২০ নভেম্বর ২০১৯

আমিনুল চমক দেখালেন চোটও পেলেন

-

অভিষেকেই নৈপুণ্যের আলোকমালায় উজ্জ্বল করে তোলেন নিজেকে ডানহাতি স্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। তবে খুশির খবরের পাশাপাশি বেদনার বালুচরে নিজের নাম খোদিত করেছেন তিনি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুই উইকেট নেয়ার পর চোটও পেয়েছেন আমিনুল। এই স্পিনারের বাঁ হাতে চোট পেয়েছেন। ফলে তিনটি সেলাই করতে হয়েছে। জয়ের ম্যাচে বাইরে থেকে বোলিং-ফিল্ডিং করার সময় তার এই ইনজুরি বোঝা যায়নি। কিন্তু গতকাল টিম হোটেলে তাকে দেখা গেল হাতে ব্যান্ডেজ বাঁধা। নিজেই হালকা হাসির পরশ বুলিয়ে জানালেন বোলিংয়ের সময় হ্যামিল্টন মাসাকাদজার একটি শট ফেরাতে গিয়ে হাতে চোট পেয়েছেন। অবশ্য আমিনুল সাজঘরে মাসাকাদজাকে ফিরিয়ে দেন। কিন্তু ক্ষতি হয়ে গেছে আগেই। ম্যাচের পর তাকে ছুটতে হয়েছে হাসপাতালে।
চট্টগ্রামে দলের সাথে না থাকলেও বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী খোঁজখবর রাখছেন আমিনুলের। তিনি জানিয়েছেন ম্যাচের পর ওর হাতে সেলাই দেয়ার প্রয়োজন ছিল। আমরা সে ব্যবস্থা নিয়েছি। আমি অনেককেই তিনটি সেলাই নিয়ে খেলতে দেখেছি। ওর ইনজুরি স্পিনিং হাতে নয়। তবে সব কিছু নির্ভর করছে ফিজিও এবং টিম ম্যানেজমেন্টের ওপর।
আমিনুল অবশ্য শনিবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলার ব্যাপারে আশাবাদী। তিনি বলেন, ইনজুরির অবস্থা এখন অনেকটা ভালো। ব্যথা বেশ কমেছে। খেলতে পারব কি না সেটা ফিজিওর সাথে কথা বলে বোঝা যাবে। টিম ম্যানেজমেন্ট সিদ্ধান্ত নেবে। তবে এখন আমি অনেকটাই সুস্থ বোধ করছি।
আমিনুল ইসলাম হঠাৎ করে বাংলাদেশ-আফগানিস্তানের ম্যাচের পর একটি ফোন পেলেন, যা শুনলেন তাতে তার আর ঘুম হলো না। পরদিন টিম হোটেলে তার ঠিকানা হলো। স্বপ্নের নায়করা তখন তার সতীর্থ। অভিষেক ম্যাচে সবার নজর কাড়লেন তিনি। তবুও উত্তেজনা আর স্বপ্নের ঘোরে আছেন আমিনুল। দিন-রাতের প্রতিটি মুহূর্ত তার কাটছে ক্রিকেটের রোমাঞ্চ এবং আবেগকে সাথী করে। তাকে নিয়ে বেশ কয়েক দিন আলোচনা ছিল। সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে দলে ডাক পাওয়ার কাহিনী-কাব্য শোনালেন। বলেন বাংলাদেশের দ্বিতীয় ম্যাচের পর সোহেল স্যার জানান, একটা ভালো খবর পাবি। অপেক্ষা কর। এরপর সাব্বির ভাই ফোন করে জানালেন অভিনন্দন, তোমাকে জাতীয় দলে নেয়া হয়েছে। এরপর সারা রাত উত্তেজনায় ঘুমাতে পারিনি। প্রথম বার তো!
তার আইডল সাকিবের সাথে ছবি তুলতে পেরে তিনি ছিলেন আনন্দে উদ্বেলিত। এখন সেই সাকিবের নেতৃত্বে তার অভিষেক হলো। ফলে সব কিছুই এখন স্বপ্নের মতো আমিনুলের কাছে। স্কোয়াড থেকে সেরা একাদশে তিনি সুযোগ পান। তারপর চমক দেখালেন। তিনি বলেন, সব ক্রিকেটারের স্বপ্ন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা। মাঠে নামার সময় আমার খুব ভালো লাগছিল। ছোটবেলা থেকে যাদের খেলা দেখে এসেছি, তাদের সাথে খেলা স্বপ্নের মতো। গর্বের একটা অনুভূতি। শুরুতে আমি নার্ভাস ছিলাম। পরে সাকিব ভাই, রিয়াদ ভাইয়ের মতো বড় ক্রিকেটাররা যখন সমর্থন দিয়ে বলেছিলেন যে এমন কিছু নয় এটা, নিজের মতো খেলে যা। তখন আপনা আপনি আত্মবিশ্বাস চলে এসেছে।
প্রথম ম্যাচে প্রথম উইকেটের দেখা পান প্রথম ওভারে। আমিনুল বলেন, যখন বোলিংয়ে যাই তখন একটু ভয় ছিল। পরে সাকিব ভাই বললেন, তুই নরমাল যেভাবে বোলিং করিস তাই কর। তারপর রিয়াদ ভাই কথা বলছিলেন। সবাই আমাকে সমর্থন করছিলেন। বলেছিলেন যে ভালো জায়গায় বল করলেই হবে। আমি সেই চেষ্টাই করে গেছি।


আরো সংবাদ