১৭ নভেম্বর ২০১৮
সমকালীন প্রসঙ্গ

দেশ কাঁপানো ১২০ দিনের উপাখ্যান

দেশ কাঁপানো ১২০ দিনের উপাখ্যান - সংগৃহীত

রাজনীতি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই মোটামুটি নিশ্চিত, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই একাদশ সংসদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এই হিসাবে নির্বাচন হতে আর মাত্র চার মাস বাকি। কাজেই আগামী চার মাস তথা ১২০ দিনের প্রতিটি ক্ষণে আমাদের রাজনীতির আকাশের রঙ যে বদলাবে, তাতে সন্দেহ নেই।

হতে পারে রঙধনুর বর্ণিল ও মোহময় আলোকচ্ছটায় সেই রঙ আমাদের মোহিত করে তুলবে অথবা কালবৈশাখীর ঝড়ো হাওয়া এবং বজ্র্রপাতের নির্মম নিষ্ঠুরতায় আমাদের আতঙ্কিত করে তুলবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলো প্রকাশ্যে এবং পর্দার আড়ালে একই সাথে ত্রিমাত্রিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। অরাজনৈতিক শক্তি, বৈদেশিক শক্তি ও আমলা-কামলারাও বসে নেই। একটি নির্বাচন যা হতে পারে এযাবৎকালের সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক ও যুগান্তকারী ভাগ্য নির্ধারণী, তা মোকাবেলার জন্য যেমন প্রস্তুতি চলছে; তেমিন ফাঁকিবাজি, প্রহসন, বিনা ভোট, ছলচাতুরী কিংবা ধাপ্পাবাজির নির্বাচন করার চেষ্টা যে হবে না, এমনটিও জোর দিয়ে বলা যাচ্ছে না।

আগামী সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ দেশের মানুষের মন-মানসিকতা, শরীর ও মস্তিস্কে এমন সব যৌগ রসায়ন পয়দা হয়েছে, যা বাঙালির সুদীর্ঘ ইতিহাসে দ্বিতীয়বার ঘটেনি। আমাদের দেশে গত ১০ বছরে পরস্পরবিরোধী কতগুলো ঘটনা ঘটেছে, যা বাংলাদেশ তো দূরের কথা- এশিয়ার অন্য কোনো দেশে ইতঃপূর্বে ঘটেছে কি না সন্দেহ। ঘটনাগুলো ঘটেছে কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ ও ‘সিন্ধু’ কবিতার কয়েকটি লাইনের আদলে।

দেশের বেশ কিছু মানুষ যেমন গত ১০ বছর জাহান্নামের আগুনে বসে পুষ্পের হাসি হাসছে, তেমনি কিছু মানুষ এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাশরী বাজিয়ে অন্য হাত দিয়ে ক্রমাগত রণতূর্যের আঘাতে ইতর-ভদ্র নির্বিশেষে কিছু মানুষের গাল-পিঠ ও পশ্চাদ্দেশের ছাল পরিচর্যা করে চলেছে। অন্য দিকে, লুটেরা শ্রেণী ক্ষুধিত সিন্ধুর মতো দেশের ধনসম্পদ বিরামহীনভাবে লুট করেই চলেছে। তারা ‘সিন্ধু’ কবিতার আদলে রাক্ষুসে ক্ষুধিত বন্ধুরূপে নিজেদের বক্ষে নিদারুণ ক্ষুধার অনল জ্বালিয়ে রেখেছে। আর সেই অনলে দিবানিশি এমন তৃষ্ণা তাদেরকে পেয়ে বসেছে, যা নিবারণ করার সাধ্য দেশের ১৭ কোটি মানুষেরও নেই।

গত দশটি বছরে সরকার যা করেছে তা নিয়ে তাদের গর্বের সীমা-পরিসীমা নেই। অন্য দিকে, একই সময়ে বিরোধী দলগুলো বিশেষ করে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের কাছ থেকে যে আদর-আপ্যায়ন এবং মধুর সম্ভাষণ পেয়েছে, তারও কোনো সীমা-পরিসীমা নেই। সরকারের দৃশ্যমান ইট-পাথরের উন্নয়ন, রড-সিমেন্টের কারুকাজ এবং কিছু মানুষের শরীরে মেদ-মাংসের বাড়াবাড়ি রকমের সংযোজনের সাথে পাল্লা দিয়ে ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে স্বপ্ন দেখার সাধ ও সাধ্য।

মানুষের বিশ্বাস, ভালোবাসা, নীতি-নৈতিকতা, সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও ন্যায়বিচার এখন কোন পর্যায়ে আছে, তা মাপার জন্য একজন অদ্ভুত বিজ্ঞানী ভাড়া করে নতুন আর অভিনব কিম্ভ‚‚তকিমাকার যন্ত্র আবিষ্কার করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। মানুষ আজ ধর্মোপদেশ বা সাধুসজ্জনের বাণী বাদ দিয়ে গালিগালাজ, অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি ও নীতিগর্হিত কথাবার্তা শোনার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। অন্যের দুঃখে সমব্যথী হওয়ার পরিবর্তে মানুষ উল্লাসনৃত্য ও হোলি খেলার জন্য সারাক্ষণ হাঁসফাঁস করতে থাকে।

বাংলাদেশের মানুষের ইদানীংকালের বিবর্তনের সর্বোচ্চ নৃত্যকলা আগামী চার মাসে দেখতে পাওয়া যাবে বলে শান্তিপ্রিয় মানুষ আতঙ্কিত বোধ করছে। সরকার সর্বশক্তি, সর্বকৌশল ও সর্বোচ্চ মাত্রার বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করে চেষ্টা চালাবে নিজেদের, পরপর তৃতীয় দফায় ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার জন্য। তাদের এই প্রচেষ্টা কেবল ক্ষমতা লাভের জন্য নয়, বরং রাষ্ট্রক্ষমতা পরিবর্তনজনিত ভয়াবহ বিপর্যয় ও প্রতিশোধের শঙ্কা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য। এখনকার ক্ষমতাসীনেরা তাদের দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতার কারণে এ কথা খুব ভালো করেই জানেন তাদের ক্ষমতাচ্যুতির পরিণতি কেমন হতে পারে। এ জাতি ইতঃপূর্বে সেই প্রাচীনকালে একবার সিভিল ওয়ার বা গণযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল।

প্রাচীনকালে শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাঙালিরা রাজাহীন অবস্থায় প্রায় ১০০ বছর যুদ্ধ করেছিল, যার দ্বিতীয় নজির পৃথিবীর ইতিহাসে নেই। পরবর্তীকালে বিদেশী গোপাল এসে বাঙালিদের উদ্ধার করে এ দেশে পাল বংশের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন।

আমরা যদি শশাঙ্কের শাসনামল বিবেচনা করি, তবে তাকে সর্বকালের অন্যতম সেরা শাসক হিসেবে আখ্যায়িত করতে হবে। কিন্তু তার মতো শাসকের মৃত্যুর পর কেন গৃহযুদ্ধ শুরু হলো? ঐতিহাসিকেরা এর কারণ হিসেবে শশাঙ্কের দমননীতি ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করাকে দায়ী করেছেন। একই ভাবে মধ্যযুগের সম্রাট আলাউদ্দিন খিলজির মৃত্যুর পরও ভারতবর্ষে গোলযোগ শুরু হয়েছিল এবং তা অব্যাহত ছিল প্রায় ৪০ বছর।

অর্থাৎ ১৩৫১ সালে সম্রাট ফিরোজ শাহ তুঘলকের ক্ষমতা লাভের আগে পর্যন্ত ভারতবাসীকে নিদারুণ দুর্বিষহ সময় পার করতে হয়েছিল। ইতিহাসের সফলতম কঠোর শাসক যথা- গিয়াসউদ্দিন বলবন, সম্রাট আওরঙ্গজেব, খলিফা ওমর ইবনুল খাত্তাব, তুর্কি সুলতান চতুর্থ মুরাদ প্রমুখের মৃত্যুর পর তাদের সাজানো-গোছানো সাম্রাজ্য এবং রাষ্ট্রশক্তি তাদের আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও উত্তরসূরিদের জন্য কী বিপদ ডেকে এনেছিল, তা ইতিহাসের পাঠকেরা খুব ভালো করেই জানেন।

বর্তমান সরকারের গত পাঁচ বছরের কর্মকাণ্ড যদি পর্যালোচনা করা হয় তবে যে বিপরীতমুখী দৃশ্য দেখতে পাই, তা বর্তমানকালের জন্য উদ্বেগজনক না হলেও অনাগত দিনের জন্য অশনিসঙ্কেত। এক দিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রার পাহাড়, এর বিপরীতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে বেশুমার লুটপাটে দেউলিয়া হওয়ার লক্ষণ ফুটে উঠেছে। সরকারি কর্মচারীদের বেতনভাতা বৃদ্ধির বিপরীতে প্রাইভেট সেক্টরে দিন দিন বেতনভাতা কমে যাওয়া, চাকরিচ্যুতি, কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সঙ্কোচন এবং দৃশ্যমান নতুন বিনিয়োগ না হওয়ার ফলে জনজীবনে মারাত্মক অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতা দেখা দিয়েছে।

ক্ষমতাসীনদের ক্ষমতার বাড়াবাড়ি, সরকারি আমলাদের দৌরাত্ম্য, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রভুসুলভ আচরণ, ঘুষ-দুর্নীতি, দম্ভ-অহঙ্কার ইত্যাদির সাথে পাল্লা দিয়ে সাধারণ জনগণের অসহায়ত্ববোধ, অবদমিত ও লাঞ্ছিত জীবন, ক্ষুধা, দারিদ্র্য, কর্মহীনতা ও হতাশা আমাদের সমাজ-সংসার এবং রাষ্ট্রকে কিভাবে দুর্বল থেকে দুর্বলতর করে তুলছে তা যারা বুঝতে পারছেন তারা দুশ্চিন্তায় ঠিকমতো ঘুমোতেও পারছেন না।

এ প্রেক্ষাপটে সারা দেশে এমন একটি অদ্ভুত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, যার কারণে মানুষ মুখফুটে কিছু না বললেও মনে মনে নিজেদের প্রস্তুত করে রেখেছে সময় ও সুযোগমতো আশা-আকাক্সক্ষা, ক্ষোভ-বিক্ষোভ, হিংসা-দ্বেষ ইত্যাদির প্রতিফলন ঘটানোর জন্য। কাজেই ধারণা হয়, আগামী চার মাসে দেশবাসী যে যার অবস্থান থেকে সময় ও সুযোগমতো নিজেদের শক্তিমত্তা প্রদর্শন না করে ঘরে ফিরবে না। এ সময়ের মধ্যে সরকার যেমন তাদের রাজনৈতিক জোটে নতুন মিত্রদের ঠাঁই দেয়ার চেষ্টা চালাবে, ঠিক তেমনি বিরোধী দলগুলো সরকারকে মোকাবেলা এবং নির্বাচনী মাঠে তাদের পরাজিত করার জন্য সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করে বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তুলবে। একই সময়ে সুবিধাবাদী আমলা, দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ী, লুটেরা লম্পট এবং রাজনীতির জুয়াড়িরা ইতিহাসের জঘন্যতম মুনাফেকি শুরু করে দেবে। তারা সরকার ও বিরোধী দল উভয় শিবিরে নিয়মিত যোগাযোগ রাখবে এবং হয়তো সমানতালে অর্থ বিনিয়োগ করবে।

ক্ষমতাসীনদের মধ্যকার বিতর্কিত দুর্নীতিবাজেরা এক পা সামনে এবং অপর পা পেছনে রেখে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এমনভাবে তামাশা দেখবে, যাতে গণেশ উল্টালে তারা সহজে উল্টো মুখে দৌড়ে পালাতে গিয়ে সর্বোচ্চ শিরোপাধারী হতে পারে; নতুবা ক্ষমতাসীনেরা জয়লাভ করলে সবার আগে ফুলের মালা নিয়ে গণভবনে হাজির হতে পারে। আগামী চার মাস হবে গুজব, ছলচাতুরী ও রাজনৈতিক মীরজাফরির চূড়ান্ত রিহার্সেল, যা শেষ অবধি সঞ্চারিত হবে নির্বাচনের দিন। কেউ দিনে দেখাবে কলা আর রাতে পরিবেশন করবে মুলা। অনেকে আপেল-কমলা-বেদানার লোভ দেখিয়ে শেষমেশ বাঘা কচুর ব্যঞ্জন খাইয়ে দেবে।

সুয়োরানী-দুয়োরানীর গল্পের মতো দিনের আলোতে কেউ কেউ মহাতপস্বী সেজে মানুষকে বিভ্রান্ত করে আপন কুঠুরিতে ঢুকিয়ে ফেলবে, তারপর গভীর রাতে রাক্ষসের মতো আচরণ করে মনের ঝাল মেটাবে। দল ভাঙা, দল গড়া, কালো টাকার লেনদেন, দুর্নীতিবাজ আমলা-ব্যবসায়ী, মাস্তান, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী প্রভৃতিকে দলে ভেড়ানোর পাশাপাশি প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরির মাধ্যমে নতুন নতুন পিরামিড রচিত হবে।

অযোগ্য এমপি প্রার্থীরা দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তির জন্য নৈতিক-অনৈতিক, শালীন-অশালীন প্রভৃতি উপহারের বাহারি পসরা সাজিয়ে বড় নেতাদের বাসগৃহ, অফিস ও কুঞ্জবনে তীর্থের কাকের মতো দাঁড়িয়ে থাকবে। ২০ কেজি বা তদূর্ধ্ব ওজনের রুই-কাতলা-পাঙ্গাশ, দেশী কই, মাগুর, শিং ও দুর্লভ দুস্প্রাপ্য হরিণের গোশতের খোঁজে অযোগ্য, লোভী ও বাটপার মনোনয়নপ্রত্যাশীরা সারা দেশ চষে বেড়াবে। কেউ কেউ আবার দামি মদ, ঘড়ি, রতœপাথর এবং পিলে চমকানো পথবধূদের ম্যানেজ করে নেতাদের মনোরঞ্জন ঘটিয়ে স্বার্থসিদ্ধির ফন্দি আঁটবে।

আগামী সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে যে নির্বাচন বাণিজ্যের রমরমা হাট বসবে, তাতে সবচেয়ে বেশি বিব্রতকর ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়বে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলের হাইব্রিড ও ফার্মের মুরগি ছাড়াও বিপুল সুবিধাবাদী আমলা, ব্যবসায়ী, কবি-সাহিত্যিক, সাংবাদিক, টাউট-বাটপার, জুয়াড়ি, লুটেরা, মীরজাফর, অপরাধী লোকজন মুজিবকোট গায়ে চেপে এবং বিশাল ঢোলা পায়জামা পরে মনোনয়নের জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দেবে। তাদের দাপটে সত্যিকার আওয়ামী লীগার ও জনপ্রিয় প্রার্থীরা দস্তুরমতো হুমকিতে পড়বেন। তারকা রাজনীতিবিদদের মধ্য থেকে কেউ কেউ কক্ষচ্যুত হয়ে পড়বেন- অন্য দিকে অচেনা ও অজানা মালেরা মহাতারকা হিসেবে ছড়ি ঘুরানো শুরু করে দেবেন। বিরোধী শিবিরের রাজনীতির ক্ষেত্রেও কঠিন ও জটিল সব রসায়ন শুরু হয়ে যাবে। মাতৃভক্ত ও ভ্রাতৃভক্ত লোকজন মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যাবেন এবং স্বৈরাচার ও দেশপ্রেমিকের অতীত সংজ্ঞা পাল্টে গিয়ে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়ে যাবে। মুক্তিযোদ্ধা, রাজাকার, ভারতবিরোধী, পাকিস্তানবিরোধী থেকে শুরু করে পশ্চিমা শক্তির তাঁবেদার দালালেরা আগামী চার মাসে এমন কিছু করবেন এবং বলবেন, যা দেখে আপনারা অবাক না হয়ে পারবেন না।

আগামী দিনগুলোতে ভয় ও সাহস, লোভ ও স্বার্থত্যাগ, নির্বুদ্ধিতা ও বুদ্ধিমত্তা ইত্যাদি বিপরীতমুখী বিষয়গুলো একই ব্যক্তির মধ্যে যুগপৎভাবে একেক সময় একেকভাবে খেলা করবে। সরকারি দল এবং মিত্ররা একবার বিরোধী দলগুলোকে দুই পয়সার দাম না দিয়ে যাচ্ছেতাই বলে দূর দূর করে তাড়িয়ে দেবে, আবার কিয়ৎকাল পরে ভোল পাল্টে সমঝোতার কথা বলবে। বিরোধীরা একবার সরকারের ভয়ে ক্ষণে ক্ষণে মূর্ছা গিয়ে দাঁতের পাটি লাগিয়ে নিথর হয়ে পড়ে থাকবে; আবার পরক্ষণে অমিত বিক্রমে সিংহ গর্জনে প্রতিপক্ষের মনে ভয় ধরিয়ে দেবে। দুর্বলচিত্তের লোকেরা তাবিজ-কবজ, পীর-ফকির, জ্যোতিষী ও রত্ন পাথর হীরা-চুন্নি-পান্না-নীলা-রুবি-গোমেজের খোঁজে পথে-প্রান্তরে ঘুরে বেড়াবে। কিছু মানুষ লন্ডন-আমেরিকা, দিলিø-পিন্ডি ঘোরাঘুরি করে নিজেদের গুরুত্ব বাড়ানোর চেষ্টা করে যাবে। এ অবস্থায় একাদশ সংসদ নির্বাচন কেমন হতে পারে, তা বলার জন্য বড়জোর দু-তিনটি বাক্যের দরকার পড়বে।

আমার মতে, একাদশ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এমন একটি ফলাফল আমাদের সামনে অপরিহার্যভাবে চলে আসবে, যার কথা আমরা কেউ কখনো স্বপ্নেও ভাবিনি; ভাবতে পারছি না কিংবা ভাবতে পারবও না।


লেখক : সাবেক সংসদ সদস্য


আরো সংবাদ