২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

আন্দোলন থামাতে ভুল পথে চলা নয়

আন্দোলন থামাতে ভুল পথে চলা নয় - ছবি : সংগ্রহ

সারা দেশে লাখ লাখ ভুয়া চালক আর পরিবহন শ্রমিক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে গোটা দেশ। এদের দৌরাত্ম্যে যাত্রী সাধারণের ভোগান্তির শেষ নেই। সেই সাথে প্রতিদিন সাধারণ মানুষের রক্তে রঞ্জিত হচ্ছে সড়কপথ। অসংখ্য মা হারাচ্ছেন তাদের সন্তানকে। ভাই হারাচ্ছে বোনকে, আর বোন হারাচ্ছে তার ভাইকে। এমন কোনো দিন নেই, যেদিন কেউ না কেউ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয় না। এই যে আজ ক’দিন ধরে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ দাবি নিয়ে চলছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের অভাবনীয় মাত্রার বড় আন্দোলন, তবুও সড়ক-মহাসড়কে থামছে না মৃত্যুর মিছিল।

গত ৩ আগস্টেও সড়কে ঝরে গেল আট প্রাণ। শুক্রবার ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলনের সময় দেশের আট জায়গায় চালকদের বেপরোয়া গাড়ি চালানোর ফলে এই আটজনের প্রাণহানি ঘটে। এ সময় আহত হয় আরো ৫৩ জন। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন- কী করে হুঁশ ফেরাতে হবে এসব ঘাতক চালকদের? শিক্ষার্থীরা যখন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে- সড়কে চলমান বিশৃঙ্খলার নানা কারণ, কেন ঘটছে এসব দুর্ঘটনা; তখনো কেন প্রশাসন সতর্ক হচ্ছে না যানবাহন চলাচলে চলমান বিশৃঙ্খলার অবসান ঘটিয়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে? শিক্ষার্থীরা দেখিয়ে দিচ্ছে, লাইসেন্সবিহীন অদক্ষ চালক ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচলের কারণেই মূলত ঘটছে এসব অনাকাক্সিক্ষত সড়ক দুর্ঘটনা।

আমরা জানি, মোটরযান অধ্যাদেশ অনুসারে গাড়ি চালাতে হলে চালকের লাইসেন্স থাকতে হবে। সেই চালক যেই হোন না কেন। ট্রাফিক পুলিশ নিয়মিত তদারকি চালিয়ে নিশ্চিত করবে, লাইসেন্সবিহীন কোনো চালক কোনো গাড়ি চালাচ্ছেন না। কিন্তু রাজধানীসহ সারা দেশে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ- বিআরটিএ তা নিশ্চিত করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের সময় চোখে আঙুল দিয়ে এরা দেখিয়ে দিলো অনেক মন্ত্রী, সচিব, এমপি, পুলিশ ও বিডিআরের গাড়ি যারা চালায়; তাদেরও কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। এমনকি অনেক মোটরসাইকেলের চালকেরও, এমনকি অনেক পুলিশ মোটরচালকেরও লাইসেন্স নেই। এমন অনেকের গাড়ি ও মোটরসাইকেল শিক্ষার্থীরা রাস্তায় আটকে দেয়। কোনো ছাড় দেয়া হয়নি কাউকে।

বিআরটিএ’র দেয়া তথ্য মতে, দেশে ১৬ লাখ ৩২ হাজার যানবাহন চালানো হচ্ছে বৈধ লাইসেন্স ছাড়া। একটি গাড়িতে একজন চালক থাকবেন, এ হিসাব করে এই পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে। গত জুন পর্যন্ত দেশে নিবন্ধিত গাড়ির সংখ্যা ছিল ৩৫ লাখ ৩৬ হাজার ৩৭০টি। অথচ বিআরটিএ থেকে লাইসেন্স দেয়া হয়েছে প্রায় ১৯ লাখ। সে হিসাব মতে, ১৬ লাখের মতো গাড়ি রয়েছে লাইসেন্সধারী চালক ছাড়া। আইন অনুযায়ী, ১৮ বছর না হলে চালকের লাইসেন্সের আবেদন করা যায় না। অথচ অসংখ্য শিশু-কিশোরকে এই রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে গাড়ি চালাতে দেখা যায় পুলিশের চোখের সামনে। ২০০৯ সালে টিআইবি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, দেশে ৯৭ শতাংশ শিশু-কিশোর চালক বড়দের সাথে সহকারী হিসেবে গাড়ি চালিয়ে গাড়ি চালনা শিখছে। এদের হাতে মূলত বেশির ভাগ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রায়ই দেখা যায়, দুর্ঘটনার সময় এসব হেল্পার গাড়ি চালাচ্ছিল। মোট কথা গোটা পরিবহন খাতে চলছে চরম নৈরাজ্য, যা শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের সময় নির্মমভাবে উদঘাটিত হয়েছে।

যখনই কোনো সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে, কোনো বোন গণপরিবহনে হয় ধর্ষিতা, কিংবা যাত্রী সাধারণ বড় ধরনের ভোগান্তিতে পড়ে, যাত্রীরা লাঞ্ছিত হয় পরিবহন শ্রমিকের হাতে, তখনই ভুয়া চালক আর পরিবহন শ্রমিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি ওঠে। কয়েক দিন ধরে চলে আলোচনা-সমালোচনা আর তর্ক-বিতর্ক। পাশাপাশি গড়ে ওঠে ছোটখাটো আন্দোলন। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর টকশোতে চলে আলোচনার ঝড়। কিন্তু ক’দিন পর আবার সব কিছু স্তিমিত হয়ে পড়ে। আবার শুরু হয় আগের মতোই সব কিছু চলা। ভুয়া চালক আর পরিবহন শ্রমিকেরা থেকে যান ধরাছোঁয়ার বাইরে। আর এ সময় তাদের রক্ষাকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন একজন মন্ত্রী। তিনি মন্ত্রিসভার সবচেয়ে বিতর্কিত মন্ত্রী শাজাহান খান। তিনি একজন শ্রমিক নেতাও বটে। তার খুঁটির জোর সম্ভবত এখানেই। ন্যায্য হোক, অন্যায্য হোক তাকে শ্রমিকদের পক্ষ নিতেই হয়; না হলে তিনি কিসের শ্রমিক নেতা।

এ জন্য তিনি কোনো সমালোচনাই গায়ে মাখেন না। তা ছাড়া, সরকারেরও বড় প্রয়োজনীয় ব্যক্তি তিনি। কারণ, প্রয়োজনের সময় শ্রমিকদের ব্যবহার করতে চাইলে তার মতো একজন শ্রমিক নেতাকে চাই। সেই সূত্রে মন্ত্রিসভায়ও তার আসন পাকাপোক্ত। সেজন্য বারবার বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি উঠলেও তিনি বহাল তবিয়তেই রয়ে যান মন্ত্রিসভায়। এবারো সারা দেশের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’-এর দাবিতে চলমান আন্দোলনে তার পদত্যাগের দাবি উঠেছে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহল থেকে। এ প্রেক্ষাপটেও তার সই পুরনো ধাঁচের একই কথা- ‘পদত্যাগের প্রশ্নই ওঠে না।’ তা ছাড়া, শিক্ষার্থীদের ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনে তার বাড়তি একটি সুযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবিতেও তার পদত্যাগের দাবি নেই। অতএব, তিনি পদত্যাগ প্রশ্নে নিরাপদ অবস্থানেই রয়েছেন।

সারা দেশে লাইসেন্সবিহীন ভুয়া চালক ও ইউনিয়নবাজ অযোগ্য পরিবহন শ্রমিকদের পরিবহন খাতে বারবার সৃষ্টি হওয়া নৈরাজ্য ঠেকানোর দাবিতে যখনই আন্দোলন দানা বেঁধেছে, তখনই তিনি তাতে বাদ সেধেছেন যথারীতি। শ্রমিকদের পক্ষ নিয়েছেন, হাজির হয়েছেন হাস্যকর নানা উক্তি নিয়ে। এর বাইরেও নানা সময় তার অনেক মন্তব্য সাধারণ মানুষের ক্ষুব্ধ করেছে, একই সাথে হাসিরও খোরাক হয়েছে।

পাঠকদের হয়তো মনে আছে, ২০১১ সালের ১৮ আগস্ট এই শাজাহান খানই নৌ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বলেছিলেন : ‘অশিক্ষিত চালকদেরকেও লাইসেন্স দেয়া দরকার। কারণ, এরা সিগন্যাল চিনে, গরু-ছাগল চিনে, মানুষ চিনে। সুতরাং তাদের লাইসেন্স দেয়া দরকার।’ তা ছাড়া, গত ১২ মে রাজধানীতে বাসচালকদের এক সম্মেলনে শাজাহান খান বলেছিলেন, ‘চালকদের পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদেরও বিচার হওয়া উচিত।’

এ ছাড়া, ২০১৬ সালের ৮ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে আলোচিত যৌন নিপীড়নের ঘটনা প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছিলেন : ‘একটু টুকিটাকি ঘটনা ঘটতেই পারে। এত মানুষের মধ্যে এটি তেমন কোনো বিষয় নয়।’ পরে এ ধরনের বক্তব্যের জন্য সমালোচনার মুখে পড়ে এই বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হয় তাকে। অপর দিকে, সুন্দরবনের ভেতর শ্যালা নদীতে তেলের ট্যাংকার ডুবে যাওয়ার ঘটনা সম্পর্কে ২০১৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর তিনি বলেছিলেন : ‘সুন্দরবনে তেল ছড়িয়ে পড়ায় তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি।’

এবার চলমান ছাত্র-আন্দোনের সময়ও তিনি প্রবল সমালোচিত তার বেফাঁস মন্তব্যের জন্য। গত ২৯ জুলাই সড়কে দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ব্যাপারে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে হেসে হেসে শাজাহান খান তার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন : ‘ভারতের মহারাষ্ট্রে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৩ জন মারা গেছে। এগুলো নিয়ে কি কেউ এভাবে কথা বলে?’ তার এই বিদ্রƒপের হাসি আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও দেশবাসীকে প্রবলভাবে বিক্ষুব্ধ করে তোলে। এই সমালোচনার মুখে তিনি আবার বলেন : আমার হাসিটাই আমার দোষ। মুচকি হাসি আল্লাহও পছন্দ করেন। যদি আমার মুচকি হাসি দোষের হয় তাহলে আমি আর হাসব না।’ কিন্তু মজার ব্যাপার, এ কথা বলার সময়ও তিনি হেসে হেসেই এ কথা বলছিলেন।

সে যা-ই হোক, তার পদত্যাগের দাবি এ পর্যন্ত বহুবার উচ্চারিত হলেও এবার অনেকটা আনুষ্ঠানিকভাবেই তা উঠছে। গত ২ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী ‘বাংলাদেশ শ্রমিক পরিবহন ফেডারেশনের’ নেতা ও নৌপরিহনমন্ত্রী শাজাহান খানের কাছে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন। এ ছাড়া, শাজাহান খান ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গাকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণের দাবি জানিয়েছে টিআইবি।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এখলাস উদ্দিন ভূঁইয়া তার আইনি নোটিশে বলেছেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে তিনি বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর সে বছরের ১২ জানুয়ারি তিনি মন্ত্রী হন। একই সাথে একজন মন্ত্রী বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের নির্বাহী সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন- বিষয়টি সংবিধানের পরিপন্থী। যেহেতু পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন একটি সিবিএ সংগঠন, তাই একজন মন্ত্রী সেই সিবিএ সংগঠনের পদ ধারণ করতে পারেন না। স্বাভাবিকভাবেই ধরে নেয়া হয়, একটি সিবিএ সংগঠন শ্রমিকদের স্বার্থ নিয়ে সরকারের সাথে দর কষাকষি করবে। আর সরকার শ্রমিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে, যদি তারা কোনো অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। এ দিকে আইনজীবী এখলাস উদ্দিন ভূঁইয়া একটি ইংরেজি দৈনিককে বলেছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শাজাহান খান যদি এই নোটিশের জবাব না দেন, তাহলে তিনি একটি রিট আবেদনের ব্যবস্থা নেবেন।

অপর দিকে, মানবাধিকার সংস্থা টিআইবি মন্ত্রী শাজাহান খান এবং প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গাকে বরখাস্ত করার দাবি জানিয়ে বলেছে- দেশের বিদ্যমান দুর্নীতিগ্রস্ত পরিবহন খাতের সাথে এ দুই প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিস্বার্থ সঙ্ঘাতমূলক। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘আমরা এ দুই ব্যক্তিকে মন্ত্রিসভা থেকে বহিষ্কারের দাবি জানাচ্ছি। আমরা পরিবহন খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা চাই।’ তিনি আরো বলেন, ‘পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে, তার প্রতি টিআইবির পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।’

জানি না এই আইনজীবীর আইনি নোটিশ এবং টিআইবির দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবির ঘটনা কতটুকু গড়ায়। তবে এই আন্দোলন প্রশ্নে সাধারণ মানুষের উদ্বেগের নানা ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যেই আমরা লক্ষ করছি, সমাজের সর্বস্তরের মানুষ এই আন্দোলনকে একটি যৌক্তিক আন্দোলন হিসেবে বিবেচনা করে দিন দিন এর প্রতি সব মহলের সমর্থন ক্রমেই বাড়ছে এবং সরকারও বলছে, আমরা শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নিয়েছি। তখন সরকারের উচিত হবে প্রয়োজনীয় শান্তিপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়ে এই আন্দোলন থেকে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে আনা।

কিন্তু আন্দোলনের পঞ্চম দিন থেকে দেখা গেছে, সরকার ইতোমধ্যেই পেশিশক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে এই আন্দোলন দমনের কাজে নেমে পড়েছে। এক দিকে সরকার পক্ষ বলছে, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত না তুলতে পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বাস্তবে দেখা গেল, গত বৃহস্পতিবার মিরপুর-১৩ নম্বরে বিকেলে যখন একদল শিক্ষার্থী নিরাপদ সড়কের দাবিতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করছিল, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করছিল শান্তিপূর্ণ উপায়ে; তখন হঠাৎ করে পুলিশ লাঠি হাতে তাদের দিকে তেড়ে আসে। ঠিক তখনই লাঠিসোটা নিয়ে একদল হেলমেট পরা যুবক পুলিশের সাথে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ধাওয়া করে। এরা কয়েকজন শিক্ষার্থীকে লাঠিপেটাও করে। হামলার শিকার কিছু শিক্ষার্থী আশ্রয় নিয়েছিল পথচারী সেতুতে।

কিন্তু সেখানেও পুলিশ ও এসব যুবক তাদের ওপর হামলা চালিয়ে বেধড়ক লাঠিপেটা করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের প্রতিবাদের মুখে হামলাকারীরা সরে যেতে বাধ্য হয়। বিকেল ৪টায় শিক্ষার্থীরা মিরপুর-১৪ এলাকায় সমবেত হয়ে তাদের বিক্ষোভ অব্যাহত রাখে। পুলিশ সে সময়ও শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করে। শিক্ষার্থীরা পৌনে ৭টার দিকে মিরপুর-১৩ ও ১৪ থেকে চলে যায়।

এ দিকে আন্দোলনের ষষ্ঠ দিন শুক্রবারও শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আসে। এরা রাজধানীর মিরপুরে আন্দোলনকারীদের ওপর ‘ক্ষমতাসীন দলের’ লোকদের হামলার নিন্দা করে। কিন্তু গত শনিবার শিক্ষার্থীদের ওপর সবচেয়ে বড় হামলাটি ঘটে ঝিগাতলায়। এতে শতাধিক আহত হয়। এ সময় গুলি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাসও ছোড়া হয়। তা ছাড়া, শনিবার ধানমন্ডি ও মিরপুর ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ ও ফেনীতে কয়েক শ’ শিক্ষার্থী হামলার শিকার হয়েছে; যা সত্যিই উদ্বেগজনক।

এ দিকে খবরে প্রকাশ, সরকার নিজের ভাবমর্যাদা রক্ষায় আন্দোলনকারীদের ব্যাপারে কঠোরতা অবলম্বন করতে যাচ্ছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থামাতে সরকারের পক্ষ থেকে নানা আশ্বাসের পরও শিক্ষার্থীরা রাজপথ ছাড়ছে না। শিগগিরই এরা ঘরে ফিরে যাবে, এমন আভাসও এখন পর্যন্ত সরকার পাচ্ছে না। শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি সরকারের অনুরোধ ছিল, তারা সব দাবি মেনে নিয়েছে। এখন শিক্ষার্থীরা ঘরে ফিরে যাবে। কিন্তু বাস্তবে আন্দোলনের আরো ব্যাপকতা লক্ষ করা গেছে। আন্দোলন কার্যত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে কী করে এই আন্দোলন দমন করা যায়, সে ব্যাপারে কৌশল ঠিক করার জন্য গত বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বরাষ্ট্র্রমন্ত্রী পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেন। খবরে প্রকাশ, সেখানে সরকারের ভাবমর্যাদা রক্ষার জন্য সরকার আন্দোলনকারীদের ব্যাপারে কঠোরতা অবলম্বনে একমত হয়। যদি সরকার সেই কঠোরতা অবলম্বনের পথ বেছে নেয়, তবে তা বিষয়টিকে আরো জটিল করবে নিশ্চিতভাবে। অতএব, সরকারকে সাবধানী ও সতর্ক উপায় অবলম্বন করতে হবে বৈকি।


আরো সংবাদ