১০ ডিসেম্বর ২০১৮

ইমরান খান-ট্রাম্প বিরোধ তুঙ্গে

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইমরান খান - ছবি : সংগৃহীত

চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পাকিস্তানে ‘নিরাপত্তা সহায়তা’ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন ‘আফগান নীতি ও নিরাপত্তা কৌশল’ ঘোষণা করেন, তখন পাকিস্তানে নওয়াজ শরিফ সরকার ক্ষমতায়। বর্তমান সরকারপ্রধান ইমরান খান তখন ইঙ্গিত করে বলেছিলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে টিস্যু পেপার হিসেবে ব্যবহার করেছে।’ পাকিস্তানে সহায়তা কর্তন, ওয়াজিরিস্তানে হামলা ও সরকারবিরোধীদের সহায়তা প্রদান, সীমান্তে শত শত বার ড্রোন হামলায় উপজাতীয় নেতা ও সাধারণ মানুষ হত্যার কারণে পাকিস্তান অনেক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযোগ জানিয়ে আসছিল। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ৮০০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সামরিক সহায়তা কর্তন করেছেন এ জন্য যে, সীমান্তে তালেবানবিরোধী স্থাপনা ধ্বংস এবং তালেবানদের শেষ করতে পাকিস্তান ব্যবস্থা নেবে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, পাকিস্তান উল্টো তালেবানদের আশ্রয় দিয়েছে, প্রতিপালন করেছে। পাকিস্তান বলেছে, আফগান তালেবান ছাড়াও অসংখ্য পাকিস্তানি তালেবান রয়েছে যাদের উদ্দেশ্য আফগানিস্তান নয়, পাকিস্তানে ক্ষমতার পটপরিবর্তন করা। আফগান যুদ্ধের কারণে পাকিস্তান সরকার নিজের মানুষ মেরে সাফ করতে পারে না এবং এটা সম্ভব নয়। আফগানিস্তানে পাকিস্তান ছাড়া আরো শক্তিধর দেশ কাজ করছে, যেমনÑ রাশিয়া, চীন ও ভারত। এরা চুপ করে বসে আছে মনে করার কারণ নেই। পাকিস্তানকে বাদ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তালেবানদের সাথে ‘শান্তি চুক্তির’ চেষ্টা করেও সফল হয়নি। ওদের সাথে সরাসরি আলোচনাও সফল হয়নি।

৩৫তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির সময় (১৯৬১-১৯৬৩) বলা চলে, এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘পা রাখারও কোনো জায়গা’ ছিল না, অথচ তখন পাকিস্তানে ভ্রমণে আসেন তার পত্নী জ্যাকুলিন কেনেডি। তিনি পাকিস্তানে খটক নৃত্য উপভোগ থেকে শুরু করে উটের পিঠে চড়ে বেড়িয়েছেন। ১৯৭১-এ যুক্তরাষ্ট্র ও চীন পরস্পর দু’টি বৈরীভাবাপন্ন দেশের সাথে পাকিস্তান গোপন বৈঠকের ব্যবস্থা করে তাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের দরজা খুলে দেয়। বহুলালোচিত কিসিঞ্জারও তখন বড় ভূমিকা পালন করেন এবং তিনি গোপনে চীন সফর করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের ‘পরম বন্ধু’ পাকিস্তান ২০১৮ সালে দৃশ্যমান ‘শত্রু’তে পরিণত হয়েছে।

বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও পাকিস্তান সেনাবাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আর ভরসা করতে পারছে না। যুক্তরাষ্ট্রও পাকিস্তানকে ছেড়ে ভারতের সাথে কৌশলগত ও সামরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে এবং পাকিস্তানের প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও নিকট অতীতে প্রেসিডেন্ট বুশ ভারত সফরে গিয়ে পরমাণু চুক্তি সম্পাদন করেছেন। বিগত প্রেসিডেন্ট ওবামার সময় অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় ঝুলে থাকা জাতিসঙ্ঘে বিচারাধীন কাশ্মির ইস্যুকে ‘কজলিস্ট’ থেকে বাদ দিয়ে পাকিস্তানকে চরম এক আঘাত করা হয়েছে। এর ওপর আফগানিস্তান ইস্যু নিয়ে উভয় পক্ষের দূরত্ব আরো বাড়ছে।

গত ১৮ নভেম্বর ফক্স নিউজ-এর সাথে সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আবার বিষোদগার শুরু করেছেন। তিনি বলেন, ‘এশিয়ার দরিদ্র দেশ পাকিস্তানকে বিলিয়ন ডলার সহায়তা দিলেও তারা আমাদের জন্য সব বাজে কাজ করেছে।’ তিনি আরো বলেন, “সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমে সহায়তা দেয়া সত্ত্বেও আলকায়েদা এবং ওসামা বিন লাদেনকে পাকিস্তান তার মিলিটারি একাডেমির পাশেই সুন্দর ‘ম্যানশনে’ আশ্রয় দিয়েছে।” ২০১১ সালে আমেরিকার স্পেশাল ফোর্স অ্যাবোটাবাদ থেকে লাদেনকে ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে। মূলত পুরনো বিষয় নিয়ে এই সাক্ষাৎকার ও ইমরানবিরোধী বক্তব্য এমন সময় দেয়া হলো যখন গুঞ্জন উঠেছে, ইসরাইল পাকিস্তানের নয়া প্রশাসনের সাথে সম্পর্ক স্থাপন এবং স্বীকৃতি আদায়ের জন্য বিশেষ বিমানে গোপন সফরে পাকিস্তানে গিয়ে সে দেশের প্রতিনিধি ব্যর্থ হয়েছেন। তদুপরি, মিডিয়ায় স্পষ্টভাবে ইসরাইল বিষয়ে পাকিস্তানের অবস্থান ইমরান খান ব্যক্ত করেছেন। এই ঘটনার সপ্তাহখানেক পরই ট্রাম্প পুরনো কাসুন্দি এবং তার প্রশাসনের সিদ্ধান্তমূলক কিছু ভাবনা নতুন করে প্রকাশ করলেন। সাথে সাথে ইমরান খান টুইটে বলেন, ‘আমেরিকার পক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়ে আমরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। এখন আমাদের জনগণের স্বার্থরক্ষার জন্য যা দরকার, আমরা তা-ই করব।’

‘মাদার অব অল বোম্বস’ ফেলাসহ প্রচণ্ড বোমাবর্ষণ ও যুদ্ধের পরও তালেবানের পরাজিত করা সম্ভব না হওয়ায় ট্রাম্প এখন পাকিস্তানকে দুষছেন। পাকিস্তানের ওলামা পরিষদ বলেছে, “এটা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নয়, ‘মুসলিম মিল্লাতের’ বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ।” এ রকম এক অভ্যন্তরীণ সমস্যায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইমরান খানকে সাবধানে পা ফেলে চলতে হচ্ছে। ইমরান খান টুইট বার্তায় লিখেছেন, ‘১৪০০০০ ন্যাটো সেনা, ২৫০০০০ আফগান সেনা নিয়োগ করে এবং এক ট্রিলিয়ন ডলার খরচ করে যাদের শেষ করতে চেয়েছেন, তারা এখন আগের চেয়েও শক্তিশালী।’ পাকিস্তানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এখন আশঙ্কাজনক পর্যায়ে নেমে এসেছে, তবে এটা অনেক আগে শুরু হলেও ট্রাম্প ঢাকঢোল পেটাচ্ছেন।

ইমরান খান ট্রাম্পের ফক্স নিউজ সাক্ষাৎকারের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে ৭৫০০০ পাকিস্তানি হতাহত হয়েছে ১২৩ বিলিয়ন ডলার অর্থনীতি থেকে খোয়া গেছে, আর আমেরিকার ‘সহায়তা’ হলো ২০ বিলিয়ন ডলার! মি. ট্রাম্প এমন কোনো দেশের নাম উল্লেখ করতে পারবেন না, যারা পরের যুদ্ধের জন্য এমনভাবে চড়ামূল্য দিয়েছে।” ২০০৬ সালে জেনারেল পারভেজ মোশাররফ বলেছিলেন, ৯/১১-এর পরপরই আমেরিকা পাকিস্তানে বোমাবর্ষণ করতে চেয়েছিল। সে কথা সঠিক হলে বুঝতে হবে, পাকিস্তান দ্বিতীয় ইরানে পরিণত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এর মধ্যে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে বড় বড় সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে।

২০০৭ সালে পিপিপি নেত্রী বেনজির ভুট্টোর গাড়িবহরে হামলায় ১৩৯ জন মারা যায় এবং দুই মাস পর রাওয়ালপিন্ডিতে আরেক হামলায় তিনি নিহত হন। ২০০৮ সালে পাকিস্তান অর্ডিন্যান্স (অস্ত্র) ফ্যাক্টরিতে হামলায় ৬৪ জন নিহত হয়। তেহরিকে তালেবান এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। এ বছর ম্যারিয়ট হোটেলে হামলাও বেশ উল্লেখযোগ্য। বিস্ফোরক বোঝাই ট্রাক নিয়ে ঘটানো এই হামলায় ৬৯ জন নিহত ও ২০০ জন আহত হয়েছিল। ২০০৯ সালে মিনাবাজারে গাড়িবোমা হামলায় ১২৫ জন মারা যায় এবং ২০০ জন আহত হয়। হতাহতদের বেশির ভাগ ছিল মহিলা ও শিশু। তালেবান ও আলকায়েদা উভয়েই এই হামলার দায় অস্বীকার করে। লাহোরে ২০০৯ সালে সিরিজ বোমা হামলায় ৬৬ জন মারা যায়, এখানেও বেশির ভাগ ছিল মহিলা। বান্নুতে ভলিবল খেলার সময় গাড়িবোমা হামলায় ১০১ জন নিহত হয়।

একই বছরে ‘লাহোর হত্যাকাণ্ড’ রূপে অভিহিত ঘটনায় একই সময়ে দু’টি শিয়া মসজিদে হামলায় মসজিদের ভেতরেই ৮২ জন মৃত্যুবরণ করেন। তেহরিকে তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ঘটনার দায় স্বীকার করে। এর সদস্যরা একই বছর উপজাতীয় জেলা মোহমন্দে হামলা চালিয়ে ১০৫ জনকে হত্যা করেছে। খাইবার পাখতুন খাওয়ায় ২০১১ সালে পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে হামলা চালিয়ে ৯৮ জনকে হত্যা করা হয়। ২০১৩ সালে পেশোয়ারে সব চার্চে হামলা চালিয়ে ৮২ জনকে হত্যা করা হয়। কথিত জুনদাল্লাহ দল এই আত্মঘাতী হামলার দায় স্বীকার করেছিল। ২০১৪ সালে তেহরিকে তালেবান আর্মি পাবলিক স্কুলে হামলা চালালে ১৫৪ জন নিহত হয়। এর মধ্যে স্কুলছাত্র ১৩২ জন। ২০১৫ সালে সাফোরা গোদে হামলা চালিয়ে ৪৬ জনকে হত্যা করা হয়। ওরা সবাই ইসমাইলি শিয়া সম্প্রদায়ের। ‘জুনদাল্লাহ’ হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে। এদের সাথে আইএসের সম্পর্ক আছে। লাহোরে ইস্টার ডে উপলক্ষে খ্রিষ্টানদের অনুষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ৭৫ জনকে হত্যা করা হয়েছে। জামাতুল আহরার ২০১৬ সালে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। তা ছাড়া, কোয়েটা সরকারি হাসপাতালে হামলা চালালে ৭০ জন নিহত হয়।

২০০১ সালে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ‘তালেবান ও সন্ত্রাস দমন’ অভিযানে যোগ দেয়ার পর এসব বড় বড় হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। না পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা, না আমেরিকান গোয়েন্দা ও কমান্ডো এর কোনো কূলকিনারা করতে পেরেছে। এই নিরপরাধ, শিশু, মহিলা, মুসল্লি, শিয়া ও খ্রিষ্টানদের কেন অকাতরে প্রাণ দিতে হলো? স্বার্থান্বেষীরা চাচ্ছে পাকিস্তানকে অনিরাপদ, অস্থির ও ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে চিত্রিত করতে। পাকিস্তান সরকার বলে আসছে, এ কাজে শুধু তালেবান সন্ত্রাসীরা জড়িত তা নয়, এখানে পার্শ্ববর্তী দেশের অপারেটর এবং সিআইএ’র রোপণ করা চারাগাছও সক্রিয়।

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত আজিজ আহমদ চৌধুরী চলতি বছরের এপ্রিলে পুনরায় মার্কিন সহায়তা চালুর আহ্বান জানালে ট্রাম্প তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসের’ বিরুদ্ধে পাকিস্তান নিজ সম্পদ দিয়ে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। পাকিস্তান ডিফেন্স অ্যানালিস্ট ও অবসরপ্রাপ্ত শীর্ষ সেনাকর্মকর্তা আইজাজ আওয়ান বলেছেন, পাকিস্তানকে নতুন মিত্র খুঁজতে হবে। তার সাফ কথা, ‘আফগান তালেবানদের রাশিয়া সব রকম সহায়তা দিতে চায় এবং এ অঞ্চলে আমেরিকার উপস্থিতি বন্ধ করতে পাকিস্তানকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে ইচ্ছুক।’ লে. জেনারেল ভিনসেন্ট স্টুয়ার্ড সিনেট আর্মড সার্ভিস কমিটিকে রিপোর্টে জানান, ‘পাকিস্তানে বিশেষ রিজার্ভ বাহিনী রয়েছে। আফগানিস্তান যদি ভারতের দিকে ঝুঁকে পড়ে, তখন আফগানিস্তানের জন্য তারা আর কাজ করবে না, আফগানিস্তানে আরো দুর্যোগ নেমে আসবে।’
আফগান-পাকিস্তান সীমান্তে উভয় পক্ষের সেনাদের মধ্যে অনেক সময় ভয়াবহ গোলাগুলি হয়।

সমালোচকেরা বলেছেন, এ রকম মুখোমুখি যুদ্ধের সময় ন্যাটো বাহিনী আফগান পক্ষ নিয়ে ‘ট্রুপ ডিপ্লয়মেন্ট’ করেছে। কাশ্মিরে লাইন অব কন্ট্রোলেও প্রায় সময় ভারত-পাকিস্তান বড় ধরনের গুলিবিনিময় হয়।

সিআইএ অপারেটিভ রেমন্ড ডেভিস পাকিস্তানে মাসখানেক জেলে ছিলেন। তার স্মৃতিচারণমূলক বইতে লিখেছেন, ‘পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ আমেরিকাকে পছন্দ করে না। সরকার ও সেনাবাহিনী কৌশলগত কারণে জনগণের এই মনোভাবের বিরুদ্ধাচরণও করছে না।’ ডেভিস আইএসআই-এর ভূয়সী প্রশংসাও করেছেন। তিনি বলেছেন, ৭০ বছর ধরে সিআইএ এবং আইএসআই-এর মধ্যে সমঝোতা ও গোপন সম্পর্ক চলে আসছে। দু’টি দেশের সম্পর্কের টানাপড়েন সত্ত্বেও এই সম্পর্ক এযাবৎ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। একে অপরকে দিয়ে অনেক অপারেটিভ সহায়তা করেছে।’ রাশিয়া আফগানিস্তান ছাড়ার পর এ দুই গোয়েন্দা সংস্থা একসাথে কাজ করে আসছে। সীমান্তে হামলা, ওয়াজিরিস্তানে বোমাবর্ষণ এবং ড্রোন আক্রমণের পর আইএসআই বেঁকে বসে এবং তথ্য প্রদান বন্ধ করে দেয়। ফলে আফগানিস্তানে আমেরিকার সেনাবাহিনী বেকায়দায় পড়ে যায়। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ আফগানিস্তান বিষয়ে ওয়াশিংটনকে সার্বিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিলেও আলকায়েদা ও তালেবানের বিরুদ্ধে সার্বিক যুদ্ধ পরিচালনা করেনি।

ভবিষ্যৎ পথ এখন দুর্গম। ওয়াশিংটন-ভিত্তিক উডরো উইলসন সেন্টার ফর স্কলারের সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট মাইকেল কুজমেন বলেছেন, ‘সিআইএ-আইএসআই সম্পর্ক নিরাপত্তার ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। তারা প্রয়োজনে যেকোনো সময় নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে একত্রে কাজ করবে।’ এসব বক্তব্য কিছু দিন আগের। ট্রাম্প চলতি বছরের শুরুতে নিরাপত্তা নীতি ঘোষণার পর নওয়াজ শরিফ সরকার ও বর্তমানে ইমরান খান সরকার ট্রাম্পের দাবিকে অসত্য, অবান্তর ও অর্থহীন মন্তব্য করেছে।

ট্রাম্পের ঘোষণার পর পাকিস্তানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘এমন এক বন্ধু, যে সব সময় বিশ্বাসঘাতকতা করে। যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ মিত্রের মতো নয়, আবার বন্ধুর মতোও নয়। তারা এমন বন্ধু, যারা সব সময় বিশ্বাসঘাতকতা করে।’ ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাথে এক সাক্ষাৎকারে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘পাকিস্তানের মাটিকে আফগান যুদ্ধের ময়দান বানাতে দেয়া হবে না।’ তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ফাঁদে পা দেয়া ঠিক হয়নি। আফগান যুদ্ধে তালেবানদের আরো বিরোধিতা করলে পাকিস্তান আরেক আফগানিস্তানে পরিণত হবে। মূলত যুক্তরাষ্ট্র এটাই চায় বলে পাকিস্তানি সমরবিদেরা মনে করেন।

ইমরান খান তখন বিরোধী দলের নেতা; ট্রাম্পের বিষোদগারের পর টুইট বার্তায় তিনি বলেছিলেন, ‘পাকিস্তানকে অসম্মান ও হেনস্তা করতে যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছা করে এটা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার এটাই উপযুক্ত সময়।’ এর ‘প্রতিশোধ নেয়া’র আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, পাকিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিক-অকূটনীতিক সব ব্যক্তি ও গোয়েন্দা সদস্যদের যেন চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।
পিউ রিসার্চ সেন্টার প্রকাশিত জরিপে জানা যায়, ৬০ শতাংশ পাকিস্তানি যুক্তরাষ্ট্রকে শত্রু মনে করে, মাত্র ৯ শতাংশ মনে করে পার্টনার। নিকট ভবিষ্যতে আমেরিকা-পাকিস্তান সম্পর্ক উন্নত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা দৃশ্যমান নেই বিধায় আমেরিকার ওপর সামরিক নির্ভরশীলতা কমিয়ে পাকিস্তান প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম চীন, তুরস্ক ও রাশিয়া থেকে সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বছর শেষ হলো, কিন্তু ট্রাম্পের পাকিস্তান নীতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো কল্যাণ বয়ে আনেনি।
লেখক : অবসরপ্রাপ্ত যুগ্মসচিব, বাংলাদেশ সরকার ও গ্রন্থকার


আরো সংবাদ

যেসব আসনে ‘ধানের শীষের’ প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়েছে (২৮৭৩৪)বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে যারা প্রার্থী হলেন (১৩০২৭)মনোনয়ন না পাওয়া বিএনপির আনিসুল হক বললেন- ব্যক্তি নয় মার্কাই বড় (১১৮১৮)অভিমানে বিএনপি ছাড়লেন মনির খান (১১১৭৬)জোটে ২২ আর উন্মুক্তভাবে ১ আসনে লড়বে জামায়াত (১০৮৭৮)ঢাকা-১৭ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ (৯৭০৯)বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শাহ মোয়াজ্জেমকে লক্ষ্য করে গুলি! (৯২৭০)এত কিছু করেও মির্জা আব্বাসকে ঠেকাতে পারলেন না মেনন (৯২৪৯)বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেলেন খন্দকার মাহবুব (৮৬১২)বিএনপির আরো চূড়ান্ত মনোনয়ন পেলেন যারা (৭৯২০)