২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

কোন পথে যাবে বিএনপি, কোন পথে দেশ

কোন পথে যাবে বিএনপি, কোন পথে দেশ - ছবি : নয়া দিগন্ত

২০০৫ সালে সাপ্তাহিক ‘যায়যায়দিনে’ আমার একটি লেখা ছাপা হয়েছিল। লেখাটির শিরোনাম ছিল ‘মিডিয়ার আক্রমণে দিশাহারা বিএনপি’। এরপর পদ্মা মেঘনা যমুনা দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে। ক্ষমতা থেকে নেমে প্রথমে জরুরি সরকারের কোপানলে পড়েছে বিএনপি। তারপর কলির নব্য অবতার উদ্দীনদের হাত থেকে বাঁচার নিমিত্তে এবং গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে আনার চেষ্টায় বিরোধী দলে বসে। সেখান থেকে রাজপথের বিরোধী দলে পরিণত হয়। কিন্তু মিডিয়ার সেই আক্রমণের ধারা একইরূপ থেকে যায়।

২০০৫ সালের মিডিয়া হেংকিপেংকির যে চিত্রটি এঁকেছিলাম তার সারসংক্ষেপ ছিল নিম্নরূপ ।
পর পর তিনটি স্তরে বিন্যস্ত এই মিডিয়া ব্রিগেড বিএনপির ওপর তাদের আক্রমণটি পরিচালনা করে। এই সঙ্ঘবদ্ধ আক্রমণের সম্মুখভাগে থাকে ডাই হার্ড আওয়ামী মিডিয়া। এই ডাই হার্ড রূপটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আড়ালে ঢাকা থাকে বলে এই পরিচয়ে তাদের মধ্যে কোনো হীনম্মন্যতা থাকে না বরং এক ধরনের গর্ব মিশ্রিত থাকে। সম্মুখভাগের এই যোদ্ধাদের পরে মধ্যস্তরে থাকে নিরপেক্ষ মিডিয়া। এরা একটা পর্যায় পর্যন্ত নিরপেক্ষতা দেখানোর কোশেশ করে। তবে নিরপেক্ষতার মেওয়াটুকু মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে আওয়ামী লীগকে খাওয়াতেই বেশি পছন্দ করে। এরা সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতার চেয়ে মতলববাজি নিরপেক্ষতাকে বেশি গুরুত্ব দেয়।
এই ব্রিগেডের তৃতীয় স্তরে ছিল বিএনপির মালিকানাধীন কিন্তু বামপন্থী কলাকুশলীতে ভরপুর আওয়ামী মুখর পত্রিকা বা টিভি চ্যানেল। এখানে আশা ছিল বিএনপির টাকা আওয়ামী মেধাকে ব্যবহার করবে। কিন্তু প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে দেখা গেছে উল্টোটি ঘটতে। অর্থাৎ, আওয়ামী মেধা বিএনপির সম্পদকে অত্যন্ত আরামদায়কভাবে ব্যবহার করেছে।

বিএনপির পক্ষ নিয়ে কেউ কিছু বলার চেষ্টা করলেই সেটাকে অতি সহজেই দলকানা পত্রিকা বা টিভি চ্যানেল হিসেবে ট্যাগমারা হতো বা এখনো তা করা হয়। এদেরকে আওয়ামী লীগের সম্মুখ সারির মিডিয়ার সাথে একই পাল্লায় ফেলে কাটাকাটি করে ফেলা হয়। এই কাটাকাটির পর বিএনপির বলয়ে আর কেউ অবশিষ্ট থাকে না। কিন্তু আওয়ামী বলয়ে আরো দু’টি ব্রিগেড দাঁড়িয়ে থাকে। এরা মনের সুখে অত্যন্ত কনফিডেন্সের সাথে প্রপাগান্ডার বাকি কাজটুকু সারে। এদের ভাবখানা এমন যে, আপনি অন্ধ আওয়ামী সমর্থক পত্রিকার কথা ইগনোর করতে পারেন, কিন্তু নিরপেক্ষ পত্রিকার কথা কিভাবে ফেলে দেবেন, দাদা?
এমন নাজুক মুহূর্তে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে জাতীয়তাবাদ ও ইসলামি শক্তির মুখপত্র হিসেবে পরিচিত একটি পত্রিকা হঠাৎ ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যায় । এই পত্রিকাটি আরো বড় আওয়ামী গোলন্দাজ সেজে সার্বিক পরিস্থিতি জাতীয়তাবাদী শক্তির জন্য সত্যিই ভয়াবহ করে তুলেছিল।

একটি মিথ্যাকে সত্য বানানো কিংবা অর্ধসত্যকে পুরো সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যত কায়দা কৌশল দরকার, এই পুরো ব্রিগেডটি একটা সুসমন্বিত পরিকল্পনার অধীনে সেই কাজটিরই আঞ্জাম দিয়ে গেছে। এরা অনেক বদরুলকে হিরো বানিয়েছে। কমনসেন্স বা ন্যূনতম বুদ্ধিজ্ঞান আছে কি না এটা নিয়ে যাদের ব্যাপারে সন্দেহ হতো সেই সব বাচাল ও অকালকুষ্মাণ্ডকে এই মিডিয়া বিরাট বড় বুদ্ধিজীবী হিসেবে তুলে ধরেছে। পক্ষান্তরে অপছন্দের ব্যক্তি বা সংগঠনকে ‘যত দোষ নন্দ ঘোষ’ বানিয়েছে। এদের কেউ কেউ যত প্রজ্ঞাবান বা প্রতিভাসম্পন্ন হোন না কেন, বুদ্ধিজীবীদের খাতা থেকেই নামটি কেটে দিয়েছে।
এই মিডিয়া ব্রিগেডের একটি অত্যন্ত সফল প্রজেক্ট ছিল ‘হাওয়া ভবন’। সে দিন হাওয়া ভবন নিয়ে মিডিয়ার মাতামাতি নিয়ে ভাবলে অবাক হতে হয়। সে দিন এক হাওয়া ভবনের অনেক অর্ধসত্যকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে, আজকে শত শত জলভবনের অনেক সত্যকে মাটি চাপা দিয়ে রাখা হচ্ছে। সেই দিন এই বিষয় নিয়ে লিখলে তা জনগণকে বোঝানো কঠিন হতো। আজ সেই বিষয়টি উপলব্ধিতে টানা অনেক সহজ হয়েছে। কারণ, একটা মিথ্যা বা অপকৌশল বেশি দিন কার্যকর থাকে না। যত কায়দা করেই এটা করা হোক না কেন- একদিন মিথ্যার মুখোশ বেরিয়ে আসবেই।

আজকে এক হাওয়া ভবনের জায়গায় শত শত জলভবন সৃষ্টি হলেও সেই একই মিডিয়ার নীরবতা প্রশ্নের উদ্রেক করেছে। এই প্রশ্নগুলো নিয়ে মূল মিডিয়ার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। কাজেই টানেলের শেষ মাথায় একটা ক্ষীণ আলোর রশ্মি অনেকেই দেখতে পাচ্ছেন।
আমি এই কথাগুলো লিখছি কোনো দল বা গোষ্ঠীকে কোনো বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দেয়ার জন্য নয়। আমি এ কথা উল্লেখ করছি বর্তমান বা ভবিষ্যতের স্বাধীন কোনো গবেষকের গবেষণায় উৎসাহ দানের নিমিত্তে। কারণ এর সাথে একজন ব্যক্তি, একটি পরিবার কিংবা একটি দলের স্বার্থই জড়িত নয়, দেশের স্বার্থটিও ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে। এটি করতে ব্যর্থ হলে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম জাতি হিসেবে টিকে থাকা আমাদের জন্য আসলেই দুঃসাধ্য হয়ে পড়বে।
এ দেশের শত্রুদের সবচেয়ে বড় সফলতা আমাদের সমাজটিকে বিরাজনীতিকরণের দিকে ঠেলা দেয়া। দেশে যখন সুষ্ঠু রাজনীতি থাকে না, তখনই অপরাজনীতি শুরু হয়। রাজনীতির ওপর ঘৃণা ছড়ানোর একটা মিশন সেই স্বাধীনতার পর থেকেই আমাদের অলক্ষে কাজ করে গেছে। পর পর কয়েকটি জেনারেশনকে রাজনীতির প্রতি বিতৃষ্ণা করে তোলা হয়েছে। মাঝে মাঝে মনে হয়, আজকের এই প্রজন্ম ১৯৭১ সালে থাকলে আমরা কখনোই স্বাধীন হতে পারতাম না। নিজের সুখভোগ, আরাম-স্বাচ্ছন্দ্য ছাড়া এই প্রজন্মের অন্য কোনো চিন্তা নেই।
সর্বনাশা অপরাজনীতি দুর্বৃত্তায়নকে প্রশ্রয় দিয়েছে, লালন করেছে। ফলে রাজনীতির প্রতি এই ঘৃণা বা বিতৃষ্ণা একটি নৈতিক ভিত্তি পেয়ে গেছে। দেশ ও জাতির এই শত্রুরা তাদের বিরাজনীতিকরণের ফসল ঘরে তুলে তথাকথিত এক-এগারোর সময়ে।

আমাদের এই প্রিয় জন্মভূমিটি স্বাধীন হয়েছিল একটি গণতান্ত্রিক আশা-আকাক্সক্ষা বুকে ধারণ করে। যদিও স্বাধীনতার পরপরই এই চেতনাটিকে গলা টিপে মেরে ফেলে নতুন চেতনা ঢুকিয়ে দেয়া হয়। স্বাধীনতার পর পর ৩এ-৪এ -র স্বপ্ন দেখা হয়েছে, কিন্তু গণতন্ত্রের জন্য অত্যাবশ্যকীয় উপাদান একটি শক্তিশালী বিরোধী দলের স্বপ্ন দেখা হয়নি। সেই স্বপ্নটি দেখলে এ দেশের ইতিহাস অন্যরকম হতো।
তারপর অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে দু’টি শক্ত রাজনৈতিক দল আমাদের এখানে সৃষ্টি হয়েছে। বলা যায়, ১৯৭১ থেকে ১৯৯১ পর্যন্ত আমাদের সার্বিক রাজনীতির অর্জন ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা। এর মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের শান্তিপূর্ণ এবং চমৎকার একটি উপায় আমাদের আয়ত্তে চলে আসে। ২০০১ সালের মধ্যেই পর পর কয়েকবার গণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতার রদবদল হয়ে যায়। এর মাধ্যমে দেশটি সম্পর্কে একটি পরম আশাবাদ জাগিয়ে তুলে। দক্ষিণ এশিয়ার উদীয়মান টাইগার হিসেবে গণ্য হতে থাকে।
দেশটি নিয়ে ষড়যন্ত্রও ঠিক তখন থেকেই শুরু হয়ে যায়। দু’টি রাজনৈতিক পক্ষের একটিকে ধ্বংসের রোড ম্যাপটি স্পষ্ট হয়ে পড়েছিল। এ দেশের গণতন্ত্র ও রাজনীতিকে চিরতরে পঙ্গু করে ফেলার ষড়যন্ত্র করা হয়। এই দুষ্টের শিরোমণি হিসেবে মিডিয়াকে ব্যবহার করা হয় ।

যেকোনো গণতান্ত্রিক আন্দোলনে একটি দেশের মিডিয়া সাধারণত বিরোধী দলগুলোর পক্ষ অবলম্বন করে কিংবা তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল থাকে। সরকার যেসব কর্মকাণ্ডকে বিরোধীদলের তাণ্ডব বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেয়, মিডিয়া সেগুলোকেই জনতার প্রতিরোধ বলে অভিহিত করে। কিন্তু এ দেশের মিডিয়ার বড় একটা অংশ উল্টো ভূমিকা গ্রহণ করে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নিমিত্তে বিরোধী দলের আন্দোলনকে জনগণের চোখে বিতর্কিত বা প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য ফ্যাসিবাদী সরকারের ভয়াবহ পরিকল্পনাগুলোই দানব মিডিয়া বাস্তবায়ন করে এসেছে। দেখা গেছে, সরকার নিজেরাই যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা মেরে বা আগুন দিয়ে তা বিরোধী দলগুলোর ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছিল।
প্রকৃত ঘটনা অনুসন্ধান না করে মিডিয়ার বড় একটা অংশ সরকারের প্রপাগান্ডা মেশিন হিসেবে কাজ করেছে। আগুনে ঝলসে যাওয়া দেহ দেখিয়ে আন্দোলনের প্রতি জনগণকে বিতৃষ্ণ করে তুলেছে।
অথচ, এসব পেট্রলবোমাসহ ছাত্রলীগ বা যুবলীগের অনেক নেতা ধরা পড়লেও এই খবরগুলো মিডিয়া সেভাবে প্রচার করেনি। আওয়ামী নেতা ও বিহঙ্গ পরিবহনের মালিক নিজের বাসে আগুন দিয়ে মানুষ মেরেছেন। এই কথা অন্য এক আওয়ামী লীগ নেতা সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়ে দিয়েছিলেন।
এই দীর্ঘ আলোচনার উদ্দেশ্য হলো, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজেদের রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মতলববাজ মিডিয়ার এই অপকৌশল সম্পর্কে জনগণকে সজাগ করতে হবে।

কে বিএনপির শত্রু আর কে মিত্র- সেটা চেনাও দুষ্কর হয়ে পড়েছে। বিএনপিকে নিয়ে মিডিয়া এবং সুশীল সমাজের কুমির ও শিয়ালের সেই খেলাটি এখনো বন্ধ হয়নি। গল্পের সেই কুমির নিজের বাচ্চাগুলোকে শিক্ষিত বানানোর মানসে শিয়াল পণ্ডিতের পাঠশালায় ভর্তি করেছিল। কিন্তু ধূর্ত শিয়াল একে একে সব বাচ্চাকে খেয়ে ফেলে। এতে কুমির সেই বিশ্বাসঘাতক শিয়াল পণ্ডিতের ওপর ক্ষেপে যায়। তাকে পাকড়াওয়ের সুযোগ খোঁজে। একদিন সাতরিয়ে নদী পারের সময় শিয়ালের পা জড়িয়ে ধরে। তখন ধূর্ত শিয়াল কুমিরকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলে, দেখো দেখো স্রোত ভায়া, কেমন বোকা কুমির! আমার পা রেখে লাঠিতে জড়িয়ে ধরেছে। এতে বিভ্রান্ত হয়ে কুমির পা ছেড়ে লাঠিতে জড়িয়ে ধরে। এই ফাঁকে ধূর্ত শিয়াল লাঠিটি ফেলে রেখে নিরাপদে নদী পার হয়ে যায়। বিএনপির অবস্থাও অনেকটা হয়েছে এই কুমিরের মতো।
শিয়ালের পায়ে চেপে ধরলে মিডিয়া, সুশীল সমাজ এমনকি আওয়ামী লীগের নেতারাও পরামর্শ দিতে থাকে, লাঠি রেখে পায়ে ধর।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করলে বাটি চালান দিয়েও বিএনপিকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। এতে সরলমনা বিএনপির কিছু নেতা ও বিএনপি ট্যাগমারা কিছু বুদ্ধিজীবীও পেরেশান হয়ে পড়েছেন। মোহাম্মদ নাসিমরা বাটি চালান দিয়ে যাতে খালি হাতে না ফেরেন সে জন্য তারাও কিছুটা ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এদের প্রচেষ্টাও কেন্দ্রীভূত হচ্ছে, যাতে নাসিমরা বাটি চালান দিয়ে দুয়েকজন বিএনপি খুঁজে পান।
অথচ বিএনপির ওপর জনগণের প্রত্যাশা ভিন্ন। তাদের ওপর দেশের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব উদ্ধারের যে দায়িত্ব চেপেছে সেটা ক্ষমতার জন্য উতলা বিএনপির এই অংশটির উপলব্ধিতে ধরা পড়ছে না। জনগণের চাহিদা ও প্রত্যাশার বাইরে কিছু করতে চাইলে রওশন-এরশাদের মতোই গৃহপালিত বিরোধীদল কিংবা গৃহপালিত বিএনপি হয়ে থাকতে হবে।

এখন থেকে দুই মাস পরেই নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। সরকার জেদ ধরেছে, শেখ হাসিনার অধীনে এবং সংবিধানের আওতায় পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। বিএনপি জানিয়ে দিয়েছে, নির্বাচন সহায়ক সরকার ছাড়া জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেন সংবিধানের আওতার মধ্যেই নির্বাচন সহায়ক সরকারের একটি ফর্মুলা ঘোষণা করেছেন। কাজেই সরকারের সামনে এখন সংবিধান রক্ষার কোনো অজুহাত কাজ করবে না।
এমতাবস্থায় হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সব শক্তিকে এক হতে হবে। এই মুহূর্তে কারো মধ্যে কোনোরূপ দোদুল্যমনতা আত্মবিধ্বংসী বলে গণ্য হবে। কে কাগুজে বাঘ আর কে রাস্তার বাঘ, সেটা দেখার সময় নেই। সবাইকেই এক সাথে কিংবা একটা ঐকতান বজায় রেখে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। জাতির ক্রান্তিলগ্নে এ ধরনের ঐক্যের নমুনা রয়েছে। আশা করি ভবিষ্যতেও সেটা হবে, হতেই হবে। আমাদের মধ্যকার পারস্পরিক অমিলগুলো পাশে রেখে মিলগুলো নিয়ে সবাইকে এক হতে হবে। কর্তৃত্ববাদী এই সরকারের বাইরে সব রাজনৈতিক দল ও শক্তির কাছে এই ধরনের প্রজ্ঞাশীল আচরণ কাম্য। এখন যোগ করার সময়, কাউকে বিয়োগ করার সময় নয়। অন্যথায় কুমিরের মতো শিয়ালের পা ছেড়ে দিয়ে লাঠিটি নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে।

বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলে নিবন্ধন বাতিল হয়ে পড়বে বলেও ভীতি ছড়ানো হচ্ছে। এই দেশের মালিক জনগণ। নিবন্ধন দেয় এই রাষ্ট্রের কিছু কর্মচারী। মানুষের জন্য আইন। আইনের জন্য মানুষ নয়। স্বৈরতন্ত্রের যখন পতন হয় তখন স্বৈরতন্ত্রকে রক্ষার সব আইনকানুনসহই পতন হয়। সামনেও সেটাই হবে। সামনের নির্বাচন যেকোনোভাবেই হোক নির্বাচন সহায়ক সরকারের অধীনেই করতে হবে। সেটা সম্ভব না হলে বয়কট ও প্রতিরোধই মূল টার্গেট হওয়া উচিত।
এই সরকারের ঘাড় থেকে অবৈধতার ভার লাঘবের নিমিত্তে নির্বাচনে অংশগ্রহণের কোনো যৌক্তিকতা আমি দেখছি না। বিএনপির সামনে পথ একটাই। এ ছাড়া দ্বিতীয় কোনো পথ নেই। গুটিকয়েক নেতাকে এমপি বানালে বিএনপির কোনো লাভ হবে না, দেশেরও কোনো লাভ হবে না। সামনের বাধা যতক্ষণ অপসারিত না হয় ততক্ষণ সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। সময় বেঁধে কোনো স্বৈরাচারকে হঠানো যায় না। এক নেতৃত্ব টায়ার্ড হলে নতুন নেতৃত্ব চলে আসবে। কিন্তু গণতন্ত্রের সংগ্রাম চলবেই।


আরো সংবাদ