২২ জুন ২০১৮

ইরানকে শ্বাসরুদ্ধ করার ১২ দফা

মাইক পম্পেও যুক্তরাষ্ট্রের নবাগত সেক্রেটারি অব স্টেটস - ছবি : সংগ্রহ

মাইক পম্পেও যুক্তরাষ্ট্রের নবাগত সেক্রেটারি অব স্টেটস, যিনি ইরানকে ‘হিংস্র পুলিশি স্টেট’ ও ‘স্বৈরাচারী ধর্মীয় সরকার’ বলে ডাকেন। সম্প্রতি তিনি ইরানের বিরুদ্ধে ১২ দফা ঘোষণা দিয়েছেন। ট্রাম্প নির্বাচনের পরপরই টুইট বার্তায় লিখেন, ‘ইরান বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসের রাষ্ট্রীয় মদদগার।’ পম্পেও এমন এক ব্যক্তি যিনি ট্রাম্পকে শুরু থেকেই ইরানের সাথে করা পরমাণু চুক্তি বাতিল করতে পরামর্শ দিতেন। ট্রাম্পও নির্বাচনের আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি ইরান চুক্তি বাতিল করবেন। ২০১৫ সালে পম্পেও একজন কংগ্রেসম্যান ছিলেন। তখন বারাক ওবামাকে আক্রমণ করে বলেছিলেন, তিনি ‘ইসলামি দেশের’ দিকে ঝুঁকছেন এবং ‘পশ্চিমের খ্রিষ্টানদের’ সাথে বিরোধে যাচ্ছেন।

পম্পেও ইসরাইলের গোঁড়া সমর্থক। তার মতে, নেতানিয়াহু আমেরিকার জনগণের একজন সত্যিকার অংশীদার এবং ইরানকে পরমাণু অস্ত্রহীন করার ‘ইসরাইলি প্রচেষ্টার খুবই প্রশংসনীয় চালিকাশক্তি’। ইরানের প্রশাসন বদলের জন্য আমেরিকায় একটি ফাউন্ডেশনও কাজ করে, ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্র্যাসিস বা এফডিডি। পম্পেও এই সংস্থার এক হিতৈষী; এ জন্য পত্রপত্রিকা পম্পেওকে ‘ইসরাইলের মানুষ’ হিসেবে কাভারেজ দেয়।
বহু বছর ধরে সিআইএ ইরানের শাসকমণ্ডলীর পরিবতর্নের কাজে লিপ্ত। ট্রাম্পও এই নীতি ধরে রেখেছেন ও প্রয়োজনীয় কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। পুরমাণু চুক্তি বাতিলও এরই একটি অংশ। কিন্তু বাস্তুবে দেখা গেল- ইরানি জনগণ এর বিরোধিতা করে রাস্তায় নেমেছে। পম্পেও বলেন, ‘আমাদের মূল উদ্দেশ্য ইরানের প্রচলিত প্রশাসনব্যবস্থা পরিবর্তন করা।’

মাইক পম্পেও ইরানের শ্বাসরোধ করার জন্য এবং নতুনভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পরমাণু চুক্তি করার জন্য ১১ মে, ২০১৮ হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের বক্তৃতায় ১২ দফা দাবি দিয়েছেন। ১২ দফায় রয়েছে : (১) আইএইএকে পরমাণু কর্মসূচির সামরিক দিকের বিস্তারিত বিবরণ দেয়া এবং স্থায়ীভাবে সামরিক কাজ বন্ধ করা। (২) পরমাণু সমৃদ্ধকরণ বন্ধকরা, প্লুটোনিয়াম রিপ্রসেসিং কখনো চেষ্টা না করা একই সাথে হেভি ওয়াটার রিএকটরের কাজ বন্ধ করা। (৩) সারা দেশে আইএইএকে পরিদশর্নের অবারিত সুযোগ দেয়া। (৪) ব্যালেস্টিক মিসাইল কর্মসূচি বন্ধ করা ও পরমাণু অস্ত্র বহনযোগ্য মিসাইল পরীক্ষা ও উন্নয়ন বন্ধ করা (৫) যুক্তরাষ্ট্রের সব বন্দী নাগরিককে ছেড়ে দেয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু দেশের লোকজনকেও ছেড়ে দেয়া। (৬) ইসলামিক জিহাদ, হিজবুল্লাহ ও হামাসকে সহায়তা প্রদান বন্ধ করা। (৭) ইরাকি সরকারের সাবভৌমত্বকে স্বীকার করা এবং শিয়া মিলিশিয়াদের নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় সহায়তা করা, (৮) হুতিদের সহায়তা বন্ধ করে ইয়েমেনে শান্তি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করা। (৯) সিরিয়ায় ইরানি কমান্ডের অধীনে অবস্থানরত সকল ইরানি সেনাদের ফিরিয়ে নেয়া, (১০) আফগানিস্তানে তালেবানদের সহায়তা বন্ধ করা এবং আল কায়েদা নেতাদের আশ্রয় না দেয়া, (১১) বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সাথে সম্পর্ক যুক্ত আল কুদস ফোর্সকে সহায়তা বন্ধ করা, (১২) পড়শিদের ভয়-প্রদর্শন রীতি বন্ধ করা, যারা অনেকেই আমেরিকার বন্ধু রাষ্ট্র। ‘ইসরাইলকে ধ্বংস করব’ এসব কথা বন্ধ করা এবং সৌদি আরব ও আরব আমিরাতে মিসাইল নিক্ষেপ বন্ধ করা একই সাথে আন্তর্জাতিক শিপিং ও সাইবার আক্রমণ বন্ধ করা।

এর উত্তরে ইরান কী বলতে পারে না, ‘ পম্পেও, আপনি ইসরাইলকে সব ধরনের সহায়তা বন্ধ করুন, আমরা সবকটি দফা মেনে নেব’। পম্পেওর ১২ দফায় আলোকপাত করলে দখা যায়, ১-৪ নং দাবি-প্রস্তাব পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। পম্পেও চায়, সম্পূর্ণভাবে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করুক। অথচ বিশ্বব্যাপী শান্তিপূর্ণ কাজের জন্য, বিদ্যুৎ উৎপন্ন করার জন্য, কৃষি ও চিকিৎসা কাজের জন্য ইউরেনিয়াম উৎপাদন ও সংরক্ষণ আন্তর্জাতিক আইনে সিদ্ধ। বহু দেশে এসব কাজের জন্য ইউরেনিয়াম কর্মসূচি রয়েছে। পম্পেওর এটি না জানার কথ নয়। তারপরও তিনি নাদানের মতো কথা বলছেন। দুনিয়ার সব মানুষের বুদ্ধিবৃত্তি তো আর নষ্ট হয়ে যায়নি। মানুষ ক্ষ্যাপা হলে যা হয় পম্পেও তার উদাহরণ। ইউরেনিয়াম রিএকটর রয়েছে এমন দেশের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া অন্যতম। সে দেশে ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ করার ২৩টি রিএকটর রয়েছে। এ ছাড়া, কাজাখিস্তান, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নাইজার, নামিবিয়া ও উজবেকিস্তান প্রচুর ইউরেনিয়াম উৎপাদন ও সংরক্ষণ করে। ইরানের বেলায় বাধা হবে কেন?

পম্পেও ইরানের সব সামরিক ও পরমাণু স্থাপনা অবাধ ও অবারিতভাবে দেখার সুযোগ করে দেয়ার জন্য ইরানকে আহ্বান জানিয়েছেন। ইরান চুক্তির আওতায় পরমাণু স্থাপনা দেখিয়েছে। কোন স্থানের তালিকা আইএইএ দিলে সেটিও তারা দেখিয়েছে। তবে কী কারণে সামরিক স্থাপনা দেখাবে সেটা বোধগম্য নয়। কোনো দেশ শত্রু শিবিরের কোন পক্ষকে সামরিক স্থাপনা কি কখনো দেখায়?। পম্পেও নিজেই সিআইএতে কাজ করার সময় এসব তথ্য বের করার কম চেষ্টা করেননি। তার এ দাবি থেকে প্রতিভাত হচ্ছে যে, ইরানের সম্পূর্ণ গোপন সামরিক তথ্যাদি পেন্টাগনের হাতে নেই। আব্বাস আরাগচি ইরানের পরমাণু আলোচক বলেছেন, ইউরোপিয়ান প্রধান দেশগুলো যদি আমেরিকাকে চুক্তিতে বশে না রাখতে পারে তবে ইরান তার নিজস্ব পথ চলবে। অনেক বছর আগে যুক্তরাজ্যের ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস, এম ১৬ প্রধান জন সওয়ার্জ ইরানের হোসেন মৌসাভিকে বলেছিলেন, ইরানের একটি সিন্ট্রিফিউজও থাকুক তা যুক্তরাষ্ট্র চায় না।

৭ নম্বর দাবিতে বলা হয়েছে ইরাকের সার্বভৌমত্বকে স্বীকার করার জন্য। পম্পেও বুঝতেই পারেননি যে, ইরাকের ভোটের ফলাফল আমেরিকার স্বার্থের বিরুদ্ধে যাবে। সবে শেষ হওয়া ইরাকের নির্বাচনে আমেরিকা-বিরোধীদের বিজয় হয়েছে। মুক্তাদা আল সদরের জাতীয়তাবাদী চেতনার বিজয় ও আমেরিকাবিরোধী শিয়া জোটের ৫৪ সিটে জয়লাভ ট্রাম্পের মাথা নষ্ট করে দিয়েছে। ইরাকের পর অন্য কিছু দেশও আমেরিকার হাতছাড়া হচ্ছে। জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে হামাসের বিরুদ্ধে উত্থাপিত যুক্তরাষ্ট্রের নিন্দা প্রস্তাব কুয়েতের বিরোধিতায় আটকে যায়। আমেরিকার প্রতি অবিশ্বাস ও ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ এখন বন্ধু দেশগুলোতে দেখা যাচ্ছে। কুয়েতের বিরোধিতায় প্রস্তাব পাস না হওয়ায়, নিক্কি হ্যালি জাতিসঙ্ঘের একচোট নিয়েছেন। তিনি হামাসের ৭০টি রকেট নিক্ষেপের নিন্দা জানালেন কিন্তু ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলিদের সাম্প্রতিক বর্বরতার কোনো কথা বলেননি। বিশ্ব রাজনীতির যারা ধারক-বাহক তাদের এই আচরণ কতটুকু পক্ষপাতদুষ্ট তা একজন সাধারণ মানুষও বোঝে। এসব মহিলার ন্যূনতম লজ্জাবোধও যেন নেই। নেতনিয়াহু ও ইসরাইলকে ধন্যবাদ দেয়া যায় এ জন্য যে, তারা মাঠ চষার জন্য ট্রাম্প, পম্পেও এবং বোল্টনের মতো মানুষ পেয়েছেন যারা একটি শক্তিধর দেশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

১০ নম্বর দাবি-প্রস্তাবে পম্পেও ইরানকে আফগান তালেবান ও আলকায়দাকে সহায়তা করার সমালোচনা করেছেন। মূলত এ দুটি সংগঠন ১৯৮০ সালে সিআইএ ও পাকিস্তানের আইএসআই কর্তৃক সৃজিত হয়েছিল। এদের আবার নগদ অথর্ প্রদান করেছিল সৌদিআরব। তখন এ দুটি সংগঠন সোভিয়েত লাল ফৌজের বিরুদ্ধে দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য যুদ্ধ করছিল। অথচ ধর্মীয় অভিমতের দিক দিয়া এরা তাকফিরি মতবাদের যা ওয়াহাবি ও শিয়া মতবাদ থেকে ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্রের হিসাব হলো, ইরান তার শিয়া মতবাদ সারা বিশ্বে প্রচার করে মধ্যপ্রাচ্যে অনেক শক্ত ঘাঁটি করবে। তাই সেটি প্রতিরোধ করা দরকার। আমরা দেখতে পাচ্ছি, আফগানিস্তানে যুদ্ধরত এসব দলকে সহায়তা করার নীতিগত কোনো কারণ ইরানের নেই। তবে এটুকু যে, অনেক শিয়া সম্প্রদায়ের লোকজন আফগানিস্তানে আছে তাদের সহায়তার জন্য ইরান আফগান সরকারের সাথে কাজ করতে পারে। আসলে আমেরিকা যে খাল খনন করেছে সে গহ্বর থেকে নিজে আর উঠে আসতে পারছে না।

আইএস মূলত তালেবান ও আলকায়েদার নতুন, আধুনিক ও শক্তিশালী এক সংস্করণ। প্রাক্তন সেক্রেটারি অব স্টেট হিলারি ক্লিনটন পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছিলেন, ‘আমেরিকা ও সৌদি আরব মিলে আইএস সৃষ্টি করেছে।’ ইরান আমেরিকার চালবাজি বন্ধ করার জন্য ইরাক ও সিরিয়ার মতো ফ্রন্টে কাজ করছে। যা আমেরিকার কাম্য নয়। যুক্তরাষ্ট্র ‘সেন্ট্রাল এশিয়া’ যে কোনোভাবে কব্জা করতে চায়। কেননা, ওখানে ঘাঁটি ও ‘লেজুড় বাহিনী’ সৃষ্টি করতে না পারলে রাশিয়া ও চীনের মোকাবেলা এবং নতুনভাবে সৃষ্ট শত্রু পাকিস্তানের মোকাবেলা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে, ইরান তো আছেই। ন্যাটোর যেকোনো দেশ, যেকোনো সময় সৈন্যবাহিনী সরিয়ে নিতে পারে। তখন পরিস্থিতি মোকাবেলা করা আমেরিকার আয়ত্তের বাইরে চলে যেতে পারে।

আমেরিকা আরেকটি বিষয় নিশ্চিত করতে চায় ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যে খেলতে না দেয়া। আমেরিকা-ইসরাইলের অনেক রাজনৈতিক পদক্ষেপ ইরানের জন্য সফলতার মুখ দেখছে না। হরমুজ প্রণালী, সিরিয়া, লেবানন, ইয়েমেন, বাহরাইন এবং হামাস, হিজবুল্লাহ্ ও আল কুদস বাহিনী ইত্যাদি। পম্পেও এসব ক্ষেত্রে ইরানের প্রাধান্য নস্যাৎ করার জন্য ফন্দি-ফিকির করছেন। ইউরোপিয়ন ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট, জিন ক্লড জাঙ্কার বলেছেন, ইরান যতক্ষণ পযর্ন্ত চুক্তির শর্ত মানবে ততক্ষণ তারা ইরানের সাথেই থাকবে; কেন না ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কোম্পানিগুলো ইরানকে অনেক পুঁজি দিয়েছে। তেহরান ১২ দফা না মানলে কি হবে? পম্পেও নিজেই তার জবাব দিয়েছেন। ‘ইতিহাসের সবচে বড় অবরোধ দেয়া হবে।’ এই হুঙ্কার এসেছে ট্রাম্প পরমাণু চুক্তির সাথে বেঈমানি করার দুই সপ্তাহ পর। উল্লেখ্য, অবরোধের কারণে ইরান ২০১১ সালের পর আইএমএফের হিসাব মতে তেল খাতে ১৮৫ বিলিয়ন ডলার হারিয়েছে। বেসরকারি বিশেষজ্ঞদের মতে এর পরিমাণ ৫০০ বিলিয়ন ডলার হবে।

যুক্তরাষ্ট্র যে পথে হাঁটছে ও পম্পেও যে প্রস্তাব দিয়েছে তাতে অনেকেই মনে করছেন একটি যুদ্ধ ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই। ২০১৫ সালে বারাক ওবামার সময় অনেকে বলেছিলেন, ইরানে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করার জন্য। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সেদিকে অগ্রসর হয়নি বড় কোনো যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কায়। সমালোচকেরা এ দফাগুলো ইরানকে শ্বাসরোধ করার পম্পেওর ‘প্ল্যান বি’ নামে আখ্যায়িত করেছেন। বিশ্বে সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের কারণে একটি স্বাধীন দেশের বিরুদ্ধে এসব কাজের ফিরিস্তি আমাদের অবাক করে দিয়েছে। বুশের ইরাক আক্রমণের সময় একটি ঈশপের গল্প বেশ প্রচলিত ছিল। সিংহ আমেরিকা মেষশাবক ইরাককে বলছে, ‘তুই পানি ঘোলা করলি ক্যান?’ মেষশাবক বলল, ‘মহারাজ আপনিতো ঝরনার উপরের দিকে আমি নিচের প্রান্তে, কিভাবে আমি আপনার পানি ঘোলা করব?’ সিংহ বলল ‘তুই না করলে তোর বাবা করেছিল।’ এই বলে সিংহ মেষশাবককে আক্রমণ করল। পম্পেওর প্রস্তাব দেখে সেই গল্প মনে পড়ল।

মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের নিরাপদ পদচারণার জন্য এখন ইরানকে শ্বাসরোধ করার চূড়ান্ত আয়োজন চলছে। অবস্থা এমন, সব শর্তও যদি ইরান মানে তার পরও যুদ্ধ শুরু করবে ইসরাইল-মার্কিন জোট। যেমনটি হয়েছিল ইরাকের বেলায়। এত দিনে ইরানকে কোনো পরমাণু অস্ত্র বানাতে দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র ও বৃহৎ শক্তিধর দেশগুলো, এর মধ্যে ইসরাইলে স্তূপ করা হয়েছে আধুনিকতম মারণাস্ত্রের সম্ভার। এসব প্রস্তুত রয়েছে ইরানকে ঘায়েল করার জন্য। ইসরাইলের ২০০টি পরমাণু ওয়ারহেড প্রস্তুত রয়েছে ইরানের দিকে, যেগুলো একই সাথে ইরানে হামলা করবে। আসন্ন ইরান যুদ্ধের ব্যয়ভার বহনের জন্য সৌদি আরব, আরব আমিরাত ও বাহরাইন প্রস্তুত হয়েই আছে। সর্বশেষ খবরে জানা যায়, ইরান আত্মরক্ষার জন্য দেশজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েন করেছে এবং গত ৪ জুন সোমবার ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ উজমা খামেনি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা এক লাফে এক লাখ ৯০ হাজার এসডাব্লিউইউতে উন্নীত করার প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। ইসরাইল বলেছে, আমরা এতে অবাক হইনি।হ
লেখক : অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব, বাংলাদেশ সরকার ও গ্রন্থকার


আরো সংবাদ