১৮ এপ্রিল ২০১৯

বাক ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ব্যাপ্তি

বাক ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ব্যাপ্তি - ছবি : নয়া দিগন্ত

মানুষ সামাজিক জীব। এ পৃথিবীতে মানবজাতি আগমনের পর থেকে মানুষ সমাজবদ্ধভাবে বাস করে আসছে। একজন মানুষের সাথে অপর মানুষের ভাবের বিনিময় কথোপকথনের মাধ্যমে হয়ে থাকে। এটা কখনো শালীনতা ও নৈতিকতা বিবর্জিত হওয়া কাম্য নয়। আদিম সমাজে ধর্ম ও রাষ্ট্রব্যবস্থা আবির্ভূত হওয়ার আগে মানুষ নিজস্ব বোধশক্তি দিয়ে শালীনতা বা নৈতিকতা এবং অশালীনতা বা অনৈতিকতার মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করে নিজেদের কথোপকথন মার্জিত রাখার ক্ষেত্রে সচেষ্ট থেকেছে।

ইহুদি, খ্রিষ্টান, ইসলাম প্রভৃতি ধর্ম আবির্ভূত হওয়ার আগে মানুষ বহু স্রষ্টায় বিশ্বাস করত। এ বিশ্বাস তখনকার মানুষের মধ্যে এত বদ্ধমূল ছিল যে, শক্তিধর বা বিশালাকৃতির যেকোনো জড় ও অজড় পদার্থকে দেব-দেবী গণ্য করে পূজা অর্চনায় তারা মত্ত থাকত। এক স্রষ্টায় বিশ্বাসী ধর্মগুলোর বিধিবিধান সামাজিক সৌহার্দ্য সম্প্রীতি রক্ষায় শুরু থেকেই অনেক অবদান রেখে আসছিল এবং রাষ্ট্র কাঠামোর অধীনে এ অবদান আরো সুদৃঢ় হয়।

বর্তমান বিশ্বের প্রতিটি দেশের নাগরিকেরা বাক ও ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করে থাকেন। কিন্তু উভয় স্বাধীনতা ভোগের ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। বাক ও ধর্মীয় স্বাধীনতা বাংলাদেশের সংবিধানে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত। আমাদের সংবিধানে একটি অনুচ্ছেদে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক স্বাধীনতার বিষয় উল্লেখ রয়েছে। কোনো দেশের মানুষের চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতাকে সীমারেখা দিয়ে নির্দিষ্ট করে দেয়া যায় না। আমাদের সংবিধানেও চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার কোনো সীমারেখা দেয়া হয়নি। চিন্তা ও বিবেকের বহিঃপ্রকাশ বাক ও ভাব প্রকাশের মধ্য দিয়ে হয়ে থাকে। তাই যতক্ষণ পর্যন্ত চিন্তা ও বিবেকের প্রকাশ না ঘটছে, ততক্ষণ পর্যন্ত কারো পক্ষে বোঝা সম্ভব নয় তা শালীনতা বা নৈতিকতার পরিপন্থী কি না।

সংবিধানে ৩৯ নম্বর অনুচ্ছেদ চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক স্বাধীনতাসংক্রান্ত। এ অনুচ্ছেদটির উপ-অনুচ্ছেদ (১)-এ বলা হয়েছে- চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হলো। উপ-অনুচ্ছেদ (২)-এ বলা হয়েছে- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশী রাষ্ট্রগুলোর সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা বা নৈতিকতার স্বার্থে কিংবা আদালত অবমাননা, মানহানি বা অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনা সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ সাপেক্ষে (ক) প্রত্যেক নাগরিকের বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার এবং (খ) সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হলো।

উপরিউক্ত অনুচ্ছেদটি থেকে প্রতীয়মান হয়, কোনো ধরনের বাধানিষেধ ছাড়াই চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার উল্লেখ রয়েছে। অপর দিকে, বাক স্বাধীনতার ক্ষেত্রে দেখা যায় এটি শর্তসাপেক্ষ। আর শর্ত মোতাবেক একজন নাগরিকের বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত তা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশী রাষ্ট্রগুলোর সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা, নৈতিকতা, আদালত অবমাননা, মানহানি, অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনা প্রভৃতি বিষয়ে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত যেসব বাধানিষেধ রয়েছে, তা অতিক্রম না করে।

ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়টি সংবিধানের ৪১ নম্বর অনুচ্ছেদে উল্লিখিত হয়েছে। অনুচ্ছেদটির ১ নম্বর উপ-অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- আইন, জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতা সাপেক্ষে (ক) প্রত্যেক নাগরিকের যেকোনো ধর্ম অবলম্বন, পালন বা প্রচারের অধিকার রয়েছে; (খ) প্রত্যেক ধর্মীয় সম্প্রদায় ও উপ-সম্প্রদায়ের নিজস্ব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের স্থাপন, রক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার অধিকার রয়েছে। উপ-অনুচ্ছেদ নম্বর (২) এ বলা হয়েছে- কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যোগদানকারী কোনো ব্যক্তির নিজস্ব ধর্মসংক্রান্ত না হলে তাকে কোনো ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ কিংবা কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা উপাসনালয়ে অংশগ্রহণ বা যোগদান করতে হবে না।

বর্তমানে পৃথিবীতে যেসব প্রধান ধর্মীয় মতবাদ রয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো হিন্দু, বৌদ্ধ, ইহুদি, খ্রিষ্টান ও ইসলাম। এ পাঁচটি ধর্মীয় মতবাদ অধ্যয়ন করলে দেখা যায়, এর কোনোটিতেই অপর ধর্মমত নিয়ে কোনো ধরনের কটাক্ষ করা হয়নি। মানুষের মধ্যে যারা ধর্মবিশ্বাসী, তাদের আস্তিক বলা হয়। আর যারা ধর্মবিশ্বাসী নয় তাদের বলা হয় নাস্তিক। নাস্তিকেরা আল্লাহ, ঈশ্বর বা সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব স্বীকার করে না। নাস্তিকদের মধ্যে দু’ধরনের মানুষ রয়েছে। প্রথমোক্ত ধরনের ব্যক্তিরা স্বীয় ধ্যানধারণা ও চিন্তাচেতনা নিয়ে আপন পরিমণ্ডলে বসবাস করে। এরা ধর্মবিশ্বাসী না হলেও কখনো অপরের ধর্ম নিয়ে কটাক্ষ করে না বা অপরের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে না। দ্বিতীয় ধরনের ব্যক্তিরা নিজেদের বিজ্ঞ ও পণ্ডিত ভাবলেও আসলে তারা একেবারেই অজ্ঞ ও মূর্খ। এদের দেখা যায়, নিজস্ব চিন্তাচেতনা ও জ্ঞানের পরিধি অত্যন্ত সীমিত হওয়া সত্ত্বেও তারা অপর ধর্ম বিশেষ করে ইসলামকে কটাক্ষ করে কিংবা মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনে নিজেদের আলোচিত ব্যক্তিত্বে পরিণত করতে চায়। এ কাজের পেছনে অন্য যে দুরভিসন্ধি কাজ করে তা হলো, নিজ রাষ্ট্রে তার জীবন বিপন্ন এ বিষয়টিকে প্রতিষ্ঠিত করে পাশ্চাত্যের উন্নত রাষ্ট্রে আশ্রয় গ্রহণ ও সেখানে ‘সুখের নীড়’ স্থাপন।


আমাদের মূল দণ্ডআইন, দণ্ডবিধিতে কোনো সম্প্রদায়ের ধর্মের প্রতি অবমাননা প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে উপাসনালয়ের ক্ষতিসাধন বা অপবিত্রকরণ, কোনো সম্প্রদায়ের ধর্ম বা ধর্মবিশ্বাসের বিদ্বেষমূলক অবমাননা, ধর্মীয় সমাবেশে গোলযোগ সৃষ্টি, গোরস্থান ইত্যাদিতে অনধিকার প্রবেশ, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার জন্য অস্বস্তিকর শব্দের উচ্চারণ প্রভৃতি দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে উল্লিখিত হয়েছে। দণ্ডবিধিতে বর্ণিত যেকোনো অপরাধ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কৃত অপরাধ হিসেবে গণ্য। তাই ধরনের অপরাধের দায়ে কোনো ব্যক্তি অভিযুক্ত হলে তাকে বিচারের আওতায় এনে সাজার ব্যবস্থা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।


আমাদের এ উপমহাদেশ ব্রিটিশদের শাসনকালে ১৮৬০ সালে দণ্ডবিধি প্রণীত হয়েছিল। দণ্ডবিধিতে ধর্ম অবমাননা বিষয়ে অপরাধের সাজা সীমিত হওয়ায় তা কার্যকরভাবে ধর্ম অবমাননাসংক্রান্ত অপরাধ হ্রাসে ভূমিকা রাখতে না পারায় ২০০৬ সালে যখন তথ্য ও যোগাযোগ প্রয্ুিক্ত আইন প্রণয়ন করা হয়, তখন এ আইনের ৫৭ ও ৬৬ ধারায় তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে যেকোনো ধর্মের অবমাননা শাস্তিযোগ্য করা হয়েছে। আইনটির ৫৭ নম্বর ধারায় ইলেকট্রনিক ফরমে মিথ্যা, অশ্লীল অথবা মানহানিকর তথ্য প্রকাশসংক্রান্ত অপরাধ ও এর দণ্ডের বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। ওই ধারার উপধারা নং (১)-এ বলা হয়েছে- কোনো ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রচার বা সম্প্রচার করেন, যা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেউ পড়লে, দেখলে বা শুনলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হতে উদ্বুদ্ধ হতে পারে অথবা যার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উসকানি দেয়া হয়, তাহলে তার এ কার্য হবে একটি অপরাধ। উপধারা নম্বর (২)-এ বলা হয়েছে- কোনো ব্যক্তি উপধারা (১)-এর অধীনে অপরাধ করলে তিনি অনধিক ১৪ বছর কারাদণ্ডে, যা ন্যূনতম ৭ বছরের নি¤েœ নয় এবং অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।


এ আইনটির ধারা নম্বর ৬৬ কম্পিউটার ব্যবহারের মাধ্যমে অপরাধ সংঘটন ও এর দণ্ড সংক্রান্ত। ধারাটির (১) নম্বর উপধারায় বলা হয়েছে- যদি কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো কম্পিউটার, ই-মেইল বা কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, রিসোর্স বা সিস্টেম ব্যবহারের মাধ্যমে এ আইনের অধীনে কোনো অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করেন, তাহলে তার ওই কাজ হবে একটি অপরাধ। উপধারা নম্বর (২)-এ বলা হয়েছে- কোনো ব্যক্তি উপধারা (১)-এর অধীনে কোনো অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করার ক্ষেত্রে মূল অপরাধটির জন্য যে দণ্ড নির্ধারিত রয়েছে, তিনি সে দণ্ডেই দণ্ডিত হবেন।


উপরিউক্ত দু’টি ধারা থেকে প্রতীয়মান হয়, কম্পিউটার বা ইলেকট্রনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে যেকোনো ধরনের মিথ্যা, অশ্লীল অথবা মানহানিকর তথ্য প্রকাশ করা গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ। আমাদের দেশে নাস্তিক হওয়ার দাবিদার অনেকে ইলেকট্রনিক ও কম্পিউটার প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ধর্ম প্রসঙ্গে মিথ্যা, অশ্লীল ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করে এক দিকে ধর্মকে অবমাননা করাসহ বিশ্বাসীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে চলেছেন, অপর দিকে সামাজিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বিপন্ন করে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছেন। এ ধরনের ঘটনায় রাষ্ট্র সময়োচিত পদক্ষেপ না নেয়ার কারণে ইতোমধ্যে অনেকে আইনকে হাতে তুলে নিয়ে বিয়োগান্ত ঘটনা ঘটিয়েছেন, যা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।


আমাদের সংবিধানে সম্প্রতি অনুচ্ছেদ নম্বর ৭(ক) সন্নিবেশ করে বলা হয়েছে- (১) কোনো ব্যক্তি শক্তি প্রদর্শন বা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে বা অন্য কোনো অসাংবিধানিক পন্থায় (ক) এ সংবিধান বা এর কোনো অনুচ্ছেদ রদ, রহিত বা বাতিল বা স্থগিত করলে; কিংবা (খ) এ সংবিধান বা এর কোনো বিধানের প্রতি নাগরিকের আস্থা, বিশ্বাস বা প্রত্যয় পরাহত করলে কিংবা তা করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ বা ষড়যন্ত্র করলে তার এ কাজ রাষ্ট্রদ্রোহিতা হবে এবং ওই ব্যক্তি রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে দোষী হবে। এ অনুচ্ছেদটিতে উল্লিখিত কাজে সহযোগিতা বা উসকানি দেয়া সম-অপরাধ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে এবং বলা হয়েছে, এ ধরনের অপরাধে দোষী ব্যক্তি প্রচলিত আইনে অন্যান্য অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ দণ্ডে দণ্ডিত হবে। উল্লেখ্য, প্রচলিত আইনে অন্যান্য অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ দণ্ড হলো মৃত্যুদণ্ড।


অনুচ্ছেদ নম্বর ৭(ক) থেকে প্রতীয়মান হয়, সংবিধানে বাক স্বাধীনতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ে যে সীমারেখা দেয়া হয়েছে তা যেকোনোভাবে অতিক্রম করা হলে, তাতে এ সংবিধান বা এর কোনো বিধানের প্রতি নাগরিকের আস্থা, বিশ্বাস বা প্রত্যয় পরাহত হয়। আর যখনই সংবিধান বা এর কোনো বিধানের প্রতি নাগরিকের আস্থা, বিশ্বাস বা প্রত্যয় পরাহত হয়, তা অনুচ্ছেদ নম্বর ৭(ক) এ বর্ণিত কার্যকে আকৃষ্ট করে।


সংবিধান দেশের সর্বোচ্চ আইন। সংবিধানে বাক ও ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ে যে অধিকার দেয়া হয়েছে, তা প্রথমোক্তটির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশী রাষ্ট্রের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা, নৈতিকতা, আদালত অবমাননা, মানহানি বা অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনা সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ সাপেক্ষে এবং শেষোক্তটির ক্ষেত্রে আইন, জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতার সাপেক্ষে। উভয় স্বাধীনতা ভোগের ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি যদি এমন কিছু করেন যা সংবিধানের ৭(ক) এ উল্লিখিত বিধানকে আকৃষ্ট করে অথবা দণ্ডবিধিতে উল্লিখিত ধর্মসংক্রান্ত অপরাধকে আকৃষ্ট করে অথবা তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ বা ৬৬ ধারাকে আকৃষ্ট করে, সে ক্ষেত্রে তা যে সংবিধান প্রদত্ত সীমারেখার ব্যত্যয়ে করা হয়েছে সে বিষয়ে কোনো সংশয় থাকার কথা নয়। দেশের সর্বোচ্চ আইন সংবিধানসহ দণ্ডবিধি ১৮৬০ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ যে ধারণা দেয় তাতে আইনের প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধা রয়েছে, এমন কোনো ব্যক্তির অনুধাবন করতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়, বাক ও ধর্মীয় স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতা কতটুকু। সে সীমাবদ্ধতার কারণে উভয় বিষয়ে কথা বলতে হলে একজন ব্যক্তিকে অবশ্যই আইন, নৈতিকতা ও জনশৃঙ্খলার জন্য যা হানিকর, তা বিবেচনায় নেয়া অত্যাবশ্যক। 
লেখক : সাবেক জজ, সংবিধান, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক
E-mail: [email protected]


আরো সংবাদ

সকল




iptv al Epoksi boya epoksi zemin kaplama Daftar Situs Agen Judi Bola Net Online Terpercaya Resmi

Hacklink

Bursa evden eve nakliyat
arsa fiyatları tesettür giyim
Canlı Radyo Dinle hd film izle instagram takipçi satın al ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme

instagram takipçi satın al