২২ অক্টোবর ২০১৮

মিয়ানমার-ইসরাইল সম্পর্ক

মিয়ানমারের শিক্ষামন্ত্রীর সাথে ইসলাইলের শিক্ষামন্ত্রী - সংগৃহীত

গত ১৪ মে ইসরাইলের যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস জেরুসালেমে সরানোকে কেন্দ্র করে ফিলিস্তিনে আবার রক্তের নদী বয়ে যাচ্ছে। বিতর্কিত ওই অনুষ্ঠানে স্বল্প যে ক’টি দেশের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন, তাতে মিয়ানমারের নাম দেখে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কেউ কেউ বিস্মিত হয়েছেন।

তাদের জন্য আরো বিস্ময়কর ঘটনা ঘটে গত সপ্তাহে। বিশ্বজুড়ে ইসরাইলবিরোধী নিন্দা ও ক্ষোভের মধ্যেই দেশটির সঙ্গে মিয়ানমার শিক্ষা-সহযোগিতা চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে গত ২৮ মে। বলা হচ্ছে, দুই দেশের পরস্পরের পাঠ্যসূচিতে বর্ণবাদী ও জাতির প্রতি ঘৃণাবিষয়ক কিছু থাকলে তার ক্ষতি সংশোধনে ভূমিকা রাখবে নতুন চুক্তি। এ ছাড়া, মিয়ানমারে হিব্রু ভাষা এবং ইসরাইলে বার্মিজ ভাষার চর্চা বৃদ্ধিও চুক্তির আরেকটি দিক।


এই চুক্তির পূর্ণাঙ্গ ভাষ্য প্রকাশিত হয়নি এবং প্রকাশিত বক্তব্যের চেয়েও এরূপ চুক্তির অপ্রকাশিত ভূরাজনৈতিক তাৎপর্য অনেক বেশি। তবে আলোচ্য চুক্তির কৌতূহল উদ্দীপক দিকটিও উল্লেখযোগ্য।

মিয়ানমার ও ইসরাইল যখন জাতি ও বর্ণ ঘৃণার বিরুদ্ধে পাঠ্যসূচি সংশোধনের কথা বলছে- বর্তমান বিশ্বে তখন জাতি ও ধর্মের প্রতি ঘৃণার ক্ষেত্রে সবচেয়ে আক্রমণাত্মক ‘চ্যাম্পিয়ন দু’টি’ দেশ হিসেবেও চিহ্নিত হয়ে আছে তারাই। ইসরাইল যেভাবে ফিলিস্তিনিদের মাতৃভূমি থেকে উৎখাত করে বর্বরতম যুদ্ধ জারি রেখেছে- মিয়ানমারও তার ভূখণ্ডে অনুরূপ কার্যক্রমে লিপ্ত প্রায় ৭০ বছর।

তবে এই চুক্তি এবং জেরুসালেমে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস স্থানান্তর অনুষ্ঠানে মিয়ানমারের প্রতিনিধির উপস্থিতি নাটকীয় কিছু নয়, বরং এটা হলো দীর্ঘ এক কূটনৈতিক সম্পর্কের পরিণতি মাত্র। যদিও তা সম্পর্কে বাংলাদেশ বিপজ্জনকভাবে সামান্যই অবহিত বলে মনে হয়।

দেশ হিসেবে শুরু থেকে মিয়ানমার ও ইসরাইলের মধ্যে বেশ কিছু মিল ছিল এবং আজো তা আছে। উভয়েরই স্বাধীনতা ব্রিটেনের কাছ থেকে ১৯৪৮ সালে। উভয় দেশের প্রতিষ্ঠার মাঝেই লুকিয়ে আছে স্থানীয় অপর জাতি বা জাতিগুলোর মর্মান্তিক দীর্ঘশ্বাসের কারণ। ইসরাইল যেমন ১৯৪৮ থেকেই আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারকামী ফিলিস্তিনিদের মোকাবেলা করে যাচ্ছে- তেমনি মিয়ানমারও শান, কারেন, কাচিনসহ বহু জাতিসত্তাকে মোকাবেলা করছে স্বাধীনতার ঊষালগ্ন থেকে। উপরন্তু এখন দুই দেশের মধ্যে আরেকটি মিলের দিক হলো, উভয় দেশে এ পর্যন্ত পরস্পরের ২২ জন করে রাষ্ট্রদূত কাজ করেছেন। এ তথ্যটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশের অনেক নাগরিকের কাছেই বিস্ময়কর ঠেকে। কিন্তু এটাই সত্য, মিয়ানমার হলো এশিয়ার প্রথম দেশগুলোর একটি, যারা ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিয়েছে (১৯৪৯ সালের ৭ ডিসেম্বর)। আর উভয় দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয় ১৯৫৩ সালে।


বর্তমানে ইসরাইলে মিয়ানমারের দূতাবাস রয়েছে তেলআবিবে। আর মিয়ানমারে ইসরাইলের দূতাবাস রয়েছে ইয়াঙ্গুনে। তবে মিয়ানমার সরকার যেমন চাচ্ছে ইসরাইল তার দূতাবাস নতুন রাজধানী নেপিডোতে স্থানান্তর করুক, তেমনি ইসরাইলও চাচ্ছে মিয়ানমার তার দূতাবাস জেরুসালেমে নিয়ে আসুক। শিগগিরই যে এটা ঘটবে, তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।

মিয়ানমারের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী উ নু প্রথম ইসরাইল সফরে যান ১৯৫৫ সালে। বিশ্বজুড়ে চরম একঘরে অবস্থার মধ্যে এটাই ছিল ইসরাইলে কোনো বিদেশী রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানের প্রথম সফর। এটা বিস্ময়কর যে, উ নু ছিলেন জওয়াহেরলাল নেহরু, সুকর্নসহ জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের প্রধান প্রধান নেতার বন্ধু- যারা ইতিহাসের ওই সময় মূলত ফিলিস্তিনিদের পক্ষে ছিলেন। কিন্তু উ নু ইসরাইল প্রশ্নে ‘সাহসের সঙ্গে ঝুঁকি’ নিয়েছিলেন। আবার উ নু-এর সফরের ফলাফলকে ইসরাইলও পূর্ণ সক্রিয়তায় এগিয়ে নিয়ে গেছে ক্রমাগত। নিজ দেশের কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতার মাঝে উ নু-এর মিয়ানমার যে ‘উদারতা’ দেখিয়েছিল, ইসরাইলিরা কখনো সেটার প্রতিদান দিতে কুণ্ঠিত ছিল না।


১৯৫৯ সালে ইসরাইলের দ্বিতীয় প্রেসিডেন্ট ইজাক বেন-জাভি এবং ১৯৬১ সালে প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেন গুরিয়ন মিয়ানমার সফরে যান। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর শেষোক্ত সফরটি সে সময় বিশ্বজুড়ে বিশেষ নজর কেড়েছিল এ কারণে যে, প্রায় ১৫ দিন তিনি মিয়ানমার অবস্থান করেন। এত দীর্ঘ সময় কোনো দেশের রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানের অপর একটি দেশ সফরের ঘটনা বিশ্বের ইতিহাসে বিরল। পরবর্তীকালে গোল্ডামায়ার, মোশে দায়ান ও শিমন পেরেজ পর্যন্ত ইসরাইলের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতাদের সবাই তাদের কার্যকালে মিয়ানমার গিয়েছেন। অথচ দেশটিতে ইহুদিদের সংখ্যা অসমর্থিত হিসেবে এক শ’র বেশি নয় এবং সিনাগগ আছে মাত্র একটি।

দুই.
মিয়ানমারে ইহুদিদের উল্লেখযোগ্য হারে আগমন ব্যবসার সূত্রে ভারত থেকে এবং ব্রিটিশ শাসনামলে। এদের বলা হয় ‘বাগদাদী ইহুদি’। মূলত রেঙ্গুনকে ঘিরে ছিল এই ইহুদিদের বসতি। ডেভিড সোফায়ের নামে ১৯৩০-এর দশকে রেঙ্গুনের একজন মেয়রও ছিলেন ইহুদি। তবে জাপানি আগ্রাসনের মুখে ইহুদিদের অনেককে পালাতে হয় এবং পরবর্তীকালে নে উইনের ‘বার্মিজ ধাঁচের সমাজতন্ত্র’কালে এই সম্প্রদায়ের ব্যবসাবাণিজ্য অনেকখানি বাজেয়াপ্তও হয়ে যায়। অথচ ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট (প্রধানমন্ত্রীও) শিমন পেরেজ তার মিয়ানমার সফরের স্মৃতিচারণে লিখেছেন (‘ব্যাটলিং ফর পিস : এ মেমোয়ার’)। নে উইনই তাকে বলেছিলেন, ‘মিয়ানমারের কাছে ইসরাইল হলো একমাত্র দেশ, যাকে বিশ্বাস করা যায়।’
বস্তুত মিয়ানমারে ইহুদিদের সংখ্যাল্পতা দিয়ে মিয়ানমার-ইসরাইল সম্পর্কের গভীরতা বোঝা মুশকিল; বরং উভয়ে পরস্পরকে প্রয়োজনীয় মনে করেছে জাতিগত অসন্তোষ মোকাবেলায় পারস্পরিক ‘অভিজ্ঞতা’ বিনিময়ের জন্য। বিশেষ করে ইসরাইল অধিকৃত আরব গ্রামগুলোতে বসতির পাশাপাশি যেভাবে প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তুলেছে, সেটাই মিয়ানমার অনুসরণ করতে শুরু করে তার যুদ্ধাঞ্চল শান ও কাচিন স্টেটে। অর্থাৎ মিয়ানমারজুড়ে বিভিন্ন জাতির বিরুদ্ধে টাটমা-ড্ (মিয়ানমারর সেনাবাহিনীর স্থানীয় নাম)-এর যুদ্ধ কৌশল মূলত ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধকৌশলের কপি-পেস্ট। Burma’s Secret Military Partners (2000) শীর্ষক গ্রন্থে গবেষক Andrew Selth-এর দাবি, ১৯৫৪ সালে ইসরাইল বহির্বিশ্বে প্রথম অস্ত্র বিক্রি করেছিল (৩০টি Supermarine Spitfire Fighters) মিয়ানমারেই।

এরূপ নানান ‘অভিজ্ঞতা’ ও ‘পণ্য’ বিনিময়ের প্রেক্ষাপটেই প্রায় ৭০ বছর ধরে মিয়ানমারের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে ইসরাইলের প্রকাশ্য ও গোপন হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক সক্রিয় এবং এরই সর্বশেষ ধারাবাহিকতা ছিল ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে দেশটির সশস্ত্রবাহিনীর বর্তমান প্রধান মিন অং হ্লাইর বহুল আলোচিত মিয়ানমার সফর। ১৯৫৯-এর পর এটা মিয়ানমারের সশস্ত্রবাহিনীর কোনো প্রধানের ইসরাইল সফর। মূলত বড় ধরনের সামরিক কেনাকাটার বিষয় নীতিগতভাবে চূড়ান্ত করতেই তার এই সফর ছিল বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল ইসরাইলি দৈনিক হারেতজ (haaretz).


বর্তমানে ইসরাইলকে বিবেচনা করা হয় মিয়ানমারের অন্যতম প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী হিসেবে। হারেতজের সূত্রেই জানা যায় (৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭), মিন অং হ্লাই ইসরাইল সফরকালে দেশটির অস্ত্র খাতের দুই বড় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এলবিথ সিস্টেমস (Elbit Systems) ও এলতা সিস্টেমস (Elta Systems)-এর সাথেও বৈঠক করেছে। উল্লেখ্য, আলোচ্য দু’টি কোম্পানির মধ্যে প্রথমোক্তটি ১৯৯৭ সাল থেকেই মিয়ানমারে বড় আকারে অস্ত্র ব্যবসায় যুক্ত (ইরাবতী, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৫) এবং মিয়ানমারকে সামরিক ক্ষেত্রে উচ্চতর প্রযুক্তি মূলত তারাই সরবরাহ করছে। ২০১৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর আলজাজিরার এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দেখা যায়, মিয়ানমারের আর্মার্ড ভেহিকলের ক্ষেত্রে ইসরাইল দ্বিতীয় সরবরাহকারী এবং আর্টিলারি যুদ্ধাস্ত্রের বিক্রেতা হিসেবে তারা চতুর্থ স্থানে রয়েছে।

উল্লেখ্য, মিন অং হ্লাই ছাড়াও অতীত ও বর্তমান মিয়ানমারের নেতৃত্ব যখন ইসরাইল সফরে যান, তখনই সেখানে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে যুদ্ধে নিহত সৈনিকদের সমাধিতেও ফুল দিয়ে আসেন। এটা যে কেবল ফিলিস্তিনিদের প্রতি একতরফাভাবে চাপিয়ে দেয়া ইসরাইলি যুদ্ধ ও আগ্রাসনের প্রতি সরাসরি সমর্থন তাই নয়- ফিলিস্তিনি জনগণের সঙ্গে বিশ্বসংহতির প্রতি চূড়ান্ত এক অবজ্ঞাও বটে।


এ দিকে মিন অং হ্লাইয়ের এই সফর শেষেই ইসরাইলের আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বিভাগের প্রধান মিশেল বেন-বারুচ মিয়ানমার গেলেন। যদিও অতীতে ইসরাইল-মিয়ানমার কেউই স্বীকার করত না যে, তাদের মাঝে সামরিক সম্পর্ক বিদ্যমান, কিন্তু বেন-বারুচের সফরের সময়ই মিয়ানমার সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়, তারা ইসরাইল থেকে ডোবরা পেট্রোল বোটসহ আরো কিছু সামরিক সরঞ্জামের ক্রয়াদেশ দিচ্ছে। বেন-বারুচের সফরের পর ২০১৬ সালের আগস্টে ইসরাইলের ‘টার আইডিয়াল কনসেপ্টস’ (TAR Ideal Concepts) সরাসরি তাদের ওয়েবসাইটেই ছবিসহ জানায়, তারা মিয়ানমারের সৈনিকদের সামরিক সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণ সহায়তা দিচ্ছে।


এসবই হলো মিয়ানমারকে ইসরাইলের তরফ থেকে দেয়া সামরিক সহায়তার পুরনো ধারাবাহিকতা। এ সম্পর্কে বৈশ্বিক পরিসরে প্রথম বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছিল ২০০০ সালের ১ মার্চ ব্রিটেনের Jane’s Intelligence Review. তারা অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বিস্তারিত জানিয়েছিলেন, উন্নত বিশ্বের তরফ থেকে অবরোধের মাঝেও ইসরাইল কিভাবে মিয়ানমারকে যুদ্ধবিমান থেকে সাধারণ অস্ত্র পর্যন্ত ব্যাপকভিত্তিক সামরিক অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ সহায়তা দিচ্ছে- এক দিকে গণতন্ত্রের আন্দোলন দমন এবং অন্য দিকে জাতিগত স্বাধিকারকামীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বিজয়ের জন্য। এই প্রতিবেদন থেকেই প্রথম বিস্তারিত জানা যায়, মিয়ানমারকে ইসরাইল গোয়েন্দা তথ্যসহায়তাও দিয়ে থাকে এবং একই প্রতিবেদন ইসরাইল কর্তৃক মিয়ানমারকে রাসায়নিক অস্ত্র প্রযুক্তি প্রদানেরও ইঙ্গিত করছে, যা বাংলাদেশসহ পুরো দক্ষিণ এশিয়ার জন্য নিদারুণ উদ্বেগের দিক হলেও কখনো বিষয়টি এ অঞ্চলে আলোচিত হয়েছে- এমনটি দেখা যায়নি।


সঙ্গত কারণেই ইসরাইল ও মিয়ানমার কেউই তাদের সম্পর্কের এসব দিক নিয়ে ন্যূনতম আলাপচারিতাও পছন্দ করে না; বরং দুই দেশের নীতিনির্ধারকরা বলে থাকেন, শিক্ষা, কৃষি ও স্বাস্থ্য বিষয়ই তাদের সব সহযোগিতার ভিত্তি এবং তা হবে মাশহাবের মাধ্যমে। ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন সাহায্য সংস্থা ‘মাশহাব’ (Agency for International Cooperation) বিশ্বের খুব কম স্থানেই সরাসরি কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে- তার মধ্যে মিয়ানমারও রয়েছে। বলা হয়, মিয়ানমারে তাদের ব্যাপকভিত্তিক কর্মকাণ্ড রয়েছে- বিশেষত ‘প্রশিক্ষণ’ ও ‘সামর্থ্য উন্নয়ন’ধর্মী কাজে। ‘প্রশিক্ষক’ হিসেবে ইসরাইলের শত শত বিশেষজ্ঞ মিয়ানমারে কাজ করেছেন এবং করছেন। পাশাপাশি মিয়ানমারের হাজার হাজার শিক্ষার্থী প্রতি বছর ইসরাইলে বিভিন্ন ‘প্রশিক্ষণ’ নিতে যায়।

ইসরাইল-মিয়ানমার সম্পর্কের এসব দিক আপাতদৃষ্টিতে তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় হলেও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইসরাইলের যুদ্ধোন্মাদনা এবং বাংলাদেশে গত আগস্টে মিয়ানমার কর্তৃক তার দেশের কয়েক লাখ মানুষকে জোরপূর্বক ঢুকিয়ে দেয়ার পর বিষয়গুলো আর সক্রিয় মনোযোগের বাইরে রাখার সুযোগ নেই। রোহিঙ্গা-কাচিন-শান-কারেন নিধনযজ্ঞের জন্য মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে যখন নিষেধাজ্ঞা বা অবরোধের ডাক উঠেছে, সেই সময় এই বাহিনীর শক্তি ও প্রশিক্ষণের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে ইসরাইলের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা দরকার। এমনকি, মিয়ানমারে ইসরাইলের ‘উন্নয়ন কার্যক্রম’ও আন্তর্জাতিক অনুসন্ধান দাবি করে। 

লেখক : সাংবাদিক ও গবেষক

altafparvez@yahoo.com


আরো সংবাদ