২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

দায়িত্বের সাথে কর্মের সামঞ্জস্য

দায়িত্বের সাথে কর্মের সামঞ্জস্য - নয়া দিগন্ত

ধর্ম নিয়ে মানুষের আলোচনা ও সমালোচনা, পক্ষে-বিপক্ষে দীর্ঘ দিনের। ধর্মে বিশ্বাস করে না এমন মানুষের সংখ্যাকে একদম নগণ্য বলা যাবে না, তবে তারা বিকশিত হতে পারছে না এ কারণে যে, তাদের হাতে অকাট্য প্রমাণ নেই। যা আছে তা তাদের নিজস্ব মতবাদ হিসেবে পরিগণিত। ধর্ম কী জানার চেষ্টা করব।

মানুষ সৃষ্টিকর্তার মনোনীত ধর্ম পালন করে, অনেকে পালন করে না, আবার অনেকে ধর্মে বিশ্বাসই করে না। একদল লোক রয়েছে যারা ধর্ম আছে কি নেই- এ মর্মে চিন্তাভাবনা করে না। নানা রকমভেদে এ পৃথিবীর মানুষ। মানুষ তার নিজ ধর্ম ছাড়া অনেক কিছু করে যা ধর্মের শিক্ষার সাথে সাংঘর্ষিক। অন্য দিকে নিজ নিজ বিশ্বাস তথা ধর্মের অনুশীলন থেকে একচুল পরিমাণ পেছাবে নাÑ এমন নিষ্ঠাবান মানুষের সংখ্যাও কম নয়। নিজ নিজ ধর্মেও দল, উপদলে বিভক্তি অনেক। এমন কোনো ধর্ম নেই যেখানে অনুসারীদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি হয়নি। এ বিভক্তিজনিত যুদ্ধবিগ্রহ পর্যন্ত ঘটেছে।

একই মতবাদে বিশ্বাসী হওয়ার পরও কেউ পরস্পরকে খুন করছে দুনিয়া ও পরকালে গৌরবান্বিত হওয়ার প্রত্যাশায়। ধর্মীয় অন্তর্দ্বন্দ্ব ও বিবাদ অনেক ক্ষেত্রেই নির্মম ও মর্মান্তিক। হজরত মুহাম্মদ সা:-এর দৌহিত্র হজরত হোসেন রা:-কে ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে পানিবিহীন অবস্থায় নির্মমভাবে সপরিবারে হত্যা করেছিল উমাইয়া শাসক ইয়াজিদ। হিন্দু ধর্মের মধ্যে উচু-নীচু বর্ণ বিদ্বেষ অনেক বেশি। ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ ও তার স্ত্রী সবিতা কোবিন্দ নিস্নজাতের হিন্দু হওয়ার কারণে উরিষ্যার জগন্নাথ মন্দিরে কথিত উঁচু জাতের উগ্রপন্থী হিন্দুত্ববাদীদের দ্বারা হেনস্তার শিকার হয়েছেন (সূত্র : ভারতীয় জাতীয় পত্রিকা ২৯-৬-২০১৮)। খ্রিষ্টান ধর্ম ক্যাথলিক ও প্রটেস্টান্ট এই দুই ভাগে বিভক্ত তাদের অনেক উপদল রয়েছে। ‘জীব হত্যা মহাপাপ’ বৌদ্ধ ধর্মের মূলমন্ত্র। কিন্তু মিয়ানমারের বৌদ্ধরা রোহিঙ্গা মুসলমানদের অকাতরে হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করে যাচ্ছে। আশ্চর্যের বিষয় এই যে, এখানে ধর্ম তাদের কাছে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায় না কেন? কার্যত মনে হচ্ছে, মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা মানুষরা হওয়া দূরে থাক, জীব বা প্রাণী নয়! কোনো ধর্মকে ছোট করে দেখার অবকাশ নেই। নিজ নিজ ধর্ম সঠিকভাবে পালন করাই সবার মুখ্য উদ্দেশ্য হওয়া বাঞ্ছনীয়।

প্রবাদ রয়েছে যে, রণে বনে প্রেমে কোনো নীতি বা ধর্ম নেই। রণে (যুদ্ধে) জয় লাভের জন্য যা যা করা দরকার তা তখনকার ধর্ম, বনে (জঙ্গলে) বেঁচে থাকার প্রয়োজনে যা কিছু করা দরকার তাই ধর্ম এবং প্রেমে আত্মতৃপ্তি নাকি পাওয়াই ধর্ম। অন্য প্রবাদও রয়েছে যে, সব ধর্মই ভালোবাসার কথা বলে। কিন্তু প্রেম, ভালোবাসার কোনো ধর্ম নেই। প্রেম, ভালোবাসা বড়-ছোট, জাত-বেজাত, বাদশা-ফকির, ধনী-গরিব মানে না। এ তো গেল মানবজাতির কথা, যারা পৃথিবীতে সৃষ্টির সেরা হিসেবে পরিচিত। শুধু মানুষই কি ধর্ম পালন করে? নাকি প্রতিটি সৃষ্টি বা প্রাণী বা বস্তুর নিজস্ব ধর্ম বা বৈশিষ্ট্য বা স্বভাব রয়েছে?

কাঠের ধর্ম হলো, নিজে পোড়ে, আগুনের ধর্ম অন্যকে পোড়ায়। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কুকুরের ছায়া পড়লে পবিত্রতা নষ্ট হয়। অন্য দিকে কুকুরকে কোলে নিয়ে ঘোরে বা বিছানায় জায়গা দেয়, এমন মানুষও রয়েছে। মানুষ সৃষ্টির সেরা, কিন্তু ‘বিশ্বস্ততার’ প্রশ্নে মানুষের চেয়ে কুকুর অনেক ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে বেশি। কুকুর মনিবের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে- এমন প্রমাণ পাওয়া যায় না, কিন্তু মানুষ বিশ্বাস ভঙ্গ করার প্রমাণ রয়েছে ভূরি ভূরি। বিশ্বাস ভঙ্গের তালিকা অনেক দীর্ঘ। তবে বিশ্বাসঘাতকদের পরিণতি ভালো হয়নি। মীর জাফরের মৃত্যু হয়েছে কুষ্ঠ রোগে, তার পুত্র মীরনের মৃত্যু হয়েছে বিনা মেঘে বজ্রপাতে, ক্লাইভ আত্মহত্যা করেছিল, পৃথিবী ওদের ঘৃণাভরে স্মরণ করে। উল্লেখ্য, আচরণের কারণে কুকুরের চেয়েও মানুষ নিকৃষ্ট হয়ে যায়। বিশ্বাসঘাতকতা ও বিদ্রোহ এক কথা নয়। অন্যায়ের প্রতিবাদ করে প্রকাশ্য বিরোধিতার নাম ‘বিদ্রোহ’, অন্য দিকে কারো সাথে থেকে নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য গোপনে বিরোধিতা করার নাম ‘বিশ্বাসঘাতকতা’। দেশে দেশে, গ্রাম-গঞ্জে, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে, এমনকি পারিবারিক পর্যায়েও চলছে বিশ্বাসঘাতকতার হিড়িক, যার পরিণাম হিংসা-প্রতিহিংসা, প্রতিশোধ ও পাল্টা প্রতিশোধ, খুন আর খুন।
পুলিশ ও আমলাদের ‘ধর্ম’ কী হওয়া উচিত, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের (সংবিধানের ৭(১) অনুচ্ছেদ মোতাবেক ‘প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ’ এবং ২১(২) অনুচ্ছেদ মোতাবেক, ‘সকল সময়ে জনগণের সেবা করিবার চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য।’ পুলিশ ও আমলারা কি সেবার মনোভাব নিয়ে কাজ করার মানসিকতা প্রমাণ করতে পেরেছেন? মোটা দাগে পুলিশ ও প্রশাসনের ধর্ম কী, বাস্তবতার নিরিখে যদি বলতে হয়, তবে এটাই যথাযথ (অঢ়ঢ়ৎড়ঢ়ৎরধঃব) যে, তাদের ধর্ম ‘শক্তের ভক্ত, নরমের জম’। আপনি যদি কোনো পুলিশ বা আমলার শরণাপন্ন হন, তখন দেখবেন কত ধানে কত চাল? তখন সংবিধান ও আইন কোথায় থাকে?

জন্মসূত্রে বাংলাদেশের সব মানুষই স্বাধীন রাষ্ট্রের নাগরিক; যার মর্যাদা, সম্মান, অধিকার, প্রভৃতি সংবিধান ও আইন দ্বারা সংরক্ষিত ও নিশ্চিত। তদুপরি, সংবিধানই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন হিসেবে বিবেচিত। সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘আইনের আশ্রয় লাভ এবং আইনানুযায়ী ও কেবল আইনানুযায়ী ব্যবহার লাভ যেকোনো স্থানে অবস্থানরত প্রত্যেক নাগরিকের এবং সাময়িকভাবে বাংলাদেশে অবস্থানরত অপরাপর ব্যক্তির অবিচ্ছেদ্য অধিকার এবং বিশেষত আইনানুযায়ী ব্যতীত এমন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে না, যাহাতে কোনো ব্যক্তির জীবন, স্বাধীনতা, দেহ, সুনাম বা সম্পত্তির হানি ঘটে।’

তৎসত্ত্বেও কোনো নাগরিক তার ন্যায্য অধিকার রক্ষা বা প্রাপ্তির জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা কোনো আমলার শরণাপন্ন হলেই তাকে হেনস্তা হতে হবে, যদি তার টাকা দেয়ার মানসিকতা, সামর্থ্য না থাকে বা মামা, খালু বা কোনো আত্মীয়তার রেফারেন্স না থাকে অথবা যদি না সে সরকারি দলের লোক হয়। নাগরিকের ন্যায্য অধিকার পেতে হলে ‘খুঁটির জোর’ থাকতে হবে, খুঁটির জোরবিহীন নাগরিকদের সম্মান, মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করতে আমাদের সংবিধান কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধান ও আইন রাষ্ট্রীয় কর্মচারীÑ তথা পুলিশ ও আমলারা দু’ভাবে প্রয়োগ করে থাকেন।

যার খুঁটির জোর নেই, আমলাতন্ত্র তাকে মূল্যহীন মনে করে। অন্য দিকে, যার খুঁটির জোর আছে তাকে একই বিষয়ে ত্বরিতগতিতে চাহিদা পূরণ করে দেয়, হোক তা আইনি বা বেআইনি! অতএব, পুলিশ ও আমলাতন্ত্রের দৃশ্যমান ধর্ম যখন যেমন তখন তেমন। যে বিষয়ে যাকে লাথি মারে, সে বিষয়ে খুঁটিওয়ালাদের মাথার মুকুট বানিয়ে কুর্নিশ করে। খুঁটিওয়ালা ও টাকাওয়ালাদের জন্য বাংলাদেশ যেন ‘স্বর্গরাজ্য’, আর খুঁটিবিহীনদের জন্য ‘নরক’। আমলাদের এ ‘ধর্ম’ উত্তরাধিকার সূত্রে ব্রিটিশ ও পাকিস্তান থেকে প্রাপ্ত। ‘স্বাধীনতা’ নামক প্রতিষেধক বা স্বাধীনতার চেতনা ব্রিটিশ থেকে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত অন্যায্য ‘ধর্ম’ থেকে আমলাদের বিচ্যুতি ঘটাতে পারেনি।
কী বিস্ময়কর এ দেশ ও জাতি। জলজ্যান্ত ঘটনাকে কথিত বুদ্ধিজীবীরা মিথ্যার আবরণে অনর্গল বলে যাচ্ছেন। সাধারণ মানুষ এসব শুনতে শুনতে হয়রান হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু প্রতিকারের প্রত্যাশা করা যায় না। কথিত আছে, এ দেশে সকাল-বিকাল জোয়ার-ভাটা হয় বলে মোগল বাদশাহ জাহাঙ্গীর (যার নামানুসারে ঢাকার নাম জাহাঙ্গীরনগর) ঢাকায় প্রবেশ না করে মুন্সীগঞ্জ জেলার একটি স্থান থেকে বজরা (বিলাসবহুল পানসি নৌকা) দিয়ে দিল্লিতে ফিরে গেছেন। এদিকে একটু সুযোগ-সুবিধার জন্য বুদ্ধিজীবীদের ‘রঙ পরিবর্তন’, মিথ্যাকে সত্যে রূপান্তর, অধিকন্তু জনগণকে বোকা বানিয়ে ধোঁকা দেয়া এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। জাতি আর আস্থা ও নির্ভরযোগ্যতার জায়গা খুঁজে পাচ্ছে না। রক্ষকই যেখানে ভক্ষক এবং রক্ষক যখন সব কিছু নিজের মতো করে গিলে ফেলার ‘ধর্ম’ অবলম্বন করে তখন জাতি আশ্রয় নেবে কোথায়?

গাছের জীবন আছে, এ কথা স্বীকৃত। পবিত্র কুরআন শরিফে বলা হয়েছে, গাছ আল্লাহ তায়ালাকে সেজদা করে (সূত্র : সূরা আর রাহমান, আয়াত নং-৬)। স্যার জগদীস চন্দ্র বসু গবেষণা করে বলেছেন, গাছের প্রাণ রয়েছে। পানির অপর নাম জীবন। কারণ পানি মানুষের জীবন রক্ষা করে, কিন্তু পানির জীবন বা প্রাণ আছে কিনা তা কেউ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন কিনা জানা নেই। তবে পানির নিজস্ব একটি ধর্ম হলো- পানি বিশ্বাসঘাতকতা বা প্রতারণা করে না, বরং পানির সাথে প্রতারণা (দূষিত) করেছে মানুষই। সৃষ্টির সেরা হলেও বহু মানুষের কাজই হচ্ছে প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতা, যার ইতিহাস অনেক দীর্ঘ। ব্যতিক্রম তো কিছু আছেই। দিন যত যাচ্ছে, মানুষ যত আধুনিক হচ্ছে, বিজ্ঞান যত এগিয়ে যাচ্ছে ততই জ্যামিতিক হারে প্রতারণার রকম/আকার/পরিধি/পদ্ধতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে বিপাকে রয়েছে সৎ সরল সোজা জীবনযাপনে অভ্যস্ত মানুষেরা।

‘ক্ষমতার’ ধর্ম কী? ক্ষমতার অনেক ধরন রয়েছে, কিন্তু এর মূল বৈশিষ্ট্য হলো ‘অন্ধত্ব’। এই অন্ধত্বের কারণে যার আশ্রয়দাতা হওয়ার কথা, তারাই হয়ে যান শ্রেষ্ঠ নির্যাতনকারী। প্রতিপক্ষকে সহ্য করতে না পারাও ক্ষমতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ক্ষমতা খালি চোখে দেখা না গেলেও এর ‘অ্যাকশন’ হাড়ে হাড়ে টের পাওয়া যায়। সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের যখন পুলিশের বুটের নিচে দেখা যায় তখনই বুঝতে হবে, ক্ষমতার ধর্ম ও রঙ কী ও কত প্রকার? রাজার বিরুদ্ধে হক কথা বললে অপরাধ, লিখলে তো অপরাধের শেষ থাকে না, তখনই বোঝা যায় ক্ষমতার রূপ বা চেহারা কী হতে পারে, যেমনটি বুঝে ছিলেন সক্রেটিস।
উল্লেখ্য, হজরত মুহাম্মদ সা: বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণে দাস বা ক্রীতদাস প্রথা বিলুপ্ত ঘোষণা করেছেন। অথচ টিভি চ্যানেলে ‘সুলতান সোলায়মান’ নামক একটি সিরিজে দেখা যায় যে, সুলতান ও তার পূর্ব ও উত্তরসূরিরা তাদের হেরেমে অসংখ্য দাসী বা বাঁদী রাখতেন এবং যখন যাকে পছন্দ হতো তাকেই সন্তান জন্ম দেয়ার জন্য ব্যবহার ও ভোগ করতেন, অথচ বিষয়টি সম্পূর্ণ ইসলাম ধর্মের নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী। অন্য দিকে, দেবদাসী বা সেবাদাসী সম্পর্কে ইতিহাস পর্যালোচনা করে যতটুকু জানা যায় তা হলো, তারা মন্দিরের পৃষ্ঠপোষকতায় এক বিশেষ ধরনের বারবনিতা।

খুশি করাই ছিল এই দেবদাসীদের অবশ্য কর্তব্য। এই মনোরঞ্জন রাজা ও রাজপুরুষদের এবং পুরোহিতদের।’ এ প্রথা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। ভারতবর্ষে এই দেবদাসী প্রথা সবচেয়ে ব্যাপক। ভারতীয় নারীসমাজ বহু যুগ ধরে এই প্রথার কারণে অত্যাচারিত। ১৯৪৭ সালে দেবদাসী প্রথা নিষিদ্ধ করা হয়েছে আইনের সাহায্যে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, ভারতে এহেন জঘন্য প্রথা আজো বিলুপ্ত হয়নি। এদেরই কেউ কেউ মন্দিরে নিয়োজিত হতো দাসীরূপে। এ ছাড়া কিঞ্চিত মূল্যে কিনে বা বলপ্রয়োগে এদের সংগ্রহ করা হতো। অথবা রাজভয়ে গৃহস্থরা মেয়েদের দাসীরূপে নিবেদন করত মন্দিরে। গণিকাবৃত্তিকে স্বাধীনবৃত্তিরূপে প্রতিষ্ঠা করার পেছনে দেবদাসীবৃত্তির দায় কম নয়। (দেখুন আল্লামা গোলাম আহমাদ মোর্তজা প্রণীত ‘বজ্রকলম’-এর পৃষ্ঠা নং-১৭৮)।
রাজনীতিক, কর্ণধার, সুশীলসমাজ, নেতা, পাতি নেতাদের মঞ্চের বক্তব্য ও ব্যক্তিজীবন মিলিয়ে দেখলে দেখা যাবে আকাশ পাতাল ফারাক। অনেক ক্ষেত্রে মঞ্চের বক্তব্যে যতটুকু শ্রদ্ধাবোধ সৃষ্টি হয়, ব্যক্তি চরিত্র জানতে পারলে ততটুকু ঘৃণা জন্মে।
একমাত্র প্রকৃতিই ধর্ম পরিবর্তন করে না। প্রকৃতির ‘ধর্ম’ কঠিনভাবে প্রতিশোধ নেয়া হলো- ‘প্রকৃতি’ প্রতিশোধপরায়ণ এবং প্রতিশোধ গ্রহণে অত্যন্ত তৎপর। প্রকৃতিকে ‘ইট’ দিয়ে আঘাত করলে ‘পাটকেল’ দিয়ে জবাব দেয়, তাও খুব নির্মমভাবে এবং নিষ্ঠুরভাবে প্রতিশোধ নেয় মানুষের কর্মফলের।হ
লেখক : আইনজীবী (অ্যাপিলেট ডিভিশন)
E-mail: taimuralamkhandaker@gmail.com


আরো সংবাদ