২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

কফি আনানের রোহিঙ্গা ভাবনা

কফি আনানের রোহিঙ্গা ভাবনা - সংগৃহীত

ঘানায় জন্মগ্রহণকারী ক‚টনীতিক কফি আনান (৮০) জাতিসঙ্ঘের সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে ১০ বছর কর্মরত থাকাকালে বহুলালোচিত ছিলেন। তিনি শান্তির ক্ষেত্রে অবদান রাখায় নোবেল বিজয়ী ব্যক্তিত্ব এবং বিশ্ব শান্তি ও প্রগতির জন্য উৎসর্গীকৃত ছিলেন। তার জাতিসঙ্ঘে কর্মকালে বিশ্বে অনেক রাজনৈতিক ঘটনা ঘটেছে, অনেক কিছু তিনি করেছেন, অনেক কিছু করতে পারেননি। এর জন্য দুঃখ প্রকাশও করেছেন, যেমন আফ্রিকার রুয়ান্ডা হত্যাকাণ্ডের জন্য। বসনিয়ায় জাতিগত নির্মূল অভিযানও তার সময়ে সংঘটিত হয়েছিল।

জাতিসঙ্ঘ, পরবর্তী তার কর্মজীবন যেন আরো ব্যাপ্তি পেয়েছিল। আফ্রিকার দেশগুলোর পাশাপাশি কফি আনান ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এশিয়াতে এবং আন্তর্জাতিকভাবে মানবাধিকার কায়েমে তার প্রচেষ্টা অব্যাহত ছিল। আফ্রিকার উন্নয়নে তিনি গ্রিন রিভুলিউশন কর্মসূচিও চালু করেছিলেন।

রোহিঙ্গাদের সমস্যা সমাধানের জন্য তার প্রচেষ্টা বাংলাদেশী ও রোহিঙ্গাদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এটি তার জীবনের শেষ প্রচেষ্টাও বলা চলে। অ্যাডভাইজরি কমিশন অন রাখাইন স্টেটের প্রধান হিসেবে তিনি এ উদ্যোগ পরিচালনা করেন। এ কাজ করতে গিয়ে তিনি বর্মী, তথা মিয়ানমারের জনগণ ও সরকারের বিরোধিতায় পড়েন। তাকে যেন কমিশনে রাখা না হয় সে জন্য সে দেশে আন্দোলন শুরু করা হয়। কিন্তু তিনি প্রধান হিসেবেই কমিশনের রিপোর্ট প্রস্তুত করেছেন। ৬২ পৃষ্ঠার বিরাট এক প্রতিবেদনে তিনি রাখাইন স্টেটে রোহিঙ্গা নির্যাতন, তাদের সেখানে বাস্তুচ্যুত করা, হত্যা, নিপীড়ন ও এলাকাকে বিছিন্ন ও অনুন্নত রাখার দীর্ঘদিনের সরকারি কৌশলের সমালোচনা করেছেন।

তিনি রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব প্রদান এবং নিরাপত্তা বিধানের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন। রিপোর্টে বার্মার সামরিক নেতাদের কথিত যুক্তি এবং তাদের উত্থাপিত অনেক কারণ প্রত্যাখ্যান করেছেন। উল্লেখ্য, মিয়ানমারের সর্বোচ্চ নেত্রী অং সান সু চির অনুরোধে আনান কমিশন ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটির পরিবর্তে, ‘রাখাইন স্টেটের মুসলমান’, ‘সংখ্যালঘু’ ‘মুসলমান জনগোষ্ঠী’ এসব শব্দ ব্যবহার করেছে। রিপোর্টটি আগস্ট ২০১৭ মাসে প্রণীত হয়। প্রতিবেদনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ সংক্ষিপ্ত আকারে এখানে বিশ্লেষণ করা হলো। কমিশন বলেছে-
ক. রাখাইন অঞ্চলটি উর্র্বর। প্রাকৃতিক সম্পদেও অঞ্চলটি সমৃদ্ধ। এলকার ভূ-কৌশলগত গুরুত্ব আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে এখানে কোনো বিনিয়োগ নেই, উন্নয়ন নেই। স্টেটের দরিদ্রতা ৭৮ শতাংশ। মিয়ানমারের জাতীয় সূচক ৩৭.৫৪ শতাংশের দ্বিগুণ। রাখাইন স্টেট মিয়ানমারের সবচেয়ে গরিব এলাকা। রাখাইন স্টেটের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হলো কৃষি, মৎস্য ও পারিবারিক ব্যবসা। স্টেটের উত্তরাংশে ৬০ শতাংশ লোক ভূমিহীন। অথচ মিয়ানমারের অন্যান্য এলাকার দ্রুত উন্নতি হচ্ছে। রাখাইন স্টেটে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে, জোরপূবর্ক তাদের বিছিন্ন এবং বিদেশী বিনিয়োগকে অনুৎসাহিত করা হচ্ছে।

খ. এখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নিয়ামক অনেক। রাখাইন স্টেটে ঘনঘন সাইক্লোন হয় এবং জলবায়ুর পরিবর্তনও বিয়োগান্তক ফল বয়ে এনেছে। তারপরও অনেক দুর্যোগ মানুষের সৃষ্টি। ২০১২ সালের দাঙ্গা বিভিন্ন কমিউনিটির মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস বিনষ্ট হয়েছে, ব্যবসা-বাণিজ্যকে বিনষ্ট করেছে এবং বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাধাগ্রস্ত করেছে। এ রূপ অসহনীয় পরিবেশে মুসলমান শ্রমিকরা উৎপাদন আগের অবস্থায় রাখার চেষ্টা করেছে। ওই চরম অবস্থায় রাখাইন স্টেটে এই শ্রমিকদের দিয়ে কাজ না করানোর জন্য রাখাইন জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধরা গভীর চাপ দিয়েছে। এভাবে একটি কমিউনিটির লোকজন নিষ্পেষিত হয় এবং লেবার মার্কেট তছনছ হয়ে যায়।

বিশেষ করে ১,২০,০০০ রোহিঙ্গা যারা অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতদের ক্যাম্পে ছিল, যারা পুরোপুরি বিদেশী সহায়তার পর নির্ভরশীল ছিল তারাই বেশি বিপদগ্রস্ত। সরকারি লোকেরা ট্রাভেল পারমিট ও ব্যবসায়ের লাইসেন্সের জন্য বড় অঙ্কের ঘুষ নিতে থাকে। রাখাইনের সব কমিউনিটির লোকজন অবৈধ লেনদেনের সাথে জড়িত। অনেক বেশি দামের লাইসেন্স মানুষকে ব্যবসাবাণিজ্য করতে নিরুৎসাহিত করে, তদুপরি অদÿ আমলাতন্ত্র ও দুর্নীতি তাদের জন্য বিরাট আঘাতস্বরূপ।

গ. সহিংসতা ও অস্থায়িত্বের মাঝে চরম বেকারত্ব ওই অঞ্চলের মুসলমানদের দুদর্শাকে বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে বিভিন্ন ÿেত্রে শ্রমিকের অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। পারঙ্গম রাখাইন ও অঞ্চলের মুসলমানরা সুযোগ পেলে অন্যত্র চলে গেছে। ফলে পুরো অঞ্চল মেধাশূন্য হয়ে পড়েছে। দারিদ্র্য ও পÿপাতদুষ্ট আচরণ ওই এলকার মুসলমানদের জীবন কষ্টসাধ্য করে তুলেছে সুযোগ পেলে তারা অন্যত্র চলে যায়। মুসলমান মহিলাদের অবস্থা আরো করুণ। তারা কোনো কাজ করলে ন্যায্য পাওনা বা পারিশ্রমিক পায় না। জীবন ধারণের জন্য মহিলাদের পরিশ্রম করার সুযোগ সীমিত।

আনান কমিশন এ বিষয়ে যে সুপারিশ করেছে তা হলো : ১. রাষ্ট্র্রীয় সিদ্ধান্ত ও উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় রাখাইন স্টেটের লোকদের সম্পৃক্ত করা যা রাষ্ট্রের সংবিধান, উন্নয়ন ও শান্তি প্রক্রিয়ার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। ২. ভূমির জন্য রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ সহায়তা প্রদান। ৩. রাখাইন এলাকায় স্পেসিফিক ইকোনমিক জোনের (এসইজেড) মূল্যায়ন হিসাব সঠিক ও বাস্তবভিত্তিক উপায়ে করা। এসইজেডের ফলে এলাকায় কতটুকু উন্নতি হবে এবং বসবাসরত জনগোষ্ঠীর ওপর কী প্রভাব পড়বে তা বের করা উচিত। সরকারের উচিত এই কাজে বিদেশী কোম্পনিগুলোকে সম্পৃক্ত করা। ৪. সরকারের উচিত রাখাইন এলাকায় ‘লেবার মার্কেট’ পরিমাপ এবং রোহিঙ্গা ও রাখাইনদের বাজারসম্পৃক্ত কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। ৫. মহিলাদের (শ্রম ও চাকরির ব্যবস্থা) প্রয়োজন নিশ্চিত করা। তাদের আয়-রোজগার খুবই কম ও কোনো কোনো ক্ষেত্রে নেই। শ্রমবাজারে তাদের প্রবেশ ও কর্মক্ষেত্রের অবস্থা উন্নয়ন এবং কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। ৬. অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য বেশি বিনিয়োগ করা। একই সাথে রাস্তাঘাট, নদীপথে চলাচল, জেটি নির্মাণ, বিদ্যুৎ, পানীয় জল ও ইন্টারনেট সুযোগের ব্যবস্থা করা। পর্যটনের উন্নয়নের জন্য ম্রাউক উ বিমানবন্দর তৈরি করা। ৭. কৃষি ও কৃষকদের উন্নয়নের জন্য ‘কৃষি স¤প্রসারণ কর্মসূচি’ গ্রহণ করা যার আওতায়, বৈজ্ঞানিক কৃষি সরঞ্জাম সরবরাহ, উন্নতমানের বীজ সরবরাহসহ, আধুনিক চাষাবাদের কৌশলের ওপর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। ৮. ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি চালু, ঋণের সীমা এক বছর করা, সুদ হার কমান এবং মাইক্রো ফাইন্যান্সের ব্যবস্থা করা। সব গোষ্ঠীর জন্য কৃষিঋণ চালু করা। পর্যটনের গেস্ট হাউজ চালুর সুব্যবস্থা করা। ৯. স্থানীয় লোকজন যাতে সহজে ব্যবসা করতে এবং ব্যবসার লাইসেন্স পেতে পারে তা নিশ্চিত করা।

নাগরিকত্ব যাচাই কঠোর না করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে ১০ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে মাত্র ১০ হাজার রোহিঙ্গার নাগরিকত্ব যাচাই সনদ, ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড বা এনভিসি রয়েছে। আনান উলেøখ করেন যে, ২০১৪ সালে রোহিঙ্গাদের সাময়িক রেসিডেন্ট কার্ড বা টিআরসি প্রদান করা হয় এই শর্তে যে, তারা যেন আবেদনে নিজেদের ‘বাঙালি’ উলেøখ করে। এনভিসির জন্য আবেদনে রোহিঙ্গারা তাদের পুরনো নাগরিকত্ব সনদ জমা দিতে অস্বীকার করে এ ভয়ে যে, সরকার সেগুলো আটকে রেখে তাদের ‘অনাগরিক’ হিসেবে চিহ্নিত করবে। আনান যাদের কোনো প্রকার নাগরিকত্ব সনদ রয়েছে তাদের সব ধরনের নাগরিক সুবিধা প্রদান করতে সুপারিশ করেছেন। কফি আনান বার্মার নাগরিকত্ব আইনেরও সমালোচনা করে তাকে আপডেটেড করার জন্য অনেক সুপারিশ প্রদান করেছেন।

রোহিঙ্গা ও রাখাইন উভয় গোষ্ঠীর চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে মর্মে প্রতিবেদনে তিনি লিখেছেন। বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের বলতে গেলে কোনো স্বাধীনতা নেই। বাজার, মাছধরা ও ক্ষেতখামারে কাজ- সবক্ষেত্রে অনুমতির দরকার হয়। দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা নানা ধরনের উৎকোচ নেয় এবং ইচ্ছেমতো চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে। মুসলমানদের এটি এক বড় ইস্যু। আনান কমিশন এ বিষয়েও কিছু সুপারিশ করেছে, যেমন, ১. রাখাইন স্টেটের সব নাগরিকের ওপর থেকে অবাধ চলাচলের সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়া। সবাই যেন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জীবনধারণের উপকরণ সংগ্রহসহ মৌলিক সেবা পায় তা নিশ্চিত করা। ২. সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করতে যেন রোড ম্যাপের ঘোষণা দেয়। ৩. সরকার যেন মুসলমানদের দেশের আন্তঃস্টেট চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করে। ৪. পুলিশ যেন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ব্রতী হয়, তার ব্যবস্থা করে।

রাখাইন স্টেটে ১,২০,০০০ রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু (ইন্টারন্যালি ডিসপ্লেসড পারসন্স) ক্যাম্পে রয়েছে। ২০১২ সালে সহিংসতার সময় ওদের এই ক্যাম্পে আনা হয়েছিল। তাদের বসতভিটায় ফেরত নেয়ার ব্যাপারে অগ্রগতি নেই বললেই চলে। বিগত সরকার রাখাইন স্টেট ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের অধীনে বিষয়টি সুরাহা করার প্রয়াস তো নিয়েছিল। কিন্তু একটি গ্রামে বসত স্থাপনের উদ্যোগ নিলে স্থানীয় রাখাইনরা এর তীব্র বিরোধিতা করে। এক নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এসব ক্যাম্প যেন বন্ধ করা হয়, সে জন্য আনান কমিশন সুপারিশ করেছে। সময়সীমা বেঁধে দিয়ে রোহিঙ্গাদের বসতভিটার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।

২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর বর্ডার গার্ডের ওপর আক্রমণের কারণে পুরো মংডু টাউনশিপ অচল হয়ে যায়। আন্তর্জাতিক এনজিও ও অন্যান্য সাহায্য সংস্থার কাউকে সে এলাকায় প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। সাহায্য সংস্থাগুলোকে নিয়ন্ত্রিত করায় প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা তারা দিতে পারছিল না। আনান কমিশন সুপারিশ করে যে, রাখাইন স্টেটে বিভিন্ন সাহায্য সংস্থাকে অবারিতভাবে কাজ করতে দেয়া হোক এবং আন্তর্জাতিক সব পক্ষকে দেখভাল ও সাহায্য-সহযোগিতা করতে যেন কোনো বাধা-নিষেধ দেয়া না হয়, তার ব্যবস্থা করা হোক। মানবিক সহায়তার জন্য কমিশন আরো পাঁচটি সুপারিশ করেছে।

প্রায় সময় দেখা যায়, কোনো কারণ ছাড়াই সীমান্তে বর্মি কর্তৃপক্ষ সেনা মোতায়েন করেছে, ভারী অস্ত্র এমন কি ট্যাঙ্ক এনেছে। এই ব্যাপারে আনান কমিশন মনে করে, বাংলাদেশের সাথে সুসম্পর্ক রাখা প্রয়োজন। সুসম্পর্ক ও আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশ সমস্যার অনেক কিছু নিষ্পত্তি করতে পারে। উভয় দেশ অবকাঠামো ও ব্যবসা উন্নয়ন, অবৈধ উপায়ে দেশ থেকে পলায়ন, উদ্বাস্তুদের স্বেচ্ছায় দেশে ফেরত পাঠানো, উগ্রপন্থীদের উত্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা, একই সাথে কাজ করার জন্য বাংলাদেশের প্রস্তাব নিয়ে অগ্রসর হওয়া প্রভৃতি দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে চমৎকার সুযোগ।

তা ছাড়া অর্থনৈতিক উন্নয়নে উভয় দেশের এক সাথে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা এবং মাদক ব্যবসা নিরোধে উভয় দেশের এক সাথে কাজ করা উচিত বলে মত দেয়া হয়। কমিশনের মতে, এ বিষয়ে যেসব ব্যবস্থা নেয়া যায় তা হলো- ১. মিয়ানমারের প্রস্তাব অনুসারে বাংলাদেশের সাথে একটি যৌথ কমিশন গঠন, ২. যাচাইয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশে অবস্থানরত উদ্বাস্তুদের স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে সাহায্য করা, ৩. উত্তর রাখাইন স্টেটের রোহিঙ্গারা ফিরে আসার পর তাদের নিরাপত্তা ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা, ৪. যৌথ বাণিজ্য কমিশনের কাজকে আরো উৎসাহিত করা, ৫. উভয় দেশের সিভিল সোসাইটির লোকজন, থিঙ্ক ট্যাঙ্ক, শিক্ষাবিদ ও প্রাইভেট সেক্টরের ব্যক্তিদের অবাধে আসা-যাওয়ার ব্যবস্থা করা, যাতে উভয় দেশের মধ্যে সহযোগিতা ও বিশ্ব¯Íতার ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।


এ ছাড়া মিডিয়া, স্বাস্থ্য, মাদকদ্রব্য চোরাচালান, সা¤প্রাদায়িক স¤প্রীতি, নিরাপত্তা, বিচারের সুযোগ, সাংস্কৃতিক উন্নয়ন, আঞ্চলিক সম্পর্ক এবং রিপোর্ট বাস্তবায়নের ওপর পৃথকভাবে আলোচনা ও সুপারিশ করা হয়েছে। কিন্তু আনান প্রতিবেদন পেশ ও প্রকাশের এক ঘণ্টার মধ্যেই বর্মি সামরিক বাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর আবার ঝাঁপিয়ে পড়ে, চরম নির্যাতন-নিপীড়ন শুরু হয়। লাখ লাখ রোহিঙ্গা রাখাইন স্টেট ছেড়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়ার ঘটনা তখন বিশ্ববাসী প্রত্যক্ষ করেছে। কফি আনান মিডিয়াতে বলেছিলেন, ‘ কোনো পক্ষই যেন হিংস্রতার আশ্রয় না নেয়। নিরাপত্তাহীন লোকদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে রাখাইন স্টেটের সমস্যার সমাধান হবে না।’ কিন্তু আনানের কথা বর্মি সামরিকজান্তা শুনেনি। সাত লাখ রোহিঙ্গাকে নতুন করে তারা জনাকীর্ণ বাংলাদেশে ঠেলে দেয়। তারা এখন নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে ভীতির মধ্যে রয়েছে। আনানের বিখ্যাত উক্তি, ‘বাঁচার পথ নিজকে নিরূপণ করতে হবে। ভালো কিছু নিরূপণ করতে হলে, জানতে হবে কে আপনি, কোথায় গন্তব্য এবং কেন যেতে চান।’ 


লেখক : অবসরপ্রাপ্ত যুগ্মসচিব, বাংলাদেশ সরকার ও গ্রন্থকার


আরো সংবাদ