১৭ আগস্ট ২০১৮

মহৎ কাজের দু-একটি ভুল

মহৎ কাজের দু-একটি ভুল - ছবি : সংগৃহীত

মাদকবিরোধী অভিযানে টেকনাফে পৌরসভার কাউন্সিলর একরামুল হকের মৃত্যু নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘মাদক নির্মূল অভিযান দেশের সর্বস্তরে প্রশংসা কুড়িয়েছে। সবাই খুশি। তবে কোনো ভালো কাজ, বৃহৎ কাজ, মহৎ কাজ করতে গেলে দু-একটি ভুল হতেই পারে।’ আওয়ামী নেতার এ বক্তব্যের মধ্যে একটি অন্তর্নিহিত অপ্রিয় সত্য কথা আছে। সেটা হচ্ছে- তারা হত্যাকে নীতিগতভাবে বড় অভিযানের অংশ মনে করছেন। মানুষ হত্যার যে তালিকা তারা তৈরি করেছেন, সে তালিকায় মন্ত্রীর কথামতো একরামুল হকের নাম যদি থাকে, সেটা ভুলবশত। সাধারণভাবে ভুলকে আমরা সহজভাবে গ্রহণ করি। কিন্তু যে ভুল মানুষের মৃত্যু ঘটায়, তাকে কি দু-একটি সামান্য ভুল বলে গ্রহণ করা যায়? ক্ষমতাসীন সরকারের প্রবণতা হচ্ছে, মারাত্মক কোনো কিছুকে সহজভাবে উপস্থাপন। নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র দখল, ভোটডাকাতি, এমনকি মানুষের মৃত্যুকে তারা কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে বরাবরই উল্লেখ করছেন।

আইনশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে যখন মারাত্মক অবনতি লক্ষ করা যায়, তখন ডাকাতি, হাইজ্যাক ও গুমকে তারা অতি সাধারণ বিষয় বলে উল্লেখ করছেন। ব্যাংক যখন ডাকাতি হয় অথবা বাংলাদেশ ব্যাংকের কোটি টাকা লোপাট হয়ে যায় তখন অর্থমন্ত্রী হাজার হাজার কোটি টাকাকেও ‘সামান্য’ টাকা বলে মনে করেন। পদ্মা সেতু প্রকল্প শুরু হওয়ার আগেই টাকা ভাগাভাগির মূল হোতাকে তিনি গুড ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট দিলেন। বিদেশী বুদ্ধিজীবীদের সম্মাননা দেয়ার স্মারকে যখন স্বর্ণচুরি ধরা পড়ে, তখন তিনি বলেন, ‘স্বর্ণকারও মায়ের সোনা চুরি করে।’ বড় এক গডফাদারের অপকর্মে সমাজ যখন অতিষ্ঠ, তখন তিনি নিজেকে ‘ওই গডফাদারের অভিভাবক’ বলে উল্লেখ করেছেন। এসব উক্তির মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়- ‘ভুল সবই ভুল, আওয়ামী পাতায় পাতায় যা লেখা আছে, সবই ভুল।’

এখন দেখা যাক মাদকবিরোধী মহৎ অভিযানে তাদের দু-একটি ভুলের নমুনা। জঙ্গি দমনে বন্দুকযুদ্ধের অনন্ত গল্প শেষ হতে না হতেই মাদক দমনের গল্প শুরু হয়ে যায়। মাদক গল্প শেষে দুর্নীতির গল্প আসছে বলে হাওয়া থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে। মাদক গল্পে মারা পড়ছে বেশির ভাগ বিরোধী কর্মী, অভিযোগ বিরোধীদের। সম্ভাব্য দুর্নীতির গল্পে ধরা হবে বিরোধী নেতাদেরকেই। বিশেষত যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণের ইচ্ছা পোষণ করেন তাদের। ব্যস হয়ে গেল। কর্মীও শেষ, নেতাও শেষ। সুতরাং ফাঁকা মাঠে গোল দেয়া সহজ হবে।

মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত র‌্যাব ও পুলিশের অভিযানে গুলি বিনিময়কালে মারা গেছে ১৩৪ জন। প্রতিদিন মফস্বল থেকে বন্দুকযুদ্ধের গতানুগতিক খবর আসছে। আর গ্রেফতার হচ্ছে শত শত মানুষ। রাজশাহী নগরের করমজা এলাকায় ৩১ মে র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে দু’জন মাদক ব্যবসায়ী নিহত বলে দাবি করেছে র‌্যাব। একই দিন গাজীপুরের পুবাইলের ভাদুন এলাকায় কথিত বন্দুকযুদ্ধে দু’জন নিহত হয়। এসব গল্পের একটি নতুন মোড় লক্ষ করা যাচ্ছে। ফরিদপুরে ৪ মে আজাদ খাঁ নামের এক ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, তার বিরুদ্ধে মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে সাতটি মামলা রয়েছে। লাশের সঙ্গে ৯৮টি ইয়াবা বড়ি পাওয়া গেছে। আজাদ কিভাবে নিহত হলেন, সে বিষয়ে পুলিশ কিছু বলছে না। তবে তার পরিবারের অভিযোগ, তিন দিন আগে সাদা পোশাকের পুলিশ তাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। লক্ষণীয়, এখন বন্দুকযুদ্ধের পরিবর্তে এমনিতেই গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ পাওয়া যাচ্ছে। অন্যত্রও একই দৃশ্য। এ গল্পের বৈশিষ্ট্য হলো, পুলিশকে কষ্ট করে গল্প বানাতে হচ্ছে না। পুলিশি তদন্তের আগাম রিপোর্ট হবে এ রকম, আজাদ ব্যবসায়িক ভাগাভাগির অন্তর্দ্বন্দ্বে খুন হয়েছেন। সারা দেশে মাদকদ্রব্যের কারণে গ্রেফতার অব্যাহত রয়েছে।

শুধু একরামুল হক একা নন, বন্দুকযুদ্ধে যারা মারা যাচ্ছে তাদের পরিবার দাবি করছে, তারা মাদকাসক্ত কিংবা মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত নয়। অভিযানের প্রথম দিকে চট্টগ্রামে হাবিবুর রহমান নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি বিএনপির স্থানীয় পর্যায়ের নেতা ছিলেন। তার পরিবার অভিযোগ করছে, পুলিশের ভাষ্য একেবারেই বানোয়াট। সাদা পোশাকের পুলিশ হাবিবুর রহমানকে মসজিদ থেকে বেরোনোর সময় গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। স্থানীয় প্রতিবেদনের ভিত্তিতে লন্ডনের দ্য টেলিগ্রাফ পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে মাদকবিরোধী যুদ্ধের আড়ালে চলছে রাজনৈতিক হত্যা।

লন্ডনের দ্য টেলিগ্রাফ পত্রিকায় বাংলাদেশের মাদকবিরোধী যুদ্ধের ওপর যে প্রতিবেদনটি ছাপা হয়েছে, তার শিরোনাম ‘বাংলাদেশ ড্রাগস ওয়্যার ইউজড টু হাইড পলিটিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনস।’ অর্থাৎ বাংলাদেশে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা আড়াল করতে মাদকবিরোধী লড়াইকে ব্যবহার করা হচ্ছে। সংসদ নির্বাচনের বেশ কয়েক মাস আগেই রাজনৈতিক কর্মীদের নির্মূল করার উদ্দেশ্যেই মাদকের বিষয়টি ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফে অভিযোগ করা হয়। এ দিকে বাংলাদেশের মাদকবিরোধী অভিযান জাতিসঙ্ঘ গভীরভাবে প্রত্যক্ষ করছে বলে জানিয়েছে। জাতিসঙ্ঘের ‘অফিস অন ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম’- ইউএনওডিসির বিবৃতিতে এ কথা জানানো হলো। সংস্থাটি সদস্য দেশগুলোকে মাদক নিয়ন্ত্রণে ভারসাম্য এবং মানবাধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদনে মাদকবিরোধী অভিযানের তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। টেকনাফে নিহত একরামুল হকের মোবাইল ফোনের কথোপকথন প্রকাশ করা হয়। তার স্ত্রীর বক্তব্যও তুলে ধরা হয়েছে। উল্লেখ্য, একরামুল হক দীর্ঘ দিন স্থানীয় যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। কক্সবাজারের পৌরমেয়র এবং সেখানকার আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবুর রহমান চৌধুরী বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছেন এ ঘটনার। এ ব্যাপারে আরো খবর রয়েছে, কক্সবাজারের ‘মাদক সম্্রাট’ বলে পরিচিত এমপি বদির সাথে তার ব্যক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল। অভিযুক্ত আবদুর রহমান বদি এখন সৌদি আরবে রয়েছেন বলে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে।

৩১ মে রাতে সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন। পবিত্র ওমরাহ পালনের জন্য তিনি সৌদি আরব গেছেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের সময় এমপি বদির সৌদি আরব যাওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য, মাদক ব্যবসা ও মাদকের গডফাদারের তালিকা ঢাকা বিমানবন্দরে পাঠানো হয়েছে বলে সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে। তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, বদির বিরুদ্ধে তথ্য আছে, প্রমাণ নেই। সরকারের মানবাধিকার কমিশনের তরফ থেকেও মাদকের নামে পাইকারি হত্যার নিন্দা করা হয়। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের প্রফেসর মিজানুর রহমান বলেন, ‘এত দিন আমাদের বলা হচ্ছিল, বন্দুকযুদ্ধে তারা নিহত হচ্ছে। কিন্তু একরামুল হকের অডিও ক্লিপ শুনে এটা স্পষ্ট, সেখানে বন্দুকযুদ্ধের ধারে-কাছেরও কোনো ঘটনা ঘটেনি। যুদ্ধের লেশমাত্রও নেই। যা হয়েছে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড।’ তিনি আরো বলেন, যদি আইনকে উপেক্ষা করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে চূড়ান্ত ক্ষমতা দেয়া হয়, তারা যদি মনে করে বিচারবহির্ভূতভাবে এসব নির্মূল করবে, তাহলে ভালো মানুষের প্রাণ যাবে। এ ব্যবস্থা একটি সভ্য গণতান্ত্রিক সমাজে কখনো কাম্য হতে পারে না।’ নির্বিচারে এ ধরনের হত্যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সীমারেখাকে অতিক্রম করে সামাজিক ক্ষেত্রেও বিবেককে জাগ্রত করেছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় ১০ জন বিশিষ্ট নাগরিক এক বিবৃতিতে বলেন, রাষ্ট্র সমাজব্যবস্থায় এমন মৃত্যু কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। আওয়ামী সরকারের সমর্থক বলে পরিচিত বুদ্ধিজীবীদের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সারা দেশে যে মাদকবিরোধী অভিযান চলছে, তার যৌক্তিকতা অনুধাবন করি।

দেশে খুব কম পরিবার আছেন, যারা মাদকের ভয়াবহতা থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পেরেছেন। তাই সঙ্গত কারণে সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনও এই অভিযানে প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ করছি, প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হচ্ছেন। যা অভিহিত করা হচ্ছে ‘বন্দুকযুদ্ধে নিহত’ বলে। সংবিধানে প্রদত্ত জীবনের অধিকার এভাবে কেড়ে নেয়া যায় না। গণমাধ্যম ও বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়ায় কিছু নিহত ব্যক্তি সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। টেকনাফে নিহত পৌর কমিশনার একরামের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার পূর্ব অভিযোগের কথা জানা যায়নি। তাকে হত্যার প্রতিবাদ জানিয়েছেন পৌরমেয়র। তার পরিবার সংবাদ সম্মেলন করে হত্যাপূর্ব ফোনালাপ সাংবাদিকদের কাছে প্রকাশ করেছেন যা কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজে অকল্পনীয়। এ রকম একটি ঘটনাই সমগ্র অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ ও আতঙ্কিত করতে যথেষ্ট। যত দ্রুত সম্ভব বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে সঠিক তথ্য প্রকাশের মধ্য দিয়ে ভয়ভীতি থেকে মানুষকে মুক্ত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।’

সমাজকে প্রভাবিত করার আরেকটি উদাহরণ হচ্ছে- একসময়ের বহুল আলোচিত গণজাগরণ মঞ্চের প্রতিবাদ সভা। গত ৩ জুন গণজাগরণ মঞ্চ নিরীহ জনগণকে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে নির্বিচার হত্যার প্রতিবাদে জাতীয় জাদুঘরের সামনে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে। পুলিশি বাধায় সমাবেশ ও মিছিলের চেষ্টা পণ্ড হয়ে যায়। মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এ ধরনের বন্দুকযুদ্ধের মাধ্যমে রাষ্ট্র নাগরিকের শান্তি-শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার অস্বীকার করছে। তিনি অভিযোগ করেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে হত্যাকারীদের বাঁচিয়ে রাখা হচ্ছে এবং তাকে আইনগত বৈধতা দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের একদল ছাত্র ‘নিপীড়নের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ’-এর ব্যানারে মানববন্ধন করেছে। তারা মাদক অভিযানের নামে দেশব্যাপী বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানায়। সমবেত শিক্ষার্থীরা শক্তি প্রয়োগ, নিপীড়ন এবং বিচারবহির্ভূত হত্যার প্রতিবাদ জানিয়েছে।

দেশে-বিদেশে কথিত মাদকবিরোধী অভিযান এবং একের পর এক হত্যাকাণ্ডে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও প্রতিবাদের ব্যাপকতা লক্ষ করা যাচ্ছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল থেকে শুরু করে পৃথিবীর এমন কোনো মানবাধিকার সংগঠন নেই, যারা এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করেনি। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বোঝাই যাচ্ছে, সরকার ঘরে-বাইরে বেশ চাপের মধ্যে রয়েছে। সরকারের একজন কর্তাব্যক্তি ইতোমধ্যে বলেছেন, সরকার চাপের তোয়াক্কা করে না। তারা যে তা করেন না ইতঃপূর্বে তা তারা প্রমাণ করেছেন। ন্যাংটার কোনো বাটপারের ভয় থাকে না। সরকারের রাজনৈতিক অংশ নির্বাচন পর্যন্ত এ অভিযান নানা কায়দা ও বিবিধ ফর্মুলায় জারি রাখতে চায়, যাতে নির্বাচনের পূর্বক্ষণে বিরোধী নেতাকর্মীদের পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে দিয়ে তাদের গ্রেফতার অথবা শেষ করা যায়। সরকারের প্রশাসনিক অংশ ‘ধীরে চলো’ নীতি অনুসরণ করতে চায়। গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে মাদকবিরোধী হত্যা কমে আসছে। অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক চাপ যতটা বাড়বে, হত্যার সংখ্যা কমতে থাকবে। ছাত্রসমাজ ও বুদ্ধিজীবীদের যে প্রতিবাদ পরিদৃষ্ট হয়েছে, তা হয়তো আরো বেগবান হবে। সরকার এ ক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থান নেবে- এটাই স্বাভাবিক। তবে ওবায়দুল কাদেরকে ভুল স্বীকারের জন্য ধন্যবাদ দেয়া যায়। মনীষী কনফুসিয়াস বলেছিলেন, ‘যদি ভুল করো তবে তা সংশোধনের জন্য বিলম্ব এবং লজ্জাবোধ করো না।’ ক্ষমতাসীনদের ভুল থেকে শিক্ষা নেয়ার উদাহরণ বিরল। তারপরও আশা করতে দোষ কি!

লেখক : অধ্যাপক, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
Mal55ju@yahoo.com


আরো সংবাদ