২২ জুলাই ২০১৮

দেশের স্থানীয় সরকারের সঙ্কট

ছবিটি প্রতীকী - ছবি : সংগ্রহ

উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থানকে সংহত করার জন্য সারা দেশের সমন্বিত উন্নয়নের পরিকল্পনা নেয়া অপরিহার্য। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন পর্যায়ের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের জীবনমান উন্নত করা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগী হতে হবে। এখন উন্নয়নের কথা যখন ভাবা হয় তখন তা নগর, মহানগরকেন্দ্রিক হয়ে থাকে। এর বাইরে ভাবনা আর অগ্রসর হয় না। এর ফলে দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী উন্নয়নচিন্তার বাইরেই থেকে যায়। সার্বিক উন্নয়নের কথা যদি বলা হয়, তবে নগরে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষটির স্বার্থকে একই সাথে দেখতে হবে। এখন প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ বৈষয়িক দিক থেকেই কেবল পিছিয়ে নেই, স্বাস্থ্য সুবিধা, শিক্ষার সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রেও তারা শহরবাসীর কাছাকাছি নেই। জাতীয় উন্নয়নের বিবেচনায় এটা গ্রহণযোগ্য নয়। যেহেতু তাদের প্রতিবাদের ভাষা ক্ষীণ, তাই তাদের দুঃখ বেদনা কাহিনী শোনা যায় না। স্থানীয়ভাবে যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে জনগণের কল্যাণের জন্য, সেগুলো খুবই দুর্বল। তাদের আর্থিক সামর্থ্য নেই বললেই চলে। জাতীয় ভিত্তিতে যেসব জনপ্রতিনিধি রয়েছেন, কেবল ভোটের সময়ই তাদের দেখা যায়। ভোট শেষ তো তাদের আর পাত্তা পাওয়া যায় না। এমন সুযোগসন্ধানীদের দিয়ে তো কাজ পাওয়ার উপায় নেই।

সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার বাইরে যে বিপুলসংখ্যক স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তা শহর-নগরের বাইরে গ্রামীণ জনপদে। সেই জনপদের উন্নয়নের জন্য রয়েছে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান। এই স্থানীয় সরকারের বিষয়টি আমাদের সংবিধান সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে রাষ্ট্রীয় মূল নীতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। নবম ধারায় স্থানীয় শাসনসংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন শীর্ষক অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধিগণ সমন্বয়ে গঠিত স্থানীয় শাসনসংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানসমূহকে উৎসাহ দান করবেন এবং সকল প্রতিষ্ঠানসমূহে, কৃষক শ্রমিক এবং মহিলাদিগকে যথাসম্ভব বিশেষ প্রতিনিধিত্ব দেয়া হইবে।’ সংবিধানে এমন সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও গ্রামীণ জনগণের কল্যাণের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। এর ফলে গ্রামীণ জনপদের মানুষ তাদের সমস্যা দুঃখ কষ্টের কোনো সুরাহা পায় না। গ্রামীণ জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে কিঞ্চিৎ উন্নতি ঘটেছে তা সাধারণ মানুষের একক প্রচেষ্টায়। এতে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নেই। বিশেষ করে কৃষি ক্ষেত্রে যে উন্নতি ঘটেছে তা কৃষকের একান্ত ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায়। আর বাংলাদেশের অর্থনীতি এখনো বহুলাংশে কৃষিনির্ভর।

বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের অবস্থান ভালো নয়। যদিও এ দেশে স্থানীয় সরকারপদ্ধতির ইতিহাস অনেক পুরনো। ১৮৭০ সালে ব্রিটিশ আমলে এই অঞ্চলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয়। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান বলতে বোঝায়, কোনো একটি সুনির্দিষ্ট এলাকায় সেই স্থানের জনগণের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের শাসন, যা কেন্দ্রীয় সরকারেরই একটি সম্প্রসারিত অংশ। সেই অঞ্চলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, স্বাস্থ্য শিক্ষা যোগাযোগ উন্নতি করাসহ অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা। গণতন্ত্রকে সংহত ও শক্তিশালীকরণ, স্থানীয় সামাজিক সমস্যার নিরসন ও তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর স্থানীয় সরকার গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশের সংবিধান রচনাকারীরা এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছিলেন। বাংলাদেশের সংবিধানে তৃণমূল পর্যায়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সুপ্রতিষ্ঠা করার জন্য স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে প্রতিনিধিত্বমূলক প্রতিষ্ঠান এবং একই সাথে জনগণের অংশগ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। সংবিধানের ৫৯ ও ৬০ অনুচ্ছেদে স্থানীয় সরকারব্যবস্থা সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। ৫৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্বাচিত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের ওপর ‘স্থানীয় শাসন ভার’ ন্যস্ত করা হয়েছে এবং ৬০ অনুচ্ছেদে স্থানীয় শাসনসংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানসমূহকে স্থানীয় প্রয়োজনে করারোপের ক্ষমতাসহ বাজেট প্রস্তুতকরণ এবং নিজস্ব তহবিল রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে।’

এ অনুচ্ছেদে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক মতামত দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এত সব থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে স্থানীয় সরকারব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। সে কারণে দেশের গ্রামীণ জীবনে সুব্যবস্থা গ্রহণে নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। অথচ এই গ্রামীণ জনপদে দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষের বসবাস। তাদের সামগ্রিক জীবনে মান উন্নয়নের জন্য যে প্রতিষ্ঠানিক কাঠামো রয়েছে, তা কার্যকর কর্মপ্রয়াস চালাতে না পারায় সবকিছু স্থবির হয়ে আছে। স্থানীয় সরকারপদ্ধতি সফল হতে না পারার কিছু কারণ নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।

রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর অঙ্গীকারের অভাব
বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংগঠনগুলো স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি যে মনোভাব ও আচরণ উপলব্ধি করা যায় তাতে এটা মনে করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে যে, তারা এসব প্রতিষ্ঠান ক্ষমতায়ন ও কার্যকর ভূমিকা পালনের ক্ষেত্রে উৎসাহী নয়। রাজনৈতিক নেতৃত্ব স্থানীয় পর্যায়ে ভিন্ন কোনো সংগঠন কার্যকর ভূমিকা পালন করুক তা তারা চায় না। বরং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের ওপর ক্ষমতা প্রয়োগ এবং কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ কার্যকর করতে চায়। তৃণমূলে কোনো স্থানীয় প্রশাসনকে তারা সুনজরে দেখে না। দেশে এখন প্রায় পাঁচ হাজারের বেশি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান রয়েছে (এগুলোর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ইত্যাদি রয়েছে) যা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়ে থাকে। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হয়ে থাকেন দলের সাধারণ সম্পাদক বা দলের গুরুত্বপূর্ণ কোনো নেতা। এ থেকে এটাই প্রমাণিত হয় যে, দলগুলো বিশেষ করে ক্ষমতাসীনদের নেতৃত্ব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করে থাকে। আরো লক্ষ করা যাবে যে, এসব প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তৎপর হয়ে ওঠে। ইউনিয়ন পরিষদের জন্য যে যৎসামান্য সরকারি বরাদ্দ থাকে সেখানেও রাজনীতি চলে। যারা সরকারের সাথে রাজনৈতিকভাবে ঘনিষ্ঠ তারা বরাদ্দ ঠিকমতোই পান।

কিন্তু সরকারি বলয়ে প্রবেশ করতে না পারলে নানা ভোগান্তিতে পড়তে হয় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে। তা ছাড়া স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা ভালো নয়। তাই তাদের নিজস্ব তহবিল থেকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা কঠিন হয়ে থাকে। তা ছাড়া এসব প্রতিষ্ঠানে যারা কাজ করেন তারা নিয়মিত বেতনভাতা পান না। এসব সমস্যা নিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো জর্জরিত হয়ে আছে। তাই ইউনিয়ন পরিষদগুলোর উন্নয়ন কার্যক্রম এক প্রকার প্রায় বন্ধ হয়ে থাকে। তৃণমূল পর্যায়ে যদি উন্নয়ন না হয়, সে ক্ষেত্রে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন গতিতে বিরূপ প্রভাব পড়তে বাধ্য।

দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান হচ্ছে উপজেলা পরিষদ। এর সূচনা হয়েছিল অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে কিন্তু এখন উপজেলা পরিষদের নির্বাচন হয়ে থাকে রাজনৈতিক ভিত্তিতে। সে যাই হোক, এই প্রতিষ্ঠানগুলো যদি সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে পারত তবে দেশে ছোট ছোট শহর ও গঞ্জে উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখতে পারত কিন্তু এটা জাতীয় রাজনীতির ছকে পড়ে উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান থেকে রাজনৈতিক ক্ষমতাচর্চার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এরপরও প্রতিষ্ঠানগুলো যতটুকু কাজ করতে পারত এখন ত্রিমুখী দ্বন্দ্বে তা হচ্ছে না। স্থানীয় সংসদ সদস্য উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মধ্যে ত্রিমুখী দ্বন্দ্বে কার্যকর স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করতে পারছে না। অথচ এই ত্রিমুখী দ্বন্দ্ব না হলে কাজের কোনো ব্যাঘাত হতো না। যদি সবাই তার জায়গায় অবস্থান করত। উপজেলা পরিষদ নীতিনির্ধারণ করবেন, পরিকল্পনা প্রণয়ন করবেন পরিষদের সদস্যদের নিয়ে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেই নীতি ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তা দেবেন। স্থানীয় সংসদ সদস্যের উপজেলায় বস্তুত কোনো দায়িত্ব নেই। সংসদ সদস্যদের কাজ হচ্ছে জাতীয় ভিত্তিতে, আইন প্রণেতা এবং সরকারের জবাবদিহি করবেন তারা। তার কাজের পরিসর অনেক বড়। কিন্তু এখন এই যে দুই পক্ষ অর্থাৎ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সংসদ সদস্য শৃঙ্খলা ভঙ্গ করছেন বিধায় সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। এই সমস্যার কারণে উপজেলা পরিষদের দৈনন্দিন কার্যক্রমসহ স্থানীয় উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব এবং পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রমে নিয়ত ব্যাঘাত ঘটছে। যখন কোনো একটি বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনওর দিক থেকে নির্দেশনা ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে, তখন প্রকল্প বাস্তবায়নকারীরা দ্বিধায় পড়েন। এ ছাড়া স্থানীয় সরকারব্যবস্থার বিভিন্ন স্তর যেমন জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ইত্যাদির মধ্যে কর্মকাণ্ডের সমন্বয়হীনতা ও দ্বৈততা রয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্তর নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে যে, এতগুলো স্তরের দরকার রয়েছে কিনা।

অর্থ বরাদ্দ, কর্মসূচি বাস্তবায়ন কৌশল, বিধিমালা, নীতিমালাসহ আরো অনেক বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর নির্ভর করতে হয়। এতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা খর্ব হয়, কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর নির্ভরশীলতা বেড়ে যায় এবং সরকার নিম্নস্তরের এসব প্রতিষ্ঠানের সহজেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এতে এখন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছে। তাই তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করা সহজ হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের খুব ছোটখাটো বিষয়ও কেন্দ্রীয় সরকার নিয়ন্ত্রণ করে। যেমন- ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদারদের বাঁশিও মন্ত্রণালয় ঠিক করে দেয়। ওপর থেকে এত বেশি নিয়ন্ত্রণ করা হলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে স্বাধীনভাবে কাজ করা সম্ভব হয় না। স্থানীয় সমস্যা এবং এর সমাধান করার বিষয়ে স্থানীয় সরকার যতটা ওয়াকিবহাল ও এর সমাধানের অগ্রাধিকার দেয়ার ক্ষেত্রে তারা যতটা অবহিত কেন্দ্রীয় সরকার সে বিষয়ে খোঁজখবর রাখে না। ফলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাহত হয়ে থাকে। এ অবস্থা দীর্ঘ দিন থেকে স্থানীয় পর্যায়ে সমস্যা সৃষ্টি করে আছে।

দীর্ঘ সময় ধরে উপরের নিয়ন্ত্রণ, হস্তক্ষেপের ফলে স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের নিজ দায়িত্ব ও ক্ষমতা সম্পর্কে ধারণার যথেষ্ট অভাব লক্ষ করা যায়। উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারেরা জানেন না আইনানুযায়ী সংশ্লিষ্ট পরিষদের বাধ্যতামূলক ও ঐচ্ছিক কাজগুলো সম্পর্কে। নির্বাচিত মহিলা প্রতিনিধিগণও অজ্ঞতার কারণে তাদের দায়িত্ব সম্পর্কেও ওয়াকিবহাল নন এবং কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেন না বা তাদের অবহেলা করা হয়ে থাকে। স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরগুলোর ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক ও ঐচ্ছিক কার্যাবলি সুনির্দিষ্ট করা আছে। যেমন ইউনিয়ন পরিষদের ১০টি বাধ্যতামূলক ও ৩৮টি ঐচ্ছিক কার্যাবলি রয়েছে। জেলা পরিষদের ১২টি বাধ্যতামূলক ও ৬৮টি ঐচ্ছিক কার্যাবলি রয়েছে। জনবল ও ব্যবস্থাগত কারণে এটা একটা সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। তা ছাড়া সব কার্যবলি স্থানীয় প্রেক্ষাপটে কতটুকু বাস্তবসম্মত তাও বিবেচনাসাপেক্ষ। উল্লিখিত এসব সমস্যা বিরাজ করায় বিভিন্ন স্তরের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্বগুলো যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে পারেন না। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম না হওয়ায় জনভোগান্তি বৃদ্ধি পায় এবং ইস্পিত উন্নয়ন হয় না।

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়ের নিজস্ব খাত নেই। যতটুকু আছে তা উল্লেখ করার মতো নয়। তাই তাদের তহবিলের স্বল্পতা রয়েছে। স্থানীয় সরকারের কেন্দ্রীয় সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দের পরিমাণ খুবই কম। স্থানীয়ভাবে পাওয়া যৎসামান্য করই স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর একমাত্র উৎস। গ্রামীণ জনগণের ব্যয়ের ক্ষমতা কম হওয়ায় এবং জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার ভয়ে স্থানীয় পর্যায়ে কর বাড়ানোর ক্ষেত্রে সাহস দেখা যায় না। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা ভীত থাকেন যে, কর বাড়ানোর প্রস্তাব করলে পরবর্তীতে তারা আর নির্বাচিত হবেন না। এতে বহু বছর কর বাড়ানোর কোনো প্রস্তাব করা হয় না। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা এতটাই অসচ্ছল যে, এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের যে যৎসামান্য বেতন তা মাসের পর মাস বকেয়া থেকে যায়। এই অসচ্ছলতার কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক কাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে থাকে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সাথে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের কাজের কোনো সমন্বয় নেই।

দেশের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে শক্তিশালী ও কার্যকর স্থানীয় সরকারব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য এসব প্রতিষ্ঠানকে যথাযথ দায়দায়িত্ব প্রয়োজনীয় সম্পদ স্বায়ত্তশাসন ও আবশ্যকীয় কর্মকর্তা-কর্মচারী দেয়া গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় সরকারকে দায়দায়িত্ব দেয়ার পাশাপাশি তাদের তা পূরণের যথেষ্ট স্বাধীনতা আর্থিক ক্ষমতা দেয়া জরুরি। সব কিছুর আয়োজন করা হলে তবেই তো সফলতা আসতে পারে।
ndigantababor@gmail.com


আরো সংবাদ

বরিশাল সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীদের ভিজ্যুয়াল প্রচারণা হেনা দাসের বিপ্লবী জীবন থেকে শিক্ষা নিতে হবে : মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বিএনপিকে রাজনীতির বাইরে রাখার বিকল্প নেই : হাসানুল হক ইনু সাভারে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে অর্ধশত শ্রমিক আহত রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযান : ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৫৪ আজ বিএনপির সম্পাদকমণ্ডলীর সভা এরশাদ ৫ দিনের সফরে ভারত যাচ্ছেন আজ জাতীয় নাগরিক সমাজ অবিলম্বে চাকরিতে কোটা সংস্কার ও গ্রেফতারকৃতদেও মুক্তি দাবি ঢাকাস্থ চাঁদপুর যুবকল্যাণ সংসদের মতবিনিময় অনুষ্ঠিত পিটিআই কর্মকর্তা সমিতির নবনির্বাচিত নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ সিইডিএসের উদ্যোগে দরিদ্র নারী-পুরুষের মধ্যে নিত্যপণ্য বিতরণ

সকল