২০ নভেম্বর ২০১৮

শিরোপার দাবিদার চার দলই

নেপাল-মালদ্বীপ ৪.০০; ভারত-পাকিস্তান ৭.০০
সেমিফাইনালকে সামনে রেখে নিজেদের প্রস্তুতি সেরে নিচ্ছেন ভারত এবং পাকিস্তানের ফুটবলারেরা :বাফুফে -

সাফে বাংলাদেশ নেই বলে অন্যান্য দেশের আগ্রহ তো কম হওয়ার কথা নয়। বিশেষ করে যে চারটি দল আজ বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হবে তাদের তো সময় কাটছে ঘোরের মাঝে। ফাইনালে ওঠার স্বপ্নে অফিসিয়ালরা ছক কষছেন কিভাবে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা যায়। কিভাবে ফাইনালের টিকিট কাটা যায়। মজার বিষয় হচ্ছে চারটি দলই চাচ্ছে ফাইনাল খেলতে। যদিও দু’টি দলকে বিদায় নিতে হবে। তারপরও তাদের মনোবল, অত্যধিক আস্থা, বুক চিতিয়ে লড়াই করার প্রবণতা বলে দিচ্ছে শিরোপার দাবিদার চার দলই। গতকাল বাফুফে ভবনে সেমি পূর্ববর্তী পোস্ট ম্যাচে এমন আগ্রহের কথাই জানান নেপাল, মালদ্বীপ, ভারত ও পাকিস্তানের কোচ ও খেলোয়াড়েরা।
বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে আজ টুর্নামেন্টের প্রথম সেমিফাইনালে বিকেল ৪টায় খেলবে নেপাল ও মালদ্বীপ। সন্ধ্যা ৭টায় দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ভারত-পাকিস্তান। নেপালের ম্যাচের চেয়ে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ আলাদা উত্তেজনা ছড়াবে সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না। যদিও পোস্ট ম্যাচে ভারত তাদের ফেবারিট মনে করেনি। তাদের তীর ছিল নেপালের দিকে। সবার থেকে টেকটিক্যালি নেপাল এগিয়ে রয়েছেন বলে উল্লেখ করেন ভারতের সহকারী কোচ ভেঙ্কটশ সাঙ্গাম।
ভারত-পাকিস্তান নিয়ে উত্তেজনায় ছিলেন উপস্থিত মিডিয়া কর্মীরাও। সে উত্তেজনায় পানি ঢেলে দিলো ভারত। পোস্ট ম্যাচে আসেননি দলের কোনো খেলোয়াড় কিংবা প্রধান কোচ। এসেছেন সহকারী কোচ। বাংলাদেশ সাফে নেই বলে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু ছিল ভারত-পাকিস্তান। উপমহাদেশে কিংবা সারা বিশ্বে এই দুই দলের ম্যাচ যে বাড়তি উত্তেজনা ছড়ায় তা বলার অপেক্ষা রাখে না। হোক সেটি ফুটবল, ক্রিকেট, হকি কিংবা যেকোনো ইভেন্ট।
তবে ফুটবলের সাফল্য বিচারে পাকিস্তানের চেয়ে ভারত যোজন যোজন এগিয়ে। প্রতিবেশী দুই দেশের রাজনৈতিক বৈরিতা থেকে শুরু করে খেলার বাইরের অনেক কিছুই থাকে চিত্রনাট্যে। সাফ ফুটবলে রেকর্ড সাতবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত। সেখানে অন্য কোনো দলই একবারের বেশি সাফ ট্রফি ছুঁয়ে দেখতে পারেনি। পাকিস্তান তো রানার্সআপও হতে পারেনি। তাদের সেরা সাফল্য ১৯৯৭ সালে তৃতীয় স্থান অর্জন। সবমিলে দুই দলের ২৩ বারের দেখায় ১৪টিতেই জিতেছে ভারত। ড্র ৬টিতে। পাকিস্তান জিতেছে মাত্র ৩টি ম্যাচ।
তিন বছর আন্তর্জাতিক ফুটবলে ছিল না পাকিস্তান জাতীয় দল। নিষেধাজ্ঞা শেষে দেশটি প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে এই সাফেই। প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে বাংলাদেশের কাছে ১-০ গোলে হার মানে। এরপর ভুটানকে হারিয়ে জায়গা করে নেয় সেমিফাইনালে। তিন বছর জাতীয় দলের কোনো খেলা না থাকায় র্যাঙ্কিংয়ে পাকিস্তানের বর্তমান অবস্থান ২০১। এ দিকে ভারত দক্ষিণ এশিয়ার গণ্ডিতে পড়ে থাকার চিন্তা করেনি। র্যাঙ্কিংয়ে তাদের বর্তমান অবস্থান ৯৬। সাফের আসরে তারা পাঠিয়েছে বয়সভিত্তিক দলকে। শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপকে সমান ২-০ গোলে হারিয়েছে ভারত। তাদের অনূর্ধ্ব-২০ দলটি ক’দিন আগে আর্জেন্টিনার অনূর্ধ্ব-২০ দলকে হারিয়েছে ২-০ গোলে। সেই দলের চারজন খেলোয়াড় রয়েছেন বর্তমান সাফ স্কোয়াডে।
তারপরও দলের সহকারী কোচ নিজেরের ফেবারিট মানছেন না। নেপালকেই তারা শিরোপার দাবিদার মানছেন। ভেঙ্কটশের কথায়, ‘আমরা ফেবারিট নই। পাকিস্তানকেও ফেবারিট মানছি না। নেপাল টেকনিক্যালি এগিয়ে। তারপরও পাকিস্তানকে ছেড়ে কথা বলবে না আমাদের দল। যদিও পাকিস্তানের প্লেয়াররা ফিজিক্যালি স্ট্রং। আমরা এগোতে চাই টেকনিক্যালি।’
ঢাকার মাঠেই ২০০৩ সালে ভারতকে হারিয়েছিল পাকিস্তান। নিজেদের ইতিহাসে ভারতের বিপক্ষে যা তাদের দ্বিতীয় জয়। তৃতীয় জয়টি পায় তারা ২০০৫ সালে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে। প্রথম জয়টি ছিল ১৯৫৯ সালে এএফসি এশিয়ান কাপে। পাকিস্তান দলের ব্রাজিলিয়ান কোচ জোসে এন্তোনিও নোগোয়েইরা ও অধিনায়ক সাদ্দাম বললেন, ‘টিম ইন্ডিয়ার বিপক্ষে ভালো খেলবে পাকিস্তান। সবশেষ ২০১৪ সালে ব্যাঙ্গালুরুতে তাদের মাটিতে সিরিজ জিতেছিলাম। সেটিই প্রেরণা। আমাদের একটা দিকেই পিছিয়ে, সেটি হলো তিন বছরে কোনো ম্যাচ খেলা হয়নি। ঢাকার মাঠে ভালো খেলে ফাইনালের টিকিট কাটবো, তাতে সন্দেহ নেই।’
নেপালের কোচ বালগোপাল মহারাজন বললেন, ‘মালদ্বীপের বিপক্ষে সবসময়ই বড় ব্যবধানে জিতেছে নেপাল। তারপরও প্রতিটি ম্যাচকেই আমরা সিরিয়াসভাবে নেই। ছাড় দেয়ার কোনো মানসিকতা নিয়ে নেপাল মাঠে নামে না। সবাইকে কঠিন প্রতিপক্ষ ভেবেই খেলে থাকে। তা ছাড়া বাংলাদেশ-নেপাল বন্ধুভাবাপন্ন। তাই এ দেশের মানুষও আমাদের সাপোর্ট করবে বলে বিশ্বাস। একটা সময় আমরা একাদশ গঠনে হিমশিম খেতাম। এখন কাকে রেখে কাকে নিবো সেজন্য হিমশিম খেতে হয়।’ অধিনায়ক বিরাজ মহারাজন বলেন, ‘আমরা ফাইনালের জন্য বিশ্বাসী, তবে অতিমাত্রায় নয়।’
মালদ্বীপের বিদেশী কোচ সেগার্ট পিটার হারভার্টস্কো এসেই ক্ষোভ ঝাড়লেন মালদ্বীপের মিডিয়া কর্মীদের উপর। ‘এমন একটা সেমিতে উৎসাহ না দিয়ে তারা ক্ষমতা নিয়ে নানারকম নেগেটিভ সমালোচনা করছেন। কে কোচ হবেন, কাকে দায়িত্ব দেয়া উচিত ইত্যাদি বিষয় এখন আলোচনার সময় নয়। এটি তো ফাইনাল কিংবা সেমির পরেও করা যাবে। আমি এখনি কেন হার মানবো। আমার দলকে ফাইনালে উঠিয়ে সবাইকে জবাব দিতে চাই। আমার মতো তারা কেন কনফিডেন্ট হচ্ছে না। খেলোয়াড়দের উৎসাহ না দিয়ে নিরুৎসাহিত যারা করছে তাদের দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন আছে। নেপালের বিপক্ষে কখনো জিতিনি, সেটি অতীত। সেমিতে জিতে সে ধারা ভাঙ্গতে প্রস্তুত মালদ্বীপ।’

 


আরো সংবাদ