বেটা ভার্সন

শুভসূচনার অপেক্ষায় রাশিয়া ও সৌদি

রাশিয়ান ফুটবলারেরা অনুশীলন পর্বে বল নিয়ে স্ট্রেচিং করছেন :এএফপি -

রাশিয়া বিশ্বকাপ দুয়ারে কড়া নাড়ছে এবং আমরাও বিশ্বকাপের স্পর্শ পাচ্ছি। আজকের দিনটি পার হলেই শুরু হচ্ছে গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ বিশ্বকাপ ফুটবল। উত্তেজনা যেন বাঁধ মানবেই না আগামী ৩২টি দিন। প্রত্যেক ফুটবল প্রেমিককে আরো আকর্ষণের সাগরে ভাসিয়ে নিতে আসছে রাশিয়া বিশ্বকাপ ২০১৮। চরম উত্তেজনা ও শিহরণ নিয়ে বিশ্বের প্রতিটি ফুটবল-প্রেমিক অপেক্ষা করছেন। তাদের চোখের সামনে এই এক মাস শুধু গোল এবং আকর্ষণের জোয়ার অপেক্ষা করছে। উত্তেজনার পারদ দিন দিন চড়তে থাকবে। প্রথম দিন ১৪ তারিখে দু’টি নিচের দিকের দেশের খেলা দিয়েই এবারকার বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হবে। স্বাগতিক রাশিয়া ও সৌদি আরব বিশ্ব ফুটবলে তলানির দুটি দেশ। স্বাগতিক রাশিয়াকে বাছাই পর্বের কোনো ঝামেলা পোহাতে হয়নি। সরাসরি তারা অংশ নিচ্ছে বিশ্বকাপে। ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ৭০-এ থাকা স্বাগতিক রাশিয়াকে নিয়ে অনেক ফুটবল বিশেষজ্ঞই খুব একটা আকর্ষণ বোধ করতে চাইছেন না। তাদেরকে বিশ্বকাপের সম্ভাবনায় নিচের দিকেই রাখা হচ্ছে কিন্তু স্বাগতিক দেশরা যে সবসময় বিশ্বকাপে চমক উপহার দেয় এটি কারো অজানা নয়। এই চমকের অপেক্ষা করছে এবারকার স্বাগতিক দেশ রাশিয়াও। উদ্বোধনী ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষও খুব একটা শক্তিশালী নয় বিশ্ব ফুটবলের বিবেচনায়। সৌদি আরব সর্বশেষ ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ৬৭ স্থানে অবস্থান করছে। সব হিসাব-নিকাশ মেলালে এই গ্রুপ থেকে দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই দুটি দেশ পিছিয়ে আছে গ্রুপ এ’র আরো দুই প্রতিপক্ষ মিসর ও উরুগুয়ের তুলনায়। কিন্তু বিশ্বকাপ ফুটবলে শেষ কথা বলে কোনো কিছু নেই। তাই রাশিয়া ও সৌদি আরব নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয় লাভ করে শুভসূচনা করতে চায় বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮তে। অবশ্য রাশিয়া ও সৌদি আরবের সর্বশেষ ম্যাচ কয়েকটি তাদের পক্ষে কথা বলছে না। তাদের মাঠের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। রাশিয়া সর্বশেষ ছয়টি ম্যাচে মাঠে খুবই বাজে পারফরম্যান্স করেছে। চারটি পরাজয় এবং দুটি ড্রকে বিবেচনায় নিলে তাদেরকে নিয়ে কোনো উচ্চাশা পোষণ করার কথাও নয়। রাশিয়া নিজেদের সর্বশেষ জয়ের মুখটি দেখতে পায় অক্টোবর ২০১৭ সালে। দণি কোরিয়ার বিপক্ষে দেশের মাটিতে তারা ৪-২ গোলে জয়লাভ করেছিল। অবশ্য প্রীতি ম্যাচ কখনোই একটি দেশের পুরো ফুটবল শক্তি প্রকাশ করে না। বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে স্বাগতিক দেশ চমক দেখায় এই ধারণাই মূলত পূর্ব ইউরোপের দেশটির প্রধান ভরসা এবং এটিকে ঘিরেই তারা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চায়। ২০১৭ কনফেডারেশন কাপ এবং ইউরো ২০১৬তে রাশিয়া তেমন আহামরি কোনো কিছুই দেখাতে পারেনি। দুটি প্রতিযোগিতায়ই তারা গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে। তাদের কোচ স্টানিসলাভ চেরচিসভের এই বিশ্বকাপে সবচেয়ে কম জয়, শতাংশের বিচারে মাত্র ২৬.৩। গোলরক্ষক এবং দলের অধিনায়ক ইগর আকিনফেভকে নিয়েই তাদের আশা ভরসা এবং দলের হয়ে তিনি সৌভাগ্য বয়ে আনবেন এমনটিই আশা করছে রাশিয়ানরা। সিএসকে মস্কোর এই গোলরক্ষক এই মওসুমে নিজেদের ঘরোয়া লিগে ২৮ ম্যাচের মধ্যে ১৮টিতেই কোনো গোল খাননি। স্বাগতিক দেশ এবং ২০১৮তে জয়বিহীন বছর এবং কনফেডারেশন কাপে তাদের হতাশাজনক খেলা তাদেরকে নিয়ে খুব একটা উচ্চাশা পোষণ করতে দিচ্ছে না। অবশ্য একটি দিক দিয়ে তারা কিছুটা সুবিধা পাবে। কারণ তাদের প্রতিপক্ষ সৌদি আরবও খুব একটা ভালো ফর্মে নেই। চেরচেসভ ৪-২-৩-১ ফরমেশনেই দলকে খেলাবেন এবং সর্বশেষ কয়েকটি ম্যাচে যে খেলোয়াড়রা ভালো ফর্মে ছিলেন তাদেরকেই একাদশে দেখার সম্ভাবনা বেশি। সৌদি আরবও তাদের প্রতিপক্ষের তুলনায় মাঠের খেলায় খুব একটা এগিয়ে নেই। সবুজ বাজপাখিদের জন্য স্বাগতিক রাশিয়ার সাথে প্রথম ম্যাচটি হয়ে সুবিধাই হয়েছে। যাদের ফর্মও খুব একটা ভালো নয়। অবশ্য সাম্প্রতিক ফর্মের বিবেচনায় তারা স্বাগতিক রাশিয়ার তুলনায় কিছুটা এগিয়ে আছে। দুটি জয় এবং চারটি পরাজয় নিয়ে তারা এই বিশ্বকাপে এসেছে। তাদের জয় দুটি এসেছে গ্রিস এবং আলজেরিয়ার বিপক্ষে। জার্মানির বিপক্ষে তারা বেশ ভালো খেলেছে এবং একটুর জন্য বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা ২-১ গোলে জয়লাভ করেছে। সৌদি আরবের কোচ জুয়ান অ্যান্টনিও পিজ্জি তার দল নিয়ে একটু আদলবদল করতেই ভালোবাসেন। সর্বশেষ জার্মানির বিপক্ষে দলের সেরা স্ট্রাইকারকেই তিনি প্রথম একাদশে রাখেননি। আল শাহলেওয়াই নিজেই মনে হয় কিছুটা বিস্মিত হয়েছিলেন। অবশ্য বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে তার খেলা নিশ্চিত। পিজ্জি দলকে ৪-১-৪-১ ফরমেশনে খেলাবেন। উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক রাশিয়াকেই এগিয়ে রাখবে সবাই। কারণ সর্বশেষ দুই দলের মোকাবেলা হয়েছিল ১৯৯৩ সালে এবং সেই প্রীতিম্যাচে রাশিয়া ৪-২ গোলে জয়লাভ করেছিল। তাই বিশ্বকাপ ২০১৮-এর উদ্বোধনী ম্যাচে লুঝনিকি স্টেডিয়ামে স্বাগতিক দর্শকদের উচ্চাশা এবং সমর্থন নিয়ে রাশিয়াকেই সামনে এগিয়ে রাখা যায় এবং তাদের পক্ষেই ফলটি যাবে ২-১ এটিও অনুমান করা যায় অবশ্য সব কিছুই মাঠের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করছে।


আরো সংবাদ