২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

সোহেল আমাদের পেটেও লাথি মেরেছে

-

‘গোলকিপার সোহেলকে কোনোভাবেই ক্ষমা করা যাবে না। সে দেশের শত্রু। আমাদের শত্রু। সোহেল আমাদের পেটেও লাথি মেরেছে। ফেডারেশন যেন তার সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করে। কিংবা তার টাকা পয়সা বন্ধ করে দেয়। তাহলে বুঝবে আমাদের কষ্টটা।’ কথাগুলো স্টেডিয়াম চত্বরে ফ্যাগ, ভেপু বিক্রেতা রতন আলীর।
গ্রুপ পর্বে সাফ ফুটবলের আমেজ শুধু মাঠেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ছড়িয়ে গিয়েছিল স্টেডিয়ামের বাইরে মওসুমি ব্যবসায়ীর মাঝেও। শসা, পানি, জুস, পিঠা বিক্রেতা থেকে শুরু করে ফ্যাগ, হেড বেল্ট বিক্রেতা পর্যন্ত। আর টিকিট কালোবাজারিদের ছিল পোয়াবারো। বাংলাদেশ দুই ম্যাচ জয়ের পর নেপালের বিপক্ষে ম্যাচের দিন গ্যালারি ২০ টাকা টিকিটের মূল্য ছিল ১০০ টাকা। তাও হাহাকার। নেপালের বিপক্ষে ড্র কিংবা জয়ী হলেই বাংলাদেশ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে পৌঁছে যেত সেমিফাইনালে। তখন এই ২০ টাকার টিকিট হতো ২০০ টাকা।
রতন আলীর কথায়, ‘বাংলাদেশ ভুটান ও পাকিস্তানকে হারানোর পর মহল্লায় সমবায় থেকে ৩০ হাজার টাকা লোন নিয়ে ভেপু, পতাকা, পট্টি (মাথার ব্যান্ড) কিনেছি। এখন সেগুলো বিক্রি হচ্ছে না। বাংলাদেশের তো খেলাই নেই। কে কিনবে এগুলো। চকবাজারে ফেরত দিতে গিয়েছিলাম। তারাও নিচ্ছে না। সোহেল যদি ওই ভুল না করত তাহলে এত টেনশন হতো না। এক ঘণ্টায়ই সব বিক্রি হয়ে যেত।’
স্টেডিয়াম চত্বরেই পান-সিগারেটের দোকান আছে ময়না বেগমের। উত্তেজনাপূর্ণ কোনো ম্যাচ থাকলে দোকানে পঙ্গু স্বামীকে রেখে নিজেই টিকিট কালোবাজারি করেন। হতাশ তিনিও, ‘আমরা তো সবসময় টাকার সন্ধান পাই না। ভালো কোনো ম্যাচ থাকলে দুই-চার পয়সা হয়। তখন যা কামাই হয় বছরে সেটি দিয়ে কয়েকটি দিন ভালো-মন্দ খাই। এবারো সেই রকম আশা করছিলাম। শুনছি গোলকি খারাপ গোল খাইছে। ভালো একটি গোলকিপার নামাইলে আমাদের সাধ পূর্ণ হতো। আনন্দটা মাটি করল ওই গোলকিপার।’
দু’টি সেমিফাইনাল হলো গতকাল। অথচ আগের ম্যাচের চেয়ে চার ভাগের এক ভাগ দর্শকও নেই। নিজেদের মাটিতে অন্যরা কাপ নিয়ে যাবে সেটি নিজ চোখে দেখতে চাননি বলে অনেক দর্শকই মাঠ মুখো হননি। আজগর নামে একজন জানালেন, ‘কী খেলা দেখব। বাংলাদেশের খেলা হলে না হয় পয়সা খরচ করতাম। অন্যের খেলা টিভিতে বসেই দেখব। আবার যদি কখনো বাংলাদেশ খেলে তখন গ্যালারিতে বসে দেখব।’


আরো সংবাদ