১৬ অক্টোবর ২০১৮

থামছে না গায়েবি মামলা দায়েরের প্রবণতা

থামছে না গায়েবি মামলা দায়েরের প্রবণতা -

ইদানীং বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি আলোচিত ও অনাকাক্সিক্ষত এক পদবাচ্য হচ্ছে ‘গায়েবি মামলা’। কেউ কেউ এই গায়েবি মামলাকে ‘ভুতুড়ে মামলা’ হিসেবেও আখ্যায়িত করছেন। এই গায়েবি মামলা বা ভুতুড়ে মামলার বিষয়টি বাংলাদেশের মানুষের কাছে স্পষ্ট হয় গেছে। গায়েবি মামলা বলতেই এ দেশের মানুষের উপলব্ধিতে আসে এমন সব মামলা, যার বাদি পুলিশের কোনো না কোনো সদস্য বা কর্মকর্তা। আর আসামি সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলের ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী, প্রধানত বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মী। আর এই মামলাগুলোতে এমন আসামি আছেন, যিনি মামলা দায়েরের অনেক আগেই মারা গেছেন, কিংবা মামলার বিবৃত ঘটনার সময় বিদেশে অবস্থান করছিলেন, কিংবা দেশে বা বিদেশের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন, কিংবা মামলার আসামি প্যারালাইসিস রোগী, কিংবা হজ পালনের লক্ষ্যে সৌদি আরব অবস্থান করছিলেন, কিংবা মামলাটিতে বর্ণিত ঘটনাটি আসলেই ঘটেনি। এ ধরনের মামলায় থাকে কিছু আসামির নাম-ধাম, আর তার চেয়েও বেশি বেনামি আসামি। হবিগঞ্জে পুলিশের দায়ের করা একটি গায়েবি মামলায় আসামি করা হয়েছে ৭০ থেকে ৮০ জনকে। আসামিরা সবাই অজ্ঞাত, অথচ সেখানে মামলায় বর্ণিত কোনো ঘটনাই ঘটেনি। জাতীয় দৈনিকগুলোর সরেজমিন প্রতিবেদনে এসব গায়েবি মামলা সম্পর্কে ইতোমধ্যেই দেশবাসী জানতে পেরেছে।

এ ধরনের গায়েবি মামলার প্রবণতাটি প্রবলভাবে লক্ষ করা যায় নিকট অতীতে ঘটে যাওয়া নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের পরিচালিত আন্দোলনের সময়। তখন এ ধরনের গায়েবি মামলা নিয়ে গণমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা হয়। দেশের মানুষ ধারণা করেছিল, এই সমালোচনা পুলিশ আমলে নিয়ে এ ধরনের গায়েবি মামলা দায়ের থেকে বিরত থাকবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর রোববার ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর পুলিশের এই গায়েবি মামলা দায়েরের প্রবণতা আরো তীব্র রূপ নিয়েছে। জাতীয় ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার গত শুক্রবার শীর্ষ সংবাদে জানিয়েছে, গত ৩০ সেপ্টেম্বরের বিএনপি সমাবেশের পর দায়ের করা ৩৮টি মামলায় উল্লিখিত ১০টি স্পট সরেজমিনে তদন্ত চালিয়ে পত্রিকাটি জানতে পারে, স্থানীয়দের কেউ বলেনি- এসব স্থানে বাস বা পুলিশের ওপর কথিত ঘটনার দিনে এমন কোনো হামলার ঘটনা ঘটেছে।

অপর দিকে, একটি জাতীয় বাংলা দৈনিক একই দিনে এর শীর্ষ খবরে জানিয়েছে- “২০১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০ সেপ্টেম্বর। মাত্র কুড়ি দিন সময়। এ সময়ের মধ্যেই রাজধানীর ছয় থানায় দায়ের করা ৩৩টি মামলার সব ক’টিতে আসামি হয়েছেন বিএনপির এক নেতা। তার নাম শেখ রবিউল আলম। তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম সম্পাদক। বিগত সেপ্টেম্বর মাসে রাজধানীর বেশির ভাগ থানায় বিএনপিসহ বিরোধী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পাল্লা দিয়ে মামলা করেছে পুলিশ। কোনো ঘটনা না ঘটলেও কল্পিত ঘটনায় মামলা দায়েরের কারণে এসব মামলা ‘গায়েবি মামলা’ আখ্যা পেয়েছে রাজনৈতিক মহলে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে সে গায়েবি মামলা। ” 

শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বর মাসে রাজধানীর ছয়টি থানায় ৩৩টি মামলায় তাকে আসামি করা হয়। এর মধ্য কলাবাগান থানায় সাতটি, ধানমন্ডিতে ছয়টি, হাজারীবাগে চারটি, নিউমার্কেটে ছয়টি, শাহবাগে সাতটি ও রমনা থানায় পাঁচটি মামলায় তাকে আসামি করেছে পুলিশ।

এদিকে গত ৩০ সেপ্টেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির জনসভায় সারা দেশে দায়ের করা গায়েবি মামলার একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি জানান, জনগণকে প্রতিপক্ষ বানিয়ে নির্যাতন-নিপীড়নে মেতে উঠেছে সরকার। ২০১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২৯ দিনে সারা দেশে চার হাজার ৯৪টি গায়েবি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে দুই লাখ ৭২ হাজার ৭৩০ জনকে। মামলাগুলোতে চার হাজার ৩১৯ জনকে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, এগুলো সবই গায়েবি মামলা। অভিযোগের কোনো অস্তিত্ব নেই। একেবারেই ভৌতিক মামলা। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের কাছে ‘আষাঢ়ে গল্পের’ একটা ‘ফরমেট’ সব সময় প্রস্তুত করা থাকে। সময় মতো বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে সেগুলো ব্যবহার করা হয়।

গত শুক্রবার দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি ইংরেজি দৈনিকের শীর্ষ খবর পাঠে এসব গায়েবি মামলার গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে কিছুটা হলেও আন্দাজ-অনুমান করা যায়। দৈনিকটির দেয়া বিবরণ মতে- রাজধানীর হাজারীবাগ থানায় দায়ের করা মামলায় পুলিশ ৪৮ জনকে নামে এবং অনেককে বেনামে আসামি করেছে, বেশির ভাগই বিএনপির নেতাকর্মী। পুলিশের অভিযোগ, আসামিরা পুলিশের ওপর হামলা করেছে এবং তাদের কাজে বাধা দিয়েছে। এই মামলার প্রধান সাক্ষী জনৈক জাফর দুলরি। সমস্যা হচ্ছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে জাফর খুব কাছে থেকে আসামিদের এই অপরাধ করতে দেখেছেন, এ ঘটনা সম্পর্কে তার কোনো ধারণাই নেই। পত্রিকাটির প্রতিবেদক গত বুধবার যখন জাফরকে জিজ্ঞেস করেন, এই মামলা সম্পর্কে প্রধান সাক্ষী হিসেবে কী জানেন, তখন জাফর ওই প্রতিনিধিকে প্রশ্ন করেন, ‘কোন মামলা সম্পর্কে আপনি বলছেন? এই কথোপকথন চলার সময় দুপুর সাড়ে ১২টায় জাফরের ফোনে রিং বেজে ওঠে। জাফর দ্রুত ফোন ধরেন। জাফর ফোন কলারকে বলেন, ‘স্যার, আমি সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছি। আমি শুনছি মনিরুজ্জামান-২ স্যার একটি মামলায় আমাকে সাক্ষী করেছেন।’ ফোন কলারের পরিচয় জাফর সাংবাদিকদের কাছে প্রকাশ করেননি। কিছুক্ষণ পর একজন সিপাই জাফরকে এক পাশে নিয়ে গেলেন। এই সিপাই সারাক্ষণ জাফরের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। কয়েক মিনিট পর জাফর এই প্রতিবেদকের কাছে ফিরে আসেন এবং বলেন, ‘আমি পুলিশের খুবই কাছে ছিলাম এবং স্যারদের (পুলিশ কর্মকর্তাদের) অনেক কাজ করি .... আমি যা বলার আদালতে বলব, আপনাদের কাছে নয়।’ জানায় সে একজন রিকশাওয়ালা।

প্রতিবেদনে আরো জানানো হয় এই মামলার বাদি সাব-ইন্সপেক্টর মনিরুজ্জামান। হাজারীবাগ থানায় আরো একজন মনিরুজ্জামান আছেন। এফআইআরে তাকে উল্লেখ করা হয় মনিরুজ্জামান-২ হিসেবে। মামলার বিবরণে মনিরুজ্জামান দাবি করেন, হাজারীবাগ থানা ইউনিট বিএনপির নেতাকর্মী আরো কিছু দুষ্কৃতকারী নিয়ে সালাম সরদার রোডে জড়ো হয়। এর ফলে রোববার বিকেল ৪টার দিকে যান চলাচলে বিঘœ সৃষ্টি হয়। এরা বহন করছিল লাঠিসোঁটা, ইটপাটকেল ও কাচের টুকরো। পরে অন্যান্য পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ও বিঘœ সৃষ্টিকারীদের তাড়িয়ে দেয় বলে এফআইআরে উল্লেখ করা হয়।

বলা হয়, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিএনপির যুব সংগঠন যুবদলের সাত কর্মীকে গ্রেফতার করে। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদে অন্য অভিযুক্তদের পরিচয় জানতে পারে। মনিরুজ্জামান মামলার বিবরণে আরো দাবি করেন, তিনি ও আরো কর্তব্যরত পুলিশ সদস্য হামলায় আহত হন। তবে কতজন আহত হয়েছেন এবং কারা আহত হয়েছেন তাদের নামোল্লেখ করেননি।

বিগত কয়েক দিন ধরে এই ইংরেজি দৈনিকের প্রতিনিধিরা কথা বলেন কমপক্ষে ২০ জনের সাথে, যাদের দোকান রয়েছে অথবা বসবাস করেন পুলিশের উল্লিখিত ঘটনাস্থলের ১০০ গজের ভেতরে। এরা প্রত্যেকেই বলেছেন, এরা কোনো মিছিল, সমাবেশ ও রাস্তা বন্ধ করে দেয়ার ঘটনার কথা জানেন না। পুলিশের বর্ণিত ঘটনাস্থল থেকে কয়েক ফুট দূরের একটি চায়ের দোকানের মালিক সাদেক বলেন, ‘আমরা কয়েক মাস ধরে এখানে বিএনপির মিছিল হতে দেখিনি। এমন কোনো ঘটনা ঘটলে আমরা দেখব না, এটি অসম্ভব। আমি দোকান খুলি খুব ভোরে আর বন্ধ করি গভীর রাতে।’

জানা যায়, পুলিশ বিএনপির মহাসমাবেশের ১২ ঘণ্টার মধ্যে এ ধরনের ৩৮টি মামলা দায়ের করেছে কয়েক হাজার বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। প্রায় ৩০০ বিএনপি নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে এসব মামলার আসামি হিসেবে। কিছু কিছু মামলায় অভিযোগ কারা হয়, বিএনপি নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে কিছু বাস ভাঙচুর করেছেন। এমন অভিযোগে যেসব স্থানে মামলার এসব ঘটনা ঘটার কথা বলা হয়েছে, সে ধরনের ১০টি স্পটে সরেজমিন সফর করেছেন ডেইলি স্টার প্রতিনিধিরা। এসব স্পটের মধ্যে আছে : হাজারীবাগ, ধানমন্ডি, কলাবাগান, নিউমার্কেট, কামরাঙ্গীরচর, মতিঝিল, পল্টন, শাহবাগ, রমনা ও যাত্রাবাড়ী। কিন্তু সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোর অনেকের সাথে আলাপ করে পত্রিকাটি জানিয়েছে, একজনও তাদের বলেনি এসব স্থানে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেছে। এর পরও এই মামলাগুলোকে আমাদের গায়েবি মামলা বলা ছাড়া ভিন্ন কিছু বলার কোনো সুযোগ আছে কি?

মতিঝিল থানায় দায়ের করা মামলায় ১১১ জনের নামে ও আরো অনেক অজ্ঞাত আসামি রয়েছে। অভিযোগ, বিএনপি নেতাকর্মীরা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল ছোড়ে এবং হত্যার উদ্দেশ্যে বোমাবর্ষণ করে। এরা বাস ভাঙচুর করে এবং দৈনিক বাংলা মোড়ে বিকেল সাড়ে ৫টায় পুলিশের কাজে বাধা দেয়। কিন্তু মোড়ের একটি রেস্তোরাঁর মালিক মফিজুল ইসলাম বলেছেন, তিনি বোরবার থেকে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেছে, এ কথা এই প্রথম শুনলেন। কমপক্ষে ৫০ জন লোক এই ইংরেজি দৈনিকের প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন, এরা এ ধরনের ঘটনার কথা শোনেননি। অন্যান্য স্পট থেকেও একই ধরনের জবাব দিয়েছেন স্থানীয়রা, যার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে সংশ্লিষ্ট এই প্রতিবেদনে।

বিরোধী মত-পথের রাজনীতিবিদদের দমন-পীড়নে বর্তমান বাংলাদেশ সরকার যে নানা কৌশলের মধ্যে বাছবিচারহীন মামলা দায়েরের অপকৌশল অবলম্বন করছে, সে বিষয়টি আলোচিত হচ্ছে বিদেশী গণমাধ্যমেও। লন্ডনের প্রভাবশালী সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টের সাম্প্রতিক নিবন্ধে উল্লেখ করেছে ‘এটি চিন্তা করা কঠিন, কিভাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদ আগামী নির্বাচনে হারবেন। প্রধান বিরোধী দলগুলো বিশৃঙ্খল অবস্থায়। এই অবস্থার আংশিক কারণ, তাদের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা সরকারের বিরামহীন মামলা। এর পরও নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ভিন্ন মতাবলম্বীদের ওপর নিপীড়ন আরো নৃশংস হয়ে উঠছে।’ এ নিবন্ধে আরো বলা হয়, সমালোচকদের সর্বশেষ আক্রমণের নজির হলো, অনলাইন ও সামাজিক মাধ্যম নিয়ন্ত্রণের একটি বিল, যেটি সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে পার্লামেন্ট অনুমোদন করে।’

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের পর থেকে দেশের ভেতরের ও বাইরের নানা মহল বারবার বলে আসছে, ২০১৪ সালের নির্বাচনটি কোনো বিবেচনায়ই একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ছিল না। তাই বাংলাদেশে এখন জরুরি হচ্ছে সব দলের কাছে গ্রহণযোগ্য উপায়ে অংশগ্রহণমূলক একটি নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা। এর জন্য প্রয়োজন সব দলের জন্য সমান সুযোগ। বলা বাহুল্য, এ জন্য জরুরি ছিল রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনার টেবিলে বসে তা নিশ্চিত করার একটি প্রক্রিয়া উদ্ভাবন করা। কিন্তু সরকারি দল আওয়ামী লীগ বরাবর আলোচনার টেবিলে বসতে অস্বীকিৃতি জানিয়ে আসছে। একই সাথে নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে সরকারপক্ষ ততই কঠোর অবস্থান নিয়ে বিরোধী দলমতের নেতাকর্মীদের ওপর দমন-পীড়নের পথেই হাঁটছে। এ ক্ষেত্রে সরকারপক্ষের নতুন সংযোজন হচ্ছে গায়েবি মামলা দায়েরের অপকৌশল। বিবেকবান মানুষের উচ্চারণ, এ পথ রাজনৈতিক সমস্যার অবসান না ঘটিয়ে সমস্যাকে আরো জাটিল করে তুলবে। যার নেতিবাচক প্রভাব ভোগ করতে হবে সবাইকে, গোটা জাতিকে।

এ দিকে গতকাল একটি প্রথম শ্রেণীর জাতীয় দৈনিক ‘হঠাৎ কেন এত গায়েবি মামলা’ শিরোনাম দিয়ে একটি শীর্ষসংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়Ñ ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে শুরু করে মহানগর, জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি পর্যন্ত প্রত্যেক নেতাকে মামলার আওতায় আনার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই পুলিশ বাদি হয়ে সারা দেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক ‘গায়েবি’ মামলা করছে। ঢাকা ও জেলা পর্যায়ের বেশ কিছু সূত্রের সাথে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। সূত্রগুলো বলছে- আগামী নির্বাচনে বিরোধী দলের প্রার্থীর সম্ভাব্য এজেন্ট কারা এবং মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সংগঠিত করতে কার সক্ষমতা আছে- এমন নেতাকর্মীদেরও শনাক্ত করে মামলার আওতায় আনতে থানা পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ‘নাম না প্রকাশ করা শর্তে মাঠপর্যায়ের একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, পুলিশ সদর দফতর থেকে নির্দেশনার ভিত্তিতে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটি ধরে ধরে মামলার আসামি করা হচ্ছে। এ কারণে কোনো কোনো মামলায় মৃত ব্যক্তি, হজে থাকা, বিদেশে থাকা, বয়োবৃদ্ধ, গুরুতর অসুস্থ হয়ে চলাফেরা করায় অক্ষম ও কারাগারে থাকা নেতাকর্মীরাও আসামি হয়ে গেছেন, যা গণমাধ্যমে আসায় কিছুটা বিব্রতকর অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।’

পুরো প্রতিবেদনটি পড়লে আন্দাজ-অনুমান করতে অসুবিধা হয় না, কী ভয়ঙ্কর পথে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের মানুষ চায় সরকার এ পথ থেকে সরে এসে স্বাভাবিক পথে চলুক। দেশটা সবার। সবার জন্য হোক দেশটি অবাধ বিচরণক্ষেত্র। আর সে পথেই প্রকৃত অগ্রগতি আর উন্নয়ন।

দেখুন:

আরো সংবাদ