১৮ নভেম্বর ২০১৯

প্রি য় জ ন প ঙ্ ক্তি মা লা

-

সম্পর্ক

উচ্ছন্নে গেছে আজকাল সম্পর্কের সারগাম
স্বরলিপিহীন গায়কের গানের মতো বেসুরো
মানুষের গতি বেড়েছে যাতায়াতে-যোগাযোগে
সেকেন্ডে ছুঁয়ে ফেলে মাইলের পর মাইল
তবু কোথায় যেন মানুষ পড়ে থাকে নিজের কাছে
একান্নবর্তীর গল্প আমরা জানি
গহিন এক মায়ার সুতোয় বাঁধা মানুষেরা
আজ আত্মকেন্দ্রিক হয়ে গেছে
গতি বেড়েছে চলনে-বলনে
সম্পর্কের খাতা ক্রমান্বয়ে স্থবির!
খুব চেনা মুখগুলো চারপাশে ঘোরে
তবু মনে হয় আজন্মের অচেনা
মোহাম্মদপুর, ঢাকা

মিলন সরকার
মন পোড়া কাব্য

এখন আর কারো জন্য অপেক্ষা করি না
রাস্তার মোড়ে থাকি না আর দাঁড়িয়ে
কিছুই ছিল না আমার
তবু সবকিছু ফেললাম হারিয়ে।
এখন কান্নাই হলো সম্বল আমার
তবু আমি কাঁদি না
আমার পোড়া মনে বসত করতে
কাউকে আর সাধি না।
তবু আমার মনের জানালায়
কেউ যদি দেয় উঁকি
থাকবো না বেশি দিন
যদি ভুল করেও ঢুকি।
কচুয়া, চাঁদপুর

আসাদুজ্জামান আসাদ
স্বদেশ প্রেমে

সবুজ সোনা দেশের মাটি, নদীর মিলনমেলা
স্বদেশ প্রেমে দিবানিশি যায় কেটে যায় বেলা
সহজ সরল সোনার মানুষ দিবা-রাত্রি খাটে
রোদ বৃষ্টি হাপর ঠেলে ফসল ফলায় মাঠে।
ধান-শালিক আর তেপান্তরে ধানের শীষের দোলা
সোহাগ ভরা মায়ের আচল যায় কি কভু ভোলা
গায়ের বধূ প্রেমের টানে ছুটছে আড়াআড়ি
নীলাকাশে উড়ছি আমি দিচ্ছি সুদূর পাড়ি।
মাতৃভাষা, স্বাধীন ভূমি, স্বাধীনতার ডানা
তেপান্তরে বেড়াই ঘুরে নেই কোনো তার মানা
মায়ের আদর সোহাগ ভরা রূপের রঙে সাজা
স্বদেশ প্রেমে জীবন মরণ রক্ত তরু তাজা।
পঞ্চগড়


শরীফ সাথী
খোকার স্বপ্ন দেখা

মনের মতো সঙ্গী এবং বন্ধু বলে যাকে
মমতারি মায়ার সুরে আপন করে তাকে
একটি পাখি উড়ে এসে গাছে বসে ডাকে
বৃক্ষ ডালে ঘর বানাবে গল্প ছবি আঁকে।
যাই ছুটে যায় এদিক ওদিক ভরাট করে গালে,
দু’জন মিলে খড় গুছায় আর বাসা বানাই ডালে।
সন্ধ্যা নামার আগেই যেন বিকেলের ক্ষণ ধার্য,
তৈরি বাসায় উঠছে ফুটে মুখের কারুকার্য।
স্বপ্ন সুখে দিন কেটে যায় খুশিতে মন ভরা,
ডিম পেড়েছে বাচ্চা হবে অপূর্ব এই ধরা।
ক’দিন পরেই কিচির মিচির শব্দ আসে ভেসে,
ছানা দুটোর খানা খাওয়ায় মধুর ভালোবেসে।
আহরণে ব্যস্ত ওরা এখান সেখান ঘুরে,
আনতে খাবার মা পাখিটি একটু গেল দূরে।
সন্ধ্যা হলো খাবার নিয়ে আর আসে না উড়ে,
শোকে কাতর পাখির ছানার কষ্ট হৃদয়জুড়ে।
মাঠের মাঝে ধরা পড়ে এক শিকারির ফাঁদে,
বন্দী খাঁচায় ঠোঁট ঠুকরে অঝোর ধারায় কাঁদে।
খোকার দেখা ঘুমের দেশের স্বপ্ন গেল ছুটে,
মা মা বলে ডেকে মায়ের ঘুম থেকে সে উঠে।
খোকাকে মা কোলে নিয়ে আদর করতে থাকে,
ঘুমের মাঝে দেখা এমন স্বপ্ন শোনায় মাকে।
কোমরপুর, চুয়াডাঙ্গা


কৌশিক সূত্রধর
সংশপ্তক

আমি অতল সমুদ্রে নিমজ্জিত এক প্রাণ,
যেখানে বেঁচে থাকার নেই কোনো সরঞ্জামাদি;
নেই কোনো দ্বীপ কিংবা ভাসমান ডেরা,
যা আগলে পরাভূত করতে পারি কালঘুম।
আমি দেখছি নিজেকে নিজে বিসর্জিত হতে,
জানি পাবো না মুক্তি! এই মারণ বেলা থেকে;
তবুও বাঁচার অভিলাষ কুমিরের পিঠে উঠে।
মির্জানগর, মানিকগঞ্জ

এইচ এস সরোয়ারদী
তুমি হাসলে

তুমি হাসলে এই পৃথিবীর
ফুলগুলো সব হাসে,
তুমি হাসলে আমার গাঁয়ে
চাঁদটি নেমে আসে।
তুমি হাসলে নদীও হাসে
হাসে সোনার ধান,
তুমি হাসলে কেন জানি
হাসে আমার প্রাণ।
দৈলেরবাগ, সোনারগাঁও

হাসান নাজমুল
বিরহী সনদ

অবলীলায় দু’হাতে দিয়েছো তুলে
বিরহী সনদ;
আমার অশ্রুর রঙে সাজিয়ে রেখেছিÑ
তোমার দেয়া শ্রেষ্ঠ উপহার;
প্রেমের বদলে পেয়েছি অজস্র মিথ্যে প্রতিশ্রুতি,
মনের শোকেসে সাজানো আছে এখনো,
তোমার হাসির ফাঁদে
নিজেকে বিলিয়ে এই আমিÑ
অন্তঃসারশূন্য আজ;
এমনকি গৃহহীন; পথহীন পথের পথিক,
মনের মুকুরে তবু
একবারও দেখনি আমার ছবি।
প্রিয়জন- ১৬১৬

মুহাম্মদ মিজানুর রহমান
নির্ঘুম চোখে স্বপ্ন

কতশত রাত জেগে দেখেছি আমি ভোর
নির্ঘুম চোখে স্বপ্ন দেখে হয়ে গেছি তোর।
চোখ এঁকে ঠোঁট দিয়ে অতঃপর মুখ
নির্ভেজাল ভালোবাসায় রেখেছি ঢেকে বুক।
আনন্দে যাই বুলিয়ে শান্তির পরশ
ভালোলাগায় বুদ হয়েছি সংবাদ সরস।
চাঁদ চোয়ানো জোনাক আলোয় গরম নিঃশ্বাস
তুমি শুধু আমার হবে, এ আমার বিশ্বাস।
প্রিয়জন-১৭২০


আরো সংবাদ