১৭ জুন ২০১৯

পিএইচডির অপেক্ষায় জুঁই

-

বাংলাদেশের ক্রীড়া জগতে পিএইচডি করা কয়েকজন পুরুষ অ্যাথলেট থাকলেও মহিলাদের মাঝে একজনই পিএইচডি করছেন। তিনি হলেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বর্ণপদক জেতা ও বর্তমানে বিকেএসপির অ্যাথলেটিকস কোচ ফৌজিয়া হুদা জুঁই।
২০১০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাথলেটিকস কোচ হিসেবে ইন্টারভিউ দিয়ে মনোনীত হননি। তখন তিনি মনে মনে ভেবেছেন, হয়তো তার যোগ্যতা কম রয়েছে। যোগ্যতা বৃদ্ধি করতে অবশ্যই পিএইচডি করতে হবে। যেই ভাবা সেই কাজ। চলে গেলেন মালয়েশিয়ায়। তিন বছর সেখানে অধ্যয়ন করে ২০১৭ সালে দেশে ফিরেছেন। এখনো থিসিস জমা দেননি। আগামী বছরের শুরুর দিকেই থিসিস জমা দেবেন বলে জানালেন জুঁই, ‘মালয়েশিয়া সায়েন্স ইউনিভার্সিটিতে এক্সারসাইজ ও স্পোর্টস সায়েন্সে পিএইচডি করছি। নোট অব সাবমিশন দেয়া হয়নি। থিসিস লিখছি। ছয় মাসের মধ্যে আশা করছি জমা দিতে পারব।’
২০০০-২০১০ সাল পর্যন্ত একটানা লংজাম্পে চ্যাম্পিয়ন ছিলেন জুঁই। ২০০৪ সালে ৬.৭ মিটারের যে রেকর্ড গড়েছেন তা এখনো অক্ষত। ২০০০ ও ২০০২ সালে জাতীয় মিটে দ্রুততম মানবী। ২০০০ সালে পাকিস্তানের করাচিতে সাত জাতি আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতায় ১০০ মিটারে স্বর্ণ, লংজাম্পে রৌপ্যপদক পান। একই বছর সিডনি অলিম্পিকেও ১০০ মিটার স্প্রিন্টে অংশ নেন তিনি। ২০০১ সালে ইরানে তৃতীয় ওয়ার্ল্ড ওমেন ইসলামিক ইনডোর গেমসে লংজাম্পে স্বর্ণ ও ৬০ মিটার স্প্রিন্টে ব্রোঞ্জপদক পান। ২০০৪ সালে ইসলামাবাদ সাফ গেমসে লংজাম্পে রৌপ্য ও চার গুণিতক ১০০ মিটারে ব্রোঞ্জ জিতেন। তবে ২০০৬ সালটি নিজের করে নিয়েছেন জুঁই। প্রকৃতি দুই হাত ভরে দিয়েছে তাকে। ২০০৬ সালে মালয়েশিয়ার ইপোতে ১১তম এশিয়ান জুনিয়র মিটে লংজাম্পে ব্রোঞ্জ, মেলবোর্ন কমনওয়েলথে অংশগ্রহণ, শ্রীলঙ্কায় সাফে লংজাম্পে সিলভার জেতার পর দোহা এশিয়ান গেমসেও অংশ নেন। জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারটিও পান ২০০৬ সালে। ২০০৭ সালে ইনজুরির কারণে খেলা থেকে দূরে থাকলেও কোচ নজরুল ইসলাম রুমীর প্রেরণায় ২০১০ সালে অংশ নিয়ে ফের অবসরে যান।
অবসরের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘চিন্তা করে দেখলাম খেলোয়াড় হিসেবে আর কতকাল। প্রফেশন বলতেও একটা ব্যাপার থেকে যায়। যে কারণে কোচিং প্রফেশনে যাওয়া। বিকেএসপিতে মাল্টি ইভেন্ট কোচিংয়ের দায়িত্ব পালন করছি। অ্যাথলেট ছিলাম ১৯৯৭ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত। কোচ হিসেবে যোগ দিয়েছি ২০১০ সালে। আছি এখন পর্যন্ত। জার্মানিতে ২০১২-২০১৩ সালে ডিপ্লোমা করেছি। আইএএএফ লেভেল ওয়ান কোর্স করার পর ২০১৩ সালে লেকচারার কোর্সও করেছি।’
এখন পর্যন্ত আপনার রেকর্ড কেউ ভাঙতে পারেনি কিংবা নতুন কেউ উঠে আসছে না কেন। এমন প্রশ্নে জুই বলেন, ‘আমি স্কুল অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতা থেকে উঠে এসেছি। এখন তো স্কুল প্রতিযোগিতা নেই বললেই চলে। তৃণমূলে কাজ করতে হবে। তা না হলে ধ্বংস হবে অ্যাথলেটিকস। আমি চাই আমার ছাত্ররাই আমার রেকর্ড ভাঙুক। তবেই হবে আমার কোচিংয়ের সার্থকতা।’

 


আরো সংবাদ