১৪ অক্টোবর ২০১৯

তহুরার জোড়া গোলে বাংলাদেশের ইতিহাস

-

বাংলাদেশ ২-২ অস্ট্রেলিয়া
(তহুরা ২) ( ক্লাওডিয়া, জোইস)
খেলা শেষে অস্ট্রেলিয়া দলের চেয়ে কিছুটা আনন্দ বেশি বাংলাদেশ দলেরই। যদিও ততক্ষণে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে গেছে দুই দলই। এই প্রথম এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ মহিলা ফুটবলের চূড়ান্ত পর্বে পয়েন্টের দেখা মারিয়া মান্ডাদের। আর সকারুজদের প্রথমবারের মতো এই আসরের সেমিতে যাওয়া। গতকাল থাইল্যান্ডের সনবুরির আইপিই স্টেডিয়ামে ‘এ’ গ্রুপের এই ম্যাচ ২-২ গোলে ড্র হওয়ায় গ্রুপ রানার্সআপ হয়েছে আস্ট্রেলিয়া। আর বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ড্র করে হয়েছে গ্রুপে চার দলের মধ্যে চতুর্থ। কাল গ্রুপের অন্য ম্যাচে জাপান ৮-০তে থাইল্যান্ডকে হারিয়ে হয়েছে গ্রুপ সেরা। তবে ড্রতে রেকর্ড করলেও লাল-সবুজদের জন্য আফসোস তারা দুই দফা লিড নিয়েও গোলরক্ষক রুপনা চাকমার ভুলে জয়ে শেষ করতে পারল না। এরপরও সন্তুষ্টি, গতবারের মতো তাদের খালি হাতে ফিরতে হয়নি। স্ট্রাইকার তহুরা খাতুনের জোড়া গোলে কিছুটা হলেও তৃপ্তি নিয়ে আজ দেশে ফিরতে পারছে গোলাম রাব্বানী ছোটনের দল। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে এই আস্ট্রেলিয়ার কাছে ২-৩ গোলে হেরেছিল ১০ জনের বাংলাদেশ দল।
ইতিহাস আস্ট্রেলিয়ার না হয়ে এককভাবে বাংলাদেশেরেই হতো, যদি তারা প্রথম ম্যাচে ভালো খেলেও হেরে না যেত থাইল্যান্ডের কাছে। এরপর জাপানের কাছে ৯ গোলের হার। এই থাইল্যান্ডকে ৬-১ গোলে হারিয়েছিল আস্ট্রেলিয়া। আর জাপানের সাথে সকারুজদের ড্র। মারিয়ারা যদি থাইল্যান্ডের বিপক্ষে জিততে পারত তাহলে ভিন্ন হতো প্রেক্ষাপট। সে ক্ষেত্রে কাল আস্ট্রেলিয়াকে হারালেই চলে যেত সেমিতে। তা না হওয়ার কষ্ট তাড়িত করেছে কোচ ছোটনকেও।
একাদশে তিন পরিবর্তন করে গতকাল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলতে নামে বাংলাদেশ। দুই শামসুন্নাহারের জায়গায় সুলতানা এবং রিতুপূর্ণা। ধীরগতির আনু চিং মগিনির পরিবর্তে দ্রুতগতির সাজেদা। এই তিন পরিবর্তনে উজ্জীবিত বাংলাদেশ ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকেই চেপে ধরে অস্ট্রেলিয়াকে। মারিয়া-মনিকা, তহুরাদের আগ্রাসী ফুটবলের কাছে পাত্তাই পাচ্ছিল না সকারুজরা। এই ধারাক্রমে ২১ মিনিটে বাংলাদেশের লিড। তা কার্যত কাউন্টার অ্যাটাক থেকে। প্রতিপক্ষের একটি ক্রস হেডে ক্লিয়ার করেন ডিফেন্ডার আঁখি খাতুন। তা গিয়ে পড়ে মাঝমাঠে থাকা মিডফিল্ডার রিতুপূর্ণা চাকমার পায়ে। মুহূর্তেই রিতুপূর্ণা তা সামনে লব ভাসান স্ট্রাইকার তহুরা খাতুনের উদ্দেশে। অস্ট্রেলিয়ান ডিফেন্ডাররা তখন মাঝ রেখার কাছে। ফলে বল গিয়ে পড়ে তাদের পেছেনে। এই ধরনের বলের জন্য আগেই প্রস্তুত থাকা তহুরা সাথে সাথে দৌড়ে গিয়ে বলের দখল নেন। বিপদ বুঝে পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে আসেন বিপক্ষ কিপার মিরান্ডা টেম্পলেম্যান। এই সুযোগে তহুরা আগুয়ান গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে জালে পাঠান।
প্রথমার্ধে অস্ট্রেলিয়ার তিনটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে বাংলাদেশের ১-০তে লিডে শেষ হয় পঁয়তাল্লিশ মিনিট। বিরতির পর সকারুজরা আক্রমণাত্মক হয়ে গেলে বাংলাদেশ ঘর গোছানোর কাজে লিপ্ত হয়। চাপ বাড়তে থাকে রক্ষণভাগে। একের পর এক গোল মিস করছিল প্রতিপক্ষরা। প্রতিরোধ গড়তে থাকেন গোলরক্ষক রুপনাও। এরপরও সেই ৭৭ মিনিটে অস্ট্রেলিয়ার সমতা। আবারো সেই কর্নার। ২০১৭ সালে তারা এই মিনিটে এবং কর্নার থেকে সমতা তাদের। কালও তাই। তাদের পাওয়া সপ্তম কর্নার থেকে ক্লাউডিয়া মিহোসিসের হেড জালে।
অবশ্য এই কষ্ট বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৬ দলের। গোলের পর খেলা শুরু হলে তাতে ডিফেন্ডার আঁখি খাতুনের লবে বিপক্ষ ডিফেন্স ভেদ করে বলের দখল নেন তহুরা। এরপর সেই আগের কায়দায় আগুয়ান কিপারের পাশ দিয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচে নিজের ৪০তম গোল আদায় ‘মেসি’ খ্যাত তহুরার। কিন্তু এই আনন্দ দুই মিনিট পরেই মাটি। তার গোলরক্ষক রুপনার ভুলে। তার খর্বাকৃতি দেখে প্রথম থেকেই দূর থেকে শটে গোল করার চেষ্টা করছিল আস্ট্রেলিয়ানরা। ৮০ মিনিটে পিয়াজি জোইসের বক্সের বাইরে থেকে নেয়া তেমন একটি শটই রুপনাকে বোকা বানিয়ে জালে আশ্রয় নেয়। আগের বলগুলোর মতো এটিও তিনি আয়ত্তে নিতে যান। বল তার হাতের ছোঁয়া নিয়ে অতিক্রম করে গোললাইন। তিনি বলটি ফিস্ট করলে চলে যেত বার উঁচিয়ে।
বাকি সময়ে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের নেশার বিপরীতে বাংলাদেশ ডিফেন্সিভ খেলে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে। তবে বাংলাদেম লিডের পর রক্ষণাত্মক না খেলে স্বাভাবিক খেলা উপহার দলে জয়ও ধরা দিত।
বাংলাদেশ দল : রুপনা, আনাই, আঁখি, নাজমা, নীলা, মারিয়া, মনিকা, সুলতানা (শামসুন্নাহার ৪৬ মি.) সাজেদা ( আনু চিং ৭০ মি.), রিতু পূর্ণা, তহুরা।

পয়েন্ট তালিকা
দল খেলা জয় ড্র পরা গোল প
জাপান ৩ ২ ১ ০ ১৫/০ ৭
আস্ট্রেলিয়া ৩ ১ ২ ০ ৮/৩ ৫
থাইল্যান্ড ৩ ১ ০ ২ ২/১৪ ৩
বাংলাদেশ ৩ ০ ১ ২ ২/১২ ১


আরো সংবাদ




astropay bozdurmak istiyorum