১৮ ডিসেম্বর ২০১৮

প্রগতির পূর্বশর্ত সহনশীলতা

প্রগতির পূর্বশর্ত সহনশীলতা - ছবি : সংগৃহীত

ব্যতিক্রম বাদ দিয়ে সাধারণত মানুষ অর্থ ও ক্ষমতার বলয়ে ঘুরপাক খায় এবং তার সাথে থাকে ঈর্ষা, হিংসা ও লোভ। যারা এই সাধারণ বলয়ের মাঝ থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন, তাদের সবাই সম্মান এবং অনুসরণের চেষ্টা করেন। এটা সত্য, এ মোহ থেকে বেরিয়ে আসা অত্যন্ত কঠিন। অথচ সামনে এগিয়ে যেতে হলে পথ হতে হবে সোজা এবং সরল, কোনো বলয় বা বৃত্তে আবদ্ধ নয়। সেখানেই প্রয়োজন চিন্তা-ভাবনা। সেখানে প্রয়োজন সময়। আর এই সময় বের করার জন্য প্রয়োজন হয় নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টা। সে চেষ্টা অবশ্যই কুসুমাস্তীর্ণ পথ দিয়ে আসা সম্ভব নয়। এ জন্যই সামনে চলাকে বলা হয় প্রগতি, যার সৌধ নির্মাণ হয় ছোট বড় আকাক্সক্ষার ইট দিয়ে। কাজটি কঠিন এবং ধৈর্যের চরম পরীক্ষাও। এ পথ পাড়ি দিতে অনেক যন্ত্রণা সইতে হয়। যারা এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় তাদের সহ্য শক্তিকে প্রশংসা করা হয়। একেই বলে সহনশীলতা।

এই সহনশীলতার ভিত্তিমূল নিয়ে যা তৈরি হয় তাকে সাধারণ ভাষায় বলা হয় সভ্যতা। অবশ্যই যেমন একটি ইমারত নির্মাণ এক দিনে সম্ভব নয়, তেমনি সভ্যতা সৃষ্টি হঠাৎ করে হয় না। তাই এই সভ্যতার বিকাশ এবং ইতিহাস বিস্তৃত। তবে ইমারতের ইটগুলো পরিচর্যার অভাবে দুর্বল হয়ে পড়লে একসময় সৌধটিই ধসে পড়ে, সভ্যতার বিষয়ে ব্যাপারটিও ঠিক এমনি।

তাই প্রশ্ন উঠতে পারে সভ্য ও সভ্যতা কী? তবে এ প্রশ্নটিও হতে পারে কে সভ্য হবে? অবশ্যই মানুষ এবং মানবগোষ্ঠী। ইংরেজিতে সভ্য বলা হয় ‘সিভিলাইজ’। আবার ‘সিটিজেন’ (নাগরিক) এবং ‘সিভিলাইজ’ দুটি শব্দের উৎপত্তি ল্যাটিন ‘সিভিটাস’। অর্থাৎ ক্রিয়া ও বিশেষ একই অবস্থার প্রকাশ। এ জন্যই ওয়েস্টচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপক লরেন্স ডেভিডসন বলেছেন, খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীর গ্রিকেরা বা দ্বিতীয় শতাব্দীর হুন চীনারা অথবা ষোড়শ শতাব্দীর ফরাসিরা বিশ্বাস করত তাদের বাগধারা বা ব্যবহারটাই সভ্যতা অথবা সভ্য হওয়ার সূত্র। ডেভিডসন বলছেন, এটা ঠিক নয়। কারণ তাদের দাবি যে, তাদের ব্যবহার এবং কর্মকাণ্ডই সভ্যতার আদর্শ বা প্রতিচ্ছবি যদি সভ্যতা বা সভ্য মনে করা হয় তাহলে এটা হবে একটি ভয়াবহ বিষয়। কারণ, যদি এক কথায় বলা হয়, তারা যে ধ্বংস-হত্যাকাণ্ড তাদের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার জন্য করেছে, সেটা সভ্য বা সভ্যতা বলতে যা বোঝায় তা নয়।

এ ছাড়া ভাষা, ব্যবহার বা জাতিগোষ্ঠী কখনো সভ্যতার প্রতিকৃতি বা আদর্শ হতে পারে না। আবার ক্ষমতা দখলের জন্য যুদ্ধ বা সম্পর্কিত কর্মকাণ্ডে মানুষের মঙ্গলের চেয়ে ধ্বংস বা ক্ষতি হয়। তাই এটা আদর্শ হতে পারে না। তেমনিভাবে গোষ্ঠী বা জাতি হিসেবে যদি সভ্যতার মাপকাঠি হয়, সেটাও হবে ভুল। কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব জাতি বা মানবগোষ্ঠী তাদের স্বকীয়তা বা শ্রেষ্ঠত্ব দাবি করে তাদের সামরিক শক্তি বা প্রযুক্তি বা সৃষ্টিকর্তার প্রতিনিধি হওয়ার দাবি নিয়ে। এখন সভ্য বা সভ্যতার প্রধান দাবিদার হলো যারা সাম্প্রদায়িকতা, যৌন বৈষম্যবাদ, বিদেশী ঘৃণা বা ভয়, জনভীতি, মুসলিমভীতি এবং এমন অসহিষ্ণুতা প্রকাশে অভ্যস্ত বা ব্যস্ত। এসব অবস্থা বা ব্যবহারে অভ্যস্তরা কোনোভাবেই সভ্য হতে পারে না বা সভ্যতার দাবিদার হতে পারে না।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তাই সভ্য এবং সভ্যতা নিয়ে প্রচুর আলোচনা, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার পর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হয়েছে যে- ০১. ভাষা, অভ্যাস বা আচরণ; ০২. লাভের জন্য যুদ্ধ-সঙ্ঘাত কখনোই সভ্যতার প্রকাশ হতে পারে না বা বিকাশ ঘটায় না। বরং এসব কর্মকাণ্ড শুধু অসহিষ্ণুতার বিকাশ ঘটায়। অসহিষ্ণুতা পরিণামে যুদ্ধ, সঙ্ঘাত এবং নানা বিভেদের প্রবক্তা। যার ফলে ইতিহাসে দেখা গেছে সব সামাজিক, রাষ্ট্রীয় বা গোষ্ঠীগত অশান্তির মূলে অসহিষ্ণুতা। এ জন্যই আন্তর্জাতিক ব্যবহার এবং আইনে অসহিষ্ণুতাকে বেআইনি বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। অধ্যাপক ডেভিডসন তাই বলেছেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাবি তারা সভ্যতার আদর্শ ধোপে টেকে না। কারণ তারা বিশ্বের সব যুদ্ধ, অনাচার এবং বৈষম্য প্রভৃতি কর্মকাণ্ডের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত।

তিনি বলেছেন, প্রযুক্তি বা সামরিক শক্তির আধার বা দাবিদার হলেই কখনো কেউ সভ্য হতে পারে না বা সভ্যতার প্রবক্তা হতে পারে না। তিনি উল্লেখ করেছেন, পরাশক্তিগুলো তাদের সভ্যতার মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে তাদের এসব ধ্বংসকারী ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে। তাই বারবার মানবসমাজ ধ্বংস ও মৃত্যুর সম্মুখীন হয়েছে। মানবসমাজ এক ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর দাসে পরিণত হয়েছে। এর ব্যত্যয় হওয়ার সম্ভাবনা কম, অদূরভবিষ্যতে তো নয়ই।

কেউ কেউ কৌতুক করে বলেন, এখন সভ্যতা মানে একটি আইফোনের অধিকারী হওয়া। অথবা ‘টুইটার অ্যাকাউন্টের’ মালিক হওয়া। আবার কেউ কেউ ভাবেন সভ্যতা ধনের সাথে সম্পৃক্ত। অর্থাৎ যারা ধনী, তারাই সভ্য। অন্যরা নয়। আবার এখন শক্তিমানদের একটা ধারণার প্রকাশ দেখা যাচ্ছে। ‘স্বাধীনতা মানে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড’ বলে তারা ধারণা করে। যেহেতু তারা রাষ্ট্রও নিয়ন্ত্রণ করে, তাই স্বাধীনতা খর্ব করার নানা আইন এবং ফন্দিফিকির রচনা করে চলেছে। জনগণের স্বাধীনতা তাই ক্রমান্বয়ে সঙ্কুচিত হয়। এই স্বাধীনতা আবার প্রযুক্তির বিকাশের সাথে সাথে একই তালে সঙ্কুচিত হচ্ছে। এর কারণ শক্তিমানেরাই প্রযুক্তির ধারক, পরিচালক এবং অধিকাংশ ব্যবহারকারী।

বিখ্যাত মার্কিন লেখক রবার্ট জে বারোজ তার ‘হোয়াই পুলিশ ইন ইউএসএ সো টেরিফাইড’ (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশেরা এত ভীত কেন) নিবন্ধে এই প্রশ্ন করে এক কথায় জবাব দিয়েছেন। তা হলো ‘তারা অত্যন্ত নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে।’ কেন? তারও জবাব তিনি সহজভাবে বলেছেন। ‘পুলিশ নিরাপত্তা দেয়ার নামে এত বেশি খুন-খারাবিতে জড়িয়ে পড়ে যে পরিশেষে তারা নিজেরাই নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে।’ এ কথা বলে বারোজ বলেছেন, ‘ভীত ব্যক্তিরাই সাধারণত সহিংসতাকে ঢাল বানিয়ে নিরাপত্তা খোঁজে। এটা শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমস্যা নয়। এটা বিশ্ব সমস্যা। পুলিশ তাই ক্রমান্বয়ে তাদের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে চলেছে এবং তার সাথে সাথে যেন তাদের জবাবদিহিতার সামনে না পড়তে হয় তার ব্যবস্থাও করে নিচ্ছে।’ বারোজ বলেছেন, মনে হয় এটা বিশ্ব অবস্থার সম্যক চিত্র।

আসলে ক্ষুদ্র ক্ষমতাবান গোষ্ঠী তাদের ক্ষমতাকে নিশ্চিত রাখতে একটি ‘ভীতির রাজ্য’ চলমান রাখে। যদিও পুলিশ এই ভীতির রাজ্য নির্মাণকারী তবুও তারাও ভীত হয়ে পড়ে। কারণ তাদের মাঝে কৌশলে অন্তর্দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে রাখে তাদের নিয়ন্ত্রণকারী ক্ষুদ্র ক্ষমতাবান গোষ্ঠী। আসলে পুলিশের সৃষ্টি হয়েছিল এই ক্ষুদ্র অভিজাতগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য। জনকল্যাণ বা জনস্বার্থে নয়। এরা জননিরাপত্তার নামে জনগণকে ‘খাঁচাবদ্ধ’ করে রাখে। এ কর্মটি করতে গিয়ে তারা সর্বদা শঙ্কিত থাকে বিশাল জনগোষ্ঠী যেন সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে তাদের ওপর চাপিয়ে দেয়া অত্যাচারের প্রতিবাদের জন্য না সংগ্রাম শুরু করে। তাই পুলিশি কর্মকাণ্ড হয় নিরবচ্ছিন্ন।

ডেভিডসন বলেছেন, ‘দেখা গেছে যখন সামাজিক নিরাপত্তা এবং শাসনের জন্য জনগণ নিজেরাই চেষ্টা করে এবং পুলিশি ব্যবস্থা থাকে অনুপস্থিত, তখন অপরাধ যেন বিদায় নেয়। আর পুলিশ সামাজিক নিরাপত্তার ভার নিলেই শুরু হয় অশান্তি বা নানা অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা।’ ডেভিডসনের এই বক্তব্য প্রাজ্ঞ মহলে অত্যন্ত আলোচিত এবং গ্রহণযোগ্য। বারোজ বলেছেন, ‘এই চিত্র (পুলিশি নিয়ন্ত্রণ) এখন সারা বিশ্বে সাধারণ চিত্র। সমাজ যত এগিয়ে যায়, পুলিশি নিয়ন্ত্রণ ততই বাড়ছে।’ তার আরেকটি মন্তব্য অত্যন্ত প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেছেন, ‘পুলিশ ট্রেনিংয়ে এই ভাবনাটা টুকিয়ে দেয়া হয় যে, তারা যাদের সেবা দিতে যাচ্ছে তাদের অনেকেই তাদের শত্রু। আর যে অস্ত্রপাতি তাদের দেয়া হয় তাতে তাদের মাঝে যুদ্ধের আমেজ সৃষ্টি করে।’

‘এর ফলে পুলিশ জনগণের সেবক না হয়ে, অভিজাতদের সেবকে পরিণত হয় এবং সামাজিক স্বস্তি ও শান্তি হারিয়ে যায়’ বারোজের মন্তব্য। এ বিষয়ে হাফিংটন পোস্টে এক প্রতিবেদন বের হয়। ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জাজ ক্যাথারিন পেরির কোর্টে এক শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জমায়েতের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণে এন্থনি লামার স্মিথ নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু ঘটলে একটি মামলা হয়। সেই রায়ে ফেডারেল জাজ বলেন, ‘পুলিশের এমন ব্যবহার সংবিধানবিরোধী এবং কোনো শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সভাকে পুলিশ বেআইনি বলতে পারবে না। কারণ এটা নাগরিক অধিকার।’ রায়ে আরো বলা হয়, ‘পুলিশের দায়িত্ব জনগণের নিরাপত্তা দেয়া এবং শান্তি স্থাপন করা। কিন্তু নিরাপত্তার নামে অশান্তি এবং সঙ্ঘাত সৃষ্টি নয়।’ সেন্ট লুইস কোর্টের এই রায় যুগান্তকারী বলে অভিহিত করা হয়েছে।

যা হোক, জীবনের সর্বত্রই নানা ঢংয়ে ক্ষমতাসীন এবং ক্ষমতাবানেরা জনগণের স্বার্থ ছিনতাই করে এবং এক ভীতির রাজ্য সৃষ্টি করছে শুধু তাদের নিরঙ্কুশ ভোগের রাস্তাকে নিশ্চিত রাখতে বলেছেন, যোশেফ রিইলি তার হাফ পোস্ট অনুসন্ধানী নিবন্ধে। সম্প্রতি পঙ্কজ মিশ্র তার ‘এজ অব অ্যাংগার : এ হিস্টরি অব দি প্রেজেন্ট’ বইতে বর্তমান সময়ের এক নিখুঁত চিত্র এঁকেছেন। তার একটি মন্তব্যই যেন সব অবস্থাকে বর্ণনা করে। তিনি বলেছেন, ‘এখন যেকোনো জায়গায় যেকোনো সময়ে যেকোনো মানুষের জন্য যেকোনো ঘটনা ঘটতে পারে’ (এনিথিং ক্যান হ্যাপেন এনি হোয়ার টু এনি ওয়ান অ্যাট এনি টাইম)। মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বের সঙ্ঘাত-সংঘর্ষের বর্ণনা যেকোনো মানুষের ঘুম-শান্তি কেড়ে নিতে বাধ্য। যেমন স্টকহোমের ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ২০১৮ সালের রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিশ্বের সামরিক ব্যয় ছিল ১৭৩৯ বিলিয়ন ডলার। কেন এই বিশাল ব্যয়?

শুধু মানুষ হত্যার জন্য? রাদারফোর্ড ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট জন ডাবলু হোয়াইটহেড বিশ্বের প্রতিটি সরকারের লুক্কায়িত চরিত্র ও চেহারার চমৎকার বর্ণনা দিয়ে ‘সত্য ও স্বাধীনতার’ সম্মানে এক মজার শিক্ষা অনুষদ সৃষ্টি করেছেন। নাম দিয়েছেন ‘এ টু জেড প্রাইমার’। যেমন ‘এ’ তে আমেরিকান পুলিশ স্টেট,...’ ‘ই’তে ইলেকট্রনিক কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প, ‘এইচ’তে হলো পয়েন্ট বুলেট, ...‘ইউ’তে অ্যান আর্মড সিটিজেন শট বাই পুলিশ, ‘ডাবলু’তে হলো বডি স্ক্যানার, ... ‘জেড’-এ জিরো টলারেন্স। হোয়াইটহেড তার বই ‘ব্যাটলফিল্ড আমেরিকাতে’ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সার্বিক অবস্থার বর্ণনায় যেন তৃতীয় বিশ্বের চিত্রও ভেসে ওঠে। শুধু পার্থক্য নামে।
আসলে সম্প্রতি গার্ডিয়ান পাঠকদের মতামতের এক পাতায় নানা বিষয়ের একটি সারাংশ তুলে ধরে অনেক প্রশ্ন উত্থাপন করে। একটি প্রশ্ন ছিল কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ- স্বাধীনতা, বিচার, সুখ ও সত্য? অধিকাংশের মতে দেখা যায়, ‘স্বাধীনতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং কাম্য। তাদের মতে, স্বাধীনতা থাকলে অপর তিনটিও নিশ্চিত করা সম্ভব।

তবে সব বক্তব্যের মাঝে একটি বক্তব্য সবাই দিয়েছে, তা হলো লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজন ‘সহনশীলতা’, বিশেষ করে অগ্রগতির জন্য। কারণ অগ্রগতির পথে নানা বাধা এসে দাঁড়ায়, যা অতিক্রমের জন্য প্রয়োজন ধৈর্য, সাহস এবং সর্বোপরি সহনশীলতা। তাই বারবার দেখা গেছে সত্য ও সুখ সহনশীলতার সায়রে ভাসে। যেখানে এর অভাব, সেখানেই সঙ্ঘাত এবং অশান্তি, অনাচার এবং অবিচার। বিশেষ করে অবিচার এবং অনাচার নির্মূলে প্রয়োজন ঐক্য, যা শুধু সহনশীলতার মাঝ দিয়ে অটুট থাকে।


আরো সংবাদ