২২ আগস্ট ২০১৯

চট্টগ্রামের ব্যাডমিন্টন মানেই দিদার

-

চট্টগ্রামে জুনিয়র থেকে সিনিয়র ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়রা এক নামে চিনেন দিদারুল আলমকে। সবার প্রিয় দিদার ভাই। অথচ প্রফেশনালি খেলেননি কোনো খেলাই। শখের বশে খেলেছেন ব্যাডমিন্টন, ফুটবল, ক্রিকেটসহ অনেক ইভেন্ট। একমাত্র সাংগঠনিক দক্ষতা, কাজের প্রতি ভালোবাসা ও চট্টগ্রামের ব্যাডমিন্টনকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেয়ার ব্রতই দিদারকে পৌঁছে দিয়েছে এই জায়গায়। মেয়র চট্টগ্রাম ৩৬তম ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপের আগে ভেনু তৈরি করতে গিয়ে নিজ হাতে ইনডোরের ওয়াশরুম পরিষ্কার করেছেন। তাহলে এই মানুষটিকে ভালো না বেসে উপায় কী!
নিজের ব্যাপক পরিচিতির বিষয়ে দিদার বলেন, ‘ক্রীড়ার জন্য যারা কষ্ট করেন, শ্রম দেন তাদের মূল্যায়ন করার চেষ্টা করি। চাহিদা পূরণ করার চেষ্টা করি। দায়িত্ববোধ থেকে চেষ্টা করি কিছু করার। ব্যর্থতা ধরা হবে আমার সময়কালের পর। এখনো তো এক বছর আছি। সবচেয়ে বড় ইচ্ছা রয়েছে চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক মানের টুর্নামেন্ট আয়োজন করার এবং চট্টগ্রামেই ওই মানের প্লেয়ার তৈরি করা।‘
চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর (ব্রাদার্স ইউনিয়ন) ও ব্যাডমিন্টনের সেক্রেটারি দিদারুল আলম দিদার। ছোটবেলায় গ্রামের বাড়ি হাটহাজারীতে ওয়াহিদুর রহমান বাবুসহ বড় ভাইদের ব্যাডমিন্টন খেলা দেখে মনের কোনায় আলাদা করে ভালোবাসার জন্ম নেয় এই র্যাকেট ও ফেদারের ডিসিপ্লিনটি। চট্টগ্রামের মেয়র আজম নাসির যখন ব্যাডমিন্টনের দায়িত্ব নিতে বলেন তখন মনের অজান্তেই সুখের ভিত্তিপ্রস্তÍর স্থাপিত হয়। তখন থেকেই মাথায় খেলা করতে থাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে হবে চট্টগ্রামের ব্যাডমিন্টনকে। তার কথায়, ‘স্পোর্টসের জন্য ভালো কিছু করতে চাই। বাংলাদেশের কোনো জেলায় ব্যাডমিন্টন লিগ হয় কি না আমার জানা নেই। তবে আমাদের চট্টগ্রামে প্রিমিয়ার ও প্রথম বিভাগ লিগ করেছি। সর্বশেষ প্রিমিয়ারে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও দুবাই থেকে আটজন বিদেশী শাটলার (চারজন করে পুরুষ ও মহিলা) বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে খেলেছে। এটি আমাদের চট্টগ্রাম ব্যাডমিন্টনে আলাদা আমেজ সৃষ্টি করেছে। আগামীতে দ্বিতীয় বিভাগ লিগও করার ইচ্ছে রয়েছে।’
পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তিন বছর আগে দায়িত্ব নিয়ে খেলোয়াড় সৃষ্টির উদ্দেশ্যে টার্গেট করেছি অ্যাকাডেমি করার। চট্টগ্রাম ব্যাডমিন্টন অ্যাকাডেমি ও সাগরিকায় লিজা ব্যাডমিন্টন অ্যাকাডেমি করা হয়েছে। লিজা ব্যাডমিন্টন অ্যাকাডেমির ফারজানা আক্তার অনূর্ধ্ব ১৪ বিভাগে রানার আপ হয়েছে। এখান থেকে অনূর্ধ্ব ১৪ ও ১৮ শাটলার তৈরি হবে বলে বিশ্বাস রয়েছে। চট্টগ্রামের নিখিল চন্দ্র ধরের ব্যাডমিন্টন অ্যাকাডেমিকেও পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকি। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে কিছু কিছু প্রতিকূলতা থাকলেও সেটিকে উতরে গিয়ে কাজ করাই প্রধান লক্ষ্য। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মাঝে প্রধান চাওয়া হলো চট্টগ্রামের শাটলাররা ব্যাডমিন্টনকে ডমিনেট করবে। এজন্য শুধু ব্যাডমিন্টনের জন্য আলাদা ইনডোর প্রয়োজন। মেয়র মহোদয় পাঁচলাইশ জাতিসঙ্ঘ পার্কের সিটি মার্কেটে যে জিমন্যাশিয়াম রয়েছে সেটিকে ব্যবস্থা করে দিবেন বলেছেন।’

 


আরো সংবাদ




mp3 indir bedava internet