১৭ জুন ২০১৯

২০০ তে ২৫৫ মাশরাফি!

উইকেট নিলেন মাশরাফি। সতীর্থরা তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন :এএফপি -

চার দিকে শুধু মাশরাফি! খেলার মাঠ ছাড়িয়ে নির্বাচনী মাঠ। সর্বত্রই শুধু ওই নাম। বিশেষ করে ক’দিন থেকে নড়াইল এক্সপ্রেসের নামটাই উচ্চারিত হচ্ছে বার বার। কখনো খেলার মাঠ। কখনো নির্বাচনী মাঠ। জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা এ ক্রিকেটার শিরোনামও হচ্ছেন খবরের। কাল আরেকটি অর্জন হলো তার। না! সংসদ সদস্য হয়ে যাননি। এবার অর্জন তার ২০০তম ওয়ানডে ম্যাচ খেলার কৃতিত্ব অর্জন। বাংলাদেশের প্রথম কোনো ক্রিকেটার হিসেবে মাশরাফি বিন মর্তুজা প্রথম ২০০ ওয়ানডে ম্যাচ খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। এদিন তার উইকেট সংখ্যা দাঁড়ালো ২৫৫। ক্রিকেটে তার মূল রোল পেস বোলার। এখন তো ব্যাটিংও করেন। ক্যাপ্টেনসিটাও করে যাচ্ছেন ফ্রন্টলাইনে থেকেই। বয়সের ভারে কিছুটা নুয়ে গেলেও পারফরম্যান্সে সেটা মোটেও ঠাহর করা যাবে না। বয়সের ব্যাপারটা নিজেই বলে দিয়েছেন। বেশিদিন খেলবেন না আর সে ঘোষণাও দিয়ে রেখেছেন। বড়জোড় আগামী বিশ্বকাপ। ওই আসরটাই তার শেষ সম্ভবত। মাশরাফির শারীরিক যে কন্ডিশন তাতে ক্রিকেট ম্যাচ খেলা সম্ভব না,এটা তার চিকিৎসকেরাও বলেছেন। কিন্তু তার মনের জোরের কাছে সবই পরাস্ত। সব হিসাব উল্টে যায় নড়াইল এক্সপ্রেসেরে মনোবলে। বাংলাদেশ দল কেমন মাশরাফিকে চায়? এ প্রশ্নের অনেক ব্যাখ্যা এসেছে। কিন্তু অধিনায়ক মাশরাফির যেমন গুরুত্ব, তেমনি বোলার মাশরাফির গুরুত্ব কম নয়। অনেকেই মনে করছেন ভালো একজন অধিনায়ক হিসেবেই মাশরাফি টিকে যাচ্ছেন দলে! এ নিয়ে অনেক বিতর্ক থাকলেও বাস্তবতা ভিন্ন। মাশরাফির পারফরম্যান্সটাও এখন টিম বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দলের প্রয়োজনে যে উইকেটগুলো তিনি নিয়ে থাকেন তার যেমন গুরুত্ব, তেমনি ব্যাট হাতেও মাশরাফির অনেক বিপদে দলকে সহায়তা দিয়ে সাফল্যের মুখ দেখান। ওয়ানডে ক্রিকেটে তিনি যেমন প্রথম ২০০ ম্যাচ খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। তার পেছনে নাইন্টির ঘরে আছেন মুশফিক, সাকিবও। তবে উইকেট সংগ্রহে এখনো মাশরাফি ছাড়িয়েছেন সবাইকেই। গত ম্যাচেও নিয়েছেন তিনটি। এর মধ্যে রয়েছেন ওপেনার ও শাই হোপ, ড্যারেন ব্রাভো ও রোভম্যান পাওয়েল। ২৯ রানের ওপেনিং পার্টনারশিপ বিচ্ছিন্ন করেছিলেন কাল সাকিব আল হাসান। এরপর হোপ ও ব্রাভো যখন জমিয়ে দিয়েছিলেন পার্টনারশিপ। সেটা বিচ্ছিন্ন করেন ওই মাশারফি। দলের ৬৫ রানে প্রথম ব্রাভো এরপর হোপকে আউট করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের এগিয়ে যাওয়ার গতি নিয়ন্ত্রণ করেন। পরে ডেঞ্জার ব্যাটসম্যান রোভম্যান পাওয়েলকেও আউট করেন এ ডানহাতি পেসার। কাল চার নম্বরে বোলিং করতে আসেন তিনি। ১০ ওভারে ৩০ রান দিয়ে নেন তিনি ওই উইকেটগুলো। কালকের ম্যাচে মুস্তাফিজও তিন উইকেট নিয়েছেন ৩৫ রানের বিনিময়ে। তবে বোলিংয়ে সেরা পারফরম্যান্সটা মাশরাফিরই।
এ সিরিজ শুরুর আগে ব্যক্তিগত কিছু বক্তব্য দেয়ার জন্য সংবাদ সম্মেলন করে নিজের না বলা অনেক কথা জানান দেশবাসীকে। সেখানে তার রাজনীতির মাঠে নেমে যাওয়ার বিষয়টাই উঠে আসে বেশি। মাশরাফি তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন। বলে ছিলেন রাজনীতির মাঠের প্রভাব তার পারফরম্যান্সের ওপর পড়বে না। কথা রেখেছেন। বল হাতে সেরা নৈপুণ্য দেখিয়ে কথা রেখেছেন। অনেকেই শঙ্কাও প্রকাশ করেছিলেন। বলেও ফেলেছিলেন মাশরাফি তো নিজ এলাকা নড়াইল-২ এর নির্বাচন নিয়েই ব্যস্ত হয়ে যাবেন। টেনশন করবেন। ব্যস্ত থাকবেন। কিন্তু মাশরাফি তার জবাবে বলেও দিয়েছিলেন, ১৪ ডিসেম্বরের (ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডে) পর নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ব। তার আগে নির্বাচন আমার মাথায় ঢুকবে না। থাকবে সেখানে খেলা। প্রস্তুতি ম্যাচে চমৎকার পারফরম্যান্স করে প্রমাণ দেয়ার পর কাল মিরপুরে প্রথম ওয়ানডেতেও প্রমাণ দিলেন। সত্যিই মাশরাফির তুলনা তিনি নিজেই। যা বলেন, সেটা করে দেখান এ অভ্যাস নতুন না। বলে কয়ে বড় বড় দলকে হারানোর নজির আছে। এখনো সে নীতিতেই আছেন। আসলেই, মাশরাফি, মাশরাফি-ই।


আরো সংবাদ