১৭ জুন ২০১৯

গ্র্যান্ডমাস্টার বিহীন আন্তর্জাতিক রেটিং দাবা

-

নিজেদের ঘরেই হচ্ছে আন্তর্জাতিক রেটিং দাবা প্রতিযোগিতা। ২০০৯ সাল থেকে ধারাবাহিক পৃষ্ঠপোষকতা করে যাচ্ছে ওয়ালটন। ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও মান বাড়েনি এই টুর্নামেন্টের। এবারের প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন না কোনো গ্র্যান্ডমাস্টার। আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া ছয় দিনব্যাপী এই টুর্নামেন্টে ১২০ জন প্রতিযোগীর আশা করছে ফেডারেশন। নামে আন্তর্জাতিক রেটিং দাবা হলেও বিদেশী দাবাড়–র অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়নি। দেশের বাইরে শুধু কলকাতা থেকে তিন-চার জন দাবাড়– অংশ নিতে পারেন বলে মনে করছেন ফেডারেশনের কর্তারা।
টুর্নামেন্টের মূল উদ্দেশ্য রেটেড প্লেয়ারদের রেটিং বৃদ্ধি করা। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বলে বিদেশী প্লেয়ার হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। যাদের আন্তর্জাতিক অর্থাৎ ফিদে রেটিং আছে তারাই এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন। গতকাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি পরিষ্কার করলেন ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক ও টুর্নামেন্ট কমিটির সদস্য সচিব দীপু ও আন্তর্জাতিক অরবিটর হারুন অর রশিদ।
তাদের কথায়, ‘আন্তর্জাতিক রেটিং টুর্নামেন্ট বলে দেশের বাইরের প্রতিযোগী হতে হবে এমনটি নয়। যাদের আন্তর্জাতিক রেটিং পয়েন্ট আছে তারাই অংশ নিবে বলে প্রতিযোগিতার নাম আন্তর্জাতিক রেটিং টুর্নামেন্ট। তবে হ্যাঁ, বিদেশী খেলোয়াড় হলে প্রতিযোগিতার মান বাড়ে। পাশাপাশি দেশ শ্রীলঙ্কা, নেপাল, পাকিস্তান, ভুটান থেকে দাবাড়–রা এলে তাদের থাকার ব্যবস্থা করতে হবে ফেডারেশনকে। সেখানে বিশাল অঙ্কের একটা খরচ হয়ে যায়। যে কারণে ফেডারেশন থেকে তাদের ওভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয় না। আর কলকাতার প্রতিযোগীরা দিল্লি না গিয়ে বাংলাদেশে আসাটাই উত্তম মনে করে। তাতে তাদের সময় ও অর্থ দুটোই সেভ হয়। এসব টুর্নামেন্টগুলো মূলত রেটেড প্লেয়ারদের রেটিং বাড়ানোর সুযোগ থাকে।’
গ্র্যান্ডমাস্টারদের অংশ না নেয়ার বিষয়ে তারা বলেন, ‘দুইজন গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোর্শেদ ও জিয়াউর রহমান রয়েছেন দেশের বাইরে। চাকরি নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন রিফাত বিন সাত্তার। বাকিরা মূলত অংশ নিতে চাচ্ছেন না। এখানে মূলত জিএম, আইএম লেভেলের ছাড়া বাকিরা অংশ নিয়ে থাকেন রেটিং বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে। বিশেষ করে নতুনদের জন্য দারুণ সুযোগ। দেশের প্রতিযোগিতা হলেও তাদের এই রেটিংটি যোগ হবে বিশ্ব দাবা ফেডারেশনের ওয়েবসাইটে। একজন প্রতিযোগী বুক ফুলিয়েই বলতে পারবেন আমি আন্তর্জাতিক রেটেড প্লেয়ার। অর্থাৎ একজন দাবাড়–র প্রোফাইল দেয়া থাকে ওই ওয়েবসাইটে। তার একটি আইডি নম্বরও থাকে।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটনের এফএম ইকবাল বিন আনোয়ার, ফেডারেশনের সহসভাপতি ও টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান কে এম শহীদউল্যা। বিজয়ীদের জন্য রাখা হয়েছে দেড় লাখ টাকার প্রাইজমানি এবং অর্ধলাখ টাকার হোম অ্যাপ্লায়েন্স।


আরো সংবাদ