২৪ আগস্ট ২০১৯

মেয়র নাসিরের পছন্দের খেলা ক্যারম

-

প্রতিটি ছেলেমেয়েরই শৈশব-কৈশোর কাটে কোনো না কোনো খেলার মধ্যে। অনেকেই চার-পাঁচটি খেলার সাথে যুক্ত থাকেন। তবে পছন্দের খেলা থাকে দু-একটি। ছোটবেলায় মাগরিবের আজানের সাথে সাথেই ঘরে ফেরার প্রচলনটি অনেকাংশে কমে গেলে এখনো বিদ্যমান। চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাসিরও এর বাইরে ছিলেন না। একান্ত আলাপচারিতায় উঠে আসে তার খেলোয়াড়ী জীবন ও ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে ভাবনাগুলো। ক্রিকেটে ব্যাট ও বল হাতে সমান দক্ষতা থাকলেও তার পছন্দের খেলা ছিল ক্যারম। অনেক পুরস্কারও পেয়েছেন।
আ জ ম নাসিরের কথায়, বাংলাদেশের প্রতিটি ছেলেমেয়ে যখন বেড়ে উঠে তারা সবাই কোনো না কোনো খেলার সাথে জড়িত ছিল। গ্রামীণ খেলা লাটিম, কুতকুত, দাড়িয়াবাধা, মার্বেল ইত্যাদি ধনি দরিদ্র সবাই কমবেশি খেলেছে। যেহেতু আমি শহরে বেড়ে উঠেছি। স্কুলে পড়াকালে টেবিল টেনিস, ব্যাডমিন্টন, ফুটবল ও ক্রিকেট প্রচুর খেলেছি। তবে ক্যারম আমার প্রিয় খেলা। প্রাইজও পেয়েছি। ক্রিকেট লিগে খেলিনি কিন্তু পাড়ার ক্লাবের হয়ে বিভিন্ন কম্পিটিশনে খেলেছি। স্কুল কলেজের হয়ে খেলেছি। ফুটবলে স্ট্রাইকার পজিশনে খেলেছি। ক্রিকেটে ব্যাট বল দুটোই করেছি। বলতে পারেন অলরাউন্ডার ছিলাম।
ছোটবেলায় মাগরিবের আজানের আগে ঘরে ফেরা নিয়ে তিনি বলেন, আগে পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন ছিল। এখন স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছেলেমেয়েরা খেয়াল খুুশি মতো চলতে পারে। রাত অবদিও ঘরের বাইরে থাকতে পারে। আমাদের সময় এটি কল্পনাও করা যেত না। মেয়েদের তো প্রশ্নই উঠে না। মাগরিবের আগেই ঘরে ফিরতে হতো। আমাদের রক্ষণশীল অবস্থাসম্পন্ন বেপারি বাড়ির অনুশাসন ছিল। যে কারণে ঘরে ফিরতে হতো যথাসময়ে। খেলতে গিয়ে বিভিন্ন সময় আঘাতও পেয়েছি। আঙুল ভেঙে গেছে। এটি সাধারণ ব্যাপার।
একজন মেয়ররের নানা ধরনের কাজ থাকে। এর মাঝে খেলার বিষয়গুলো সময় বের করেন কিভাবে। জবাবে তিনি বলেন, ‘কমিটমেন্ট বা অঙ্গীকার হলো মূল বিষয়। আপনার যদি খেলার প্রতি আকর্ষণ থাকে তাহলে সময় বের করা সম্ভব। নিজে খেলেছি। আগে এক সময় সাদাকালো টিভি ছিল। ডিস লাইন ছিল না। বাইরের খেলাগুলো সম্প্রচার হলে এখানে দেখতে পেতাম না। কিন্তু কুমিল্লায় দেখা যেত। আমরা ক্রিকেট খেলা দেখার জন্য কুমিল্লা চলে যেতাম। ভোরে কুমিল্লা গিয়ে ক্রিকেট দেখে ফেরত আসতাম। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে রেডিওতে খেলার কমেন্ট্রি শুনতাম।
চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনকে উর্বর ভূমি উল্লেখ করে আ জ ম নাসির বলেন, অবশ্যই চাইব চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গন এগিয়ে যাক। বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে একটা ভূমিকা রাখবে চট্টগ্রাম। চট্টগ্রাম ক্রীড়াঙ্গনের উর্বর জায়গা। চিটাগাংয়ে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে নিয়মিত লিগ আয়োজন, প্রশিক্ষণ হয়ে থাকে। বাংলাদেশের আর কোনো জেলায় এমনটি হয় না। আমরা প্রতি বছর ৩৪টি ইভেন্ট করে থাকি। যেখানে অন্যান্য জেলায় একটি লিগ করতে হিমশিম খায় সেখানে ৩৪টি ইভেন্ট করা চাট্টিখানি কথা নয়। টার্গেট হলো প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরো কিছু খেলোয়াড় তৈরি করা। আমাদের এখানে নিবেদিত, বিচক্ষণ, ক্রীড়া সংগঠক রয়েছেন। তাদের মেধা, প্রজ্ঞা, আন্তরিকতায় বিভিন্ন ইভেন্টে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।
নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের খেলার চেয়ে টাকার দিকে মনোযোগ বেশি। এ বিষয়টিও এড়ায়নি ক্রীড়াপ্রেমী মেয়রের নজরে, একজন ক্রীড়াবিদের মাথায় সর্বক্ষণ খেলার চিন্তা থাকতে হবে। শয়নে স্বপনে তার পজিশন নিয়ে ভাবতে হবে। কিভাবে খেলব, প্রতিপক্ষ আমাকে কিভাবে বাধা দেবে এবং আমি কিভাবে ট্যাকল করব সেটি নিয়ে ভাবতে হবে। যে ডিসিপ্লিনে খেলি সেটির মধ্যেই ডুবে থাকতে হবে। ওই ডিসিপ্লিনের সুপারস্টার কিংবা মেগাস্টাররা কিভাবে কি করে সেটি রপ্ত করতে হবে। এখনকার ছেলেরা একটুখানি নাম হলেই কিংবা তাকে নিয়ে আলোচনা হলেই নিজেকে ধরে রাখতে পারে না। বিশেষ করে টাকাকে বেশি গুরুত্ব দেয়। প্রশিক্ষণে নজর না দিয়ে খ্যাপ খেলতে চলে যায়। এই টাকার পেছনে দৌড়াতে গিয়ে তার সম্ভাবনা নষ্ট করে। যে কারণে খেলোয়াড় হিসেবে স্থায়িত্বকাল অত্যন্ত ছোট হয়ে আসে। সম্ভাবনা উধাও হয়ে যায়। একটাই উপদেশ থাকবে। টাকার পেছনে দৌড়ানোর দরকার নেই। নজর দিতে হবে প্রশিক্ষণে। আন্তরিক হতে হবে। ডিসিপ্লিন মেইনটেইন করতে হবে। ভালোবাসলে অবশ্যই স্থায়িত্বকাল বাড়বে।


আরো সংবাদ




mp3 indir bedava internet