২৬ জুন ২০১৯

তনুশ্রী তসলিমা এবং আকবর

তনুশ্রী দত্ত, তসলিমা নাসরিন, এম জে আকবর - ছবি : সংগ্রহ

হিন্দি সিনেমার প্রখ্যাত অভিনেতা নানা পাটেকারের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ করেছেন আরেক অভিনেত্রী ও মডেল তনুশ্রী দত্ত। নানা পাটেকার ভারতের শক্তিমান অভিনেতাদের একজন। আশির দশক থেকে খল চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয় তাকে বেশি জনপ্রিয় করে তুলেছে। ৬৭ বছর বয়সী নানা পাটেকার শুধু হিন্দি নয় মারাঠি সিনেমাতেও অভিনয় করেন। অপর দিকে, বাঙালি অভিনেত্রীর অভিযোগ, একটি ফিল্মের সেটে তাকে হেনস্তা করেছিলেন নানা। ঘটনা সবাই জানলেও কেউ এ নিয়ে টুঁ-শব্দটিও করেননি। সংবাদমাধ্যমও সব জেনেশুনেও চেপে গেছে। বছর দশেক আগে একটি গানের দৃশ্যে নানা তার সাথে অস্বস্তিকর ব্যবহার করেন। তার দাবি, ‘অন্তরঙ্গ হওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন নানা। তার সাথে যোগ দেন কোরিওগ্রাফার গণেশ আচারিয়া এবং রাকেশ সরংসহ সেটের বেশির ভাগই দল পাকিয়ে এ কাজ করেন। যে কারণে এই গান থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন।’ নানা পাটেকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং আইনের আশ্রয় নেন।

তনুশ্রীর এই অভিযোগের পর বলিউডের অনেক অভিনেত্রী ও সিনেমার সাথে জড়িত নারী কর্র্মীরা বিখ্যাত সব অভিনেতা, প্রযোজক ও পরিচালকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় যৌন নিপীড়নের বিবরণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখতে শুরু করেন। ফলে বলিউডের অন্ধকার জগতের নানা দিক বেরিয়ে আসতে থাকে। এর মধ্যে অভিনেতা অলোকনাথের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনেন প্রযোজক ও চিত্রনাট্যকার বিনতা নন্দ। ১৯ বছর আগে বর্ষীয়ান এই অভিনেতার হাতে লাঞ্ছনার বিবরণ দিতে গিয়ে সামাজিকমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘গাড়িতে উঠেই আমি বেহুঁশ হয়ে পড়ি। শুধু মনে আছে, গাড়িতে জোর করে আমার মুখে মদ ঢেলে দেয়া হয়। পরদিন সকালে বিছানায় জ্ঞান ফিরলে প্রচণ্ড যন্ত্রণা অনুভব করি। সেই রাতে আমাকে শুধু ধর্ষণই করা হয়নি, প্রচণ্ড শারীরিক নির্যাতনও করা হয়। আমি বিছানা থেকে উঠতে পারছিলাম না।’

এ ধরনের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে পরিচালক বিকাশ বহেল, বিবেক অগ্নিহোত্রী, সুভাষ ঘাইসহ অন্তত দুই ডজন সিনেমা জগতের প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এমনকি অভিযোগ থেকে বাদ যাননি বলিউডের আইকন অভিনেতা অমিতাভ বচ্চনও। নিজের জন্মদিনে বলিউডের সিনেমা জগতে নারীদের প্রতি অসম্মানের সমালোচনা করে বলেছিলেন, ‘কোনো মহিলাই যেন দুব্যবহার বা অবাঞ্ছিত আচরণের শিকার না হন। বিশেষ করে তার কর্মক্ষেত্রে।’ এই মন্তব্যের এক সপ্তাহ না যেতেই হেয়ার স্টাইলিস্ট স্বপ্নাভবানি এক টুইটার বার্তায় অমিতাভ বচ্চনের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ আনেন। তিনি লিখেছেন- বচ্চন যৌন হেনস্তা করেছেন, এমন বহু ঘটনা আমি শুনেছি। আমি আশা করব সেই মহিলারা এবার অন্তত মুখ খুলবেন। ওর ভণ্ডামি দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে গেছি।

সামজিকমাধ্যম বিশেষ করে ফেসবুক আর টুইটারে নায়ক-নায়িকা শুধু নয় আমলা, বিচারক, সাংবাদিক, শিল্পী- সবার আমলনামা কখন কে প্রকাশ করে দেয় তা নিয়ে এখন এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। আফ্রো-আমেরিকান মানবাধিকার কর্মী তারানা বুর্ক ২০০৬ সালে যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে যখন মি টু আন্দোলন শুরু করেন, তখন এই আন্দোলন এতটা বিস্তার লাভ করবে তা হয়তো অনুমান করেননি। আমেরিকান অভিনেত্রী অ্যালিসা মিলানো ২০১৭ সালে টুইটারের মাধ্যমে এই আন্দোলনের বিস্তৃতি ঘটান। যৌন নিপীড়নবিরোধী আন্দোলনের প্রতীক হয়ে উঠেছে হ্যাশট্যাগ মি টু।

এই আন্দোলন দুনিয়াজুড়ে আলোচিত হয় অস্কার বিজয়ী হলিউড প্রযোজক হার্ভে ওয়েনাস্টাইনের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠার পর। নিউ ইয়র্ক টাইমস ও নিউ ইয়র্কার ম্যাগাজিনে ২০১৭ সালের অক্টোবরে ওয়েনাস্টাইনের বিরুদ্ধে রিপোর্ট প্রকাশ হয়। ডজন খানেক নারী তার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের অভিযোগ আনেন। নানা পাটেকারের মতো ওয়েনাস্টাইনও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। কিন্তু তার এই অস্বীকারের মধ্যে একের পর এক নতুন অভিযোগ উঠে আসতে থাকে। টুইটার এবং ফেসবুকে তার হাতে নিপীড়নের শিকার হলিউড অভিনেত্রী এবং কলাকুশীলরা যৌন নিপীড়নের বিবরণ প্রকাশ করতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত তাকে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। ডাইরেক্টর গিল্ড অব আমেরিকা থেকে তিনি এবং তার স্ত্রী পদত্যাগ করেন। লস এঞ্জেলস পুলিশ ধর্ষণের অভিযোগ তদন্ত শুরু করে। নিউ ইয়র্ক এবং লন্ডন পুলিশও ওয়েনাস্টাইনের যৌন হয়রানির তদন্ত চালায়। ২০১৮ সালের মে মাসে ওয়েনাস্টাইনকে নিউ ইয়র্ক পুলিশ গ্রেফতার করে। ১ মিলিয়ন ডলার দিয়ে তিনি জামিনে মুক্তি পান।

হলিউডের অভিনেত্রীরা প্রযোজক ও পরিচালকদের হাতে কতটা বন্দী তার বিবরণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ হতে থাকে। কমপক্ষে ৮০ জন অভিনেত্রী হার্ভে ওয়েনাস্টাইনের বিরুদ্ধে নিপীড়নের অভিযোগ আনেন। অপর দিকে, ওয়েনাস্টাইন দাবি করেন তিনি পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে এ ধরনের সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। ওয়েনাস্টাইনের এই বক্তব্য খুব একটা গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। তবে উল্টো খবরও এসেছে। হার্ভি ওয়েনাস্টাইনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তুলে ‘মি টু’ আন্দোলনের সূচনায় নেতৃস্থানীয় ভূমিকা নিয়েছিলেন ইতালীয় অভিনেত্রী আসিয়া আর্জেন্টো। এখন তার বিরুদ্ধেই যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হচ্ছে, আসিয়া আর্জেন্টো তার বিরুদ্ধে যেন যৌন হামলার অভিযোগ না করা হয়, সে জন্য অভিনেতা এবং রকসঙ্গীত তারকা জিমি বেনেটকে তিন লাখ ৮০ হাজার ডলার দিয়েছিলেন। জিমি বেনেট তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দেয়ার পর আসিয়া আর্জেন্টো এই অর্থ দেন। এ ঘটনা ঘটেছিল ক্যালিফোর্নিয়ার এক হোটেলে। তখন আসিয়া আর্জেন্টোর বয়স ছিল ৩৭ আর জিমি বেনেটের ১৭ বছরের সামান্য বেশি। আসিয়া আর্জেন্টো হোটেল কক্ষে জিমি বেনেটকে যৌন হেনস্তা করেন বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়ার স্থানীয় আইন অনুযায়ী যৌনকর্মে সম্মতির ন্যূনতম বয়স হচ্ছে ১৮ বছর।

এখন প্রশ্ন হলো, হলিউডের অভিনেত্রী বা নারী কর্মীদের রক্ষাকবচ কী? হলিউডের প্রভাব তো বলিউডে পড়ছে। এমন প্রভাব আমাদের দেশেও যে পড়ছে না তাও নয়। তার সমাধান দিয়েছেন হলিউড আরেক অভিনেত্রী নিকোল কিডম্যান। অভিনেতা টম ক্রুজের সাথে বিয়ে হয়েছিল বলেই তার অভিনয় জীবনের শুরুতেই তিনি যৌন অত্যাচারের হাত থেকে ‘রক্ষা’ পেয়েছেন। নিকোল কিডম্যান এবং টম ক্রুজ ১৯৯০ সালে বিয়ে করেন। তিনি বলেন, ‘খুব অল্প বয়সে আমার বিয়ে হয়। কিন্তু এর মাধ্যমে আমার ক্ষমতা না বাড়লেও, এটা আমাকে সুরক্ষা দেয়।’ তিনি বলেন, ‘আমি প্রেমে পড়ে বিয়ে করি। কিন্তু অত্যন্ত ক্ষমতাশালী লোকের সাথে বিয়ে হওয়ার ফলে আমি যৌন অত্যাচারের হাত থেকে নিরাপদ থাকি।’ যৌন হয়রানি থেকে বাঁচতে নিকোল কিডম্যানের সুরক্ষা ফর্মুলায় নারীবাদীরা হয়তো বিরক্ত হবেন। কিন্তু কিডম্যান বাস্তব পরিস্থিতি থেকে যে এ কথা বলেছেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

বলা হয়ে থাকে সিনেমা ও ক্রিকেট ভারতকে ঐক্যবদ্ধ রাখার প্রধান মাধ্যম। ভারতীয় সমাজে সিনেমার প্রভাব অত্যন্ত প্রবল। সম্ভবত যৌন নিপীড়নের এই প্রভাব অন্য পেশার ওপর পড়ছে। তনুশ্রী দত্তের অভিযোগের পর ভারতের অন্য পেশাতেও যৌন হয়রানির খবরগুলো সামাজিকমাধ্যমে প্রকাশ হতে থাকে। মানুষের অধিকার ও সুরক্ষা নিয়ে যারা সবচেয়ে বেশি সোচ্চার এবং প্রগতিশীল দাবিদার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠতে থাকে। সাংবাদিক থেকে রাজনীতিক এবং মন্ত্রী এম জে আকবরের বিরুদ্ধে একের পর এক নারী সাংবাদিকেরা নিপীড়নের অভিযোগ করেন। বিশেষ করে তিনি যখন এশিয়ান এজের সম্পাদক ছিলেন। সে সময় তার সহকর্মী একাধিক নারী সাংবাদিকদের ওপর তিনি কিভাবে যৌন নিপীড়ন চালিয়েছিলেন সামাজিকমাধ্যমে তা প্রকাশ হওয়ার পর ভারতজুড়ে হইচই শুরু হয়ে যায়। ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবরের অতীত ‘মি টু ইন্ডিয়া’ আন্দোলনে যেন নতুন রূপ পায়। যৌন হয়রানির অভিযোগে ভারতের ইতিহাসে প্রথম কোনো মন্ত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন। এম জে আকবর এসব অভিযোগের জবাবে আইনের আশ্রয় নিয়েছেন। জানিয়েছেন, বিচারের স্বার্থে তিনি পদত্যাগ করেছেন।

মুবাশ্বের জাওয়াদ আকবর। যিনি এম জে আকবর নামে সমধিক পরিচিত। জন্ম বিহারে। অবশ্যই ভারতের প্রভাবশালী সাংবাদিকদের একজন। ৬৭ বছর বয়সী এই সাংবাদিক ও রাজনীতিক শুধু দেশে নয়, দেশের বাইরেও পরিচিত। বাংলাদেশে তার সাংবাদিক বন্ধু ও রাজনীতিকের সংখ্যা একেবারেই কম নয়। তিনি একসময় কংগ্রেসের রাজনীতি করেছেন। লোকসভার সদস্য ছিলেন। রাজীব গান্ধীর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিতে পরিণত হন। শিখ সাংবাদিক খুশবন্ত সিং এবং মুসলিম সাংবাদিক এম জে আকবর দুইজনই ছিলেন গান্ধী পরিবারের ঘনিষ্ঠ। গুজরাট দাঙ্গার পর এম জে আকবর নরেন্দ্র মোদির কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। সেই তিনি হঠাৎ বিজেপিতে যোগ দিলেন। এরপর মন্ত্রী। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মুসলিম দেশগুলোর সাথে বিজেপির পররাষ্ট্রনীতির সেতুবন্ধনের কাজটি ভালোভাবেই করে যাচ্ছিলেন। একই সাথে বাংলা ভাষা জানা এই সাংবাদিক এ দেশের রাজনীতিতে ভারতীয় ভূমিকা নিয়েও তৎপর ছিলেন। কিন্তু একের পর এক কেলেঙ্কারির খবরে ক্যারিয়ারে মন্ত্রী হিসেবে তার সফলতার পালক থেকে খসে পড়ল।

শুধু এম জে আকবর নন, ভারতের আরো নামীদামি সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছেন হিন্দুস্থান টাইমসের রাজনৈতিক সম্পাদক প্রশান্ত ঝা, টাইমস অব ইন্ডিয়ার হায়দ্রাবাদ আবাসিক সম্পাদক কে আর শ্রীনিবাস, বিজনেস স্ট্যানডার্ট পত্রিকার প্রিন্সিপাল করসপনডেন্ট মায়ানঙ্কা জৈন, ডিএনএর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক গৌতম অধিকারী। শুধু সাংবাদিক নন ভারতের পদ্মভূষণ খেতাবে ভূষিত শিল্পী যতীন দাসের বিরুদ্ধেও যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। প্রবীণ এই শিল্পীর কন্যা নন্দিতা দাস খ্যাতিমান অভিনেত্রী ও নারী অধিকার নিয়ে সোচ্চার। মি টু আন্দোলনে ভারতের প্রগতিশীল মানুষদের যেন মুখোশ খুলে পড়ছে। আবার অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন শুধু মন্ত্রী হওয়ার কারণে কী আকবরকে নিয়ে বেশি হইচই হলো ? নাকি তার মুসলিম পরিচয়ও এখানে কাজ করছে। অন্যদের ক্ষেত্রে এতটা তীব্র আক্রমণ আসেনি।

এখন প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশে যৌন হয়রানির চিত্রটি আসলে কেমন? পরিস্থিতি কিন্তু মোটেও সুবিধার নয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এসব যৌন নির্যাতনের ঘটনার বিষয়ে সরাসরি মুখ খুলতে চান না কেউ। শোবিজ বা করপোরেট জগতে নিজেদের সাথে ঘটে যাওয়া এমন হয়রানির ঘটনা নারীরা সাধারণভাবে চেপে যান। ২০১৬ সালে কমনওয়েলথ হিউম্যান রাইটস ইনিশিয়েটিভ সিএইচআরআইর গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশের পুলিশে কর্মরত নারী কনস্টেবলদের ১০ শতাংশের বেশি সদস্য যৌন হয়রানির শিকার হন। আর উপপরিদর্শক ও সহকারী উপপরিদর্শকদের শতকরা তিন ভাগ এ ধরনের ঘটনার শিকার হন। ক্যাডার পর্যায়ের নারী পুলিশরাও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির বাইরে নন- ওই রিপোর্টে উঠে এসেছে।

পুলিশের মধ্যে যদি এই চিত্র হয় তাহলে অন্য পেশায় অবস্থাটা কেমন তা সহজে অনুমান করা যায়। আমাদের দেশে কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিকদের হাতে যৌন নিপীড়নের চিত্র মি টু আন্দোলনের আকারে এখনো আমরা সামাজিকমাধ্যমে জানতে পারিনি। সামাজিকমাধ্যম ফেসবুক বা টুইটার চালু হওয়ার আগে ২০০৩ সালে বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন তার বহুল আলোচিত এক বইয়ে এ দেশের নাম করা কবি এবং সংবাদপত্রের একাধিক সম্পাদক ও টেলিভিশন মালিকদের যৌন হেনস্তার নানা বিবরণ তুলে ধরেছেন। এ দেশে বই লিখে মি টু আন্দোলনটা মনে হয় তিনি শুরু করেছিলেন। এক কবি ক্ষুব্ধ হয়ে তার বইটি নিষিদ্ধের জন্য আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলেন। মানহানির জন্য ১০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ আর বইটি নিষিদ্ধের আরজি জানান। বইটি নিষিদ্ধ করা হয়। সমস্যা হচ্ছে বইয়ের প্রকাশনা নানা উপায়ে আটকে দেয়া যায় কিন্তু এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশে অনেকের মুখোশ যে আগামী দিনে খুলে পড়বে না তা হলফ করে বলা যায় না।
[email protected]


আরো সংবাদ