২২ নভেম্বর ২০১৯

জয়ের অপেক্ষার অবসান কি হবে জামালদের?

কলকাতায় আজ ভারত-বাংলাদেশ লড়াই
সংবাদ সম্মেলন শেষে হাসিতে উজ্জ্বল বাংলাদেশ ও ভারতের কোচ এবং অধিনায়ক : এএফপি -

এ এক ঐতিহাসিক দিন। তা বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য। বিশ্বের দুই প্রান্তে আজ বাংলাদেশ এবং ভারতের দুই ফুটবল ম্যাচ। একটি শিরোপা নির্ধারণী ফাইনাল খেলা। অন্যটি রেসে এগিয়ে যাওয়ার লড়াই। ভুটানের চাংলিমিথান স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা ছয়টায় অনূর্ধ্ব-১৫ মহিলা সাফের ফাইনালে মুখোমুখি দুই দল। আর ভারতের মাঠে কলকাতার সল্ট লেকে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ভারতীয় সিনিয়র পুরুষ দলের সামনে বাংলাদেশ সিনিয়র দল। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এই ম্যাচ। এবারের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে এখনো কোনো ম্যাচ জেতা হয়নি লালসবুজদের। দুই খেলাতেই হার জামাল ভূঁইয়াদের। অন্য দিকে ভারত দুই ম্যাচ থেকে এক পয়েন্ট সংগ্রহ করে এগিয়ে আছে জেমি ডে বাহিনীর চেয়ে। বাংলাদেশ সর্বশেষ কবে জিতেছিল ভারতের বিপক্ষে তা অনেকেই ভুলে গেছেন। তাদের সর্বশেষ জয় ঢাকায় ২০০৩ সালে। সাফ ফুটবলের সেমিফাইনালে। ১-১ এ খেলা শেষ হওয়ার পর মতিউর মুন্নার গোল্ডেন গোলে জয় জর্জ কোটানের দলের। যদিও অফিসিয়ালি তা ড্র হিসেবই উল্লেখ আছে। সে হিসেবে লালসবুজরা সর্বশেষ তাদের হারিয়েছিল গত শতাব্দীতে। ১৯৯৯-এর কাঠমান্ডু এস এ গেমসের সেমিফাইনালে। ১-০তে জয় সাহাজউদ্দিন টিপুর গোলে। যদিও দুই দলের গত দুই ম্যাচ ড্র হয়। ২০১৩ সাফে ১-১ এবং ২০১৪-এর ফিফা প্রীতি ম্যাচ ২-২ এ শেষ হওয়া। এবার কি জেমি ডে বাহিনী পারবে ভারতবধের ২০ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটাতে।
দুই দলের আগের ২৮ ম্যাচে বাংলাদেশের জয় মাত্র দু’টিতে। বাকি ২৬ ম্যাচের ১৫টিতে জয় ভারতীয়দের। ড্রতে খেলা শেষ হয় অবশিষ্ট ১১ ম্যাচ। জয় পরাজয়ের পরিসংখ্যান ছাড়া র্যাংকিংও এগিয়ে রেখেছে ভারতকে। তাদের অবস্থান ১০৪। আর বাংলাদেশ তলানির দিকে। ১৮৭তে। এবারের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেও তাদের পারফরম্যান্স বাংলাদেশের চেয়ে ভালো। তারা নিজেদের মাঠে ওমানের কাছে ১-২ গোলে হেরেছিলে ৯০ মিনিটের গোলে। ৮১ মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে ছিল ভারত। এরপর গত ম্যাচে তাদের লড়াকু গোলশূন্য ড্র এশিয়া চ্যাম্পিয়ন কাতারের বিপক্ষে।
অবশ্য এবারের ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে জামাল ভূঁইয়ারা দুই ম্যাচে হারলেও তাদের পারফরম্যান্স ছিল ইতিবাচক। আফগানিস্তানের বিপক্ষে তারা দাপটের সাথে খেলেও হেরেছে ০-১ গোলে। ইনজুরি টাইমে রেফারি পেনাল্টি না দেয়ায় সে ম্যাচে পরাজয় এড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। আর ১০ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে কাতারের টুঁটি চেপে ধরেও জয় বঞ্চিত জেমি ডের শিষ্যরা। তাদের চারটি শট প্রতিহত হয় গোললাইন থেকে। গোলের মোট চান্স মিস হয় সাতটি। এরপর খেলার ধারার বিপরীতে দুই গোল হজম করে ০-২ গোলে হার।
এই মুহূর্তে বাছাইপর্বের ‘ই’ গ্রুপে ভারত দুই খেলায় এক পয়েন্ট নিয়ে পাঁচ দলের মধ্যে চতুর্থ স্থানে আছে। আর পয়েন্টশূন্য বাংলাদেশের অবস্থান সবার নিচে। তবে আজ বাংলাদেশ যদি ভারতকে হারাতে পারে তাহলে তারা বাছাইপর্বে জয় পাবে ২০০১ সালের পর। তাদের আগের জয় ২০০১ সালে মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে। ৩-০তে জিতেছিল সেই ম্যাচ। ২০১১ সালে তাদের লেবাননেন বিপক্ষে নিজ মাঠে ২-০ গোলের জয় থাকলেও তা ছিল প্রাক-বাছাইপর্বের ম্যাচে। অবশ্য বিশ্বকাপ প্লে-অফ কোয়ালিফায়ার্সে বাংলাদেশ ২০১১ সালে পাকিস্তানকে ৩-০ এবং এবার লাওসকে ১-০তে পরাজয়ের স্বাদ দেয়।
আফগানিস্তানকে টপকে গ্রুপে তৃতীয় স্থান পেতে হলে আজ ভারতের জয়ের বিকল্প নেই। তারা যে উজ্জীবিত ফুটবল খেলেছে গত দুই ম্যাচে তাতে তারা আজ নিজ মাঠে হাজার হাজার দর্শকের সামনে এগিয়ে থাকবে বাংলাদেশের বিপক্ষে। অবশ্য ভারতের ফুটবলের যত উন্নতিই হোক না কেন বাংলাদেশের সাথে তাদের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হয়। সর্বশেষ দুই ম্যাচে ভারত কোনোমতে হার এড়ায়। তা সুনীল ছেত্রীর গোলে।
বাংলাদেশ ২-১ গোলে ভারতের বিপক্ষে প্রথম জিতেছিল ১৯৯১ সালের কলম্বো সাফ গেমসে। পরেরটি ১৯৯৯ সালের এই একই গেমসে। আর ভারত শেষবারের মতো লালসবুজদের পরাজিত করতে পেরেছিল ২০০৯ সালের সাফ ফুটবলে। তা ঢাকাতে ১-০তে।
এক নজরে বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ
মোট ম্যাচ ২৮টি
জয় : বাংলাদেশ ২টি, ভারত ১৫টি
ড্র : ১১ ম্যাচ
বাংলাদেশের সর্বশেষ জয় ১৯৯৯ সালে। ১-০তে । (২০০৩ এর সাফের সেমিতে ৯০ মিনিটের খেলা ১-১ এ শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ গোল্ডন গোলে জিতলেও তা ড্র হিসেবেই বিবেচিত।)
ভারতের সর্বশেষ জয় ১-০তে ২০০৯ সালে।
দুই দলের সর্বশেষ দুই ম্যাচের ফল : ১-১ ও ২-২।


আরো সংবাদ