২০ জানুয়ারি ২০২০

প্রস্থান

-

মুখোমুখি চেয়ারে বসে আছি দু’জন। আমার বদভ্যাস হলো যেকোনো চেয়ারকে ইজি চেয়ারের মতো দোলানো। মেঘা আমার হাত ধরে একটু স্থির হয়ে বসতে বলল। আমি একটু নড়েচড়ে বসলাম। মেঘা বেশ গম্ভীর হয়ে বলল, আগামী সপ্তাহে তো আমার বিয়ে হয়ে যাবে কিছু একটা কর। আমি তার কথা না শোনার ভান করলাম। হাতের পাশে একটা মুড়ির ব্যাগ খুঁজে পেলাম। বসে বসে চিবাচ্ছি। মেঘা বেশ রাগ হয়ে বলল, আমার বিয়ে হয়ে গেলে তো তুই মরে গেলেও কেউ তোর খোঁজ নেবে না। মেঘার কথাটা একদম হৃদয়ে বিদ্ধ হলো। আসলেই তো, এই শহরে ও ছাড়া আমার আর কে আছে। আমি মেঘার চোখের দিকে তাকালাম। চোখ ছলছল করছে। আমারও খুব কাঁদতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু পারছি না। নিজেকে সামলে বললাম, তোর বিয়ে হলে তো ভালোই হবে। মাঝে মাঝে তোর বাসায় দাওয়াত খেতে যাব। মেঘা আমাকে ধমক দিয়ে বলল,
তুই বুঝি কখনো সিরিয়াস হতে পারবি না।
না, আমি তো সিরিয়াসি। শোন, মেঘা তোকে লাল শাড়িতে খুব সুন্দর লাগবে। তোর মতো সুন্দরি বউয়ের পাশে যেকোনো বরকেই সুন্দর লাগবে।
মেঘা চুপ করে আছে। মনে হয় আমার এ কথার জন্য সে প্রস্তুত ছিল না।
একটা কথা বলি তোকে?
মেঘা মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ সূচক জবাব দিলো।
আচ্ছা, তোর বিয়ে হয়ে গেলে তুই কি আর আমার খবর নিবি?
আমার কথা শোনে মেঘা হাউমাউ করে কাঁদতে লাগল।
আমি নিশ্চুপ স্থির, বাকরুদ্ধ।
মেঘা বলল, তুই কি জানিস তুই আমাকে হারাতে যাচ্ছিস?
আমি মাথা নেড়ে হ্যাঁ সূচক জবাব দিলাম।
কী করতে পারতাম?
অনেক কিছুই করতে পারতি। আমাকে বিয়ে করাটা কি অসম্ভব ছিল?
সম্ভব ছিল কিভাবে? তোর সুন্দর জীবন অপেক্ষা করছে সে জীবন উপভোগ করার চেষ্টা করিস।
তোকে অত জ্ঞান দিতে হবে না।
বেশ রাগের সুরে কথাগুলো বলল মেঘা।
আমি জানি আমার প্রতি তার ক্ষোভ কতটুকু। মেঘা জানে না আমার অক্ষমতার কথা। মেঘা বেশ রাগ করে চলে গেল। হয়তো এটাই তার সাথে আমার শেষ দেখা। আগামী সপ্তাহে যখন মেঘার বিয়ে হবে তখন আমি কোথায় থাকব? এখানেই না হয় এই শহর ছেড়ে দূরে কোথাও। যেখানে মেঘা নামের কেউ থাকে না।

 


আরো সংবাদ




krunker gebze evden eve nakliyat