২২ মার্চ ২০১৯
মোহামেডান ও নোফেলের বিদায়

কোয়ার্টারে রহমতগঞ্জ চট্টগ্রাম আবাহনী

রহমতগঞ্জ ৩-০ নোফেল; মোহামেডান ০-০ চট্টগ্রাম আবাহনী
-

ব্যর্থতার বেড়াজাল থেকে কিছুতেই বের হতে পারছে না দর্শকনন্দিত ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। ফেডারেশন কাপ ফুটবলের মতো স্বাধীনতা কাপ ফুটবলেও গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে সাদা-কালো জার্সিধারীরা। নবাগত নোফেলও সঙ্গী হলো মোহামেডানের। গ্রুপ সেরা হয়ে চট্টগ্রাম আবাহনী ও রানার্স আপ হয়ে কোয়ার্টারে নাম লেখালো রহমতগঞ্জ।
নবাগত নোফেল স্পোর্টিং ক্লাবকে হারিয়ে স্বাধীনতা কাপে নিজেদের প্রথম জয় পেল রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস অ্যান্ড সোসাইটি। তাতেই কোয়ার্টারে উঠে গেল দলটি। আর বিদায় নিলো নোফেল। এ দিকে চট্টগ্রাম আবাহনীর সাথে গোলশূন্য ড্র করে বিদায় ঘণ্টা বেজেছে ঐতিহ্যবাহী মোহামেডানের। গ্রুপ সেরা হয়ে কোয়ার্টারে উঠল চট্টলার দলটি।
বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে গতকাল স্বাধীনতা কাপের ‘বি’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে চট্টগ্রাম আবাহনীর সাথে গোলশূন্য ড্র করেছে মোহামেডান। ফলে তিন ম্যাচের প্রতিটিতেই জয়হীন অবস্থায় গ্রুপের তলানিতে থেকে বিদায় নিতে হয়েছে সাদা-কালোদের। মোহামেডানদের ব্যর্থতার কারণে আসরের শেষ দল হিসেবে কোয়ার্টার নিশ্চিত করেছে রহমতগঞ্জ।
চট্টগ্রাম আবাহনীর সাথে মোহামেডান ড্র করায় কোনো সমীকরণে যেতে হয়নি। এর ফলে ‘বি’ গ্রুপে দুই জয় ও এক ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ সেরা হয়েছে চট্টগ্রাম। একটি করে জয়, ড্র ও হারে ৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় হয়েছে রহমতগঞ্জ। মোহামেডানকে হারানো নোফেল তৃতীয় ও মোহামেডান হয়েছে সবার শেষ অর্থাৎ ৪ নম্বর। প্রথম ম্যাচে রহমতগঞ্জ তিন গোলে জেতায় নকআউটে যেতে মোহামেডানের সামনে ছিল কঠিন সমীকরণ। কোয়ার্টারে যেতে চট্টগ্রাম আবাহনীকে হারাতে হবে ৪-০ গোলে। কিন্তু চার গোল দূরে থাক, জয়ের মতো খেলতেই পারেনি মোহামেডান। বরং বন্দর নগরীর দলটি গোল মিসের মহড়া না করলে আরো একটি হার নিয়ে মাঠ ছাড়ত ঐতিহ্যবাহী দলটি।
আজ টুর্নামেন্টের কোনো খেলা নেই। আগামীকাল থেকে মাঠে গড়াবে শেষ আটের লড়াই। সেমিফাইনালের টিকিট পাওয়ার মিশনে এই স্টেজে মুখোমুখি হবে আরামবাগ-ব্রাদার্স ইউনিয়ন, চট্টগ্রাম আবাহনী- শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র, ঢাকা আবাহনী-সাইফ স্পোর্টিং ও বসুন্ধরা কিংস-রহমতগঞ্জ। আগামীকাল আরামবাগ ও ব্রাদার্স শেষ আটের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে। ১৯ ও ২০ ডিসেম্বর হবে আসরের দুই সেমিফাইনাল। ২৪ ডিসেম্বর হবে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ।
দিনের প্রথম ম্যাচে গতকাল নকআউটে যেতে জয়ের বিকল্প ছিল না রহমতগঞ্জের। যে শুরু থেকেই আক্রমণে যেতে থাকে তারা। প্রত্যাশিত জয়ও পেয়েছে দলটি। প্রথমার্ধে রাকিবুল ইসলামের গোলে রহমতগঞ্জ এগিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে জোড়া গোলে ব্যবধান বাড়ান কঙ্গোর ফরোয়ার্ড সিও জুনাপিও। রহমতগঞ্জকে জয় এনে দেয়ার নেপথ্য কারিগর কঙ্গোর ফরোয়ার্ড সিও জুনাপিও। ২০১১ সাল থেকেই ঢাকার মাঠে এই বিদেশী। ওই বছর প্রথম ফরাশগঞ্জে খেলেন এই ফুটবলার। ২০১৬ সালে রহমতগঞ্জে ছিলেন। পরের মওসুমে ব্রাদার্সে যোগ দেন। এ বছরের শুরুতে কলকাতার আই লিগের দল চার্চিল ব্রাদার্সে খেললেও মওসুম শুরুতে দলবদল করেন রহমতগঞ্জে।
মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সাথে গোলশূন্য ড্রয়ে আসর শুরু করা দলটি নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে চট্টগ্রাম আবাহনীর কাছে ১-০ গোলে হেরে যায়; যে কারণে নোফেলের বিরুদ্ধে জয়ের বিকল্প ছিল না। তাতে দলটি শতভাগ সফল।
৩৬ মিনিটে রাকিবুলের বাঁ পায়ের দারুণ ভলিতে এগিয়ে যায় রহমতগঞ্জ (১-০)। এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় তারা। বিরতির পর ৬৩ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে রহমতগঞ্জ। ফয়সাল আহমেদের কর্নার থেকে হেড করে জাল খুঁজে নেন সিও জুনাপিও (২-০)। ৮৩ মিনিটে মধ্যমাঠ থেকে একাই বল টেনে নেন জুনাপিও। নোফেল সীমানায় ডি বক্সে না ঢুকেই আচমকা দুরন্ত গতির শট নেন। বোকা বনে যান নোফেলের চার ডিফেন্ডারসহ গোলরক্ষক (৩-০)। তাতেই জয় নিশ্চিত হয় রহমতগঞ্জের। ম্যাচে নোফেলও বেশ কয়েকটি ভালো সুযোগ সৃষ্টি করে। কিন্তু ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায় গোলের দেখা পায়নি নবাগত দলটি।
রহমতগঞ্জ বড় ব্যবধানে জয়ী হওয়ায়ই মোহামেডানের সামনে কঠিন সমীকরণ সৃষ্টি হয়। কিন্তু শক্তিশালী চট্টগ্রাম আবাহনীর বিরুদ্ধে তেমন কিছুই করতে পারেনি দলটি। স্টেডিয়ামে জড়ো হওয়া কিছু মোহামেডান সমর্থক ঘরে ফিরেছেন হতাশা নিয়ে। আগেই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত হওয়ায় বন্দর নগরীর দলটি নির্ভার হয়েই মাঠে নেমেছিল। কিন্তু এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি মোহামেডান। ফলে আবার ব্যর্থতার বলয় মাথায় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে সাদা-কালোদের।


আরো সংবাদ




iptv al Epoksi boya epoksi zemin kaplama Daftar Situs Agen Judi Bola Net Online Terpercaya Resmi

Hacklink

instagram takipçi satın al ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme

instagram takipçi satın al