২১ আগস্ট ২০১৯

মুশফিকের টার্গেট ২০২৩ বিশ^কাপ

-

সবে শেষ বিশ^কাপ। গোটা ইংল্যান্ডে উৎসব এখনো চলছে। দীর্ঘ দিনের অতৃপ্তি ঘুচল যাদের, তাদের উৎসব করাটাই স্বাভাবিক। তবু ইংলিশরা ক্রিকেটের চেয়ে ফুটবল নিয়েই মাতামাতি করে বেশি। এটাই দিবালোকের মতো সত্যি। অথচ ক্রিকেটের জন্মদাতা তারাই। অন্য দেশগুলোও বসে নেই। কাক্সিক্ষত ফল পাওয়া না পাওয়া নিয়ে চলছে বিশ্লেষণ। কোচিং স্টাফে পরিবর্তন, দলেও কারো কারো কিছু পরিবর্তন আসবে। দীর্ঘ প্লান হবে। বাংলাদেশও বসে নেই। এরই মধ্যে দলের কোচিং স্টাফ পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে বিসিবি। আসন্ন শ্রীলঙ্কা সফর দিয়েই সূচনা। তবে বিসিবির প্লান বাস্তবায়নে সময়ের প্রয়োজন হলেও ক্রিকেটাররা কিন্তু বসে নেই। এরই মধ্যে অনেকেই তাদের পরের প্লান ঠিক করে ফেলেছেন। এর মধ্যে মুশফিকুর রহীম অন্যতম। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে ক্রিকেট নিয়ে যিনি অনেক পরিশ্রম করেন। ক্রিকেটকে সময় দেন। প্র্যাকটিস করেন। ক্রিকেট নিয়ে ভাবেন। তাদের মধ্যে মুশফিক সর্বাগ্রে। শুধু ক্রিকেটই নয়, পড়ালেখাতেও তিনি সবার আগে চলে যাচ্ছেন। গতকাল বিশ^কাপ পরবর্তী তার প্লান সম্পর্কে জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আপাতত তার পরিকল্পনার সবার আগে ‘পিএইচডি’ নিয়েই ব্যস্ততা।’ ব্যাট-বল রেখে লেখাপড়াতেও মনোযোগী হবেন তিনি। তবে ক্রিকেটও ছেড়ে দিচ্ছেন না। মুশফিক বলেন, ‘নম্বর ফোরে বিশে^র যে কয়েকজন ক্রিকেটার দেখবেন অভিজ্ঞতার দিক থেকে আমি বোধহয় দ্বিতীয় স্থানে থাকব। প্রথম ব্যক্তি নিউজিল্যান্ডের রস টেইলর। তিনি প্রথম।’ মুশফিক এ স্থানে নিজের পারফরম্যান্স আরো উজ্জ্বল করতে চান। কিভাবে? এমন এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আসলে হুট করে কোনো কিছু হয়ে যায় না। এ জন্য যেমন প্লান করতে হয়। আবার পরিশ্রমও করতে হয়। প্লান অনুসারে কাজ করতে পারলে সফলতা আসে। আমি সিরিজ বাই সিরিজ প্লান করি। সব মিলিয়ে প্লান করলে তাতে তালগোল পাকিয়ে যাওয়ার অবস্থা। আমি সেটা করতে চাই না। এখন আমার সামনে শ্রীলঙ্কা সফর। এখন ওই সফরের তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ নিয়েই আমার যত প্লান পরিকল্পনা।’
বাংলাদেশ দলে সাকিবের অনুপস্থিতিতে মুশফিকের ওপর অনেক দায়িত্বও। সাকিবের স্থানে অর্থাৎ তিন-এ কে খেলবেন সেটা নিশ্চিত না হলেও এর আগে সাকিবের অবর্তমানে সাব্বির রুম্মন খেলেছেন। এবারো হয়তো তাকেই ট্রাই করা হবে। তবে মাহমুদুল্লাহকে দিয়েও ট্রাই করা হতে পারে বলে আভাস মিলেছে। এতে তরুণদের মধ্যে যার উপরে তাদেরকে একটু নিচে নামানো হতে পারে। তবে এগুলো সবই পরীক্ষাধীন। লিটন দাস থাকলে তাকেও ওই স্থানে খেলানোর চেষ্টা থাকত। লিটনেরও অভিজ্ঞতা আছে। তবে টিম ম্যানেজমেন্ট সে সিদ্ধান্ত নেবেন। কিন্তু ৪ নিয়ে কোনো প্রবলেম নেই। সেখানে যথারীতি মুশফিক। তিনি বলেন, ‘আমার মূল প্লান ২০১৩ এর বিশ্বকাপে নিজেকে সেভাবে তৈরি করে খেলা। এটা এত দ্রুত বলার সময় না এলেও আমি সেভাবেই ছক এঁকে এগোতে চাই। সিরিজ বাই সিরিজ খেলার পরিকল্পনা মূল টার্গেটেরই অংশবিশেষ।’ তিনি বলেন ওই টার্গেট সামনে রেখে আমাকে প্র্যাকটিস করতে হবে। এগিয়ে যেতে হবে।’ উল্লেখ্য, বাংলাদেশ দলের পঞ্চপাণ্ডবের একজন তিনিও। বরাবরই তাদের পারফরম্যান্স জানান দিয়ে এসেছে যে এ সিনিয়ররা সেভাবে পারফর্ম করতে না পারলে দল ব্যর্থ হয়। এবারো তার প্রমাণ মিলেছে। বিশ^কাপের আগে আয়ারল্যান্ডের সিরিজে পারফর্ম করলেও বিশ^কাপে সাকিব ও মুস্তাফিজ ছাড়া যার যার ডিপার্টমেন্টে সবাই প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স করতে ব্যর্থ। এর মধ্যে মুশফিকের নামটাও চলে আসবে অনায়াসে। নাম্বার ‘ফোর’ খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা স্থান। এখানে থেকে দলের বিপর্যয় কিংবা দল দলকে পারফেক্ট স্থানে পৌঁছে দেয়ার পেছনে ভূমিকা রাখতে হয়। মুশফিক এটা করেনও। কিন্তু সদ্য সমাপ্ত বিশ^কাপে মুশফিকের ব্যাট সেভাবে হাসেনি। যে দু’টি ম্যাচে তিনি পারফর্ম করেছিলেন সে দুই ম্যাচেই দল জিতেছে। তার মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৮ (একটি পরিত্যক্ত বৃষ্টিতে) ম্যাচের মধ্যে চার ম্যাচে তার ব্যাটে রান এসেছে। একটি সেঞ্চুরিও আছে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। কিন্তু ওই ম্যাচে জিতেনি বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৭৮ ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে তার করা ৮৩ রানের ইনিংস দলকে জয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে ভূমিকা রেখেছে। অন্য সব ম্যাচের মধ্যে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার করা ৪৪ রান উল্লেখযোগ্য। ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ দুই ম্যাচে তার রান যথাক্রমে ২৪ ও ১৬। তবে এটা ঠিক, তার কাজটা তিনি ঠিকই করেছেন। কিন্তু দল যে তার কাছে আরো বেশি অর্থাৎ প্রায় প্রতিটা ম্যাচেই ভালো পারফরম্যান্স আশা করেছিল। তবে মুশফিক যে প্লান করেছেন সেটাতে তিনি সাকসেস হতে পারবেনও। কারণ যে দৃঢ়তা তার মধ্যে আছে এটা আগেও দেখা গেছে।

 


আরো সংবাদ




mp3 indir bedava internet