১৭ নভেম্বর ২০১৮

ভুটানের বুদ্ধিমান রাজা

ডা: লোটে শেরিং - ছবি : সংগ্রহ

ভুটানের দ্বিতীয় ও শেষ রাউন্ডের নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে ১৮ অক্টোবর ২০১৮। এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর প্রথম রাউন্ডের নির্বাচনের ফলাফলে আমরা জেনেছিলাম ক্ষমতাসীন পিডিপি শোচনীয়ভাবে হেরে যায়। ‘শোচনীয়’ বলা হচ্ছে এ জন্য যে, প্রথম পর্বের ফলাফলে পিডিপি তৃতীয় অবস্থানে চলে যায়। প্রথম রাউন্ডে তৃতীয় হওয়া দলের, দ্বিতীয় রাউন্ডের নির্বাচনে কোনো জায়গা নেই।

ভুটানের মোট জনসংখ্যা প্রায় আট লাখ, যার মধ্যে এবারের যোগ্য ভোটার ছিল প্রায় তিন লাখ। প্রথম রাউন্ডে এই মোট ভোট, প্রধান তিন দলের মধ্যে ভাগ হয়েছিল এভাবে- দ্রুক নিয়ামরুপ শোগপা (ডিএনটি) ৯২ হাজার ৭২২ ভোট, দ্রুক ফুয়েনসাম শোগপা (ডিপিটি) ৯০ হাজার ২০ ভোট আর পিউপুলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (পিডিপি) ৭৯ হাজার ৮৮৩ ভোট। কিন্তু ভুটানের সংবিধান অনুসারে দ্বিতীয় রাউন্ডে আবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ঠিকই। কিন্তু এবার তাতে অংশগ্রহণ করতে পারবে কেবল প্রথম ও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া দল। ফলে ভারতমুখী দল পিডিপি প্রথম রাউন্ডেই বাদ পড়ে যায়। আর প্রথম রাউন্ডে প্রথম হওয়া ডিএনটি শেষ রাউন্ডে নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছে। ভুটানের পার্লামেন্টে মোট আসন ৪৭। এর মধ্যেই বিজয়ী দল হলো, ডা: লোটে শেরিংয়ের দল ডিএনটি। এরা পায় ৩০টি আসন, আর বিরোধী ডিপিটি পায় ১৭টি। ইতোমধ্যে এটাও নির্ধারিত হয়ে গেছে, বাংলাদেশ থেকে পাস করে যাওয়া ডাক্তার শেরিং-ই প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন।

কিন্তু ভারতমুখী দল পিডিপি প্রথম রাউন্ডেই বাদ পড়ে গেছে কথার অর্থ কি যে, তাহলে এখন তার বদলে হবু ক্ষমতার দল যে আসছে সে চীনমুখী? না, তা নয়। মজার কথা হলো, তা কেউ বলছে না। এমনকি আগ্রাসী আচরণের কোনো ভারতীয় ব্যক্তি বা মিডিয়াও এ কথা বলছেন না। যেমন ভারতের সবচেয়ে বড় আর প্রভাবশালী বেসরকারি থিঙ্কট্যাঙ্ক ওআরএফের ফেলো মনোজ যোশি লিখেছেন, ‘ভুটানের হবু সরকারের ভারতের প্রতি মনোভাব অস্পষ্ট। এটা ভারতের উদ্বেগের কারণ হতে পারে না।’ এটা আবার তিনি লিখেছেন তিনি আগ্রাসী হয়ে না দুঃখ করা মুডে। তার এই পুরা লেখাটাই হারুপার্টি বা পরাজিতের ভঙ্গিতে লেখা, আর একটা ক্ষমা চাওয়ার ইঙ্গিতে তো বটেই। প্রথমেই নিজেদের আত্মদোষী হয়ে বলছেন, ‘ভুটানের নির্বাচন ভারতের জন্য ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ, অথচ ভারতের মিডিয়া সেটা আমল করতে পারেনি। এ থেকে পড়শির প্রতি আমরা কেমন গুরুত্ব দেই আমাদের সেই মনোভাবেরই প্রতিফলন এটা।’

আসলে হারুপার্টি বা পরাজিত কথাটা এখানে আক্ষরিক অর্থেই বলা হয়েছে। গত ২০১৩ সালের ভুটানের নির্বাচনের আগের দিন ভুটানে ভারতের সরবরাহ করা তেল গ্যাস জ্বালানির ওপর থেকে ভর্তুকি প্রত্যাহার করে নিয়েছিল ভারত। এমন একই ঘটনা, তবে আরো ভয়াবহভাবে ২০১৫ সেপ্টেম্বরে নেপাল নতুন সংবিধান চালুর ঘোষণা দেয়ায় ভারত জ্বালানি তেল, গ্যাসসহ সব পণ্যের নেপালে আমদানির সব সড়ক অবরোধ করে রেখেছিল দীর্ঘ ছয়মাস ধরে। নেপাল ও ভুটান মূলত ভারতের ওপর দিয়ে বের হতে হয় এমন ল্যান্ডলকড রাষ্ট্র। আর এর সুযোগ নিয়ে নেহরু ১৯৪৯-৫০ সালে এ দুই রাষ্ট্রকে আলাদা দুই কলোনি সম্পর্কের চুক্তিতে বেঁধে ফেলে। যার সার কথা হলো, নেপাল বা ভুটান দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের সব সুযোগ এককভাবে ভারতকে দিতে হবে।

যেমন- নেপাল বা ভুটান তাদের উৎপাদিত পানিবিদ্যুৎ ভারত ছাড়া তৃতীয় আর কোনো বিদেশী রাষ্ট্রে বিক্রি করা যাবে না; অথবা ভারতীয় কোম্পানির মাধ্যমে বিক্রি করতে হবে, নিজে পারবে না। আসলে লুটে নেয়া এই সুবিধার কিঞ্চিত ফেরৎ হিসাবে (তথাকথিত রেসিপ্রোকাল) জ্বালানি তেল ও সিলিন্ডার গ্যাস ভারতের অভ্যন্তরীণ দরে ভর্তুকিতে দিয়ে আসছিল। ভারত এটা দেয়, যাতে ভুটানে ঋণ বিনিয়োগ দিতে অন্যকে করতে না দিয়ে নিজের প্রভাব বজায় থাকে। এ ব্যাপারটি সবচেয়ে বেশি প্রতিফলিত হয়েছেÑ যে ভুটানের ঋণগ্রস্ততা এখন বিশাল নিজ জিডিপির চেয়ে বেশি ১১৮ শতাংশ মোট ঋণ। আর এই ঋণের ৬৪ শতাংশের ঋণ-মহাজন হলো ভারত। ভুটানের বৈদেশিক আয়ের প্রধান উৎস পানিবিদ্যুৎ। ভারতের দিক থেকে ভুটানকে এভাবে বেঁধে রাখা এটাই একালে ভেঙে যাচ্ছে। কারণ, চীনের থেকে ঋণ বা বিনিয়োগপ্রাপ্তি সহজলভ্য হয়ে গেছে একালে, তাই আমার বাড়ির পেছন বাগানে (মানে পড়শি দেশে) অন্যকে ঢুকতে দেবো না বলে ভারতের নাকিকান্না দেখছি আমরা।

এ বিষয়টি ভারতের বদলে চীন ‘ভালো’ বলে ঢোল পেটানো একেবারেই নয়। বরং একচেটিয়া ভারত ভুটানে ব্যবসা বিনিয়োগের উৎস হয়ে থাকার বদলে পাশে চীনও আরেক উৎস হয়ে থাকলে, একচেটিয়াত্ব ভাঙবে। ভুটান তুলনা করতে পারবে। এখান থেকে দেখতে হবে। মূলকথা, ভুটানকে স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে দেয়া যে সে কোনটা নেবে, কাকে কোথায় নেবে- এগুলো বেছে নেয়ার সুযোগ পেতে হবে তাকে।
এ ছাড়া ভারতের পাশাপাশি চীনও যদি ভুটানকে ট্রানজিট দেয় বা সে পায়, তবে ভারতের একচেটিয়া নাগপাশ অন্তত ভুটান একটু মুক্ত, ঢিলা হবে।

একালে ভুটানের জনগণ বিশেষ করে কাজ-চাকরিপ্রার্থী তরুণেরা, এ বিষয়গুলো তাদের না বুঝার আমল না করার কিছু নেই। সহজেই তারা বুঝতে পারে। বিশেষ করে নেপাল তাদের সামনে এক মুক্তির মডেল হয়ে যেখানে হাঁটছে। (ভারত-নেপাল আর ভারত-ভুটান কলোনি চুক্তি একই ড্রাফটের ওপর করা)। আসলে ২০১৩ সালে ভারতের ভর্তুকি তুলে নেয়ার পর থেকে ভুটানের জনমনে প্রথমে ভীতি পরে তা থেকে ক্ষোভ আর শেষে তোলপাড়-বুঝাবুঝি-সচেতনতা (ভুটানের তরুণদের ফেসবুক পেজ বা গ্রুপ দেখলে তা বুঝা যায়) শুরু হয়েছিল। এ ব্যাপারটি টের পায় ভারতের কিছু মিডিয়া। গত মাসে টাইমস অব ইন্ডিয়ার রিপোর্টার সরাসরি মোদিকে ভর্তুকি তুলে নেয়ার এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের দায়ে অভিযুক্ত করেছিল। ওপরে থিঙ্কট্যাঙ্ক ফেলো মনোজ যোশির পরাজিত মনোভঙ্গির কথা বলছিলাম। অনুমান করা যায়, তিনিও এদিকগুলো আমল না করতে পারার কথা নয়। এর পরও তিনি লিখছেন, আগের ভারতমুখী পিডিপির সরকার থাকাতে ও সহযোগিতা করাতে ভারত তখন চীনের সাথে ‘ডোকলাম সঙ্কট’ আরামে মেটাতে পেরেছিল। এটাও একটা চাপাবাজি, ভিত্তিহীন কথা।

প্রথম কথা ভারতীয় সৈন্য প্রায় স্থায়ীভাবে ভুটানে এখনো আছে। ফলে ভুটানের অপর পাড়ে চীনের সীমান্ত পর্যন্ত সেটা আর ভুটানের নয়, যেন ভারতেরই ভূমি ও সীমান্ত এমন অভ্যাস ও বিশ্বাস জন্মে গেছে ভারতের। ঘটনা হলো- কলোনি ব্রিটিশ, চীনের সেকালের রাজারা আর নেপাল-ভুটানের করদরাজ্য ও রাজা। এদের সীমান্ত বহু অংশ সেকালেই বিতর্কিত ছিল, যা ভিন্ন ভিন্ন দাবির সীমানা হয়েই এখনো থেকে গেছে। (চীন-ভারত সীমান্তের বিতর্ক এমনই উদাহরণ) চীন-ভুটানের এমন বিতর্কিত সীমান্ত একালে চীন ও ভুটান পরস্পর এক অংশের দাবি ত্যাগ করে অপর অংশ পেয়ে নিয়ে তারা আপস মিটানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। আয়তনের দিক থেকে চীন ভুটানকে বেশি এলাকা দিয়ে দিতে চায়। কারণ ভুটান থেকে পাওয়া ভূমির কৌশলগত মূল্য বেশি। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে চীন-ভুটানের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক এখনো নেই; বড়ভাই ভারত আইনে বাধা না দিতে পারলেও অখুশি হবে অস্বস্তি হবে এগুলো চিন্তা করে ভুটান এই সম্পর্ক করতে এগোয়নি।

যদিও চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট গত জুলাইয়ে ভুটান সফর করে গেছেন। অথবা তৃতীয় দেশে এমনকি ভারতে চীন-ভুটান পরস্পরের কূটনৈতিক অফিস নিয়মিত ভিজিট করে থাকেন। তবে এটা যোগাযোগ স্বার্থরক্ষার ক্ষেত্রে এক বিরাট বাধা। হবু সরকারের আমলে এ বাধা অপসারণ হবে প্রধান অ্যাজেন্ডা। মনোজ যোশি লিখছেন, ‘ডোকলাম যেটা চীনের দাবি করা, কিন্তু দৃশ্যত ভুটানের জায়গা’। এটা ভুটান কেন নির্বাচনে ইস্যু করেনি এই আপত্তি তুলছে। ডোকলাম ভারতের নয়। ফলে তা চীনের হোক কিংবা ভুটানের তাতে ভারতের কী? ডোকলাম ভুটানের মানে তা ভারতের এই ভুয়া অনুমানে সৈন্য হাঁকিয়েই তো তা ভারত নিজের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করেছিল। ফলে পিডিপির ভুটান সরকার ছিল বলে ভারত ডোকলাম সমস্যা মিটাতে পেরেছিল, এ কথা ভিত্তিহীন। বরং ভুটান ভারতের ওপর বিরক্ত হয়ে একেবারেই নিশ্চুপ নির্বাক ছিল। কিন্তু ভুটানের ডোকলাম রক্ষা করতে অনাহূত ভারত চীনকে বাধা দিতে গেছে, এটা ভুটান পছন্দ করেনি। তাতেই ভারত বুঝেছিল দিন বদলে যাচ্ছে। এটা আর আগের ভুটান নয়। ‘বৌদ্ধ নিশ্চুপতা’ এক বিরাট শক্তি। দুর্বলের নির্বাক থাকা সময়ে এক বিশাল শক্তি। এটা ভারত দ্রুত বুঝলেই তার ভালো।

কারণ, ভুটান ভারতের যেন কলোনি। যেন ভুটানের মালিক অথবা মা-বাবা সে। এই ভুয়া অনুমানের ওপর দাঁড়িয়ে ভারত এতদিন ছড়ি ঘুরিয়েছে, যেটা এখন ক্রমেই অসম্ভব হয়ে উঠবে। এটাই মূল ইস্যু। ভারত হয়তো বলতে চাইবে, আমার ‘শিলিগুড়ি করিডোর’ কোনো যুদ্ধাবস্থার সময় চীন দখল নিতে পারে। হা, হয়তো পারে। কিন্তু সে কারণে ভুটানকে ভারতের কলোনি (১৯৪৯ সালের চুক্তি) হয়ে থাকতে হবে? এটাই কি ভারত বলতে চাইছে? চাইলে খুলে বলুক! এ কারণেই কি ভুটান-চীন কূটনৈতিক সম্পর্ক করতে পারবে না? ভারত চাইলে সে নিজেই এটাকে ভারতের নির্বাচনী ইস্যু বানাক।

বলা হচ্ছে, হবু ক্ষমতাসীন ডিএনটি দল খুবই বোকা। কারণ, তাদের নির্বাচনী মেনিফেস্টোতে কোনো ফরেন পলিসির চ্যাপ্টার ছিল না। ফলে চীন-ভারত বা ডোকলাম ইস্যুতে এদের কোনো বক্তব্য ছিল না। অন্ধের হস্তি দেখার মতো কেউ বলছেন, এই দলটা রাজার অনুগত দল। তাই বিদেশনীতি নেই। ওরা নাকি অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে, অর্থনীতির উন্নতি নিয়ে, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ছড়িয়ে দিতে ইত্যাদিতেই কেবল ব্যস্ত ছিল। ভারতের ইমেরিটাস প্রফেসর মুনিরের এক আর্টিকেলেও এমনটা দাবি করা হয়েছে। এটা তারা দেখতে পায়নি অথবা দেখেও ভিন্ন কথা বলছে।

ব্যাপার হলো, সামরিক ক্ষমতাই একমাত্র ক্ষমতা নয়। যারা দুর্বল তাদের চার চোখের ক্ষমতা ও বুদ্ধি খাটিতে চলতে হয়। ২০০৭ সালে ভুটানের পশ্চিমা শিক্ষিত রাজা যেচে ভুটানকে রিপাবলিক রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করেন। এক কথায় বললে, ক্ষমতায় জনগণকে সংশ্লিষ্ট করা, জনগণের ভেতর দিয়ে এক গণক্ষমতা তৈরি করা। এগুলোই একটি রাষ্ট্র টেকাতে পারে। ভারতের কলোনি চক্ষুকে উপেক্ষা করতে পারে। ছোট আট লাখ জনসংখ্যার রাষ্ট্রে এক উপযুক্ত পদক্ষেপ।

ভারতের কৌশল হলো পড়শি দেশে এক বা একাধিক রাজনৈতিক দলকে নিজের ভাঁড় বানানো। ভারতের দালাল বানানো। গত ২০১৩ সালে ভারতের ভর্তুকি উঠানো থেকে ভুটান এ বিষয়ে শিক্ষা নিয়েছে। ভুটানে রাজার প্রভাব এখনো অনেক। তিনি ভারতের কৌশল অকেজো করে দিয়েছেন। সে কারণে এই নির্বাচনে কোনো বিদেশনীতি বা ভারত অথবা চীন সম্পর্কিত ইস্যু নিয়ে তর্ক-বিতর্ক-তোলা যাবে না। এটা নির্বাচনী আইন এবং এটা কেউ ভঙ্গ করলে নির্বাচন কমিশন জরিমানা করতে পারবে, এই নিয়ম জারি করেছে। আর ওদিকে রাজার মধ্যস্থতা বা সভাপতিত্বে চীন-ভারত বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো মিলে একটা অভিন্ন অবস্থান তৈরি করবে, যেটা ক্ষমতাসীন দল সে অনুযায়ী চলবে, এই হলো সেই কৌশল। এতে ভারত কোনো একটা দলকে তার দালাল বানাতে যাতে না পারে। ফলে এই অর্থে এখন সব দলই রাজার অনুগত। অতএব অচিরেই, হবু ক্ষমতাসীন ডিএনটি দলই চীনের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনসহ ভারতের কলোনি নিগড় ছিন্ন করে ভুটান বিদেশনীতি সাজাচ্ছে- খুব সম্ভবত এটাই দেখব আমরা।

ওদিকে লক্ষ করলে দেখব, ডিএনটি বলছে ভুটানের অর্থনীতি অতিমাত্রায় পানিবিদ্যুৎ বেচাকেন্দ্রিক। এটি বদলাতে হবে। বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পথ বের করতে হবে। এর অর্থ- ভারতের নিয়ন্ত্রিত ও সীমিত বিনিয়োগের খাঁচা থেকে ভুটানকে বের হতে হবে। তাহলে এখন এটা কি আর অভ্যন্তরীণ নীতির নির্বাচন থাকল?

এসবের কিছু খবর অন্তত হিন্দুস্তান টাইমস পেয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। ভারত সরকারকে সাবধান করে তার এক সম্পাদকীয় আগ্রহীরা পড়ে দেখতে পারেন। ওর শিরোনাম হলো- ‘ভারতকে ভুটানের আকাক্সক্ষার সাথে নিজের কৌশলগত স্বার্থ ভারসাম্যপূর্ণ করে গড়তে হবে।’
ভারতের রাজনৈতিক নেতৃত্ব যদি সুজন হয়, একমাত্র তবেই এটা বুঝবে। হ
লেখক : রাজনৈতিক বিশ্লেষক
goutamdas1958@hotmail.com


আরো সংবাদ