১৭ জুন ২০১৯

লিগে চ্যাম্পিয়নশিপের সব আকর্ষণই শেষ?

-

মাত্রই ১৪টি করে ম্যাচ শেষ করেছে দলগুলো। তা নোফেল স্পোর্টিং এবং ব্রাদার্স ইউনিয়ন ছাড়া। তাদের খেলে ফেলা ম্যাচের সংখ্যা ১৩টি করে। অন্য ১১ দলের মতো বসুন্ধরা কিংসেরও অবশিষ্ট ১০টি খেলা। এখনো পাল্টে যেতে পারে লিগের হিসাব। অথচ গত পরশু ঢাকা আবাহনীর বিপক্ষে বসুন্ধরা কিংসের জয়ই শেষ করে দিয়েছে এবারের লিগের শিরোপার সব আকর্ষণ। এমন গুঞ্জনই দেশের ফুটবল অঙ্গনে। গত পরশুর আগ পর্যন্ত এবারের লিগ রেসে ছিল বসুন্ধরা কিংস, ঢাকা আবাহনী এবং শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র। কিন্তু বসুন্ধরার ফের আবাহনী জয় এখন বলতে গেলে ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে গেছে প্রিমিয়ারে নবাগতদের। ১৪ খেলায় ৪০ পয়েন্ট বসুন্ধরার। ৩৩ পয়েন্টে আটকা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ঢাকা আবাহনী এবং শেখ রাসেল। বাকি ১০ ম্যাচের যেকোনো তিনটিতে বসুন্ধরা সাত পয়েন্ট হারালে এবং আবাহনী ও শেখ রাসেল বাকি সব খেলায় জিতলেই জমে যাবে লিগ। লিগের শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে আকর্ষণ। এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। যদিও পেশাদার লিগের অতীত ইতিহাস এবং বাংলাদেশের ফুটবল সংস্কৃতি সাক্ষী দিচ্ছে এই পরিস্থিতিতে শীর্ষে থাকা দল কোনো ঝুঁকি নেয় না। তারা যেভাবেই হোক সব ম্যাচে জয় তুলে নেয়। তাই সবার কানাঘুষা বসুন্ধরা আর কোনো ম্যাচে পয়েন্ট হারাবে না। খেলে বা ম্যানেজ করে জিতে যাবে সব ম্যাচ। মানে লিগ শিরোপার সব প্রতিদ্বন্দ্বিতারই পরিসমাপ্তি। এখন যা একটু আকর্ষণ টিকে থাকার লড়াইয়ে।
অবশ্য এই আগাম অনুমানকারীদের সাথে দ্বিমত বসুন্ধরা কিংসের সভাপতি ইমরুল হাসানের। তার মতে, আমরা ফাইট ম্যাচ খেলেই অবিশষ্ট সব খেলায় পয়েন্ট কব্জা করব। পাতানো ম্যাচ খেলার প্রশ্নই আসে না।।’ তার পাল্টা যুক্তি, ‘আমরা যদি পাতানো খেলতাম তাহলে বিজেএমসির মতো দলের সাথে কি ড্র করতাম প্রথম রাউন্ডে।’ নিজ দলের ফুটবলারদের উপর সম্পূর্ণ আস্থা রেখে ইমরুল জানালেন, ‘দেখুন আবাহনীর বিপক্ষে ফিরতি ম্যাচে বসুন্ধরা কিংস কার্যত দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে খেলে জিতেছে। মূল একাদশের চার ফুটবলার না থাকা মানে তো তা সেকেন্ড টিমই। এই দল নিয়ে যদি আমরা আবাহনীর মতো দলকে হারাকে পারি তাহলে পূর্ণশক্তিতে অন্য ম্যাচে কেন জিততে পারব না।’ এখন বসুন্ধরা কিংস প্রথম লিগ শিরোপা জয়ের ক্ষেত্রে চেয়ে আছে ঢাকা আবাহনী এবং শেখ রাসেলের ম্যাচের দিকে। ইমরুল জানান, সে ম্যাচ ড্র হলেই লাভ আমাদের।
তবে এখনই শিরোপা নিশ্চিত বলছেন না শীর্ষে থাকা দলটির স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজন। তার মতে, ‘এখনো লম্বা পথ বাকি। অবশিষ্ট ১০টি ম্যাচ। অনেক কিছুই ঘটতে পাবে। তাই আমি কোনো ভাবেই বলব না ৭ পয়েন্ট এগিয়ে থাকা মানে লিগ টাইটেল আমাদের।’
ঢাকা আবাহনীর কোচও মনে করছেন না তাদের আশা শেষ। তবে বেশ কঠিন এই মিশন। বললেন দলের পর্তুগিজ কোচ মারিও লেমস। যদিও তাদের সমর্থকদের মধ্যে গত পরশু রাতে সব শেষের হা-হুতাশ করতে দেখা গেছে। তাদের বক্তব্য, বসুন্ধরা বাকি ম্যাচ যেভাবেই হোক জিতবে।
ফিরতি পর্বে বসুন্ধরা কিংস খেলেছে মাত্র শেখ জামাল এবং আবাহনীর বিপক্ষে। জয় এই দুই দলের বিপক্ষেই। এখনো তাদের পেরুতে হবে সাইফ স্পোর্টিং, শেখ রাসেল, চট্টগ্রাম আবাহনীর মতো বাধা। এ ছাড়া টিতে থাকার লড়াই করা নোফেল স্পোর্টিং, রহতমগঞ্জ, ব্রাদার্স, বিজেএমসি, মোহামেডান তাদের ছেড়ে কথা বলবে না। মাঝারি সারির আরামবাগ ও মুক্তিযোদ্ধাও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়ার মতো।
তবে পেশাদার লিগের গত ১০টি আসরের ইতিহাস কিন্তু এই পরিস্থিতিতে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত শিরোপার লড়াইয়ের সাক্ষী দেয় না। চরম নোংরামির দৃষ্টান্ত স্থাপন করে ধারাবাহিক পাতানো ম্যাচে জিতে দলগুলো চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ব্যতিক্রম ছিল এক দুইবার। বাফুফের পেশাদার লিগ কমিটি কখনো না দেখার ভান করে কখনো প্রমাণের অভাবে এর বিচার করেনি। অবশ্য ব্যাপক সমালোচনায় দুই একটি শাস্তি তারা দিয়েছে। এবারো বাফুফে সক্রিয় হলে আকর্ষণ এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শেষ হবে লিগ।


আরো সংবাদ