১৪ নভেম্বর ২০১৮

ছিন্নমূল দরিদ্রদের জন্য সচ্ছলরা কী করতে পারেন?

-

অতিদরিদ্র বলতে নিম্নরূপ লোকদের বুঝাচ্ছি-
১. বিভিন্ন শহরে রাস্তায় বসবাস করা পুরুষ, নারী, শিশু বা কিশোর-কিশোরী অথবা পরিবার। ২. শহরাঞ্চলের রাস্তায় ঝুপড়ি করে থাকা লোকজন। ৩. শহরের বস্তির কর্মবিহীন লোকজন। ৪. গ্রামের সেসব লোক যাদের কোনো ভিটেবাড়ি বা জমি নেই এবং যারা রাস্তায়, স্কুলের বারান্দায়, মসজিদে বা এরকম অন্যান্য ঘরে থাকে। এদের সংখ্যা কত হবে তার নিশ্চিত কোনো তথ্য আমার কাছে নেই। এ ধরনের তথ্য সরকারি প্রতিষ্ঠানেও আছে বলে আমাদের জানা নেই। তাদের সংখ্যা সারা বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে ১৫ লাখ হতে পারে। অন্য দিকে শহরে রাস্তায়, পার্কে বা ঝুপড়িতে যারা থাকে, এদের সংখ্যা সারা বাংলাদেশে দশ লাখ হতে পারে।

আমার আলোচ্য বিষয় হলো- ব্যক্তিপর্যায়ে বাংলাদেশের সচ্ছল ব্যক্তিরা কী করতে পারেন, বিশেষ করে যারা সরকারি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় নেই তাদের জন্য। বাংলাদেশে এমন সচ্ছল মানুষ যারা অন্য কারো দায়িত্ব নিতে পারেন, তাদের সংখ্যা আমার বন্ধুদের হিসাব মতো অন্তত এক কোটি বা আরো বেশি হতে পারে। উল্লিখিত চরমদরিদ্র ২৫ লাখ লোকের জন্য ব্যক্তিপর্যায়ে এক কোটি সচ্ছল লোক কী করতে পারে, যাতে তারা পুনর্বাসিত হতে পারে।

সবচেয়ে উত্তম হতো যদি সরকার, সিটি করপোরেশন, পৌরসভাগুলো এবং উপজেলা পরিষদগুলো এদের সবার পুনর্বাসনের দায়িত্ব গ্রহণ করত। তা হলে বিশেষ করে মহানগর, জেলাশহর বা উপজেলা শহর ছিন্নমূলদের সমস্যার সমাধান হয়ে যেত। কিছু দায়িত্ব শহর কর্তৃপক্ষকে নিতেই হবে বিশেষ করে-

১. রাস্তায় যেসব মানসিক ভারসাম্যহীন লোকজন।

২. রাস্তার কিশোরীদের যারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়।

৩. রাস্তার অতি বৃদ্ধ পুরুষ ও নারীর।

৪. সম্ভব হলে অন্যদের।

যা হোক, এ বিষয়ে অনেক লেখা লিখেছি যা পত্রিকায় প্রকাশিত হচ্ছে বা যা চিঠি আকারে সরকারি কর্তৃপক্ষ বা করপোরেশনগুলোতে পাঠিয়েছি। তবুও অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি।

এখন বেসরকারিভাবে বাংলাদেশের সচ্ছল লোকেরা কী করতে পারেন এ সম্পর্কে আলোচনা করছি। তারা প্রত্যেকে এক বা দুইজন কিংবা একটি পরিবারের দায়িত্ব নিতে পারেন, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের। তাদেরকে নিজদের বাড়িতে থাকার একটু ব্যবস্থা করে দিতে পারেন। দরিদ্রদের আবাসন ব্যবস্থা করতে পারেন অথবা মাসিক তিন-চার হাজার টাকা করে দিতে পারেন তাদের, যাতে তারা উপার্জন পর্যন্ত করতে পার চলতে পারেন। একই গ্রামের তিন-চারজন সচ্ছল লোক এক হয়েও সে গ্রামের এ ধরনের দুঃস্থ লোকদের চলার মতো ব্যবস্থা করতে পারেন। তাদের চিকিৎসা ও সামান্য পোশাকের ব্যবস্থা করতে পারেন সচ্ছলরা। চিকিৎসার জন্য তাদেরকে স্থানীয় ক্লিনিকে পাঠাতেও পারেন। শহরের সচ্ছল লোকেরা রাস্তার লোকদের দু-একজনের দায়িত্ব নিতে পারেন, তাদেরকে নিজ নিজ গ্রামে পাঠিয়ে দিয়ে পুনর্বাসিত করতে পারেন।

বিভিন্ন লোক আমাকে তাদের এই সমস্যার কথা বলেছে যে, তারা গ্রামে যেতে পারে না বা তারা ভিক্ষা করাই বেশি পছন্দ করে। কথা হলো, এসব সমস্যা আছে এবং থাকবে। এর মধ্যেও আমাদের চেষ্টা করতে হবে।

এসব ব্যক্তিকে এনজিওগুলো ((NGO) সংগঠিত করতে পারে। তারা ব্যাপকভাবে প্রচার করতে পারেন যে, ব্যক্তিপর্যায়ে যারা অতি দরিদ্রদের পুনর্বাসন করতে চান, তারা তাদের সহযোগিতা করবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করে দেবেন।

নিজেও এ ধরনের কাজ করেছি আমি। কিছু ক্ষেত্রে সফল হইনি, কিছু ক্ষেত্রে সফল হয়েছি। এ দিকে সরকার, এনজিওগুলো, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও সচ্ছল ব্যক্তিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

লেখক : সাবেক সচিব, বাংলাদেশ সরকার


আরো সংবাদ