১৬ জুন ২০১৯

৫ সিনিয়রের ওপর নির্ভরশীল নয় বাংলাদেশ

আয়ারল্যান্ড সিরিজের পর হেড কোচ স্টিভ রোডসের উপলব্ধি
-

সাকিবকে বলা হয় একের মধ্যে তিন। বাস্তবেও তাই। ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং। এর সঙ্গে মাঠে একজন উজ্জীবিত ক্রিকেটারও। যার অনুপ্রেরণায় অন্য ক্রিকেটাররাও উৎসাহ পান পারফরম্যান্স করতে। ফলে সাকিবের উপস্থিতি মানে অনেক কিছু। কিন্তু আয়ারল্যান্ডে তিন জাতি ক্রিকেটের ফাইনালে ছিলেন না সেই সাকিব। এর পরও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে যে খেলাটা খেলেছে বাংলাদেশ। ব্যাট হাতে যে চেজিং করেছে ব্যাটসম্যানরা, সেটা এক কথায় অসাধারণ। দলের হেড কোচ তার দলের এমন পারফরম্যান্সে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তার কথায়Ñ বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনটা যে কতটা গভীর সেটা এ সিরিজে (আয়ারল্যান্ডে তিন জাতি) প্রমাণ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, দলের মূল খেলোয়াড় সাকিব নেই। সে তিন এ ব্যাটিং করে। এর পরও মোসাদ্দেকের মতো ক্রিকেটার অনেক নিচে যিনি ব্যাটিংয়ের সুযোগ পান। এ ম্যাচে তিনি তার ব্যাটে পাওয়ার দেখিয়েছেন, যা সত্যিই দুর্দান্ত। শুধু তা-ই নয়, দলের তিন ক্রিকেটার স্পেশাল ম্যাচ খেলেছেন; যার একজন ওই মোসাদ্দেক। তিনি বলেন, খুব যে ভালো একটা স্থানে তিনি ব্যাটিং করতে নেমেছিলেন, তাও না (৭ এ)। তবু তিনি তার মেধার বিকাশটা দেখিয়েছেন। সৌম্য, মোসাদ্দেকের এমন পারফরম্যান্সে রোডস বলেন, এটাই প্রমাণ করে বাংলাদেশ এখন ‘ফাইভম্যান আর্মি’ নির্ভর নয়। কারণ সাকিব ইনজুরিতে। পঞ্চপাণ্ডবের বাকি যারা খেলেছেন, যেমন মুশফিক, মাশরাফি, মাহমুদুল্লাহ ও তামিমরা খুব ভালো করেনি। কিন্তু তরুণেরা এ ম্যাচে দুর্দান্ত খেলেছেন। তিনি বলেন, দলে আরো কিছু ভালো খেলোয়াড় রয়েছেন যারা সুযোগের অপেক্ষায়। এ ব্যাপারে তিনি আবু জায়েদ রাহী ও লিটন দাসের কথা বোঝাতে চেয়েছেন। কারণ আবু জায়েদ আগের ম্যাচে বোলিং করতে নেমে ৫ উইকেট নেন। তবু তিনি ফাইনালে খেলার জন্য স্থান পাননি। লিটনও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে এক ম্যাচে খেলতে নেমে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন। তবু তাকেও বিবেচনা করা হয়নি। কারণ তাদের সেরা একাদশের ওপরই আস্থাশীল ছিল। যারা প্রমাণ দিয়েছে। তিনি বলেন, এ ম্যাচের মাধ্যমে দল যে আত্মবিশ্বাসী তার প্রমাণ দিয়েছে। এবং এটি বজায় রাখতে পারলে বড় দলগুলোর বিপক্ষেও জয় পাওয়া সম্ভব। আশা করি এখন লোকেরা তাদের সেই পুরনো কথা যেটা তারা বলত যে দলের ৫ সিনিয়র পারফর্ম না করলে ম্যাচে সাফল্য আসে না এ কথা বলা বন্ধ করবেন।
এ ইংলিশম্যান উল্লেখ করেন, জায়েদের মতো ক্রিকেটার যেখানে আগের ম্যাচে পাঁচ উইকেট দুর্দান্ত পেয়েও চান্স পাননি। তার অর্থ দলের যে সেরা একাদশ খেলেছেন তারাই যেসব তা নয়। তার বাইরেও খেলোয়াড় রয়েছেন। তিনি বলেন, আসলে ক্রিকেটারদের ওপর আস্থা রাখা প্রয়োজন। তেমনি ক্রিকেটারদের ধৈর্য ধরে খেলা প্রয়োজন। সৌম্য সরকারের বিষয়টাই লক্ষ করলে দেখা যাবে। ঘরোয়া ক্রিকেটে (ডিপিএল) সে ডাবল সেঞ্চুরি করেছে। পরপর সেঞ্চুরি করেছে। সে ধারা অব্যাহত রেখে সে আয়ারল্যান্ডেও সাফল্য পেয়েছে। অথচ সে তার আগেও খুব একটা পারফর্ম করতে পারছিলেন না। ফলে এসব ক্রিকেটার যখন খেলে তখন তারা সত্যিকার অর্থেই দুর্দান্ত পারফর্ম করে। অথচ এর আগেও তাকে সমালোচনা সহ্য করতে হয়েছে। নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারছেন না এ জন্য। আমার মনে হয়, এখন সবাই তাকে সাপোর্ট দেবে। আমরাও তাকে যথেষ্ট সাপোর্ট দিচ্ছি। কিন্তু সবাই সেটা কিন্তু করে না। দলের ব্যাটিং অর্ডার নিয়েও কথা বলেছেন এ কোচ। কারণ সবাই সবসময় পারফর্ম নাও করতে পারেন। ইনজুরির জন্য বাদও পড়তে পারেন। এটাও ঠিক আমাদের ব্যাটিং লাইন সাকিব না থাকা অবস্থায়ও সেভাবেই সাজিয়েছি। যেমনটি মুশফিকুর নাম্বার ফোর, মোহাম্মদ মিথুন ৫ এ, ও মাহমুদুল্লাহ ৬। সাকিবের তিন এ খেলানো হয়েছিল সাব্বিরকে। আমরা আসলে খেলোয়াড়দের এভাবে গড়ে তুলেছি; যাতে তারা যেখানে যার দায়িত্ব পড়বে, সেটা যেন সে ভালোমতো পালন করে আসতে পারে।


আরো সংবাদ