মনে হয়। প্রশ্ন জাগে- মাত্র পাঁচ বছরে একজনের সম্পদ এতটা বেড়ে যেতে পারে কী করে? আবার কোনো কোনো প্রার্থী তাদের সম্পদের পরিমাণ এতটাই কম দেখিয়েছেন, যা জেনে সত্যিই অবাক হতে হয়।

একটি প্রথম শ্রেণীর দৈনিকে প্রকাশিত খবরে আমরা জানতে পারি, সংসদ সদস্য রনজিত কুমার রায়ের হলফনামায় দেয়া তার সম্পদ অর্জনের বিস্ময়কর তথ্য। পত্রিকাটি জানিয়েছে- ২০০৮ সালে নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া হলফনামায় সংসদ সদস্য রনজিত কুমার রায় বলেছিলেন, স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে তার স্ত্রীর মোট সম্পদ ছিল নগদ ৭০ হাজার টাকা এবং ১৫ হাজার টাকা দামের ৫ তোলা সোনা। ১০ বছর পর এবারের হলফনামায় সেই একই সংসদ সদস্য বলেছেন, স্ত্রী নিয়তি রায়ের নামে ঢাকার মিরপুরে ২৭১২ বর্গফুটের ফ্ল্যাট, যশোর শহরে তিনটি বহুতল বাড়ি, ৫০ লাখ টাকা দামের আরো দু’টি ফ্ল্যাট, ১৬ লাখ ১০ হাজার টাকা দামের ব্যক্তিগত ব্যবহারের গাড়ি, ব্যাংকে ১৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার ডিপিএস, নগদ ৩৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকার সোনা রয়েছে।

অথচ ২০০৮ সালে রনজিত কুমার রায়ের বার্ষিক আয় ছিল এক লাখ ৬৭ হাজার টাকা, এখন তার সেই আয় দাঁড়িয়েছে ৩৮ লাখ টাকা। এইচএসসি পাস সংসদ সদস্য রনজিত রায়ের আয়ের উৎস পারিতোষিক, ব্যবসায়, কৃষি ও ভাড়া আদায়। তিনি যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর ও সদরের বসুন্দিয়া ইউনিয়ন) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী। তার ২০০৮ সালের হলফনামায় স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে রনজিত রায়ের নিজের নামে এক লাখ টাকার বাঘাপাড়ায় ৪ বিঘা পৈতৃক জমি ও ৫০ হাজার টাকা দামের খাজুরা বাজারে আধাপাকা একটি টিনের ঘর।

আর বর্তমানে তার সম্পদের মধ্যে রয়েছে ঢাকার পূর্বাচলে রাজউকের ১০ কাঠার প্লট, কোটি টাকা দামের দু’টি জিপগাড়ি, বাঘারপাড়া খাজুরা বাজারে ৯০ লাখ টাকার আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন, নগদ দুই কোটি ২৫ লাখ ৮০ হাজার টাকার আসবাব ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী। সংসদ সদস্য হওয়ার আগে আড়তদারি ব্যবসা এবং কৃষিজমি থেকে বছরে আয় ছিল এক লাখ ৬৭ হাজার টাকা। আর এখন তার আয় হচ্ছে কৃষি খাতে ৭২ হাজার, বাড়ি ও দোকান ভাড়া দুই লাখ ১০ হাজার টাকা, ব্যবসায় থেকে ১২ লাখ আট হাজার টাকা, চাকরির পারিতোষিক বেতন ছয় লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং সংসদ সদস্যসহ অন্যান্য সম্মানী থেকে ১৬ লাখ ৬৬ হাজার। সব মিলিয়ে যা দাঁড়ায় ৩৮ লাখ টাকা।

বাঘারপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও জামদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম কাজল ওই পত্রিকাটিকে জানিয়েছেন, প্রথমবার সংসদ সদস্য হওয়ার সময় একটা টিনের ঘর ছাড়া রনজিত রায়ের আর কিছুই ছিল না। ১০ বছর পর কী এমন আশ্চর্য প্রদীপ পেলেন যে, তিনি শত কোটি টাকার মালিক হয়ে গেলেন। নাজমুল ইসলাম দাবি করেন, রনজিত রায় তার হলফনামায় সব সম্পদের হিসাব দেননি। তিনি বলেন, যশোর ও বাঘারপাড়ায় এখন এই সংসদ সদস্যের বহুতল পাঁচটি বাড়ি ও দু’টি ফ্ল্যাট রয়েছে। ঢাকায় রয়েছে আরো দু’টি ফ্ল্যাট। যশোরের উপশহর এলাকায় দুই ছেলের নামে কিনেছেন আরো দু’টি ফ্ল্যাট।

পত্রিকাটি আট সদস্যের হলফনামা বিশ্লেষণ করে বলেছে, মন্ত্রী হওয়ার পর তাদের আয় বেড়েছে, বেড়েছে সম্পদও। অনেকের আয়ের বড় উৎস মন্ত্রী হিসেবে পাওয়া ভাতা। অবশ্য কেউ কেউ ব্যবসা থেকে বাড়তি আয় দেখিয়েছেন। হলফনামায় মন্ত্রীদের স্ত্রীসহ পোষ্যদের সম্পদও বেড়েছে। আবার উন্নয়নের নগদ অর্থ ছাড়াও আছে নানা ধরনের বিনিয়োগ।

হলফনামার হালহকিকত দেখে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল এ সম্পর্কিত অভিমত জানিয়ে গত শুক্রবার একটি লেখা লিখেছেন একটি জাতীয় দৈনিকে। এতে তিনি লিখেন : “দেশ ও জাতি হিসেবে গরিব হলেও জাতির প্রতিনিধিরা সবার পক্ষ থেকে ধন আহরণের যে গতি ও কলাকৌশল জেনে গেছেন, তাতে জাতির ভাব ও মর্যাদা দু’টিই উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হতে বাধ্য। যে ধন অর্জনের গুণপনায় জাতি মুগ্ধ, উল্লসিত ও বিগলিত, তা তো তুচ্ছ টাকা-পয়সার ধন। ডলার, পাউন্ড, লিরা, ফ্রা, রুপি ইত্যাদির ধনভাণ্ডার কানাডার বেগমগঞ্জ, আমেরিকার ম্যানহাটন, লন্ডনের অভিজাত এলাকার দালানকোঠার প্রসঙ্গ এখনো প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠেনি। পৃথিবীর অন্যতম দরিদ্র দেশ বাংলাদেশের কোনো কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে সিঙ্গাপুরের শীর্ষ ধনবানদের তালিকায় দেখে বাঙালিদের ধনগুণে মুগ্ধ সিঙ্গাপুরের এক পত্রিকা বিস্মিত হয়ে খবর প্রকাশ করেছিল। আনন্দে রবিঠাকুরের একটি গান সামান্য পরিবর্তন করে গাইতে ইচ্ছা করে- “তুমি কেমন করে ‘ধন’ করো হে গুণী, আমি শুনি, শুধু অবাক হয়ে শুনি।”

দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল, তার স্ত্রী ও তার কোনো নির্ভরশীলের ব্যাংকে একটি পয়সাও নেই। তবে তার পরিবারের নিট সম্পদ বিগত ১০ বছরে বেড়েছে ৩৮ গুণ। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামা মতে, ২০০৮ সালে ব্যাংকে তার আমানত জমা ছিল তিন লাখ টাকা। তা ২০১৩ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ১০ লাখ ১০ হাজার টাকায়। সে সময়েও তার স্ত্রী ও পোষ্যদের ব্যাংকে কোনো টাকা জমা ছিল না। কিন্তু তার পরিবারের নিট সম্পদের পরিমাণ ২০১৮ সালে এসে দাঁড়িয়েছে দুই কোটি ৬৭ লাখ টাকা, যা ২০০৮ সালে ছিল সাত লাখ টাকা। তার নিট সম্পদে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এক কোটি ৯৫ লাখ টাকার কৃষিবহির্ভূত জমি। তার অস্থাবর সম্পদও বেড়েছে ব্যাপকভাবে, প্রায় ২৮ গুণ। ২০১৮ সালে তার অস্থাবর সম্পদের মূল্য দাঁড়ায় এক কোটি ১২ লাখ টাকা। তার ব্যক্তিগত ঋণের পরিমাণ ৪১ লাখ টাকা। মো: ইউনুস নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে এই ঋণ নিয়েছেন।

মজার ব্যাপার হলো, আওয়ামী লীগ দলীয় এই সংসদ সদস্য ২০১৩ সালের হলফনামায় তার নিজের নামে কোনো ভূমি দেখাননি। তবে তার সর্বসাম্প্রতিক হলফনামা মতে, তিনি দেখিয়েছেন তার ১০ একর অকৃষি জমি রয়েছে; যার দাম ৮২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। যদিও তার কোনো কৃষিজমি নেই, তবুও তিনি ২০১৮ সালে কৃষি থেকে আয় করেন ৯ লাখ টাকা, যা তার বার্ষিক আয় ৩৩ লাখ ৩২ হাজারের এক-চতুর্থাংশ। হলফনামায় এমনটিই তিনি উল্লেখ করেছেন। তার অবশিষ্ট আয় আসে তার বেতন ও ভাতা থেকে। এই কয় বছরে তিনি তার পেশাও পরিবর্তন করেছেন। ২০১৮ সালে তিনি নিজেকে পরিচিত করেছেন ঠিকাদার ও স্থানীয় একটি দৈনিকের সম্পাদক হিসেবে। ২০১৪ সালের নির্বাচনের সময় হলফনামায় তিনি দেখিয়েছিলেন তিনি আর ঠিকাদার নন। শুধু দৈনিক পত্রিকার একজন সম্পাদক।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, প্রার্থীদের হলফনামায় অসত্য তথ্য ও তথ্য গোপন করার ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন যথেষ্ট মনোযোগী নয়। নির্বাচন কমিশন চাইলে প্রার্থীদের দেয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করতে পারে। কিন্তু কমিশন সেটি করছে না। তিনি বলেন, ‘প্রার্থীর তথ্য গোপন খতিয়ে দেখে সত্যটা বের করে নির্বাচন কমিশন যদি কয়েকজনকে অযোগ্য ঘোষণা করত, তাহলে রাজনৈতিক ক্ষেত্র অনেকটা কলুষমুক্ত হতো। ভবিষ্যতে কেউ হলফনামা দেয়ার সময় সতর্ক হতো। ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলেই হলফনামা দিন দিন মূল্যহীন হয়ে পড়ছে।

দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদের হলফনামা পর্যালোচনা করে একটি পত্রিকা জানিয়েছে, ঢাকা-৫ আসনের আওয়ামী লীগের এমপি হাবিবুর রহমান মোল্লার বাসায় গত পাঁচ বছরে কোনো আসবাবপত্র যোগ হয়নি। এই সময়ে তিনি কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক পণ্য কেনেননি। সোনা, অলঙ্কার ও কোনো ধাতু কেনা হয়নি গত পাঁচ বছরে। উল্টো তার আয় কমেছে। হলফনামা মতে, ঢাকা-১৫ আসনের আওয়ামী লীগের এমপি কামাল আহমেদ মজুমদারেরও আর্থিক কোনো উন্নতি হয়নি গত পাঁচ বছরে, বরং অবনতি হয়েছে। তার আয় কমেছে। দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেয়া দুই হলফনামা পর্যালোচনা করে এমন তথ্য মিলেছে। অপর দিকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আয় দ্বিগুণ বেড়েছে। হলফনামায় জমা দেয়া এসব তথ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকেরা।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে যাওয়া প্রার্থীদের সম্পদ খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ তথা টিআইবি। তাদের জমা দেয়া সম্পদের তথ্যবিবরণী খতিয়ে দেখতে নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানিয়েছে জার্মানভিত্তিক সংস্থাটি।

বলা বাহুল্য, বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনের আগে হলফনামা দাখিলের উদ্যোগটি শুরু করাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখেছে বিভিন্ন মহল। এর মাধ্যমে একজন সংসদ সদস্যের সততা পরিমাপের মাপকাঠি আমরা হাতে পাই। কিন্তু এসব হলফনামায় দেয়া সম্পদের তথ্য কার্যকরভাবে খতিয়ে না দেখায় হলফনামার বিষয়টি একটি আনুষ্ঠানিকতায় রূপ নিয়েছে। অথচ এসব হলফনামায় প্রার্থীদের দেয়া তথ্য সঠিক বা মিথ্যা তা যাচাই করে দেখার একটা সুযোগ হাতে পেয়েও কাজে লাগাতে পারিনি। এর ফলে যারা এই হলফনামা দাখিল করছেন, তারাও ততটা সতর্ক হয়ে এই হলফনামা তৈরি করছেন না। উপরন্তু কোনো কোনো ক্ষেত্রে অসত্য তথ্যও উপস্থাপন করছেন।

নির্বাচনের সময় হয়তো নির্বাচন কমিশন ব্যস্ততার কারণে হলফনামায় দেয়া তথ্যের সত্যাসত্য যাচাই করে দেখার সুযোগ না-ও পেতে পারে। তবে নির্বাচনের পরও তা খতিয়ে দেখা যেতে পারে এবং দেখাটা উচিত। কেননা, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) এম সাখাওয়াত হোসেনের মতে, প্রার্থী যদি এমপি পদে নির্বাচিত হওয়ার পর এমন প্রমাণ মেলে যে, তিনি হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন, তবে তার এমপি পদ বাতিল হয়ে যাবে। বিশিষ্ট আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, কার কত সম্পদ আছে, সেটা অনুসন্ধানের জন্য অনেক সময়ের প্রয়োজন হয়। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে এত বড় বিশাল কাজ করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। তবে নির্বাচন কমিশন চাইলে এনবিআর আর দুদকের সাহায্য নিতে পারে। কারণ, এনবিআরের কাছে আয়করের রিটার্ন জমা আছে। এরই মধ্যে দুদক এ ব্যাপারে সহযোগিতা করার ঘোষণা দিয়েছে।

তবে দুদকেরও আছে কিছু সীমাবদ্ধতা। খবরে প্রকাশ, সরকারের সাথে আইনবহির্ভূত ব্যবসায় জড়িত থাকায় এমপি এনামুল হকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়ে দুদক ২০১২ সালের ১০ এপ্রিল সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেয়। চিঠিতে জানানো হয়, এনামুল হক আইনবহির্ভূতভাবে সরকারের সাথে ব্যবসায় জড়িত রয়েছেন বলে দুদকের অনুসন্ধানে জানা যায়। এই চিঠিতে বলা হয়, এনামুল হকের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নর্দান পাওয়ার সলিউশন লিমিটেড ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের মধ্যে রাজশাহীর কাটাখালীতে পাঁচ বছরের জন্য ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট নির্মাণের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

এ ছাড়া, এনামুল হকের অপর প্রতিষ্ঠান এনা প্রপার্টিজ লিমিটেড ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মধ্যে ওই করপোরেশনের বহুতল সিটি সেন্টার নির্মাণের চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ দু’টি চুক্তির মধ্যে বিদ্যুৎ প্ল্যান্টে এনামুল হকের কোম্পানির জেনারেল ম্যানেজার ও সিটি সেন্টারের ক্ষেত্রে এনামুল হক নিজে স্বাক্ষর করেন। বিষয়টি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ (জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আইন)-এর ১২ বিধির লঙ্ঘন উল্লেখ করে জাতীয় সংসদ ও নির্বাচন কমিশনকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয় এই চিঠিতে। জবাবে দুদককে নির্বাচন কমিশন জানায়, এনামুল হকের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন কোনো পদক্ষেপ নেবে না। এর আগে ওই বছরের ৯ মে এ বিষয়ে দুদকের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন জাতীয় সংসদের তৎকালীন স্পিকার আবদুল হামিদ। ওই দিন সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একজন এমপি যদি দুর্নীতি করেন, তবে দুদক তার বিরুদ্ধে তদন্ত করতে পারে। কিন্তু একজন ব্যক্তি এমপি হওয়ার যোগ্য কি না, সে বিষয়ে তদন্ত করার এখতিয়ার দুদকের আছে বলে মনে হয় না। এই এখতিয়ার সংসদের।

আসলে আইনি প্রশ্নের এমন বেড়াজালে পড়েই কার্যত হলফনামা আজ একটি আনুষ্ঠানিকতায় রূপ নিয়েছে।


আরো সংবাদ

bedava internet