১৭ নভেম্বর ২০১৮

ব্যর্থতা তদন্তে বাফুফে প্রেসিডেন্ট

-

পরপর চারটি সাফে ভরাডুবি বাংলাদেশের। আগের তিনটি কোনোমতে মানা গেলেও এবারেরটি তো তীরে এসে তরী ডুবানোর মতো। অন্তত সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্ন নিয়ে ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু করেছিল বাংলাদেশ ফুটবল দল। স্বপ্ন পূরণে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে ভুটানকে এবং পরের ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়ে সেমিতে এক পা দিয়েও রেখেছিল বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচে অঘটন না ঘটলে সাফের চিত্রনাট্য লেখা হতো ভিন্নভাবে। এক গোলকিপারের ভুলে নেপালের কাছে ২-০ গোলে হেরে স্বপ্নের সমাধি। ফলাফলÑ বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের অশ্রুসিক্ত নয়ন। তবে অশ্রু বিসর্জনকে এমনি পার পেতে দিতে চান না বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন। ব্যর্থতা তদন্ত করতে চান তিনি।
নেপালের কাছে এভাবে হেরে বিদায় এবং গোলরক্ষকের অমার্জনীয় ভুলের খেসারতে শুরু হয় সমালোচনা। বিশেষ করে কোচ জেমি ডে’র ক্যাম্পে না থাকা সত্ত্বেও কেন গোলরক্ষক সোহেলকে দলে নেয়া হলো, একাদশে রাখা হলো, কেন ক্লাব-ভিত্তিক একজন ব্যক্তিকে ম্যানেজারের পদে রাখা হলো, কেন আবাহনীকে প্রাধান্য দেয়া হলোÑ এমন নানা প্রশ্ন এবং সমালোচনার তীর ছুটে আসতে শুরু করে বাংলাদেশ ফুটবল দলকে কেন্দ্র করে। নেপালের কাছে হেরে বিদায় নেয়ার তিন দিন পর এ নিয়ে বাফুফে ভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেন বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন। সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নে জর্জরিত হতে থাকেন বাফুফে সভাপতি। শেষ পর্যন্ত ঘোষণা দিলেন, ‘সাফের ব্যর্থতার জন্য আমি নিজেই তদন্ত করছি। আশা করি, আগামী চার-পাঁচ দিনের মধ্যেই এর একটা ফলাফল আপনাদের সামনে উপস্থাপন করতে পারব।’
নানা প্রশ্নের জবাবে কাজী সালাউদ্দিন বলেন, ‘আমি আপনাদের সবগুলো বক্তব্য, প্রশ্ন নোট করে নিলাম। সাফে কেন ব্যর্থ হলো বাংলাদেশÑ এর তদন্ত আমি নিজে করছি। কোচ এলে তার সাথে বসব। কথা বলব। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট অন্য সবার সাথে কথা বলব। সবার বক্তব্য নেবো এবং আমার পর্যবেক্ষণÑ সব মিলিয়ে একটা চিত্র তুলে ধরতে পারব সবার সামনে।’
শুধু তাই নয়, নিরপেক্ষ এবং পেশাদার ম্যানেজার নিয়োগ দেয়া যায় কি না সে বিষয়েও চিন্তাভাবনা করা হবে বলে জানান বাফুফে সভাপতি। নেপালের কাছে হারের পরদিনই ইংলিশ কোচ জেমি ডে ছুটিতে দেশে চলে যান। সামনে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের খেলা হওয়ার কারণে তিনি ছুটিতে চলে যান এবং আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই দেশে ফিরবেন বলে জানান বাফুফে সভাপতি।


আরো সংবাদ