২৩ এপ্রিল ২০১৯

ভোটের শক্তির কাছে ধরাশায়ী ক্রাউলি

ভোটের শক্তির কাছে ধরাশায়ী ক্রাউলি - ছবি : সংগৃহীত

সাতটি কন্টিনেন্টে বিভক্ত হওয়া সত্ত্বেও সবার মৌলিক চাহিদাগুলো অভিন্ন। ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষমতা যার অন্যতম। পৃথিবীতে সাড়ে আট মিলিয়ন জীবের মধ্যে অধিকার মানুষই সর্বশ্রেষ্ঠ। কারণ, মানুষ চিন্তাশক্তির অধিকারী। তাই তাদের চাহিদাগুলোও পশু কিংবা অন্য জীবের চেয়ে ভিন্ন ও উন্নত। যারা একটি আদর্শে সীমাবদ্ধ থাকে, তারা ওই ব্যক্তির মাথার আগাছাতুল্য। যারা সব আদর্শ আমলে নিয়ে চিন্তাশক্তিকে বিকশিত করে, তারা প্রকৃত মানুষ। সত্য হলো, বাংলাদেশ একটি আদর্শের কারাগারে বন্দী।
কেউ কেউ বলতে থাকেন, আমরাও শুনতেই থাকি। কিন্তু মানুষের মতো ভাবি না। উদাহরণস্বরূপ, ইউরোপসহ কাতারকেও নাকি অর্থনীতিতে পেছনে ফেলে দিয়েছে বাংলাদেশ!

- বাংলাদেশের উন্নতি নাকি বিশ্বের কাছে রোল মডেল!
- এক ব্যক্তিকেই ধারাবাহিকভাবে ক্ষমতায় না রাখলে, দেশ চলে যাবে জামায়াত-বিএনপি সন্ত্রাসীদের (?) হাতে যারা আওয়ামী লীগের উন্নতি নষ্ট করে দিয়ে সন্ত্রাসবাদ চালু করবে!
উদাহরণগুলো ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের বিরুদ্ধে মহাজনদের আস্ফালন। তাদেরকে ব্যালটের জোরে চিরতরে দূর করে না দিলে, ২০১৮ সালে আরেকটি সর্বনাশ অনিবার্য। কিন্তু কিভাবে সম্ভব?

বাংলাদেশ ক্যকাসের চেয়ারম্যান মার্কিন কংগ্রেসে ১০ বার নির্বাচিত জোসেফ ক্রাউলির নাম বাংলাদেশীদের অত্যন্ত সুপরিচিত। ডেমোক্র্যাট পার্টির চতুর্থ শক্তিশালী নেতা তিনি। ট্রাম্পের তীব্র সমালোচক। মিডটার্ম ইলেকশনের পর হাউজ স্পিকারের পদটি পাওয়ার কথা তারই। কিন্তু ভোটের শক্তির কাছে কী হলো?
নিউ ইয়র্কের চ্যানেল ওয়ানের ডিবেট টেবিলে মুখোমুখি দুই প্রার্থী। একপ্রান্তে মোটাসোটা মধ্যবয়সী জোসেফ ক্রাউলি, চেহারায় অভিজ্ঞতার ছাপ। মোটা ফ্রেমের চশমা। গায়ের রঙ বেশ সাদা। বক্তব্যে গতানুগতিক রাজনীতির ভাষা।

অন্যপ্রান্তে প্রথমবারের মতো রাজনীতিতে পদার্পণ করা এক হালকা-পাতলা নারী। গায়ের রঙ মিশ্র। চেহারায় চঞ্চলতা। ভাষায় দুর্বার অ্যাক্টিভিজম। মা পুয়ের্টোরিকান, বাবা ব্রংক্সের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। দেখতে অনেকটাই বাংলাদেশী। বাবা মারা গেলে মা গৃহপরিচারিকার কাজ নেন। মাকে সাহায্য করতে পড়ার ফাঁকে নিজেও বার টেন্ডারের চাকরি নিয়েছেন। টেড কেনেডি, বার্নি স্যান্ডার্সের ক্যাম্পেইনেও কাজ করেছেন। এরপর কমিউনিটি অর্গানাইজার। বার টেন্ডিংয়ের ফাঁকে ফাঁকে চলতে থাকে নির্বাচন করার নীলনকশা। একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নজর কাড়েন। ডিবেট টেবিলে ‘জায়েন্ট’ ক্রাউলির মুখোমুখি বসা ২৮ বছরের মেয়েটিকে দেখে প্রথমেই মনে হবে, অসম্ভব!

আলেকজান্দ্রিয়া ওকাশিও কর্টেজ বোকা বা বোবা কোনোটাই নন বরং ডিবেট টেবিলে তার কণ্ঠ এতটাই ধারালো যে, প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে নাস্তানাবুদ ক্রাউলির মতো রাজনীতির বুলডোজার। ভোটের বাক্সে এক কোপে ফেলে দিলেন ১০ বার নির্বাচিত জায়েন্টকে। রাজনৈতিক মহল হতবাক! আলেকজান্দ্রিয়া এখন টক অব দ্যা আমেরিকা। অবিশ্বাস্য ঘটনার পরেই হাজারের বেশি মিডিয়া পিছু ছুটল।
আলেকজান্দ্রিয়ার মেসেজগুলো ইউনিক। ‘...মানুষ যখন ভোট দেয়, এইরকম ঘটনাই ঘটে। এই চ্যালেঞ্জ সম্ভব। এই নির্বাচন মানুষ বনাম অর্থের শক্তি। আমাদের আছে মানুষ, ওদের আছে অর্থ। যা বিশ্বাস করি, সে জন্য কখনোই ক্ষমা প্রার্থনা করি না। নৈতিক স্বচ্ছতার প্রশ্নে রেডিক্যাল বলে কিছু নেই। ভোটারদের প্রত্যাশা ছিলÑ সামাজিক, অর্থনৈতিক পরিবর্তন এবং একটি পরিকল্পনা। ভোটের মাধ্যমে ২০ বছরের অবহেলার জবাব দিয়েছে মানুষ।’

ক্রাউলির বিরুদ্ধে আলেকজান্দ্রিয়ার অভিযোগগুলোও ইউনিক। যারা ভোট দিয়ে ১০ বার কংগ্রেসে পাঠিয়েছে, তাদেরকে উপেক্ষা করে, ছেলেমেয়েদের অন্য স্টেটে রাখা? নিজ এলাকার বাতাসের গন্ধ যিনি শোঁকেন না, পানি পান করেন না, তিনি ভোটারদের স্বার্থে কাজ করবেন কেন? বরং করপোরেট ডোনারদের স্বার্থ রক্ষাই তার কাজ। তিনি কোনো মুদিখানায় গিয়ে ভোটারদের সাথে হ্যান্ডশেক করেননি। আমি ভুলে যাওয়া সেইসব তৃণমূল ভোটারের দুয়ারে ধাক্কা দিয়ে বলেছি, ওদের আছে টাকা, আমার আছে মানুষ। যে ওষুধ কোম্পানির কাছ থেকে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার চাঁদা নেয়, সে কিভাবে গরিব মানুষের অনুকূলে স্বাস্থ্য বিলের ওপর ভোট দেবে! আজ প্রমাণ হলো, টাকার শক্তির চেয়ে ভোটের শক্তি বেশি।


ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটিক সোস্যালিস্ট প্রার্থী বার্নি স্যান্ডার্স বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। কর্টেজও বার্নি ঘরানার। মূল বক্তব্য, সমঅধিকার। নির্বাচনী প্রচারণায় সেই কথাগুলোই তৃণমূলের ভোটারদের বুঝিয়েছেন। ভোটাররাও ব্যালটবাক্সে জবাব দিয়েছে। ক্রাউলির খরচ প্রায় তিন মিলিয়ন ডলার। আলেকজান্দ্রিয়ার খরচ প্রায় তিন লাখ হাজার ডলার। এরপরেও হেরে গেলেন ক্রাউলি!

এরপর, কী করা উচিত? আওয়ামী লীগ তো আমেরিকার নির্বাচন নিয়ে ভীষণ দুর্ভাবনায়। বার্নিকাটকে আয়নায় নিজের চেহারা দেখার পরামর্শ দিয়েছেন। এক উপদেষ্টার ভাষ্য, বার্নিকাট হচ্ছে ওমুকের মুখপাত্র। ইসির সচিব বলেছেন, বার্নিকাটরা আমাদের রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করতে পারেন না।’ এখন তারা ক্রাউলিকে কী পরামর্শ দেবেন? ভোটকারচুপির অভিযোগ? সম্ভব। ১০ বার নির্বাচিত কংগ্রেসম্যান তিনি।
উল্টা আলেকজান্দ্রিয়াকে অভিনন্দন জানাতে গিটার বাজিয়ে গান গাইলেন। বললেন, মিডটার্ম নির্বাচনে কর্টেজকে জেতাতে সবরকম সহায়তা করবেন। তার মুখ দিয়ে একটি নোংরা কথাও নয়। এ যেন ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের দুর্লভ দৃষ্টান্ত।


ভোটের শক্তি বলতে কী বুঝিয়েছেন কর্টেজ? ক্রাউলির বিরুদ্ধে করপোরেট শক্তির অভিযোগ কিভাবে গ্রহণ করল তৃণমূলের ভোটাররা? ভোট দিলে কী হয়? ‘ভোটের অধিকার’ বলতে কী বোঝায়? নাকি পুরো বিষয়টাই অর্থহীন!
খুব পরিষ্কারভাবে এর জবাব দিলেন আলেকজান্দ্রিয়া। ওবামার পর রাজনীতিতে এ যেন আরেকটি জোয়ার। এমনকি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও মন্তব্য করলেন। হার্ভার্ড থেকে কমিউনিটি কলেজ, আলেকজান্দ্রিয়ার জ্বরে কাঁপছে আমেরিকা।

বাংলাদেশ ক্যকাসের চেয়ারম্যান জোসেফ ক্রাউলির বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আমাদেরও। তার অফিসে বাংলাদেশী রাজনীতিবিদদের একদল বের হয়, আরেকদল ঢোকে। ফান্ড রেইজিং, ক্যাম্পেইন সবখানেই তারা। তার অফিসটি জ্যাকসন হাইটসে।

আমাদের রাজনীতিতে ৯ বছরের অনাচার থামাতে কিছুই করেননি তিনি। বরং একশ্রেণীর বাংলাদেশী পেশিশক্তির কাছ থেকে নানা রকমের সুবিধা নেয়ার অভিযোগ। অনেক কিছুই করার ক্ষমতা ছিল তার। ৫ জানুয়ারির সার্কাসের পর, আরেকটা সার্কাস ঠেকানোর জন্য ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষমতাও ছিল। কংগ্রেসে এ জন্য বিল উত্থাপন করতে পারতেন। যে দেশগুলোতে সিসিমার্কা নির্বাচন হয়, তাদের বিরুদ্ধে হামেশাই কংগ্রেসে বিল উত্থাপিত হচ্ছে। কিন্তু কিছুই না করে অগণতান্ত্রিক শক্তিকেই এগিয়ে দিলেন ক্রাউলি। তার পরাজয় এখন অনেক রাজনীতিবিদের জন্য সতর্কবার্তা।


নির্বাচন নিয়ে যে সার্কাস বাংলাদেশে, ভবিষ্যতে ভয়ানক অবস্থা হবে। স্বেচ্ছাচারিতার চূড়ান্ত আস্ফালন যেন রুটিন। লিখেছিলাম ১০০টি রাষ্ট্র মিলে যত অন্যায় করে, একা আওয়ামী লীগ সেটাই করে। আরো চার টার্ম ক্ষমতার কথা জানিয়ে দেয়া হলো। ঝানু উকিলরা খুলে বলেন না। অপর পক্ষকে ফাঁদে পড়ার সুযোগ দিতে থাকেন। আমাদের নির্বাচনকে যারা অগণতান্ত্রিক করল, সে মহাজনেরাÑ আন্তর্জাতিক।
নিউ ইয়র্কের ‘ঠিকানা’ পত্রিকার লিড নিউজ, বঙ্গোপসাগরের শর্তে নির্বাচন। দ্য ডিপ্লোম্যাট লিখেছে, এই নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবে চীন-ভারত। আনন্দবাজারিরা লিখেই যাচ্ছেন, একটি দল ছাড়া কাউকেই ক্ষমতায় দেখতে চায় না দিল্লি। সিদ্ধান্ত ২০১২ সালে দিল্লিতে প্রথম দিয়েছিল প্রণব গং। ২০১৮ সালে বোলপুরে একই তরবারি আরো শাণিত করলেন মোদি।

কেউ যদি ভুলেও মনে করে, অস্বাভাবিক বিষয়গুলো পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই, রাজনীতি তাদের জন্য নয়। এই ব্লকেরই অন্যতম সদস্য ২০ দলীয় জোট। বিএনপির ফাউন্ডারের আদর্শকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে বর্তমান বিএনপি। বলছি, মিয়ানমার-বঙ্গোপসাগর, জামায়াত-বিএনপি ধ্বংস, জামায়াত নেতাদের ফাঁসি, ট্রাইবুন্যাল, পরিবেশ, অর্থনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি, রাজনীতি... মহাজনদের ম্যান্ডেট মেনে নেয়ার শর্তেই ২০০৮-এর বিতর্কিত নির্বাচন। ৫ জানুয়ারি ফলোআপ। ২০১৮ ‘শেষ খেলা’।

বিরোধী দলের রাজনীতি এখন পর্যন্ত আবেদন, অনুনয়, বিনয়ে সীমাবদ্ধ। অথচ নবাগতা কর্টেজের প্রতিটি বক্তব্যই যেন শাণিত তরবারি। অপর দিকে আমাদের বুদ্ধিজীবীরা বেশির ভাগই স্থূলবুদ্ধিতে বন্দী।
একটি উদাহরণ। সাউথ চায়না সি বনাম বঙ্গোপসাগর। সাউথ চায়না সি’র নিয়ন্ত্রণ আমেরিকা-চীনের কাছে যতটা গুরুত্বপূর্ণ, ভারত-চীনের কাছে বঙ্গোপসাগরের নিয়ন্ত্রণ ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। চীন-ভারত কেউই দাবি ছাড়বে না। যে কারণে দক্ষিণ কোরিয়ায় মার্কিন ঘাঁটি বসিয়ে রেখেছে ওয়াশিংটন। হামেশাই যৌথ মহড়া চালিয়ে চীনকে সতর্ক করে দেয়। পাল্টাপাল্টি চীনও সেটাই করে।

২৮ জুন, আমাদের সময়.কম ‘সাগরে বাংলাদেশ ও ভারতের নৌবাহিনীর যৌথ টহল আজ শুরু’ লেখাটি পড়ে ভাবুন। মনে আছে, প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে দিল্লি-ঢাকার উত্তেজনা? ওই চুক্তি কেন চেয়েছিল দিল্লি? কিছুদিন ঠেকানো গেলেও, ঘটনার প্রবাহে ভাসিয়ে দেয়া হয়েছে। আজঅব্দি যা পাবলিকের কাছে গোপন রেখেছেন হাইকমান্ড। দ্য ডিপ্লোম্যাটও একই কথা লিখেছে। অর্থাৎ, এই প্রতিরক্ষা চুক্তিতে নাখোশ চীন। এর মানে হলো, অচিরেই হয়তো দেখব, চীনারাও একই মহড়া করছে বঙ্গোপসাগরে। এখন বঙ্গোপসাগর চীন-ভারতের প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র। আমেরিকার সাথে চীনের বাণিজ্য নিয়ে যুদ্ধ চলছে, আমাদের তো তেমন কোনো বাণিজ্যই নেই। তবে রয়েছে বঙ্গোপসাগরের মতো ‘অ্যাটমবোমা’ এবং ভারতের মতো প্রতিবেশী। ভোটের বাক্স থেকে এদেরকে চিরতরে দূর করে দিতে তৃণমূলের মুভমেন্ট সবচেয়ে জরুরি।


ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন নাগরিকের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক অধিকার। অন্যথায়, ক্রাউলির মতো বুলডোজারকে পরাজিত করা অসম্ভব। হিলারির বিরুদ্ধে ট্রাম্পের বিজয়ও অসম্ভব হতো। হিলারির পরাজয় নিয়ে আমাদের মহাজনেরা কুৎসা রটালেও আসল ঘটনা ভিন্ন। ফেইকনিউজ আসলে সাংবাদিকতা নয়। ‘ট্রাম্পের ভোটের বাক্সে ৫ জানুয়ারির মতো ক্রাইম হয়নি। যা হয়েছে, সেটা রাশিয়ার প্রভাব ফেলা। আসল কথা, ২০০৮-এর নির্বাচন যাদের সৌজন্যে, বঙ্গোপসাগর নিয়ে তাদের মধ্যে অমীমাংসিত যুদ্ধ এখন আরো বেশি তীব্র। সবাই চায় বঙ্গোপসাগরের ওপর নিয়ন্ত্রণ।’ সুতরাং, সুষ্ঠু ভোট সম্ভবত হবে না। আওয়ামী লীগ চাইলেও সেই ক্ষমতা তাদের হাতের বাইরে। ‘সরকার পতন দূরের কথা, কিছু করার ক্ষমতা কারো হাতে নেই’Ñ হানিফের এই বক্তব্যের কারণ সেটাই। ভোট বাদ দিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রসঙ্গে চলে গেছে লীগ। এটা চীনা স্টাইলে আমৃত্যু ক্ষমতার নিশ্চয়তা।

চীন, ভারত, রাশিয়া, আমেরিকা, ইইউসহ হেভিওয়েট শক্তিগুলোর মধ্যে এক ব্যক্তিকে ক্ষমতায় রাখা নিয়ে নানা অঙ্কের দর কষাকষি অব্যাহত। সাউথ চায়না সি প্রসঙ্গে আমেরিকার পক্ষে ভারত। পাক-ভারত সীমান্তে উত্তেজনার পর উত্তেজনায় পাকিস্তানের পক্ষে চীন। দিল্লির সাথে আওয়ামী লীগের ‘মামা-ভাগিনার সম্পর্ক। চীনকেও ক্ষেপানো যাবে না। তাই ব্যাংক খালি করে দেয়া হচ্ছে। না হলে, লঙ্কাকাণ্ড প্রজেক্টের খরচ জোগাবে কিভাবে? আমাদের আয় কোথায়? এটাও ব্যাংক লুণ্ঠনের অন্যতম কারণ। চীনাদের দুর্নাম আছে, কাজ নিয়ে বছরের পর বছর ভোগায়, খরচেরও নাকি আগামাথা থাকে না। অন্যতম উদাহরণ, ‘চীনাদের ভয়ানক দুর্নীতির জালে পদ্মা সেতু।’ কথায় বলে, ভাগের মা গঙ্গা পায় না। সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে ‘ভারতের মামু’- রাশিয়া। মস্কোতে বৃষ্টি পড়লে, দিল্লিতে ছাতা ধরে। প্রয়োজনে চীন-ভারত-আমেরিকা সবার পক্ষই নেবে। অর্থনীতির ভাগবাটোয়ারাতেও সুবিধাজনক অবস্থানে পুতিন। মেগাবাজেট এবং মেগাঘাটতির হিসাব কে করে? চোরদের পেট ভরানোর জন্যই ব্যাংকের পকেট মারা। এ নিয়ে বিস্তারিত লিখব পরে।

ভৌগোলিক দিক থেকে চীন অনেকটাই দূরে। ৭১-এর মতো সপ্তম নৌবহরের যুগ শেষ। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সীমান্ত এবং তা চিরস্থায়ী। আর এইখানেই মার খাবে চীন। ভারতকে ডিঙিয়ে কিছুই করা যাবে না। চীনকে এই দেশে পসরা সাজাতে দেবে না ভারত। এই সমীকরণেই মৃত্যু হয়েছে সংসদীয় গণতন্ত্রের।


কর্টেজ বলেছেন, মানুষ ভোট দিলে যা হয়, আজ সেটাই হলো। তেমনি ২০০৮ সালে প্রণব মুখার্জি এবং হিলারি যে প্রেসক্রিপশন দিয়েছিলেন, সেটাই হয়েছে। ২০১৮ সালে দিল্লি যে প্রেসক্রিপশন দিয়েছে, সেটাই হচ্ছে। দিল্লি যতই বলুক, নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবে না, তা বিশ্বাস করা কঠিন। কারণ, ওরা বারবার প্রমাণ করেছে ‘কথা ও কাজে কত বেশি গরমিল!’ খালেদাকে জেলে ভরার মতো শক্তিশালী যারা, সে মহাজনদেরকে শনাক্ত করা গেছে কিন্তু ভোটের বাক্স থেকে দূর করা যায়নি। উল্টা এই দফায় ৫ জানুয়ারির চেয়েও বড় নীল নকশা অব্যাহত। এখন প্রচার চলছে, আরো চার টার্ম ক্ষমতায় থাকছেন হাইকমান্ড।

তারপরেও নির্বাচনকে রক্ষা করা সম্ভব। সে জন্য ‘দিল্লিকে ভোটের বাক্স থেকে দূর করে দিতে হবে। এই কাজে লাগবে গ্রাসরুট। অর্থাৎ, তৃণমূলের মুভমেন্ট। তাদেরকে কাজে লাগিয়েই বুলডোজার ফেলে দিলেন আলেকজান্দ্রিয়া। আরো লাগবে, স্বপ্ন দেখানোর পরিকল্পনা। কিন্তু ২০ দলীয়জোট পুরোপুরি স্বপ্নহীন।
হিলারি দুই বছরেও পরিকল্পনা দিতে পারেননি। ট্রাম্প দিয়েছিলেন। এর নাম- ‘মেইক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন।’ ট্রাম্প থেকে কর্টেজ, তৃণমূল ভোটার এবং পরিকল্পনা ছাড়া তারা গন্তব্যস্থলে পৌঁছাননি।

ইমেইল : [email protected]
ফেসবুক : minafarahface
ওয়েবসাইট : www.minafarah.com

 


আরো সংবাদ

মানবতাবিরোধী অপরাধ : নেত্রকোনার ২ জনের রায় কাল যৌন হয়রানিতে ফাঁসানো হয়েছে ভারতের প্রধান বিচারপতিকে! ফরিদপুরে স্কুলছাত্রী ধর্ষণের ভিডিও ফেসবুকে : আটক ১ ফিলিস্তিনে ইব্রাহিম (আ.) মসজিদ বন্ধ করে দিয়েছে ইসরাইল পদ্মা সেতুতে বসলো ১১তম স্প্যান, দৃশ্যমান হলো ১৬৫০ মিটার পাঁচ দফা দাবিতে নীলক্ষেত মোড়ে অবস্থান সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের খালেদা জিয়া কখনোই অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি : রিজভী পাকিস্তান গুলি ছুড়লেই গোলা ছুড়বে ভারত : অমিত শাহ সাড়ে ১২ শ’ গার্মেন্টস বন্ধে ৪ লাখ শ্রমিক বেকার : টিআইবি ২৫ বলে টর্নেডো সেঞ্চুরি! বিকেলে সার্চ কমিটির চূড়ান্ত বৈঠক : ছাত্রদলের নয়া কমিটির সিদ্ধান্ত আসছে

সকল




iptv al Epoksi boya epoksi zemin kaplama Daftar Situs Agen Judi Bola Net Online Terpercaya Resmi

Hacklink

Bursa evden eve nakliyat
arsa fiyatları tesettür giyim
Canlı Radyo Dinle hd film izle instagram takipçi satın al ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme

instagram takipçi satın al
hd film izle
gebze evden eve nakliyat