২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

দেশে দেশে মুসলমানদের ‘রাষ্ট্রহীন’ করার মহোৎসব

দেশে দেশে মুসলমানদের ‘রাষ্ট্রহীন’ করার মহোৎসব - ছবি : সংগ্রহ

গত ১৭ জুলাই ইসরাইল সরকার ট্রাম্প সরকারের সর্বাত্মক সহায়তা ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাপুরুষতাপূর্ণ ভূমিকার প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে পাস করেছে ইসরাইলের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বর্ণবাদী একটি বিল। এর নাম ‘জিউইশ ন্যাশন স্টেট বিল’। এ বিলের পক্ষে ভোট পড়ে ৬২টি আর বিপক্ষে ৫৫টি। দুইজন ভোটদানে বিরত ছিলেন।

এই বিলে সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে- ইসরাইল শুধুই ইহুদিদের জন্য, যাদের একান্ত অধিকার রয়েছে আত্মনিয়ন্ত্রণের। ১৯৪৮ সাল থেকে ইসরাইলি নাগরিক হিসেবে সে দেশে থাকা ২০ লাখ ফিলিস্তিনির নাগরিকত্ব এখন সরকারিভাবে বাতিল করা হলো এই বিলের মাধ্যমে।
এখন থেকে হিব্রু হবে দেশটির একমাত্র সরকারি ভাষা। আরবিকে সরকারি ভাষা থেকে ‘ল্যাঙ্গুয়েজ অব ইন্টারেস্ট’ করে এর ওপর কালিমা লেপন করা হলো। পূর্ব ও পশ্চিম উভয় জেরুসালেম এখন হবে ইসরাইলের একীভূত চিরন্তন রাজধানী।
বিলটিতে বলা হয়েছেÑ ফিলিস্তিনে ইসরাইলি বসতি গড়ে তোলা, এগুলোর সম্প্রসারণ ও পরিচালনা ইহুদিদের পূর্বপুরুষদের ভূমিতে ইহুদিদের একটি বৈধ অধিকার। এখন এ কাজটিকে উৎসাহিত করা ও সুরক্ষা দেয়া হবে।

আমরা জানি, জাতিসঙ্ঘে এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে গৃহীত ‘অ্যাপারথেড’ বা বর্ণবাদের সংজ্ঞাটি হচ্ছে এরূপ : ‘Apartheid refers to the implementation and maintenance of a system of legalized racial segregation in which one racial group is deprived of political and civil rights. Apartheid is a crime against humanity punishable under the Rome Statute of the International Criminal Court. It was also labelled as a crime against humanity by the UN General Assembly in 1966, resolution 2202 A (XXI).’

আমরা যারা অধিকৃত ফিলিস্তিনে ঘটে চলা ঘটনাবলির ওপর নজর রাখি, তারা ভালো করেই জানি- ইসরাইলের সংজ্ঞাটি হচ্ছে এরূপ : ‘the only democracy in the Middle East is based on propaganda and falsehood। ইসরাইল নামের ভূখণ্ডে যে ২০ লাখ ফিলিস্তিনি বসবাস করেন, তা ইসরাইল দখল করে নেয় ১৯৪৮ সালে। এরা এই দখলদার দেশটির মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশ। এদের সাথে দেশটি অন্যায়ভাবে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে কোনো-না-কোনো একটি আইনের মাধ্যমে, যা ইসরাইলি নেসেট গত ৭০ বছরের বিভিন্ন সময় পাস করেছে। আমরা দেখেছি, চলতি বছরের জুনে ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলীয় শহর আফুলার শত শত ইসরাইলি অধিবাসী রাস্তায় নেমে আসে আরব পরিবারের কাছে একটি বাড়ি বিক্রির প্রতিবাদ জানাতে। এর ক’দিন আগে একটি বেদুইন পরিবারের সদস্যদের ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলের একটি পাবলিক সুইমিংপুলে ঢুকতে বাধা দেয়া হয়। কারণ, এরা সুইমিংপুলে এসেছেন বিকেলে, যা অনানুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারিত রাখা হয়েছে ইহুদিদের জন্য। এভাবেই এরা জানতে পারেন, বেদুইনদের সাঁতার কাটতে হবে ইহুদিদের কাছ থেকে আলাদা হয়ে। বিষয়টি কি আপনার কাছে বর্ণবাদী বলে মনে হয়? বিশ্বের বিবেকবান মানুষের কাছে নিশ্চিতভাবে এটি অ্যাপারথেড বা বর্ণবাদ নীতিরই প্রতিফলন।

নেসেটে আরব সদস্যরা সুনির্দিষ্ট পদবাচ্যে এই বিলের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা এই বিলকে আখ্যায়িত করেছেন র‌্যাসিস্ট ও বর্ণবাদী এক বিল হিসেবে। এদেরকে জোর করে চেম্বার থেকে বের করে দেয়া হয়। এ দিকে বিজয়ী নেতানিয়াহু এই বিল পাসকে আখ্যায়িত করছেন ‘defining moment in the annuls of Zionism’ হিসেবে।
আমরা সব সময় জেনে আসছি, জায়নবাদী ডকট্রিনের ভিত্তি হচ্ছে : সুপ্রিমেসি, এথনিক ক্লিনসিং, র‌্যাসিজম ও অ্যাপারথেড। আর নেতানিয়াহু তার এই ক্ষুদ্র বক্তব্যের মাধ্যমে এগুলোকেই আরো নিশ্চিত করলেন।
ড. আহমেদ তিবি নেসেটের একজন ভেটারান ফিলিস্তিনি সদস্য। তিনি এই বিলকে চিহ্নিত করেছেন একটি ‘হেইট ক্রাইম’ হিসেবে। তিনি বলেন, বিলটি পুরোপুরি আরব সংখ্যালঘুদের প্রতি বৈষম্যমূলক এবং এতে রয়েছে বর্ণবাদী ধারা। বিশেষত ইহুদি বসতি সম্পর্কিত এবং আরবি ভাষার মর্যাদাহানির সাথে সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো এই দোষে দুষ্ট।

আমরা দেখলাম, ভীতু ও কাতর স্বরে ইইউ অনেকটা প্যানপ্যান করে শুধু বলল, ‘এই নতুন আইন শান্তি উদ্যোগকে জটিল করবে।’ এটি ইইউর কাপুরুষসুলভ ভূমিকারই একটি নমুনা। আর যুক্তরাষ্ট্র তো ইসরাইলকে এ ব্যাপারে পরিপূর্ণ সমর্থন দিয়েই যাচ্ছে একদম খোলামেলাভাবে। বৃহৎশক্তিগুলো ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সোচ্চার হলে ইসরাইলের মতো একটি দেশ কিছুতেই নাগরিকত্ব ছিনিয়ে নিয়ে ফিলিস্তিনিদের ‘রাষ্ট্রহীন’ করার মতো ভয়ঙ্কর এই অপরাধ করতে পারত না। শুধু ইসরাইলেই নয়, বিশ্বের অন্যান্য দেশেও মুসলমানদের রাষ্ট্রহীন জনগোষ্ঠীতে পরিণত করার মহোৎসব চলছে বেশ জোরেশোরেই। এরই একটি উদাহরণ সম্প্রতি সৃষ্টি হয়েছে ভারতের আসামেও।

চলতি বছরটি শুরু হওয়ার দ্বিতীয় দিনে আসামের ‘ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেনস’ (এনআরসি)-এর খসড়া প্রকাশ করা হয়। তখন আসামের সংবাদপত্রের ছোট্ট এক খবর ছাপা হয়। আসামের খাচার জেলার কাশিপুর গ্রামের ৪০ বছর বয়সী হানিফ খানকে দেখা গেলে তার বাড়ির পাশের গাছে ফাঁসিতে ঝুলে মারা যেতে। তার মৃত্যুর কারণ এনআরসিতে তার নাম নেই। তাতেই হতাশ হয়ে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। তার স্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, তার স্বামী এনআরসিতে তার নাম থাকা নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন ছিলেন। এ ব্যাপারে তিনি ও তার পরিবারের অন্য সদস্যরাও শঙ্কিত ছিলেন। বাস্তবে এনআরসিতে নাম না থাকায় তাদের যেকোনো সময় গ্রেফতার করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়া হতে পারে, এমনটি ভেবে তিনি দিশেহারা হয়ে আত্মহত্যা করেন।

ভারতের সরকারি কর্মকর্তারা বারবার জোর দিয়ে বলেছেন, চূড়ান্ত এনআরসি হবে যথাযথ। কিন্তু এতে প্রচুর অনিশ্চয়তা রয়েছে জীবনের। তারা জানেন না, তদের নাম এই এনআরসিতে থাকবে কি না। যাদের নাম থাকবে না, তাদের বৈধভাবে ঘোষণা করা হবে, এরা ভারতের নাগরিক নন। এরা তখন হবেন ‘রাষ্ট্রহীন’। তাদের সংখ্যা হবে লাখ লাখ। তাদের সম্ভাব্য দুর্ভোগ ভারত সরকারের ভাবনায় নেই। ভারতের অনেক বিবেকবান মানুষ মনে করেন, আসামের বাঙালি মুসলমানদের তথাকথিত এনআরসি প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রহীন করে এক ধরনের জাতি নিধনের প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছে। তারা এই প্রক্রিয়ার প্রতি সমর্থন জানাতে পারেননি। কিছু ভারতবাসী তাদের দেশজুড়ে থাকা বিবেকবান বন্ধুদের কাছে এর বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান একটি ছোট্ট চিঠি প্রকাশের মধ্য দিয়ে। চিঠির কথাগুলো ছিল এমন-
‘ভারতজুড়ে বন্ধুরা,
কিছু দিনের মধ্যে ভারত মুছে ফেলবে আসাম রাজ্যের ৭০ লাখের মতো মুসলমানকে এর নাগরিকদের মাস্টার লিস্ট থেকে। কারণ, এরা ভুল ভাষায় কথা বলে, ভুল সৃষ্টিকর্তার প্রার্থনা করে। স্বামী, স্ত্রী এবং তাদের সন্তানদের আলাদা করে ফেলে রাখা হবে বন্দিশিবিরে, পচে মরার জন্য।
এভাবেই গণহত্যার সূচনা হয়- যেভাবে রোহিঙ্গাদের দুঃস্বপ্নের শুরু হয়েছিল। কিন্তু এ সবকিছুই উদঘাটিত হচ্ছে ধীরেসুস্থে- আমরা যদি ব্যাপক সতর্কবার্তা পাঠাই জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব ও প্রধান প্রধান সরকারের কাছে এতে হস্তক্ষেপ করার জন্য- আমরা থামিয়ে দিতে পারি আমাদের দোরগোড়ার এসব বিভীষিকা, ঠিক শুরু হওয়ার আগেই। আসাম সরকার এরই মধ্যে নীরবে শুরু দিয়েছে আরেকটি নতুন বন্দিশিবির তৈরি ও সেনা মোতায়েনের কাজ।

রোহিঙ্গাদের ওপর হামলাকারী বার্মিজ সরকারের মতো ভারত সরকার দাবি করছে, এরা কাজ করছে অবৈধ বাংলাদেশী অভিবাসীদের বিরুদ্ধে। কিন্তু তাদের লক্ষিত জনগোষ্ঠীর বেশির ভাগই গরিব, অশিক্ষিত মুসলমান নাগরিক; যাদের নেই ‘যথাযথ’ দলিলপত্র। এরা এর আগে কখনো এসব দলিলপত্রের প্রয়োজনও বোধ করেনি।
জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যারা পারে না তাদের হয়ে তিনি লড়াই করবেন। তিনি বলেছেন : “I will raise my voice. I will take action. I will use my rights to stand up for your rights.”
আমাদের এখন প্রয়োজন তাকে ধরা তার এই বক্তব্য বাস্তবায়নের জন্য, কারণ বিশ্বমঞ্চে এখন ভারতের মুুসলমানদের পক্ষে কথা বলার কেউ নেইÑ শুধু আমরা ছাড়া। নিচের পিটিশনে স্বাক্ষর করুন। আমরা একসাথে মিলে থামিয়ে দিতে পারি আসামে গণহত্যার একটি পথকে।
ভারতের লাখ লাখ মুসলমানকে রাষ্ট্রহীন ও ভঙ্গুর করে তোলার এই আগ্রাসী পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে বিদ্বেষপূর্ণ হিন্দু জাতীয়তাবাদের উত্থান। ইতিহাস আমাদের শিক্ষা দেয় এসব আন্দোলন কোনো সীমা মানে না, যদি না এর নাগরিক এর সীমা বেঁধে দেয়। চলুন, আমরা আসামে একটি লাইন টানি এবং বার্তা পাঠাই সব দেশের সরকারের কাছে : ‘উই আর ওয়াচিং’।
আশাবাদ ও আস্থাসহ
উমা, নাতে, রিকেন, অ্যান্টোনিয়া, ফ্লোরা, অ্যালিস উইসাম, ড্রানি এবং পুরো অ্যাভাজ টিম।’

এ চিঠিটি সম্প্রতি ছাপা হয়েছে কাউন্টারকারেন্ট ওয়েবসাইটে। কয়েকজন বিবেকবান ভারতীয় তাদের বিবেকের তাড়নায় আসামে সদ্য রাষ্ট্রহীন করে তোলা লাখ লাখ বাঙালি মুসলমানদের পক্ষে ভারতীয় বন্ধুদের কাছে এটি একটি মানবিক আবেদন। তাদের এই আবেদন ভারতীয় শাসক মহল ইতিবাচকভাবে নেবেন বলে মনে হয় না। আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল বলেছেন, তার সরকার সেসব মানুষকে কোনো সাংবিধানিক অধিকার দেবে না, যাদের নাম চূড়ান্তপর্যায়ের ‘ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেনস’(এনআরসি)-তে থাকবে না। মানবিক কারণে তাদের তত দিন ভারতে থাকতে দেবে, যত দিন না কেন্দ্রীয় সরকার তাদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেবে। গত মঙ্গলবার সনোয়াল এই বার্তা দেন। তার এই বার্তা প্রকাশ করা হলো প্রথম খসড়া এনআরসি প্রকাশের ৪৮ ঘণ্টার মাথায়। এনআরসিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য আবেদন করেছিল আসামের তিন কোটি ২৯ লাখ মানুষ। এর মধ্যে প্রথম খসড়া এনআরসিতে নাম আছে এক কোটি ৯০ লাখ নাগরিকের। বাকিরা এখন রাষ্ট্রহীন হওয়ার শঙ্কা মাথায় নিয়ে আসামে বসবাস করছে।

অপর দিকে, মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের রাষ্ট্রহীন রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর মিয়ানমারের বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী এবং সে দেশের সরকারের নানা বাহিনীর পরিচালিত দীর্ঘ দিনের নির্যাতন-নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের দুঃসহ পরিস্থিতি আমরা সবাই জানি। এই নির্যাতন-নিপীড়ন চলছে দীর্ঘ দিন ধরে। এসব নিপীড়ন চলছে প্রকাশ্যে। এসব নির্যাতন-নিপীড়নের সচিত্র কাহিনীচিত্র প্রকাশ পাচ্ছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। নির্যাতনের সচিত্র ইউটিউব ও সামাজিক গণমাধ্যমে অহরহ প্রকাশ করা হচ্ছে। কিন্তু এর বিরুদ্ধে কোনো দেশ বা আন্তর্জাতিক সংস্থার কার্যকর প্রতিবাদ-পদক্ষেপ নেই। বিশ্ববাসী এখানে এক নীরব দর্শক। প্রতিবেশী দেশগুলোর মুখে রা নেই, পিছে যদি বন্ধু বেজার হয় কিংবা নিজের স্বার্থহানি ঘটে। সেই সুযোগে মিয়ানমার সরকার ও স্থানীয় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠী অবাধে সেখানে চালিয়ে যাচ্ছে রোহিঙ্গা নিধনের নীলনকশা।

এদের চূড়ান্ত লক্ষ্য মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে অস্তিত্বহীন করা। গোটা বিশ্ববাসী জানে, মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের রোহিঙ্গা মুসলমানদের কী এক দুঃসহ পরিস্থিতির মধ্যে সেখানে বসবাস করতে হচ্ছে। অথচ সেখানে তাদের যাবতীয় নাগরিক সুবিধা নিয়ে স্বাধীনভাবে বসবাস করার কথা। কারণ, এরা শত শত বছর ধরে মিয়ানমারেই বসবাস করে আসছিল সেখানকার স্থায়ী অধিবাসী হিসেবে। অথচ তাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়ে তাদের করে রাখা হয়েছে ‘রাষ্ট্রহীন জনগোষ্ঠী’ বা ‘স্টেটলেস পিপল’। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় মদদে চলছে গোটা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী নিধনের কাজও। এভাবে বলা যায়, গোট বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের রাষ্ট্রহীন করে জাতিগত নিধনের কাজ। অপর দিকে সভ্যতার দাবিদাররা কৌশলে গোটা মুসলিম জগতে ভাইয়ে ভাইয়ে আত্মঘাতী সব যুদ্ধ লাগিয়ে রেখে গোটা মুসলিম জাতির মাথার ওপর কাঁঠাল ভেঙে খাচ্ছে। এভাবে গোটা মুসলিম বিশ্বকে ধ্বংসের দুয়ার প্রান্তে দাঁড় করিয়েছে, কিন্তু মুসলমানদের মধ্যে নেই কোনো সচেতনতা।

মানুষ নিজেকে সভ্য বলে দাবি করে। সেই সূত্রে আমরা ‘মানবসভ্যতা’ নামের পদবাচ্যটির সূচনা করেছি, এবং সময় ও সুযোগমতো তা ব্যবহার করছি। নিজেদের দাবি করি সভ্য সমাজের সদস্য বলে, কিন্তু বাস্তবে এই সভ্যতার দাবি পূরণে বড় দাগে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে চলেছি আমরা গোটা বিশ্বের মানুষ। বারবার ইতিহাস মানুষের সামনে সে ব্যর্থতার ইতিহাসকে সামনে এনে হাজির করেছে ও করছে। মানুষের হাতে মানুষ অমানবিক নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হওয়া সভ্যতার ইতিহাস নয়, এ ইতিহাস বর্বরতার ইতিহাস। এই প্রক্রিয়া এখনো চলমান। ফলে মানবসভ্যতা কথাটি যেন ক্রমেই এর প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে ফেলছে। কারণ, একটি মানবগোষ্ঠী যখন আরেকটি মানবগোষ্ঠী নিধনের কাজে সর্বাত্মক প্রয়াসী হয়ে ওঠে- আর এই নিধনযজ্ঞ চালাতে গিয়ে অবলম্বন করে অমানবিক সব নির্যাতন-নিপীড়নের নানা কৌশল, নির্বিচারে চালায় মানুষ হত্যা ও ধর্ষণের উৎসব, ছিনিয়ে নেয় মানুষের মানবিক সব অধিকার, নাগরিকত্ব ছিনিয়ে নিয়ে মানুষকে করে রাষ্ট্রহীন- তখন মানুষ তার মানুষ নামের যৌক্তিকতা হারায়। একইভাবে যখন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীপর্যায়ে নির্যাতকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে নিপীড়নের শিকার মানুষের পাশে দাঁড়ায় না, তখনো মানুষ তার ‘মানুষ’ নামে অভিহিত হওয়ার যৌক্তিকতা হারায়।


আরো সংবাদ