২০ জুলাই ২০১৯

টনটনে মিরাজ না রুবেল

-

অনেক দিন থেকেই রুবেলকে একাদশে খেলানোর ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করছিলেন ক্রিকেট বোদ্ধারা। কিন্তু দলের কথা চিন্তা করে কিংবা ভালো কিছুর আশায় পিছিয়ে যাচ্ছিল রুবেলের অন্তর্ভুক্তি। এবার টনটনে রুবেলের ফেরার যথেষ্ট সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এর যথেষ্ট কারণও রয়েছে। টনটনের মাঠ ছোট বলে স্পিনারের পরিবর্তে পেসাররাই কামিয়াব হবে বলে বিশ্বাস বোদ্ধাদের। এমন যদি হয় তাহলে স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজের দিকেই বন্দুকের নল তাক করা থাকবে।
অনেকেই বলাবলি করছেন, টনটনের মাঠ আকারে বেশ ছোট। শুধু দুই দিকে বা স্কয়ারে নয়। মাঠের আকার সোজা, মিড অফ-অনেও অন্য সব মাঠের চেয়ে কম। সেখানে স্পিনারদের স্কয়ারে আর মিড অফ, মিড অনের মাথার ওপর দিয়ে তুলে সীমানার ওপারে পাঠানো বেশ সহজ। এমন কথা মাথায় রেখে এই মাঠে গত বুধবার পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার দুই দলই চার জন করে পেসার নিয়ে মাঠে নেমেছিল। অস্ট্রেলিয়ান লাইন আপে ছিলেন মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স, কেইন রিচার্ডসন আর নাথান কল্টার নাইল। অন্য দিকে পাকিস্তানের হয়ে খেলেছেন মোহাম্মদ আমির, ওয়াহাব রিয়াজ, শাহিন শাহ আফ্রিদি ও হাসান আলি। স্পিনার ছিল না বললেই চলে।
১৭ জুন কি করবে বাংলাদেশ? ছোট মাঠে একটু তুলে মারলেই চার-ছক্কা হবে। স্পিনাররা মার খেতে পারেন। এমন চিন্তায় মিরাজকে বাইরে নিয়ে পেসার রুবেল হোসেনকে খেলানোয়ও আছে অন্য রকম সমস্যা। মনে রাখতে হবে, প্রতিপক্ষ ক্যারিবীয় ব্যাটিং লাইন আপে কিন্তু ক্রিস গেইল, শাই হোপ, সিমরন হেটমেয়ার ও আন্দ্রে রাসেলের মতো নির্দয় উইলোবাজ আছেন। যাদের ‘পাওয়ার হিটিং’ জগত সেরা। যারা নিজেদের দিনে যেকোনো বোলিং শক্তিতে দুমড়ে মুচড়ে দিতে পারেন। আর মাঠ আকারে ছোট হলে স্পিনারদের সর্বনাশ করে ছাড়তে পারেন।
বাংলাদেশের বোলিং শক্তির মূল অস্ত্রই স্পিনাররা। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ কাঁধের ইনজুরির কারণে বল করতে পারছেন না। স্পিনার বলতে সাকিব আল হাসান ও মেহেদি হাসান মিরাজ। পরিবেশ-পরিস্থিতি বুঝে মোসাদ্দেককেও ব্যবহার করা হচ্ছে। মিরাজ না খেললে তো একজন বোলার কমে যাবে, ৫০ ওভারের কোটা পূর্ণ করতে অন্তত পাঁচজন বোলার তো লাগবে! মিরাজ বাইরে গেলে সেই বোলার হবেন কে? টনটনের ছোট মাঠ, পাশে ও উইকেটের সামনে আকৃতিতে কম আউটফিল্ডে স্পিনার খেলানোয় থাকছে বাড়তি ঝুঁকি। সে কারণেই টনটনে একজন স্পিনার কমিয়ে চার পেসার দিয়ে দল সাজানোর কথা ভাবা হচ্ছে। তাই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে কি বাংলাদেশ সাকিবের সাথে মিরাজকে খেলাবে? মানে দুই স্পিনার নিয়ে মাঠে নামবে? নাকি মিরাজকে বাইরে রেখে মাশরাফি, মুস্তাফিজ আর সাইফউদ্দিনের সাথে চতুর্থ পেসার হিসেবে রুবেল হোসেনকে খেলানো হবেÑ এমন চিন্তা ভেতরে ভেতরে করছে টিম ম্যানেজমেন্ট।
তবে পেসার রুবেলকে খেলানোয়ও আছে ভিন্ন রকম সমস্যা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের টপ অর্ডারের দুই মূল ব্যাটিং স্তম্ভ বাঁ হাতি। ক্রিস গেইল আর এভিন লুইসকে শুরুতে আটকে রাখবেন কে? এই দুই আক্রমণাত্মক, ধ্বংসাত্মক বাঁ হাতি ওপেনারের ব্যাটিং তোড় সামলাতে তাদের বিপক্ষে একজন ডান হাতি অফস্পিনার দরকার! মিরাজকে বাইরে নিলে গেইল আর লুইসের শুরুর তোড় সামলানোর ব্যাপার রয়েছে। বাংলাদেশের স্পিন কোচ সুনীল যোশি সময়োচিত ইস্যুতে নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে পারেননি যে, মিরাজই খেলবেন। দ্বিধায় রয়েছেন তিনিও।
আর বাংলাদেশের বোলিং শক্তিটাই এমন যে, দলে চার পেসার খেলানোও একটু জটিল। তাতে একজন স্পিনার কমে যায়। ব্যাটিং পারফরমারের সংখ্যাও হ্রাস পায়। তাই মাশরাফি, মুস্তাফিজ আর সাইফউদ্দিনের সাথে রুবেলকে যোগ করে সোজা চার পেসার নিয়ে মাঠে নামা একটু কঠিন বৈকি। তাতে বোলিং বৈচিত্র্যও খানিকটা কমে যায়। যোশির হিসেবে, ‘আমাদের আগে পরিবেশ-পরিস্থিতি বিচার বিবেচনা করতে হবে। কাকে দিয়ে কিভাবে টপ ও মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের সামলানো হবেÑ তা বিচার বিবেচনা করেই লক্ষ্য ও পরিকল্পনা করব। সেভাবেই ছক কষা হবে।’
এ দিকে ব্যাট হাতে সাকিব প্রশংসিত হলেও বল হাতে কিছুটা নি®প্রাণ। স্পিন কার্যকারিতায় একটু পিছিয়ে। স্পিনার সাকিবকে স্ব মূর্তিতে দেখা যায়নি এখনো। এটা কি চিন্তার কারণ হতে পারে না উল্লেখ করে যোশি বলেন, ‘আমরা সবাই চাই সাকিব সঠিক সময় জ্বলে উঠুক। যে ম্যাচে দরকার, সে ম্যাচেই বোলার, স্পিনার সাকিব তার সেরাটা দিক। সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

 


আরো সংবাদ




gebze evden eve nakliyat instagram takipçi hilesi