১৬ অক্টোবর ২০১৯

কঠিন বাস্তবতা টের পাচ্ছেন মারিয়ারা

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৬ মহিলা ফুটবল দলের সদস্যরা স্ট্রেচিং করছেন : বাফুফে -

২০১৭ সাল। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ মহিলা ফুটবলের চূড়ান্ত পর্ব। প্রথম দুই ম্যাচে বাংলাদেশের জালে ১২ গোল। উত্তর কোরিয়ার কাছে ০-৯ গোলে হার। আর জাপানের কাছে ০-৩ গোলে। দুঃস্বপ্নের মতো আসর শুরু করেও শেষ ম্যাচে দারুণ লড়াই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। ১০ জনের বাংলাদেশের ২-৩ গোলে হার। এবার আবারো সেই সকারুজদের সামনে শেষ ম্যাচে মুখোমুখি বাংলাদেশ। এর আগে দুই ম্যাচে রুপনা চাকমা জাল থেকে বল তুলেছেন ১০ বার। এর ৯টিই জাপানি মেয়েদের করা। আগামীকাল লাল-সবুজদের জন্য এটি নিয়ম রক্ষার ম্যাচ হলেও অস্ট্রেলিয়ার বাঁচা-মরার লড়াই। প্রথমবারের মতো এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ মহিলা ফুটবলের সেমিফাইনালে যেতে আজ ন্যূনতম ১ পয়েন্ট চাই অস্ট্রেলিয়ার। দুই বছর আগে অবশ্য কৃষ্ণা-মৌসুমীদের মতো অস্ট্রেলিয়ানদেরও শেষ ম্যাচ ছিল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার। এবার প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। আর অস্ট্রেলিয়া প্রথম ম্যাচে জাপানের সাথে গোলশূন্য ড্র করে এবং গত পরশু থাইল্যান্ডকে ৬-১ গোলে হারিয়ে জানান দিয়েছে তাদের সামর্থ্য। যদিও তাদের তিনটি গোল থাই কিপারের ভুলে। সে যাই হোক মারিয়া-মান্ডাদের দলের যে আরেকটি বড় হার অপেক্ষা করছে তা সহজেই অনুমেয়। দক্ষিণ কোরিয়ার গোলরক্ষক কোচ ইও সিয়ক মনে করেন আস্ট্রেলিয়া ৮-৯ গোল হারাবে বাংলাদেশকে। এটি আসলে কঠিন বাস্তবতাই। সবার মহিলা ফুটবল এগিয়ে যাচ্ছে। আর বাংলাদেশ একটি বৃত্তেই আটকা।
কেন আরো সামনে এগোনো যাচ্ছে না। বাফুফের টেকনিক্যাল অ্যান্ড স্ট্যাটিজিক্যাল ডিরেক্টর পল স্মলি এর নেপথ্যে তুলে ধরলেন নানা সমস্যার কথা। এর একটি অবকাঠামো গত সমস্যা। নেই বাফুফের পর্যাপ্ত অর্থ। ঘাটতি মানসম্পন্ন ফুটবলারেরও। পলের পরামর্শ, এ থেকে উত্তরণের জন্য বাফুফেকে ঘরোয়া লিগ বা টুর্নামেন্ট নিয়মিত করতে হবে। এতে নতুন ফুটবলার উঠে আসবে। সে সাথে খেলতে হবে প্রচার আন্তর্জাতিক ম্যাচ।
এই আন্তর্জাতিক ম্যাচেরও একটা গন্ডী আছে। খালি বিভিন্ন দেশের অ্যাকাডেমি আর নেপাল, ভুটান, পাকিস্তানের সাথে ম্যাচ খেললে হবে না। প্রতিপক্ষ হতে হবে ইউরোপের কোনো দেশ বা এশিয়ার শীর্ষ কোনো দল। বাফুফে অবশ্য থ্যাইল্যান্ড সফরের আগে অনূর্ধ্ব-১৬ মহিলা দলকে ইংল্যান্ডে পাঠাতে চেয়েছিল অনুশীলন এবং প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে। দুই কোটি টাকা জোগাড় না হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। ফলে বিকল্প হিসেবে থাইল্যান্ডের একটি আঞ্চলিক অ্যাকাডেমি আর বিশ্ববিদ্যালয় দলের সাথে প্রস্তুতি পর্ব শেষ করা।
অথচ সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জাপান থাইল্যান্ড আসার আগে তাদের দলকে জার্মানি, নরওয়ে ও সুইডেন পাঠায়। অস্ট্রেলিয়া দলেরও প্রস্তুতি বেশ ভালো। চীন এসেছে ২৩ জন কোচিং স্টাফ নিয়ে। পল স্মলির মতে, বাংলাদেশ যদি থাইল্যান্ডে আসার আগে ইউরোপে যেতে পারত তা হলে আত্মবিশ্বাসের লেভেলটা অনেক উঁচু হতো ফুটবলারদের। দেখুন জাপান কিন্তু বুঝিয়ে দিয়েছে তাদের সাথে আমাদের পার্থক্য। জানান, ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারকে হারিয়ে এই চূড়ান্ত পর্বে কোয়ালিফাই করার পর আমি পরবর্তী করণীয় নিয়ে বিস্তর কথা বলেছি বাফুফের সাথে। আর্থিক সীমাবদ্ধতায় সম্ভব হয়নি বাফুফের পক্ষে তা বাস্তবায়ন।
তিন বছর ধরে বাংলাদেশ দলের সাথে কাজ করে পলের অভিজ্ঞতা, দেখুন, আমরা ঠিকমতো অনুশীলনের মাঠ পাই না। নেই রিকভারির জন্য সুইমিংপুল। জিম ফ্যাসিলিটিজও নেই। হয় না মহিলা লিগ। যে পরিমাণে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ হওয়া উচিত তাও অনুপস্থিতি মহিলা ফুটবলে। তা হলে কিভাবে মহিলা ফুটবলার উঠে আসবে? সে সাথে মহিলা ফুটবলেও অ্যাকাডেমি প্রয়োজন। পল তথ্য দেন, অস্ট্রেলিয়ার মহিলা ক্লাব দলেরও অ্যাকাডেমি আছে।
পল বললেন, আমাদের অনূর্ধ্ব-১৬ দলে ২৩ জনের স্কোয়াডে ১৩-১৪ জনের বাইরে তেমন ফুটবলার নেই যাদের এই লেভেলে খেলানো যায়। যারা আছে তাদের বয়স কম। দেশে নিয়মিত লিগ, টুর্নামেন্ট হলে ফুটবল অ্যাকাডেমি থাকলে এবং শক্তিশালী দলের বিপক্ষে প্রচুর ম্যাচ খেললে নতুন ফুটবলার বের হয়ে আসত। যোগ করেন, সে সাথে আরো মহিলা কোচ তৈরি করতে হবে। সাথে পুরুষ কোচও।
বাংলাদেশ দলের যারা অনূর্ধ্ব-১৬ দলে খেলেন, তারাই আবার অনূর্ধ্ব-১৯ এর ফুটবলার। এদের নিয়েই গঠিত হয় সিনিয়র জাতীয় দল। এদের সম্বল, বাফুফের টার্ফে অনুশীলন আর আন্তর্জাতিক ম্যাচ এলে তাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা। এতে তাদের আন্তর্জাতিক ম্যাচের অভিজ্ঞতা বাড়লেও পর্যাপ্ত মানসম্পন্ন ফুটবলারের অভাবে কাক্সিক্ষত রেজাল্ট আসছে না।


আরো সংবাদ




astropay bozdurmak istiyorum