২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ঘুষ দুর্নীতির একাল-সেকাল!

ঘুষ দুর্নীতির একাল-সেকাল! - ছবি : সংগৃহীত

প্রায় বছর পঁচিশেক আগের কথা। আমি তখন নবীন ব্যবসায়ী। সব ব্যাপারেই দারুণ উৎসাহ এবং চোখেমুখে বড় বড় সব স্বপ্ন নিয়ে ঘুরে বেড়াতাম। ঢাকার কমলাপুরে তখন সবে একটি নতুন আইসিডি বা ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো চালু হয়েছে। জাহাজ কোম্পানির বড় বড় কনটেইনারে বাহারি আমদানিপণ্য চট্টগ্রাম বন্দর থেকে রেলের মাধ্যমে ঢাকা আইসিডিতে আসে এবং আমদানিকারকেরা যথানিয়মে পণ্য খালাস করেন। একইভাবে খালি কনটেইনারগুলোতে রফতানিপণ্য ঢুকিয়ে তা প্রথমে চট্টগ্রাম বন্দরে রেলের মাধ্যমে এবং পরে সেখান থেকে নির্দিষ্ট জাহাজে তুলে পাঠিয়ে দেয়া হতো গন্তব্যের দেশগুলোতে। এসব কর্মের সাথে বন্দর কর্তৃপক্ষ, কাস্টম কর্তৃপক্ষ, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, আমদানিকারক, রফতানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, শিপিং এজেন্ট, পরিবহন-মালিক-শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার লোক সকাল থেকে গভীর রাত অবধি সেখানে এক মহাকর্মযজ্ঞ এবং প্রাণবন্ত পরিবেশ গড়ে তোলে।

আমার ব্যবসা ছিল মূলত শিপিং এজেন্সি, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডিং এবং কনটেইনার সার্ভে সংক্রান্ত। মালিক হিসেবে আমার সেখানে যাওয়াটা জরুরি ছিল না। কিন্তু আমি বেশ উৎসাহ নিয়েই নিয়মিত আইসিডি কমলাপুরে যেতাম মূলত তিনটি কারণে। প্রথমত. আমারই মতো আরো অনেক তরুণ উদ্যোক্তা সেখানে আসতেন। ফলে তাদের সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং একই সাথে মার্কেটিং করার সুযোগটি আমি কাজে লাগাতাম। দ্বিতীয়ত, চট্টগ্রাম বন্দরের দানবের মতো বড় বড় যন্ত্রপাতি যা দিয়ে কনটেইনার উঠানো নামানো হতো সেগুলোতে চড়ে একধরনের দারুণ মজা ও তৃপ্তি লাভ করতাম। তৃতীয়ত, সরাসরি ঘুষ লেনদেন দেখে বিরাট এক অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতাম।

আমি যে সময়ের কথা বলছি, তখন বর্তমান জমানার মতো ঘুষ লেনদেন সর্বস্তরে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়নি। সরকারি দফতরগুলোতেও বর্তমানের মতো অমানবিক ও নির্দয় পরিবেশ ছিল না। আমরা শুনতাম যে, কিছু অফিসের কিছু কর্মকর্তা ঘুষ খান- তবে তা খুবই গোপনে এবং পরিবেশ পরিস্থিতি বুঝে। অর্থাৎ সব কাজে এবং সবার কাছ থেকে ঢালাওভাবে কেউ ঘুষ নিতেন না। অন্য দিকে, ঘুষ নিয়ে কাজ করবেন না অথবা একই কাজের জন্য একাধিক লোকের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের ঘটনা কল্পনাও করা যেত না। ঘুষখোরেরা বর্তমানের মতো বুক ফুলিয়ে দম্ভ করে বেড়ানোর সাহস পেতেন না। তাদের সামাজিক মর্যাদা এবং গ্রহণযোগ্যতাও ছিল নিম্নস্তরে। আজ থেকে মাত্র পঁচিশ বছর আগে কোনো স্বীকৃত ঘুষখোর, দুর্নীতিবাজ এবং অসৎ লোকের সাথে সমাজের নামী-দামি লোক সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্ক স্থাপন করতেন না। ওইসব বাজে লোকেরা লোক সমাগমে সচরাচর উপস্থিত হতেন না এবং ভদ্রজনের সামনে চেয়ারে বসার নৈতিক সাহস রাখতেন না।

বর্তমান জমানায় যেমনটি নেগেটিভ চরিত্রের মানুষজনের প্রতি বেশির ভাগ লোক একধরনের সুতীব্র আকর্ষণ বোধ করেন তেমনটি আমাদের সমাজে মাত্র ২০-২৫ বছর আগেও ছিল না। আর ৩০-৪০ বছর আগে তা কল্পনাও করা যেত না। এখনকার দিনে চোর-ডাকাত, টাউট-বাটপাড়, মদখোর, গাঁজাখোর, চরিত্রহীন চোট্টা এবং লুচ্চাদের সম্পর্কে মানুষের কোনো কৌতূহল নেই। এসব নরপশুরা তাদের হিংস্রতার বিষদাঁত এবং ধারালো নখ নিয়ে গৃহপালিত পশুর মতো আমাদের জনারণ্যে মিশে আছে এমনভাবে, যাদের আলাদা করা সত্যিই এক দুষ্কর বিষয়। কিন্তু সত্তর এবং আশির দশকে চোরেরা আলাদা গ্রামে বাস করত। পতিতাদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন পল্লী ছিল। মদখোর, গাঁজাখোরেরা খুবই গোপনে হয় বন-জঙ্গল নতুবা কোনো বিরানভূমির নির্জন প্রান্তরে গিয়ে ওসব কর্ম করত। আর ডাকাতেরা তো কোনো দিন প্রকাশ্যে আসতই না। ফলে তাদের নিয়ে একধরনের কৌতূহল ছিল। আমার শৈশবে আমি কোনো দিন নিজের চোখে কোনো চোর দেখিনি। ডাকাতদের কাহিনী গল্পাকারে শুনতাম; কিন্তু দু-চার ১০ গ্রামে কোনো ডাকাতির ঘটনা কোনো দিন ঘটেছে বলে শুনিনি। আমাদের গ্রামের প্রায় চার হাজার বাসিন্দার মধ্যে পুরো সত্তর দশকে একজন মাত্র গাঁজাখোর ছিল। বিষা নামক সেই হতভাগা বাউন্ডেলেটি মাছ ধরত এবং গাঁজা খেত। তার কোনো পরিবার ছিল না- ছিল না কোনো আত্মীয়। গ্রামের একদম পূর্বপ্রান্তের নির্জন একটি এলাকায় একটি কুঁড়েঘরে সে বাস করত। আমরা, ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা মাঝে মধ্যে কৌতূহলবশে তাকে দেখতে যেতাম।

আমাদের গ্রামে সত্তর ও আশির দশকে একজন ঘুষখোরও ছিল না। গ্রামের যেসব লোক সরকারি অফিসে চাকরি করতেন তারা সবাই সমাজে অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য এবং সম্মানিত ব্যক্তি ছিলেন। আমাদের ময়মুরুব্বি, পিতা-মাতা বা শিক্ষকেরা আমাদের ওইসব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর আদলে মানুষ হওয়ার জন্য আদেশ-উপদেশ দিতেন। ফলে আমরা তাদের চোখের মণিতে স্থাপন করে নিজেদের স্বপ্নবাসরের নায়ক বানিয়ে লেখাপড়া ও জ্ঞানচর্চা করতাম। সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার এবং ধর্মীয় নেতারা সমাজের মান-মর্যাদা ও সম্মানের প্রতীকরূপে বিবেচিত হতেন। তারা বিভিন্ন উপলক্ষে গ্রামে এলে আমাদের ময়মুরুব্বিরা তাদের নিজ বাড়িতে দাওয়াত করে এনে অথবা তাদের বাড়িতে সন্তানসহ গিয়ে নানা উপদেশ লাভ করতেন।

আমার শৈশব-কৈশোরের সেই ইতিবাচক শিক্ষার কারণে কর্মজীবনে এসে আমাকে কোনো দিন নেতিবাচক কর্মকাণ্ড দিয়ে প্রলুব্ধ বা প্রতারিত হতে হয়নি। সমাজের নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও আমি সর্বদা নিজেকে সেভাবে পরিচালিত করে আসছি যেমনটি আমি শিখেছিলাম আমার পিতা-মাতা, শিক্ষকমণ্ডলী এবং সমাজ-সংসারের ময়মুরুব্বিদের কাছ থেকে। আমার কর্মজীবনের শুরুর দিকে যেহেতু সামগ্রিক অবস্থা বর্তমানের চেয়ে অনেক অনেক গুণ ভালো ছিল, তাই আমাকে কিংবা আমার মতো কাউকে পদে পদে হোঁচট খেতে হয়নি। আজ যেমন আমরা মন্দ মানুষের ভয়ে নিজেদের গুটিয়ে রাখি অথবা তাদের দেখলে ভয়ে সরে যাই, তেমনি করতে হয়নি ২৫ বছর আগের দিনগুলোতে। সেই সময়ে মন্দ লোকেরা আমাদের সমীহ করতেন এবং আমাদের দেখলে মাথা নিচু করে থাকতেন। ফলে আমরা ওদের ব্যাপারে কৌতুক অনুভব করতাম এবং কৌতূহলী হয়ে ওদেরকে করুণা করতে চাইতাম।

ঘুষখোর দুর্নীতিবাজদের সেইসব দিনে ঢাকা আইসিডিতেই কেবল প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেন হতো। আমি শুনতাম যে, চট্টগ্রাম বন্দরসহ দেশের অন্য শুল্ক স্টেশনগুলোতেও নাকি প্রকাশ্যে ঘুষের লেনদেন হতো। আমার যেহেতু ওইসব স্টেশনে যাওয়ার সুযোগ ছিল না, সেহেতু আইসিডিতে গিয়ে ঘুষ লেনদেনের দৃশ্য দেখে নিজের কৌতুহল নিবৃত্ত করতাম। তখনকার আইসিডিতে এক-দু’জন ঊর্ধ্বতন বন্দর কর্মকর্তা ছাড়া সবাই কমবেশি ঘুষ খেতেন এবং প্রকাশ্যে হাত পেতে গুনে গুনে ঘুষের টাকা নিতেন। প্রতিটি সেবার জন্য সরকার নির্ধারিত ফি যেমন ছিল তেমনি ঘুষেরও নির্ধারিত রেট ছিল। ফলে কোনো কথাবার্তা ছাড়াই প্রতি ঘণ্টায় লাখ টাকার ঘুষ লেনদেন হতো। মাঝে মধ্যে কিছু বিশেষ ধরনের জটিল কাজকর্ম থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সেবা গ্রহণকারীরা পরস্পর আলাপ-আলোচনা করে ঘুষের পরিমাণ নির্ধারণ করে নিতেন।

বন্দর কর্মকর্তাদের ঘুষ লেনদেন যেভাবে শান্তিপূর্ণভাবে হতো ঠিক সেভাবে কাস্টম কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঘুষের ক্ষেত্রে হতো না। প্রায় প্রতিদিনই আমদানিকারক-রফতানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের সাথে ঘুষখোর কাস্টম কর্মকর্তাদের দরকষাকষি ও মনোমালিন্য হতো। যদি সব কাগজপত্র ঠিকঠাক থাকত এবং পণ্যটি একাধিকবার একই রেটে আমদানি বা রফতানি হতো তবে ঘুষের পরিমাণ নিয়ে গণ্ডগোল হতো না। কারণ ঘুষের রেট কোন টেবিলে কত হবে তা বন্দরের মতোই নির্ধারণ করা থাকত। কিন্তু গোল বাধত যদি কাগজপত্রে সামান্য ঘাটতি কিংবা কোনো সামান্য ভুল-ত্রুটি ধরা পড়ত। সে ক্ষেত্রে ঘুষখোরেরা সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকের কিংবা রফতানিকারকের টুঁটি চেপে ধরে ঘুষের বিষদাঁত বুকের মধ্যে ঢুকিয়ে ইচ্ছেমতো মনের আনন্দে কলিজার ভেতর থেকে টাকা বের করে নিতেন।

আমাদের সেই সময়ে আইসিডির কাস্টম বিভাগে একজন বয়োবৃদ্ধ কাস্টম সুপার ছিলেন। তিনি নিয়মিত নামাজ পড়তেন এবং সম্ভবত অসুস্থতার কারণে ঠিকমতো হাঁটতে পারতেন না। বার্ধক্যের দুর্বলতার কারণে কোনো কিছু লিখতে গেলে তার হাতটি প্রচণ্ডভাবে কাঁপত। তার গলাটিও বসে গিয়েছিল এবং দৃষ্টিশক্তিও ছিল ক্ষীণ। যেকোনো অচেনা-অজানা লোক তাকে দেখলে তার শারীরিক দুর্বলতা ও অক্ষমতার কারণে তাকে করুণা করতে দ্বিধা করতেন না। কিন্তু চেনা-জানা লোকেরা লোকটিকে প্রচণ্ড ঘৃণা করতেন এবং তার সামনে-পেছনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতেন। কারণ তিনি নির্বিচারে এবং নিষ্ঠুরভাবে সবার কাছ থেকে দেদার ঘুষ খেতেন। আমি একদিন সেই বৃদ্ধের ঘুষ লেনদেনের দৃশ্য দেখার জন্য গেলাম এবং যা দেখলাম তাতে মনে হলো- একটি হিংস্র হায়েনা মনুষ্যবেশে ভয়ঙ্কর হাঁকডাক করছে।

সাম্প্রতিককালের ঘুষ দুর্নীতির ধরন-ধারণ দেখলে আমি প্রায়ই অতীতের কথা স্মরণ করে নস্টালজিয়ার মধ্যে পড়ে যাই। মাঝে মধ্যে ভাবি কেন মানুষ ঘুষ খায় এবং দুর্নীতি করে। কিছু দুর্নীতিবাজ রয়েছে যাদের দৃশ্যত কোনো অভাব নেই তবুও তারা কেন সারাক্ষণ রাক্ষসের মতো হা করে পাগলা হাতির মতো তাণ্ডব চালায়! এ কথা ভেবে আমি পেরেশান হয়ে পড়ি- কেন আমাদের সমাজ-সংসার এবং রাষ্ট্র ঘুষখোর-দুর্নীতিবাজদের তোয়াজ তদবির করছে এবং ক্ষেত্রবিশেষে তাঁবেদারি করছে! মহাকালের চিরায়ত নিয়মকানুন এবং প্রকৃতির আইনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে কিভাবে ঘুষখোর দুর্নীতিবাজেরা সর্বস্তরে নিজেদের প্রভাব প্রতিপত্তি ও প্রভুত্ব প্রতিষ্ঠিত করে ফেলছে! আমার মাঝে মধ্যে ভয় হয়, প্রচণ্ড ভয় হয়- হায়! আমরা যদি বনি ইসরাইলের সেই সাধকের মতো সেই পরিণতি ভোগ করি যিনি লুত আ:-এর জমানায় মন্দ লোকের ব্যাপারে নিশ্চুপ থেকে নীরবে নিভৃতে আল্লাহর ইবাদত করাকে উত্তম বিবেচনা করেছিলেন। কিন্তু যখন আল্লাহর নির্দেশে আসমানি গজব কওমে লুতের পুরো জমিনকে গ্রাস করল, তখন সেই সাধকও আজাব থেকে নিষ্কৃতি পাননি।

আমরা আজকের আলোচনার একদম শেষ পর্যায়ে চলে এসেছি। ঘুষখোরদের জেনেটিক কারণ এবং কোন আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে এদের দৌরাত্ম্য বাড়ে সে সম্পর্কে সংক্ষেপে কিছু বলে আজকের প্রসঙ্গের ইতি টানব। অপরাধ বিজ্ঞানের বিধিমতে, কিছু মানুষ রয়েছে যারা কখনো অপরাধের বাইরে অন্য কিছু চিন্তা করতে পারে না।
সারাক্ষণ অন্যের ক্ষতিসাধন, ফ্যাতনা-ফাসাদ সৃষ্টি, অন্যের ধন-সম্পদ অধিকার এবং পদ-পদবি ছিনিয়ে নেয়াকে তারা একমাত্র আরাধ্য করার মধ্যে বেঁচে থাকার সার্থকতা মনে করে। ফলে এ শ্রেণীর লোকেরা যেকোনো পরিস্থিতিতে অপরাধ করার জন্য ওঁৎ পেতে থাকে। ন্যায়পরায়ণ সমাজব্যবস্থা, কঠোর রাষ্ট্রীয় অনুশাসন এবং ব্যক্তিগত সততা ও সাহস না থাকলে এই শ্রেণীর দুর্বৃত্তদের সাধারণত দমিয়ে রাখা সম্ভব হয় না। উপরিউক্ত শ্রেণীটি ছাড়াও আরেক শ্রেণীর অপরাধী রয়েছে, যাদের বলা হয় বাইচান্স ক্রিমিনাল। সাধারণত নষ্ট রাজনীতি, পচে যাওয়া সমাজব্যবস্থা এবং বন্ধনহীন ঘুণে ধরা ভঙ্গুর পারিবারিক সম্পর্কের কারণে ঘুষ-দুর্নীতির দুর্বৃত্তরা নিজেদের আসন পাকাপোক্ত করে ফেলে। এদের কারণেই সুযোগসন্ধানী এবং দুর্বল ব্যক্তিত্বের লোকজন প্রথমে ঘুষ-দুর্নীতির অর্থবিত্ত, পদ-পদবি ও ভোগবিলাসে প্রলুব্ধ হয়। তারপর ধীরে ধীরে পাপের পথে পা বাড়ায় এবং একসময় পেশাদার অপরাধীতে পরিণত হয়। এরা পুরো সমাজকে দুর্নীতির জালে পেঁচিয়ে ফেলে এবং সাধারণ মানুষকে সেই জালে আবদ্ধ করে দুর্নীতির মহোৎসব শুরু করে দেয়। একটি দেশ-কাল-সমাজ যখন সার্বজনীন দুর্নীতির ফাঁদে আটকা পড়ে যায়, তখন কেবল বিপ্লবই পারে সেই ফাঁদ থেকে জাতিকে উদ্ধার করতে।
লেখক : সাবেক সংসদ সদস্য

 


আরো সংবাদ