১৮ ডিসেম্বর ২০১৮

শান্তির অন্বেষায় পিয়ংচেং থেকে পিয়ংইয়ং

শান্তির অন্বেষায় পিয়ংচেং থেকে পিয়ংইয়ং - ছবি : সংগ্রহ

দক্ষিণ ও উত্তর কোরিয়ার নেতারা আবারো বসছেন। সেপ্টেম্বর মাসের ১৮-২০ তারিখ দুই নেতা পিয়ংইয়ংয়ে আলোচনা করছেন। উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন গত জুনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে এবং এপ্রিলে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুনের সাথে বৈঠকে বসে দূরদর্শিতা ও কূটনৈতিক মেধার পরিচয় দিয়েছেন। এসব আলোচনা-সাক্ষাতের দৃশ্যত উদ্দেশ্য, কোরিয়া উপদ্বীপে শান্তির সুবাতাস আনয়ন এবং আরেকটি কোরিয়া যুদ্ধ যেন পুরো এলাকা তছনছ করে না দেয়। মুন ও কিম উভয়ে যেন চাইছেন ওই অঞ্চলের ৬৮ বছরের সঙ্কট সমাধান হোক। সেপ্টেম্বরের বৈঠক কোরিয়া যুদ্ধের হয়তো ইতি ঘটাবে না, তবে উভয় দেশই চাইবে যেন আর কোনো যুদ্ধ না হয় সে উপদ্বীপে।

এর শুরু দক্ষিণ কোরিয়ায় শীতকালীন অলিম্পিকের মাধ্যমে। এটাকে উত্তর কোরিয়াও শান্তির শেষ সুযোগ মনে করেছে। এ বছরের ১ জানুয়ারিতে এক ভাষণে উন দক্ষিণের সাথে সুসম্পর্কের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। দক্ষিণ কোরিয়া শীত অলিম্পিকে উত্তরকে যুক্ত করার পদক্ষেপ নেয়। অলিম্পিক গেম পিয়ংচেং নগরে গত ৯-২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হয়েছে। ১৬ দিনের ওই বিশ্ব অলিম্পিকের খবর অবশ্য আমাদের পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়নি বললেই চলে। দক্ষিণ ও উত্তরের অলিম্পিকভিত্তিক সম্পর্ক উন্নত হতে শুরু করে বিধায় ওই গেম ‘ক্রীড়া কূটনীতি’ বলে খ্যাত হয়েছে। গত জানুয়ারিতে দক্ষিণের পিয়ংচেং শীতকালীন অলিম্পিকে অংশ নেয়ার বিষয়ে চুক্তি হয়েছিল। উভয় দেশ মহিলাদের বরফ হকি ইভেন্টে একই টিমেও খেলেছে!

সিউল চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-উত্তর কোরিয়া পরমাণু সংলাপ শুরু হোক। ক্রীড়া কূটনীতির পর কিম জং উন দক্ষিণের প্রতি অনেক নরম হয়ে যান; কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন কঠিন। দক্ষিণ কোরিয়া পিয়ংচেং অলিম্পিককে ‘শান্তির অলিম্পিক’ বা ‘পিয়ংইয়ং অলিম্পিক’ বলে প্রচার করেছে। রাষ্ট্রের প্রধান একজন কর্মকর্তা কিম ইয়ুং নামকে পাঠানোর ফলে সিউল আশা করতে থাকে, বরফ গলতে পারে। অলিম্পিক অনুষ্ঠান চলাকালেই নামের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের সাথে অনানুষ্ঠানিক আলাপ হয় স্বল্প সময়ের জন্য। তবে পেন্সকে বেশ হতাশ দেখাচ্ছিল। উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া যদি এক হয়, তবে আমেরিকাকে কোরিয়া উপদ্বীপ থেকে ঘরে ফিরে যেতে হবে। তখন সেখানে চীন ও রাশিয়ার আধিপত্য বেড়ে যাবে। তিনি তখন এই দুশ্চিন্তাতেই কি কষ্ট পাচ্ছিলেন?

পিয়ংইয়ং কিছু অবস্থার পরিবর্তন চেয়েছিল, যেমন- সিউল কর্তৃক কিছু অবরোধ এবং নতুন করে ট্রাম্পের তর্জনগর্জন যেন বন্ধ হয়। এসব বিষয় নিষ্পত্তিতে দক্ষিণ কোরিয়া সচেষ্ট ছিল। এরপর যুক্তরাষ্ট্র উত্তরের ওপর আরো অবরোধ, সামরিক মহড়া ইত্যাদি বন্ধ করে দেয় এবং সবধরনের সামরিক অভিযান স্থগিত করে। অলিম্পিকে অংশগ্রহণ করায় উত্তরের আন্তর্জাতিক মর্যাদা হঠাৎ করে বেড়ে যায়। বিশ্ব নতুনভাবে কিম উনকে পরিমাপ করা শুরু করে। উন চান, বিশ্ব যেন উত্তর কোরিয়াকে শান্তি প্রত্যাশী পরমাণু শক্তি হিসেবে মনে করে। এ বিষয়ে তিনি তার বাবার চেয়েও বেশি স্পর্শকাতর মনে হয়েছে। যদি যৌথ সামরিক মহড়া শুরু হয়, তবে উন কূটনীতির টেবিল থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন এবং উত্তেজনা ও অস্থিরতা আবার শুরু হতে পারে।

পানমুনজমে দুই কোরিয়ার মধ্যে তৃতীয় আলোচনা হয়েছে। পানমুনজম ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ যদিও পরমাণু কার্যক্রম সম্পর্কে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। কোরিয়া উপদ্বীপে শান্তি আনয়নে নতুন যুগের সূচনা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতারা যাতে মুখোমুখি আলোচনা করতে পারেন, এটিই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য। পরমাণু কার্যক্রম থেকে উত্তর কোরিয়ার তখনই বেরিয়ে আসা সম্ভব, যখন দেখা যাবে, আমেরিকার সামরিক কোনো ভীতি ওই এলাকায় নেই এবং দক্ষিণ কোরিয়া থেকেও আক্রমণের ঝুঁঁকি নেই। সবচেয়ে বড় কথা, কেন এত আলোচনা? উত্তর একটিই- উত্তর কোরিয়া এখন পরমাণু শক্তিধর দেশ। বিপদে পড়লে ‘সুইচ টেপা’ কঠিন নয়। পানমুনজমের আরেক অগ্রগতি হলো, উভয় কোরিয়া যেন পরমাণু বোমার কর্মসূচি না চালায়, সেই চেতনা। কিন্তু আমেরিকা দক্ষিণ কোরিয়ায় থাড মিসাইলের অ্যাটাক সিস্টেমে পরমাণু ওয়ারহেড প্রস্তুত করে রেখেছে। ‘পরমাণু ছাতা’ তৈরি করে দক্ষিণকে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। এ অবস্থায় ট্রাম্পের পরমাণু কর্মসূচি ‘পুরোপুরি’ বন্ধ করার আহ্বান উত্তর কোরিয়া মানার কথা না। উত্তর কোরিয়া নিজের দেশের পরমাণু প্ল্যান্ট আন্তর্জাতিক অ্যাটমিক এনার্জি অ্যাজেন্সি দ্বারা পরিদর্শন অনুমোদন করেছে এই শর্তে যে, উত্তর কোরিয়াকে দক্ষিণ কোরিয়ায় আমেরিকার ঘাঁটিগুলোতে পরমাণুসম্ভার পরিদর্শন করতে দেয়া হবে।

ঠাণ্ডা লড়াইয়ের সময় সোভিয়েত ইউনিয়নকে চাপে রাখার জন্য আমেরিকা দক্ষিণ কোরিয়ায় কৌশলগত পরমাণু অস্ত্র মজুদ করেছিল। ১৯৯১ সালে আমেরিকার বুশ প্রশাসন সেগুলো প্রত্যাহার করে নেয় সুসম্পর্ক দেখানোর জন্য। কিন্তু পিয়ংইয়ং বিশ্বাস করে না যে, আসলে ওই অস্ত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছিল। কিম জং উন পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ রাখার বিষয়ে পাঁচটি শর্ত দিয়েছেন। ০১. যুক্তরাষ্ট্র যেন দক্ষিণ কোরিয়ায় কি কি পরমাণু অস্ত্র আছে, তা দেখার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া, ০২. সব পরমাণু অস্ত্র দক্ষিণ থেকে ফিরিয়ে নিয়ে পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা, ০৩. ওয়াশিংটন এসব অস্ত্র আর দক্ষিণ কোরিয়াতে মজুদ করবে না এমন প্রতিশ্রুতি দেয়া, ০৪. উত্তর কোরিয়ায় ওয়াশিংটন কোনো পরমাণু হামলা না করার নিশ্চয়তা প্রদান এবং ০৫. পরমাণু অস্ত্র চালনায় নিয়োজিত সব সেনা ও বিশেষজ্ঞকে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে প্রত্যাহার। এ ছাড়াও কিম চান ওয়াশিংটন এবং পিয়ংইয়ং পরমাণু শক্তিধর দেশ হিসেবে যেন একই অবস্থানে থাকে তার স্বীকৃতি। উভয় কোরিয়া ১১০ বছর যাবৎ এক রাষ্ট্র ছিল। পানমুনজম ঘোষণায় আবার সেটি উঠেছে। তবে মনে হয়, যতদিন উত্তর কোরিয়ার শাসনক্ষমতা কিম পরিবারের হাতে রয়েছে, ততদিন একত্রীকরণের বিষয়ে উত্তরকে চাপ না দেয়াই সমীচীন।

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনার টেবিলে এ বিষয়ও এসেছে যে, কোরীয় উপদ্বীপে কত আমেরিকান সৈন্য দরকার। বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ায় ২৯ হাজার মার্কিন সৈন্য স্থায়ীভাবে রয়েছে। ট্রাম্প এ সৈন্য কমাতে প্রস্তুত। কিন্তু পেন্টাগন মনে করছে, পূর্ব এশিয়ায় আমেরিকার কর্তৃত্ব তখন চলে গেলে অন্যরা দখল করবে ভূ-কৌশলগত এলাকা। পেন্টাগন মনে করে, চীন এই সম্ভাব্য শক্তি। চীন যদি বিশ্বে প্রধান অর্থনৈতিক শক্তিকে রূপান্তরিত হয়, সেনাবাহিনীকে আধুনিকীকরণ সম্পন্ন করে, তা হবে আমেরিকার জন্য বিপজ্জনক। দক্ষিণ ও পূর্ব চীন সাগর তখন চীনের হাতের মুঠোয় চলে আসবে এবং ইন্দোনেশিয়া ও তাইওয়ানে আমেরিকার কর্তৃত্ব শেষ হয়ে যাবে। তাই চীনকে ধাক্কা দেয়ার জন্য ইতোমধ্যেই ট্রাম্প বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু করেছেন। সিঙ্গাপুর আলোচনাকে ‘কিমের বিজয়’ বলা হয়। ট্রাম্প বড় কিছু ছাড় দিয়েও পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি করতে পারেননি। এখন তাকে স্বদেশের এসব ব্যাখ্যা করতে হচ্ছে।

কোরিয়া উপদ্বীপে উত্তর কোরিয়ার সাথে শান্তি প্রচেষ্টায় এবং পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ ইস্যুতে চীন বাধা বলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন। গত জুনে সিঙ্গাপুরে ট্রাম্প-কিম বৈঠকের পর ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে আর কোনো পারমাণবিক হুমকি নেই।’ ওদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, ‘উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা নিয়ে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়নি।’ ট্রাম্প মনে করেন, চীনা সহায়তার কারণেই, পিয়ংইংয়ের ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তেমন জোরালো হচ্ছে না।

বলা হয়েছে, উভয় কোরিয়া সেপ্টেম্বরে উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে বৈঠকে বসছে। দক্ষিণ কোরিয়ার একত্রীকরণ মন্ত্রণালয় এই ঘোষণা দিয়ে বলেছে, ‘আলোচনায় ভালো কিছু উঠে আসবে।’ এ বিষয়ে পানমুনজম গ্রামে ১৩ আগস্টের প্রতিনিধিরা মিলিত হয়েছিলেন। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, দক্ষিণ কোরিয়া ভাইয়ের সাথে বন্ধুত্ব ও শান্তির কথা বললেও প্রভুর প্রতি বেশি অনুগত। কেননা, তারা বারবার ওয়াশিংটনের মতো ‘পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের’ কথা বলছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার ‘সানশাইন পলিসি’ বর্তমান প্রেসিডেন্ট মুন চালিয়ে যেতে চান। এই পলিসির মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়া উত্তরে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পর্যটন ও সাংস্কৃতিক বিনিময় করে থাকে। এটাকে উত্তরের প্রতি দক্ষিণের নরম পলিসি বলা হয়। এই কর্মসূচির আওতায় নগদ অর্থ সহায়তাও পাঠানো হয়ে থাকে। সমালোচকেরা বলেন, এটি ‘ঘুষ কর্মসূচি’।

এমন পলিসির কারণে হাজার খানেক দক্ষিণ কোরীয় নাগরিক উত্তর কোরিয়ার কেইসং ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্সে অবস্থান করছেন। তারা উত্তর কোরিয়ার ৫৪ হাজার নাগরিকের কাজকর্ম দেখাশোনা করেন। বছরে প্রায় এক লাখ দক্ষিণ কোরীয় নাগরিক কেইসং শহর ভ্রমণ করে। তা সত্ত্বেও ১৯৯৯ সালে উত্তর কোরিয়ার জাহাজ পিত সাগরে সীমা লঙ্ঘন করলে দক্ষিণ কোরিয়ার নৌসেনারা গুলিবর্ষণ করেন। ফলে ডজন খানেক উত্তর কোরীয় নাবিক মারা যায়। ২০১০ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক নৌযান ডুবিয়ে দিয়ে ৪৬ জন নাবিককে হত্যা করা হয়। সানশাইন পলিসিকে মুন বা দক্ষিণ কোরিয়ার গোপন অস্ত্রও বলা হয়। প্রেসিডেন্ট মুনকে নরম হৃদয়ের ব্যক্তি বলা চলে। তার প্রচেষ্টার ফসল ১২ জুন সিঙ্গাপুরে ট্রাম্প ও কিমের সাম্প্রতিক বৈঠক। এখন কোরিয়া উপদ্বীপে আগের মতো উত্তেজনা আর নেই। হঠাৎ করে যেন উবে গেছে। এ জন্য মুনের কৃতিত্ব বেশি। এ জন্য তিনি শান্তিতে নোবেল পাওয়ার উপযুক্ত বলে কেউ কেউ বলেছেন।

পিয়ংইয়ংয়ে দুই শীর্ষ নেতার আলোচনায় পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ ইস্যু, উত্তর কোরিয়ায় আমেরিকার অবরোধ, উভয় দেশের সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং আত্মীয়স্বজনদের ঘন ঘন সাক্ষাতের ব্যবস্থা, উত্তর কোরিয়ার পক্ষত্যাগকারীদের দক্ষিণে আশ্রয় দেয়া, আমেরিকার সেনাপ্রত্যাহার, সীমান্তে নতুন করে তৈরি করা আমেরিকার সেনা ঘাঁটি সম্পূর্ণ প্রত্যাহার, দুই কোরিয়ার একত্রীকরণ এবং উত্তর কোরিয়ার সার্বভৌমত্বের মতো বিষয়গুলো উঠে আসবে।

দক্ষিণ কোরিয়া অর্থনৈতিক সহায়তার মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতিকে চাঙ্গা করছে। এটা অনেক ক্ষেত্রে মানবিক সহায়তা হিসেবেও পাঠানো হয়। অপর দিকে, উত্তর কোরিয়ার সাথে চীনের ব্যবসা দিন দিন বাড়ছে। আমেরিকার কোনো নিষেধাজ্ঞা তাই অকার্যকর। আলাপ-আলোচনার ফলে আস্তে আস্তে যুদ্ধভীতি উভয় কোরিয়ার জনমন থেকে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু উত্তরের পরমাণু স্থাপনা রক্ষার জন্য যদি চীন ৫০ হাজার সৈন্য পাঠায়, অবস্থা কী হতে পারে তা ভেবে দেখার বিষয়। তবে চীন কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করতে চায় না, বরং আলোচনায় উৎসাহ জুগিয়েছে। মুন ও ট্রাম্পের সাথে বৈঠকে বসার আগে সবাইকে অবাক করে দিয়ে কিম জং উন চীন সফর করেছিলেন। এ প্রেক্ষাপটে দুই কোরিয়ার মুখোমুখি যুদ্ধের আশঙ্কা এখন প্রায় নেই। এখন দক্ষিণ কোরিয়া থেকে সম্পদ, নগদ অর্থ ও সহায়তা ব্যাপকভাবে উত্তরে যেতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়া এখন এক বড় ‘ডোনার কান্ট্রি’। এমনো হতে পারে, উত্তরের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য ও সহায়তায় হয়তো একসময় দক্ষিণ কোরিয়া চীনকেও ছাড়িয়ে যাবে। সেটা হবে শান্তির অন্বেষায় এবং উভয় কোরিয়ার একত্রীকরণে এক বড় প্রচেষ্টা।
লেখক : অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব, বাংলাদেশ সরকার ও গ্রন্থকার


আরো সংবাদ