১৫ নভেম্বর ২০১৮

মিসরের রাবা হত্যাকাণ্ডের পাঁচ বছর

-

চলতি আগস্টে মিসরের রাবা হত্যাকাণ্ডের পাঁচ বছর অতিবাহিত হচ্ছে। হত্যাকারীরা আরো শক্ত ও পাকাপোক্তভাবে ‘গণতান্ত্রিক’ প্রক্রিয়ায় মসনদে আসীন। নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ড. মুহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর তার সমর্থক লোকজন রাবা স্কোয়ারে সমবেত হলে ২০১৩ সালের ১৪ আগস্ট এই হত্যাযজ্ঞ শুরু হয়। ট্যাঙ্ক, অ্যাপাচি হেলিকপ্টার নিয়ে নিজ দেশের নাগরিকদের ওপর মিসরের সেনাবাহিনী জঘন্য হত্যাকাণ্ড ঘটায়। স্কোয়ারে লোকজন তখন শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করেছিল, যাকে বলা হয় ‘অবস্থান বিক্ষোভ’। তাদের হাতে ছিল না কোনো প্রকার অস্ত্র। পূর্ব কায়রোর রাবা আল-আদওয়া স্কোয়ারে সে দিন স্বদেশের সশস্ত্র বাহিনীর গুলিতে নিহত হন দুই হাজার ৬০০ বিক্ষোভকারী, যাদের বেশির ভাগই ছিলেন মুরসির দল, মুসলিম ব্রাদারহুডের কর্মী-সমর্থক। অবশ্য সরকার দাবি করেছে, সে দিন মাত্র ৬২৩ জন নিহত হয়। কিন্তু এ সংখ্যাও কি অনেক বেশি নয়?
রাবা স্কোয়ারে প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী অনেককে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। নিয়ন্ত্রিত বিচারে ৮৮৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছিল। পরে ৬৮৩ জনকে ছেড়ে দেয়া হয়। প্রায় ২০০ জন ব্রাদারহুড সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। বিচারক সাঈদ ইউসুফ ব্রাদারহুড নেতা মোহাম্মদ বদিসহ ১৮২ জনকে ফাঁসির আদেশ দেন, এর মধ্যে দু’জন মহিলাও ছিলেন। আসামিদের ১১০ জন বিচারে অনুপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনায় ১৫ হাজার মানুষকে গ্রেফতার করা হয়। তখন মিসরের তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ডিগ্রি। গ্রেফতারকৃতরা অনেকে গাড়ি ও কয়েদখানায় অজ্ঞান হয়ে পড়া সত্ত্বেও কোনো চিকিৎসাসহায়তা দেয়া হয়নি!
সম্প্রতি মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রধান মোহাম্মদ বদিকে এক আদালত দ্বিতীয়বারের মতো মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। তার সাথে আরো ১৩ জনকে একই দণ্ড দেয়া হয়। কায়রোর কাছাকাছি গিজার বাহার আল আজিমে সমাবেশ ও বিক্ষোভ করার দায়ে এই দণ্ড। সেখানে সেনাবাহিনী পাঁচজনকে হত্যা এবং ১০০ জনকে আহত করে। পরবর্তী কারাদণ্ড বিচারে মোহাম্মদ বদিকে যাবজ্জীবন দেয়া হয়। ডিসেম্বর ২০১৩ সালে ব্রাদারহুডকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। আর বদি মুসলিম ব্রাদারহুডের অষ্টম শীর্ষ নেতা, তিনি মিসরে ব্রাদারহুড পরিচালনা করেছেন এবং ২০১০ সালে সংগঠনের প্রধান নির্বাচিত হন। মিসরীয় আইনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে গ্র্যান্ড মুফতির মতামত প্রয়োজন। তবে সরকার চাইলে গ্র্যান্ড মুফতির অনুমোদন ছাড়াও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে পারে।
মানবাধিকার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা ইত্যাদি কারণে যুক্তরাষ্ট্র মিসরে সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছিল। কিন্তু চলতি বছর জুনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ১৯৫ মিলিয়ন ডলার অবমুক্ত করেছেন সেই মিসরের সেনাবাহিনীর জন্য। ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট রিপোর্টে দেখা যায়, মিসরের অবস্থার আদৌ কোনো উন্নতি হয়নি। রিপোর্টে বলা হয়েছে- মানবাধিকার লঙ্ঘন, মতপ্রকাশে প্রতিবন্ধকতা, বেআইনি অন্তরীণ, বিচারবহির্ভূত হত্যা, খুন ও গুম, সংখ্যালঘুদের অধিকার হরণ- এগুলো জেনারেল সিসি সরকারের নিত্যসঙ্গী। তারপরও তাদের ট্রাম্প এই সহায়তা দিলেন এবং এ ক্ষেত্রে সাথে আছে সৌদি আরব ও আরব আমিরাত সরকার।
আফ্রিকায় গণহত্যাগুলোর ইতিহাস খুঁজলে দেখা যাবে ‘বিদেশী বাহিনী’ দ্বারা কিংবা ‘জাতিগত সঙ্ঘাতে’ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। যেমন, ১৮৮৯ সালে সুদানে ব্রিটিশবাহিনী মাত্র ৫ ঘণ্টায় ১১ হাজার লোককে হত্যা করেছিল। ১৯৯৪ সালে রুয়ান্ডায় জাতিগত দ্বন্দ্বে হুতিদের হাতে নিহত হয় পাঁচ লাখ তুতসি গোত্রীয় লোক। ২০০৭ সালে কেনিয়ার দাঙ্গায় দেড় হাজার লোক নিহত হয়েছে জাতিগত সঙ্ঘাতের লড়াইয়ে। আর মিসরের হত্যাকাণ্ড হলো গণতন্ত্রকামীদের ওপর সরকারি সেনাদের বেপরোয়া হত্যাযজ্ঞ। পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডের জন্য কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি। কেননা এর মূল নায়ক ক্ষমতা জবরদখলদার সিসি নিজেই।
হোসনি মোবারকের ক্ষমতাচ্যুতির সময় মিসরে ব্রাদারহুড কর্মীরা সবচেয়ে সুশৃঙ্খল ও বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচিত ছিল।
মুরসি সমর্থকরা বিক্ষোভ শুরু করলে ব্যাপক দমন-পীড়ন শুরু হয়েছিল দেশব্যাপী। হাজার হাজার ব্রাদারহুড নেতাকর্মীকে হত্যা, নির্যাতন ও কারাবন্দী করা হয়। মিসরীয় অনেক শান্তিকামী মানুষ দেশ ছেড়ে তখন পালাতে বাধ্য হন। বহু ত্যাগ-তিতিক্ষার পরও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে মিসরের ইসলামপন্থী সর্ববৃহৎ সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুড। রাবা হত্যাকাণ্ডের পাঁচ বছর পরও গণতন্ত্রের দাবি থেকে এতটুকু পিছু হটেনি সংগঠনটি। মিসরের সাধারণ মানুষ এখন রাবাকে স্মরণ করে ‘স্বাধীনতা ও সম্মানের প্রতীক’ হিসেবে।
মিসরের এক আদালতে ৭৫ জনকে সম্প্রতি মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে মুসলিম ব্রাদারহুডের অনেক নেতাকর্মী রয়েছেন। অনুমোদনের জন্য বিষয়টি গ্র্যান্ড মুফতির কাছে রয়েছে। ব্রাদারহুডের শীর্ষ নেতা মোহাম্মদ আল বালতাকি, আইজাম আল আরিয়ান, সাফাওয়াত হিজাজি প্রমুখও এর মধ্যে রয়েছেন। এর মধ্যে মোহাম্মদ আবু জাঈদ, যিনি শাওখান নামে পরিচিত, তিনিও ছিলেন। যিনি ইউনেস্কো প্রেস ফ্রিডম পুরস্কারপ্রাপ্ত। অবশ্য তার ব্যাপারে আদালত কোনো সিদ্ধান্ত দেননি।
মিসর সরকার দাবি করেছে, বিক্ষোভকারীদের অনেকে অস্ত্রধারী ছিল এবং তাদের আঘাতে ৪৩ জন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছিল। গ্লোবাল রাইট ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, কমপক্ষে ৪০ হাজার মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, যাদের অনেকের হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। দাবি করা হচ্ছেÑ এরা খুন ও গুমের শিকার।
অনেক সংস্থা ২০১৩ সালের রাবা হত্যাকাণ্ডের আন্তর্জাতিক তদন্ত চেয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, মিসর কর্তৃপক্ষ কোনো নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে তদন্ত ও বিচারে সোপর্দ করতে ব্যর্থ হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, তখন মাত্র ১ ঘণ্টার মধ্যে ৮০০ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে মিসরের আধুনিক ইতিহাসে যার কোনো নজির নেই। কর্তৃপক্ষ চায় তাদের পুরোদমে স্তব্ধ করে দিতে।
বিস্ময়কর হলো, মিসরীয় আলেমদের বড় একটি দল সিসিকে সমর্থন করছেন। তারা লিবারেলিজম ও ইসলাম একই বলে উল্লেখ করে থাকেন। এমনকি এই দলের অনেকে বলেছেন, ‘সিসি একজন সংস্কারক, তাই নবীদের মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব’। সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি আলি গুমাহর মতো আল আজহারের শেখ সাদ আল দ্বীন আল হেলালি বলেছেন, ‘সিসি যেন এক আল্লাহর রাসূল’। অনেক আলেম এই শাসকের প্রশংসায় কবিতা লিখে খ্যাত হয়েছেন। এসব কবিতা সরকারপন্থী পত্রিকায় দেদার প্রকাশিত হচ্ছে। এসব ব্যক্তিকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ব্রাদারহুডের যাদের ফাঁসি হয়েছে, তাদের উদ্দেশে সরকারপন্থী আলেমরা বলেছেন, ‘তারা দোজখের কুকুর।’ আলি গুমাহ ও তার সমর্থকদের মতে, যারা বিক্ষোভের সময় পাথর ছুড়েছে তারা খারেজি। মুসলিম ব্রাদারহুড হোক বা যে-ই হোক, খারেজিকে হত্যা করা অনুমোদিত। তাই সিসি ঠিক কাজই করছেন। ইতোমধ্যে ব্রাদারহুড পরিচালিত শত শত মসজিদ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এবং তাদের ব্যাংকের ফান্ডগুলো জব্দ করে দেয়া হয়েছে।
বিশ্ব অবাক হবে এটা শুনে যে, প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি গত জুলাই মাসে এমন আইন করেছেন, সিনিয়র সামরিক অফিসারদের রাবা হত্যাকাণ্ডের ও মুরসির পক্ষে বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলার জন্য বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যাবে না। রাবা মিসরের ইতিহাসে একটি ক্ষত হয়ে থাকবে, যার কোনো বিচারের আশা নেই আজ পর্যন্ত।
প্রেসিডেন্ট দল ভারী করার জন্য যুবক-যুবতীদের একত্র করছেন। তরুণদের নিয়ে তিনি ‘মিডিয়া ব্যাটালিয়ন’ বানিয়েছেন। দরিদ্র যুবকরা এই ব্যাটালিয়নের সদস্য হচ্ছে। সেনাবাহিনীর চাকরিতে এরা অগ্রাধিকার পাচ্ছে। সরকারি চাকরি, ঠিকাদারি, ব্যাংক ঋণ তাদের জন্য। এরা কোনো অপরাধ করলেও পুলিশ ধরছে না। মনে হচ্ছে এরাও যেন সিসির মতো।
পাঁচ বছর পেরিয়ে মিসরের সামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও বদলে গেছে। মিসরের কয়েদখানায় এখন ৬০ হাজার রাজনৈতিক বন্দী। এদের রাখার জন্য সিসি আরো ১৬টি কারাগার বানিয়েছেন। হয়তো জেলে আরো অনেককে পুরবেন। অ্যামনেস্টি বলে থাকে, ‘জেনারেশন প্রটেস্ট’। তা এখন জেনারেশন কারাগারে পরিণত হয়েছে। মিসরের সংস্থাগুলোই বলেছে, ২০১৬ সালে নির্যাতনের ৮৩০টি মামলা হয়েছে। এই কয় বছরে গুম করা হয়েছে ১২৫০ জনকে। পুলিশের নির্যাতন এখন চরমে। নামকরা এনজিও আল নাদিম, যা বিভিন্ন নির্যাতনের বিরুদ্ধে ও মানবাধিকার কাজ করত, সেটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। মিসরে চলছে অবিচার, যার মাধ্যমে সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীদের জেল-জরিমানা করা হচ্ছে পাইকারি হারে। চলতি বছর পুলিশ হেফাজতে মারা গেছে আটজন রাজনৈতিক বন্দী।
সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর আছে ‘বলির খড়গ’। আলজাজিরাসহ ২৪ জন সাংবাদিক দীর্ঘ দিন ধরে জেলে। মিসর সরকার ৪৩৪টি সংবাদ পোর্টাল ও ওয়েবসাইট বন্ধ করে দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নামকরা আরবি মাদামাসার ও ইংরেজি ডেইলি নিউজ ইজিপ্ট। সরকার নিয়মিত মিডিয়া ব্যবহারকারীদের ব্লক এবং ফিল্টার করছে। জুলাই মাসে নতুন আইন করা হয়, যার বলে সরকার সোস্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ব্লক করতে পারবে। ফলে প্রায় পাঁচ হাজার ব্যবহারকারীর সোস্যাল মিডিয়া ব্লক করা হয়েছে। টুইটার ও ফেসবুক এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। ভুয়া তথ্য প্রদানের জন্য আইনের কাঠগড়ায় আনা হচ্ছে। গত বছর আইনবিষয়ক সেমিনারে অংশ নেয়ায় দু’জন বিচারককে কথিত শৃঙ্খলা ভঙ্গের সাজা দেয়া হয়েছে এবং ১৫ হাজার ৫০০ নাগরিককে সামরিক আদালতে পাঠানো হয়েছে, যার মধ্যে ১৫০ জনই শিশু। প্রেসিডেন্ট সিসি ১৯৫৮ সালের ইমার্জেন্সি আইনকে বলবৎ করেছেন। ফলে তিনি অপরিসীম ক্ষমতা ভোগ করবেন, নিরাপত্তাবাহিনী সদস্যরা যে কাউকে গ্রেফতার ও অন্তরীণ এবং মিডিয়া সেন্সর করতে পারবেন।
চলতি বছর ৫০ শতাংশ মিসরীয় নাগরিক দৈনিক ১.৮০ ডলারে জীবনধারণ করছে। বর্তমানে ২০ মিলিয়ন মিসরীয়র বয়স ১৮-২৯ বছরের মধ্যে। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ বেকার। মুদ্রাস্ফীতি ৩৫ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় খাবারের দাম আকাশচুম্বী, যা অকল্পনীয়। সিসি বেতন বাড়িয়ে দিয়ে সেনা ও অফিসারদের খুশি করছেন কিন্তু এতে সাধারণ মানুষের কোনো উপকার হচ্ছে না।
কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হলেও সহিংসতা থেমে নেই। মাঝেমধ্যে এমন সব ঘটনা ঘটে, যাতে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায়ও হইচই পড়ে যায়। সেনাবাহিনীর ছাউনি, পুলিশ ফাঁড়ি, খ্রিষ্টানদের ওপর আক্রমণ লেগেই আছে। যারা সরকারকে মদদ দিচ্ছে তাদের ওপর হামলা হচ্ছে। বিমানে বোমা হামলা, শারম আল শেখে হামলা চাঞ্চল্যকর ঘটনা। সহিংসতা মসজিদে ও ধর্মীয় নেতাদের ওপরও হয়েছে সিসিকে সমর্থন দেয়ার কারণে। সিনাই এলাকায় দফায় দফায় সেনাবাহিনীর ওপর হামলা চলছে। এসব হামলার জন্য ‘মিসরের সেনাদল’ নামে এক গোষ্ঠী দায় স্বীকার করলেও সিসি সরকার পরিকল্পিতভাবে ব্রাদারহুডের ওপর দোষ চাপায়।
মিসরে বিরোধীরা ২০১৪ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত ১১৬৫টি আক্রমণ চালিয়েছে। অর্থাৎ, তিন বছর গড়ে একদিনে একটি আক্রমণ ঘটেছে। মিসরের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এমন বড় ঘটনা হলো রাশিয়ার মেট্রো জেট বিমানে বোমা হামলা যাতে মৃতের সংখ্যা ২২৪ জন এবং আল রাউজা মসজিদে আক্রমণ, মৃতের সংখ্যা ৩০৫ জন। সামরিক আদালত জালাল আল বিহেরিকে তিন বছরের সাজা ও ৫৬০ ডলার জরিমানা করেছে। কেননা, তিনি কবিতায় সামরিক অফিসারদের ও সিসির সমালোচনা করেছেন। এই কবিতাকে সুর দিয়ে সঙ্গীত পরিবেশনের দায়ে রামি এশসামকে দোষী করা হয়। কিন্তু তিনি সুইডেনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন। রামি যে গান গেয়েছেন, তা এরকম- ‘চারটি বছর গুণ্ডাবাহিনী নিয়ে তুমি মৌজ করেছ, আল্লাহকে তো ভুলেই গেছ, ফেরাউনকেও কি ভুলে গেছ?’
লেখক : অবসরপ্রাপ্ত যুগ্মসচিব,
বাংলাদেশ সরকার ও গ্রন্থকার


আরো সংবাদ