১৪ ডিসেম্বর ২০১৯

দুই পরিবর্তন মানতে পারেননি অনেকেই

-

বিশ্বকাপে নিজেদের ষষ্ঠ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নেমেছে উড়তে থাকা বাংলাদেশ। টস জিতে টিম টাইগার্সকে আগে বোলিংয়ের আমন্ত্রণ জানান অসি অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ। টনটনে উইন্ডিজকে হারানোর ম্যাচের একাদশে দু’টি পরিবর্তন নিয়ে নেমেছে বাংলাদেশ। চোট আক্রান্ত মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের জায়গায় নেয়া হয়েছে পেসার রুবেল হোসেনকে। আর মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের জায়গায় খেলছেন সাব্বির রহমান।
পূর্ণাঙ্গ একটি দলে জয়ের ধারায় থাকা আত্মবিশ্বাসে ভরপুরের মাঝে দু’টি পরিবর্তনের মাশুল কি দিবে বাংলাদেশ। এমন গুঞ্জনের ডালাপালা বিস্তার করে যখন অস্ট্রেলিয়া দল রানের চাপে ফেলে লাল-সবুজদের। বৃষ্টি নামার আগে ৫ উইকেটে ৩৮১ রান করে অসিরা। ওয়ার্নারের সেঞ্চুরি (১৬৬), ফিঞ্চের ৫৩, ওসমান খাজার ৮৯, ম্যাক্সওয়েলের ১০ বলে ৩২ রান করার পর অনেকেই স্বীকার করে নেন আগের দলটিই ঠিক ছিল। পরিবর্তনের প্রয়োজন ছিল না। অবশ্য অনিয়মিত বোলার সৌম্য সরকার প্রথম সারির তিন ব্যাটসম্যানকেই সাজঘরের পথ দেখান।
হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পাওয়ায় সাইফউদ্দিনের খেলা নিয়ে গত বুধবার থেকেই শঙ্কা ছিল। ম্যাচের দিন সকালে ফিটনেস টেস্ট উতরাতে না পারায় অসিদের বিপক্ষে নেই তিনি। তার জায়গায় সুযোগ পেলেন বিশ্বকাপের শুরু থেকেই সাইডবেঞ্চে থাকা রুবেল হোসেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলার আগে জোর দাবি ওঠে তাকে মাঠে নামানোর। কিন্তু দেখা গেছে সুযোগ হয়েছে লিটনের। তিনি তার প্রতিদানও দিয়েছেন। রুবেল ৯ ওভারে ৮৩ রান দিয়ে গতকাল ছিলেন উইকেটশূন্য। তবে ম্যাক্সওয়েলের রান আউটটি ছিল তারই অবদান।
আগের ম্যাচে ফিল্ডিংয়ের সময় কাঁধে চোট পেয়েছিলেন মোসাদ্দেক। তার জায়গায় বিশ্বকাপে প্রথমবার একাদশে সুযোগ এসেছে সাব্বিরের। তিনি ব্যাট হাতে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের বিপক্ষে কতটুকু কার্যকর হবেন তা সময়ই বলে দেবে। তবে ফিল্ডিংয়ে তার একটি ক্যাচ মিস সবাইকে নাড়িয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশের মতো দলে পরিবর্তন এনেছে অস্ট্রেলিয়াও। তিন পরিবর্তন অসি একাদশে। ইনজুরির কারণে দুই ম্যাচে বেঞ্চে বসে থাকার পর ফিরেছেন অলরাউন্ডার মার্কাস স্টয়নিস। তিনি ফেরায় বেঞ্চে বসতে হয়েছে শন মার্শকে। টাইগারদের ফর্মের কথা চিন্তা করে কৌশলে পরিবর্তন এনেছে অসিরা। এই ম্যাচে নেয়া হয়েছে স্পিনার অ্যাডাম জাম্পাকে। তার জন্য জায়গা ছাড়তে হয়েছে পেসার কেন রিচার্ডসনকে। এ ছাড়া শ্রীলঙ্কা ম্যাচে বিশ্রামে থাকা অলরাউন্ডার নাথান কোল্টার-নাইল ফিরেছেন জেসন বেহরেনডোর্ফের জায়গায়।
প্রথম ম্যাচে সাউথ আফ্রিকাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করে বাংলাদেশ। পরের দুই ম্যাচে মাশরাফিদের বিপক্ষে জয় তুলে নেয় নিউজিল্যান্ড ও স্বাগতিক ইংল্যান্ড। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চতুর্থ ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ার পর পঞ্চম ম্যাচে রেকর্ড রান তাড়া করে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে দেয় লাল-সবুজরা। ৫ ম্যাচ থেকে ৪ জয়ে ৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুই নম্বরে অস্ট্রেলিয়া। একমাত্র ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ হেরেছে অসিরা। সমান ম্যাচে দু’টি করে জয়-পরাজয় ও একটি পরিত্যক্ত ম্যাচের পর ৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের পাঁচ নম্বরে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের বিশ্বকাপ মিশন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে। এখন থেকে প্রতিটি ম্যাচই কার্যত ‘ফাইনাল’ টিম বাংলাদেশের জন্য। আগের ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বড় রান তাড়া করে হেসে খেলেই জিতেছে বাংলাদেশ। আত্মবিশ্বাসের একটি বড় জায়গা তৈরি করে নিয়েছেন টাইগার বাহিনীর সদস্যরা। অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের পর গ্রুপপর্যায়ে নিজেদের শেষ তিন ম্যাচে ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে মোকাবেলা করবে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের ইতিহাস ও মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যান কথা বলছে অসিদের হয়েই। এক্স ফ্যাক্টরের এই ম্যাচে জয়ের ধারায় থাকা বাংলাদেশ দলে দুই পরিবর্তনে আশ্বস্ত হতে পারেননি অনেকেই।
আত্মবিশ্বাসের জায়গাগুলোর মধ্যে প্রথমত, টপঅর্ডার ব্যাটসম্যানরা রানের মধ্যে থাকা। তামিম ফর্মে না থাকলেও অফফর্মে বলা যাবে না। সৌম্য দারুণ শুরু এনে দিচ্ছেন। সাকিবের কথা তো সর্বজনবিদিত। দ্বিতীয়ত স্পিন-আক্রমণগুলো ক্রমেই শাণিত হচ্ছিল। নটিংহ্যামের পিচে সাকিব, সৈকত ও মিরাজের মতো স্পিনাররা যুৎসই হতে পারত। যদিও টাইগারদের স্পিন মোকাবেলায় বাড়তি প্রস্তুতি নিয়ে অনুশীলন করেছে টিম অস্ট্রেলিয়া। তৃতীয়ত, শর্ট বল মোকাবেলায় পারদর্শী হয়ে উঠেছেন ব্যাটসম্যানরা। এমন আত্মবিশ্বাসের মধ্যে দলে দুই পরিবর্তন মানতে পারেননি ভক্তরা।


আরো সংবাদ

সকল




hacklink Paykwik Paykasa
Paykwik