০৯ ডিসেম্বর ২০১৯

তাজিক ক্লাবের সাথে প্রস্তুতি ম্যাচ

-

এক আফগানিস্তানের হোম ভেনু নিশ্চিত হওয়ার জন্যই অপেক্ষায় ছিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। প্রথমে শোনা গিয়েছিল কাতারে হবে তাদের হোম ভেনু। পরে জানা গেল সংযুক্ত আরব আমিরাতে হোম ম্যাচ খেলবে গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত আফগানিস্তান। শেষ পর্যন্ত গত পরশু নিশ্চিত হলো এবারের কাতার বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে আফগানদের হোম ভেনু তাদেরই পাশ্ববর্তী দেশ তাজিকিস্তানে। ফলে ১০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ তাদের প্রথম অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলবে তাজিকিস্তানের রাজধানী দুশানবেতে। তা টার্ফের মাঠে।
তাই এখন আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের আগে তাজিকিস্তানে বাংলাদেশ দলের প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজনের চেষ্টা চালাচ্ছে বাফুফে। আর এই ম্যাচ হবে তাজিকিস্তানের ক্লাব দলের সাথে। সে অনুরোধ জানিয়েই গতকাল তাজিকিস্তান ফুটবল ফেডারেশনের সাথে যোগাযোগ করেছে বাফুফে। বাফুফে সেক্রেটারি আবু নাঈম সোহাগ জানান, আমরা তাজিকিস্তানের প্রিমিয়ার লিগের দুই সেরা দলের সাথে ম্যাচে খেলানোর চেষ্টা করছে। এই আবেদন জানিয়ে চিঠিও দেয়া হয়েছে।
মধ্য এশিয়ান এই দেশের আবহাওয়ার সাথে মানিয়ে নেয়া এবং দু’টি প্রস্তুতি ম্যাচের জন্য সাত বা ১০ দিন আগে তাজিকিস্তান যাবে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। ৩ ও ৫ সেপ্টেম্বর সেখানে ম্যাচ খেলার কথা। বাংলাদেশ দল যদি কোনো দেশের জাতীয় দলের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারতো তাহলে তা ফিফা প্রীতিম্যাচের মর্যাদা পেত। এখন ক্লাব দলের বিপক্ষে ম্যাচ হওয়া মানে তা ফিফা টায়ার টু মর্যাদার ম্যাচ।
জাতীয় দলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্রস্তুতির জন্য ১৭ দিনের ক্যাম্প হবে। ১০ বা সাত দিন ঢাকায়। অথবা সমপরিমাণ দিন তাজিকিস্তানে। এ জন্য ২৪ আগস্ট থেকে আবাসিক ক্যাম্প শুরু জামাল ভূঁইয়াদের। ইংল্যান্ড থেকে ছুটি কাটিয়ে ১৮ তারিখে বাংলাদেশে আসছেন কোচ জেমি ডে। পরের দিন ন্যাশনাল টিমস কমিটির মিটিং। সেখানেই ক্যাম্প এবং জাতীয় দল নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। ক্যাম্পে ২৫-৩০ ফুটবলারকে ডাকা হতে পারে। তবে এতে নতুন মুখের সম্ভাবনা খুবই কম। বাফুফে সূত্রে জানা গেছে, জেমি ডের আস্থা পুরনো ফুটবলারদের ওপরই। অর্থাৎ যাদের নিয়ে কোচ ম্যাচ খেলেছেন লাওস ও কম্বোডিয়ার বিপক্ষে। এ ছাড়া অনূর্ধ্ব-২৩ দলে যাদের দেখেছেন।
অবশ্য কোচ যে নতুন কাউকে ডাকবেন সে সুযোগ কি তিনি রেখেছেন? লিগ চলাকালীন অধিকাংশ সময়েই তিনি ছিলেন ইংল্যান্ডে। এমনকি এবারের লিগের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে যখন চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইট এবং রেলিগেশন ফাইট ছিল তুঙ্গে তখনো তার অবস্থান নিজ দেশে। এই সব ম্যাচে যারা ভালো করেছেন তাদের খেলা দেখা হয়নি তার। মাঠে না থাকলেও ভিডিও ফুটেজ দেখে যে তাদের বাছাই করবেন সে আগ্রহও নেই জেমি ডের। বাফুফে সূত্রে জানা গেছে, এই বিষয়ে কোচের বক্তব্য, আমি যাদের দেখেছি তাদের নিয়েই দল গড়বো। লিগের শেষ দিকে যারা কয়েক ম্যাচ ভালো খেলেছে তাদের এই মুহূর্তে ডাকার চান্স নেই। কোচ যদি তার পুরনো সৈনিকদের নিয়ে সাফল্য পান তাহলে বিতর্কের ঊর্ধ্বে। কিন্তু ব্যর্থ হলেও সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হবেন।
অবশ্য ডাচ কোচ লর্ড উইগ ডি ক্রুয়েফও গত বিশ্বকাপ বাছাইয়ের আগে লিগ চলাকালীন সময়ে ছিলেন নিজ দেশে। ফলে অনেক পারফর্ম করা ফুটবলার তার বিবেচনার বাইরে ছিল। অথচ সার্বিয়ান জোরান দরদেভিস ছিলেন ব্যতিক্রম। তিনি নিজে এক মাঠে খেলা দেখতেন। অন্য সহযোগীদের পাঠাতেন ভিন্ন মাঠে। এভাবে তিনি ফুটবলার বাছাই করেছেন। এমনকি জেমি ডের আগে কাজ করা অ্যান্ড্রু অর্ডও সব খেলা দেখেছেন। আরেকটু এগিয়ে তিনি এএফসি কাপে আবাহনীর অ্যাওয়ে ম্যাচ দেখতে ভারত পর্যন্ত গিয়েছিলেন। উদ্দেশ্য আবাহনীতে থাকা জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের নৈপুন্য স্বচক্ষে পর্যবেক্ষণ করা। ব্যতিক্রম ক্রুয়েফ, জেমি ডে রাই।

 


আরো সংবাদ




Paykwik Paykasa
Paykwik