২০ নভেম্বর ২০১৮

বাণিজ্য ঘাটতি দেড় লাখ কোটি টাকা

বাণিজ্য ঘাটতি দেড় লাখ কোটি টাকা - সংগৃহীত

২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১১ মাসে মোট বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৭২২ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশের মুদ্রায় প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা। বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে। তা ছাড়া, আমাদের বাজেটে বিগত ১০ বছরে আয় এবং ব্যয়ের যে ঘাটতি, তা প্রতি অর্থবছরে ৪০ থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকা করে বাড়ছে।

জনগণের সঞ্চিত অর্থ দিয়ে এই ঘাটতি জোড়াতালি দিয়ে মেটানো হয়। এ যদি হয় অবস্থা, তাহলে দেশকে কিভাবে উন্নয়নশীল রাষ্ট্র বলি। কয়েক বছর ধরে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে যাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় চাপে পড়েছে। স্বভাবতই আমদানি বাড়লে বাজারে ডলারের দাম বেড়ে যায়। ইতোমধ্যে ডলারের তুলনায় টাকার মান অনেক দুর্বল হয়েছে। যার প্রভাব পড়ে দেশে আমদানি ও শিল্পপণ্যের দামে। এতে ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। অন্য দিকে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে মূল্যস্ফীতিতে। ১৩ জুলাই ২০১৬ একটি জাতীয় দৈনিকে লিড নিউজ ছিল- অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত একটি অনুষ্ঠানে বলেছেন, দেশে বিগত ১০ বছরে কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি। এ ধরনের বক্তব্য যদি কোনো বিদেশী রাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী দিতেন, তাহলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হতো। বাস্তবতার সাথে কথার গরমিল থাকলে তাকে মানসিক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেয়া হয়।

যে ব্যক্তিটি এ উক্তি করেছেন, তিনি প্রবাস জীবন কাটিয়েছেন বহু বছর। এবার একটি উদাহরণ তুলে ধরব অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের সাথে যথার্থতা যাচাই বা পরখ করার জন্য। ২০০৯ সালে যে চালের দাম কেজিপ্রতি ২৫-৩০ টাকা ছিল, তা ২০১৮ সালের জুলাই মাসে ৬০-৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ১০ বছরে এক কেজি চালের দামই বেড়েছে ৩৫ টাকা। লবণ ছিল ১৫ টাকা, তা হয়েছে প্রায় ৪০ টাকা। গরুর গোশত ২০০ টাকা প্রতি কেজির দাম, তা ২০১৮ সালের জুলাই মাসে এসে দাঁড়িয়েছে ৫৫০ টাকায়।

বাসাবাড়ির বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট ছিল ১ দশমিক ৭০ টাকা, তা ১০ বছর পর হয়েছে প্রতি ইউনিট (ডিমান্ড চার্জ ও ভ্যাটসহ) ছয় টাকা।

গ্যাসের চুলা দুই বার্নার ২০০৯ সালে ছিল ২৫০ টাকা, তা এখন প্রায় এক হাজার টাকা দাঁড়িয়েছে। সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ছিল ২০০৯ সালে ৬০ টাকা, তা ২০১৮ সালের জুলাই মাসে এসে দাঁড়িয়েছে ১১৫ টাকা। খাসির গোশত প্রতি কেজি ছিল ২০০৯ সালে ৩০০ টাকা, ২০১৮ সালে দাম বেড়ে হয়েছে ৭৫০ টাকা। সিএনজি জ্বালানি তেল প্রতি লিটার ৩৫ টাকা, ২০১৮ সালের জুলাই মাসে এলাকাভিত্তিক দাম বেড়ে হয়েছে ৫০-৬৫ টাকা। কক্সবাজার, বাঁশখালী ও চট্টগ্রামে সিএনজি গ্যাস বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬৫ টাকা প্রতি লিটার। এর মধ্যে অর্ধেক থাকে বাতাস।

২০০৯ সালে বেগুনের কেজি ছিল ১৫ টাকা, তা ২০১৮ সালের জুলাই মাসে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫৫-৬৫ টাকা। আলু প্রতি কেজির দাম ছিল ১০ থেকে ১২ টাকা, তা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ২৮ টাকায়। শাকসবজি দ্বিগুণের চেয়েও বেশি দামে বর্তমানে ভোক্তাদের কিনতে হচ্ছে। এ তথ্য কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) থেকে নেয়া। ১৩ জুলাই ২০১৮ একটি জাতীয় দৈনিকে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রশ্ন হলো- প্রথিতযশা একজন অর্থমন্ত্রী এখন কী জবাব দেবেন? সেটা দেখার বিষয়।
বিদ্যুতের দাম নাকি আবার বাড়ানো হবে- পত্রিকায় নিউজ দেখলাম। প্রতি বছরই বিদ্যুৎ খাতে একাধিকবার দাম বাড়ানো হয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো- সমাপ্ত অর্থবছরে (২০১৭-১৮) বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) ক্ষতি আট হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে জানানো হয়েছে।

বিদ্যুতের লোকসান কমাতে সরকার বিভিন্ন সময় এর দাম বাড়িয়েছে, কিন্তু লোকসান কমেনি। কারণ হলো- প্রাতিষ্ঠানিক ব্যয় বেড়ে যাওয়া। আরো আছে শুভঙ্করের ফাঁকি। দাম বাড়ায়, সরকারের কিছু যায়-আসে না। জনগণ তো আছে। রসিকজনের উক্তি- ‘আমরা লুটপাট করব আর সেই ঘাটতি পূরণ করব জনগণের পকেট কেটে।’ সাশ্রয় কিভাবে হবে, সেদিকে সরকারের লক্ষ্য নেই। যেমন ধরুণ, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন, গ্যাস স্বল্পতায় ডিজেলের ওপর বাড়তি নির্ভরতা, ডিজেলভিত্তিক নতুন নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন এবং বিদ্যুতের পাইকারি বিক্রয়মূল্য হ্রাস। সরকার বেসরকারি রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়েছে, অথচ পিডিবির বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো গ্যাসের অভাবে অপেক্ষাকৃত কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না। আমাদের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা না থাকায় অর্থনৈতিক বৈষম্য থেকে শ্রেণী-বৈষম্য বাড়ছে। এক শ্রেণীর মানুষ প্রচুর অর্থের মালিক, আরেক শ্রেণীর মানুষ দু’বেলা অন্ন জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে।

আমাদের আর্থিক নীতিমালা গোঁজামিলে ভরা। অডিট ফার্মগুলোও প্রতিষ্ঠানের কথামতো অডিট রিপোর্ট দেয়- ফলে সেখানেও অস্বচ্ছতা থেকে যাচ্ছে। সরকারি ব্যাংকগুলো দেদার লোকসান করবে, আর জনগণ তা ভরবে। কেন ঋণাত্মক হলো তার কোনো জবাবদিহিতা নেই। গ্যাস সংযোগ আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠা বাড়িতে এবং হাউজিং কোম্পানির নির্মিত ফ্ল্যাট বাড়িতেও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বহু বছর ধরে। গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসায়ীরা এই সুযোগে গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। ১২ লিটার গ্যাসের দাম এক হাজার ১০০ টাকা। এসব কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি নানাভাবে বাড়ছে।

সংশ্লিষ্ট মহল থেকে এমন খবরও পাওয়া যাচ্ছে, সরকারি প্রজ্ঞাপনে গ্যাস সংযোগ বন্ধ হলেও মোটা অঙ্কের বিনিময়ে তিতাস গ্যাস কোনো কোনো জায়গায় এখনো সংযোগ দিচ্ছে। ন্যায় বা অন্যায় এগুলো মুখরোচক শব্দ। মূল কথা হলো- টাকা খরচ করলে বাংলাদেশে অবৈধ কাজও বৈধ হয়ে যায়। চাকরি যদি সরকারি হয় তা অর্জন করতে ইন্টারভিউয়ের প্রয়োজন জরুরি নয়, মামা-খালু না হয় মোটা অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন জরুরি। দেশে মেধার ভিত্তিতে চাকরি হবে। সেখানে কোটা কেন? সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে গণফোরাম প্রধান এবং বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ‘বাংলাদেশ কি পশুদের দেশ নাকি মানুষের দেশ?’

তিনি বলেছেন, ‘যারা কোটা আন্দোলনকারীদের রাজাকার বলে, তাদের চিকিৎসা করানো দরকার। হাতুড়ি দিয়ে হাড় ভেঙে দেয়া এটা কোনো সভ্য দেশে হয় না। সভ্য দেশ গড়ার জন্যই দেশ স্বাধীন করেছিলাম। এখন দেখি অসভ্যরা দেশ চালাচ্ছে। গণপরিবহন সেক্টরে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি নৈরাজ্য চলছে; বাংলাদেশে ছাত্রছাত্রীদের গাড়িচাপা দিয়ে হত্যা করা হচ্ছে। এসব বন্ধের জন্য আন্দোলন করলে ছাত্র-জনতাকে বেদম প্রহার করা হয়। ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলে যা হয়নি, স্বাধীন বাংলাদেশে তা আজ হচ্ছে। একটি সম্ভাবনাময় দেশকে ধ্বংস করে দিতে চাচ্ছে কিছু মতলববাজ মানুষ। এই লুণ্ঠনকারী পাইকপেয়াদার বিরুদ্ধে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কথা বলতে হবে।’

ড. কামাল হোসেন বলেছেন, সমাজকে অশু রোগমুক্ত করতে হলে জাতীয় ঐক্য এখন সময়ের দাবি। বাংলাদেশ থেকে এখন অনেকেই ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছে। সেই পাকিস্তান আমলের বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানির ৯টি এখন এ দেশে ব্যবসা করছে না। সম্প্রতি গ্লাক্সো বিডি তার কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে। এই বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানিটি এখন মুনাফা অর্জন করতে পারছে না বলে জানিয়েছে। দেশীয় ওষুধ কোম্পানির মধ্যে স্কয়ার কোম্পানির অবস্থাও ভালো নয়। গত এক মাসে শেয়ারবাজারে স্কয়ারের প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ৫৩ টাকা কমে গেছে। শেয়ারবাজারের মন্দা এখন ওষুধ কোম্পানিতেও আঘাত করেছে।

সরকারি বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানে লোকসান, তারপরও ১০ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে শেয়ার কেনার জন্য। সরকার যদি শেয়ার ব্যবসায় করতে না জানে, তাহলে কেন বাজেটে টাকা বরাদ্দ করা হলো শেয়ার কেনার উদ্দেশ্যে। যারা ব্যবসায় বোঝে- তারা ব্যবসা করবে। বেসরকারি সেক্টর কোম্পানিগুলোই বাংলাদেশের ব্যবসায় বাঁচিয়ে রেখেছে। তাদের হাতে ব্যবসা ছেড়ে দেয়া হোক। ১৪টি সেক্টর করপোরেশন সরকার নিয়ন্ত্রিত, কোনোটিই লাভজনক নয়। সবগুলো প্রতিষ্ঠানই রুগ্ণ শিল্পে পরিণত হয়েছে। সরকার মানুষের বেঁচে থাকার ন্যূনতম অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। যেমন ধরুন ২০১৪-১৫ থেকে ১০১৮-১৯ এই চার বছর ধরে ন্যূনতম করসীমা আড়াই লাখ টাকা।

একমাত্র সরকারি কর্মচারী ছাড়া এই চার বছরের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও খেটে খাওয়া মানুষের বেতন বাড়েনি। দেশে প্রবৃদ্ধি বাড়ছে, মূল্যস্ফীতি বাড়ছে; কিন্তু ন্যূনতম করসীমা বাড়ানো হচ্ছে না। মূল্যস্ফীতির কারণে যেটা আমি ওপরে উল্লেখ করেছি, সেহেতু চার বছর আগের আড়াই লাখ টাকা এখন আর আড়াই লাখ টাকা নেই। টাকার মূল্যমান পণ্যের দামের কাছে নতজানু হয়েছে। চার বছর আগে কাঁচা মরিচের দাম ৬০ টাকা কেজি ছিল।
এখন সাড়ে তিন গুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০০ টাকা। চাল, আটা, ভোজ্যতেল, বাড়িভাড়া, বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানি, হোল্ডিং ট্যাক্স, ময়লার বিল, শাকসবজি, গোশত, মাছ, এমন কোনো পণ্যসামগ্রী নেই, যার দাম তিন থেকে চার গুণ বাড়েনি। অনেক ক্ষেত্রে পাঁচ-ছয় গুণও দাম বেড়েছে। ন্যূনতম লজ্জা থাকলে সরকারের মন্ত্রীরা কখনোই বলতেন না ১০ বছরে কোনো দ্রব্যের দাম এই সরকারের আমলে বাড়েনি। সরকারের এসব আবোল-তাবোল বক্তব্যে করদাতারা চরমভাবে বঞ্চিত হচ্ছেন। আমার এক আত্মীয় কলকাতা থেকে এসে বলল। বৌবাজারে একটি বড় (পদ্মার) ইলিশ ৩০০ রুপিতে পাওয়া যায়। আর সেই মাছ বাংলাদেশে আছে কি না আমার সন্দেহ হয়।

থাকলেও দাম এক হাজার ২০০ টাকার নিচে নয়। গত ১০ বছরে সাড়ে চার গুণ বেতনভাতা বেড়েছে সরকারি কর্মচারীদের। সরকারের ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশে পণ্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির মূল কারণ ছিল এটি। চলতি বছরের (১০১৭-১৮) বাজেটে এক লাখ ২১ হাজার ২৪২ কোটি টাকা ঘাটতি ছিল, যা মোট বাজেটের প্রায় ২৬ শতাংশ। অর্থাৎ ৮৪ টাকা পকেটে নিয়ে আপনি ১০০ টাকার বাজার করছেন। বাকি টাকা কে দেবে, কোত্থেকে আসবে? টাকার জোগান নেই, খরচ করছি। এটা কী ধরনের বাজেটের চেহারা। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে দেশী ও বিদেশী ঋণের সুদবাবদ ছিল ১২ হাজার ৫৬৫ কোটি টাকা, যা চার গুণের অধিক হয়েছে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে। অর্থাৎ ৫১ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকা যাবে দেশী ও বিদেশী ঋণের সুদবাবদ খরচ। আজ প্রায় এক যুগ ধরে বেসরকারি বিনিয়োগ ২১ থেকে ২২ শতাংশে স্থবির হয়ে আছে। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, সরকারি বিনিয়োগ চার থেকে আট শতাংশ হয়েছে।

বেসরকারি বিনিয়োগ কেন সেভাবে বাড়ছে না। বেসরকারি বিনিয়োগ না বাড়লে কিভাবে কর্মসংস্থান বাড়বে? অর্থমন্ত্রী আরেকটি কথা বলেছেন- যেটা জাতির মানসম্মানে মারাত্মক আঘাত করেছে। তিনি বলেছেন, আমাদের যুবকেরা পেশাদারি কাজে অনুপযুক্ত। তাই ভারতসহ অনেক বিদেশী আমাদের দেশে কাজ করছেন। সম্প্রতি কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে- বিদেশী কর্মীরা বিশেষ করে ভারতীয় এক লাখ উচ্চপদে কর্মকর্তারা কয়েক বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স বাংলাদেশ থেকে তাদের দেশে পাঠাচ্ছেন।

তাদের কাছ থেকে আমাদের কয়েক হাজার কোটি টাকা ট্যাক্স পাওয়ার কথা। বাজেটে তার কোনো নথিপত্র খুঁজে পাওয়া গেল না। মানুষের কাছে আরেকটি প্রশ্ন দেখা দিয়েছে- দুর্যোগ ও মহামারী ছাড়া কেন প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণতহবিলে অর্থ প্রদান করে ফটোসেশনের সুযোগ নেয়া হয়? প্রয়োজন হলে সরকার বাজেট থেকে টাকা নিয়ে ত্রাণে খরচ করবে। ইংরেজিতে একটা কথা আছে- এক টাকা সাশ্রয় মানে এক টাকা আয়। আমরা কেন কর বাড়ানোর জন্য সদাব্যস্ত বা উন্মুখ থাকি? ব্যয় কমিয়ে তো ভালো আর্থিক ব্যবস্থাপনা করা যায়।

সরকারের কাজ হবে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির মতো, যেটা চীন ও জাপানে আছে, যাদের দায়িত্ব নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকায় একটি অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করে দেয়া। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির সাফল্যের ধাপ দু’টি- ১. মালিকের উদ্দেশ্য পরিপূর্ণ করা আর ২. যথাসম্ভব সাশ্রয়ী মূল্যে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা। আসল মুন্সিয়ানা সাশ্রয়ী মূল্যমানসম্পন্ন সেবা প্রদানে।

লেখক : গ্রন্থকার ও গবেষক
E-mail. harunrashidar @gmail.com


আরো সংবাদ