২৬ আগস্ট ২০১৯

বাবুই বাটান

-

তোমরা আজ এমন একটি পাখি সম্পর্কে জানবে, যার একাধিক নাম রয়েছে। এর ইংরেজি নামই কয়েকটা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ইংরেজি নাম হলো লার্জ ইন্ডিয়ান প্রেটিন কোল, ওরিয়েন্টাল প্রেটিন কোল ইত্যাদি। এদের বেশি দেখা যায় রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান, কাশ্মিরসহ বিশ্বের আরো কিছু দেশে। এরা আবাসিক পাখি বলেই পরিচিত। তবে শীত পছন্দ করে বলে এরা অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে যায়। শীতকালে বাংলাদেশেও এদের কমবেশি দেখা যায়।
এই ওরিয়েন্টাল প্রেটিন কোলরা দেখতে নাকি কিছুটা বাংলাদেশে দেখতে পাওয়া বাবুই পাখির মতো লাগে। বাংলাদেশে এরা আসে বলে এ দেশের মানুষ এর নাম দিয়েছে বাবুই বাটান। অনেকে বলে বড় বাবুই বাটান। চেহারা, চলাফেরা ইত্যাদিতে নাকি এদের রয়েছে রাজকীয় ভাব। অনেক সময় একাকী চলে। আবার বড় ঝাঁকও লক্ষ করা যায়। এমনকি পাঁচ-ছয় হাজারের বেশির ঝাঁকও অনেকে দেখে রীতিমতো অবাক হন। অক্টোবর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে এদের একটু বেশি দেখা যায় আমাদের দেশে। অনেকে এদের দেখে থাকে রাজশাহীর তানোরে। শুনলে অবাক হবে, এরা কোনো রকম বিশ্রাম না নিয়ে, না খেয়ে একটানা কয়েক দিন আকাশে উড়তে পারে। উড়ন্ত পোকা, গোবরে পোকা, মথ, উইপোকা (ডানাসহ) ইত্যাদি খায় উড়ে উড়ে। এমনকি মাটিতে দাঁড়িয়ে কিংবা দৌড়েও এসব শিকার করে ওরিয়েন্টাল প্রেটিন কোল বা বাবুই বাটানেরা। এরা এখন বাংলাদেশের বিরল পরিযায়ী পাখি। কারণ, এরা সব সময় বেশি শীতপ্রধান অঞ্চল খুঁজে বেড়ায়। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় সুন্দর এ পাখির সংখ্যা কমছে। অর্থাৎ এরা এখন প্রায় বিপন্ন।
এ পাখি দৈর্ঘ্যে ২২ থেকে ২৬ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে। আর ওজন ৬০ থেকে ৯৫ গ্রাম। মজার ব্যাপার হচ্ছে, প্রজননকালে প্রাপ্তবয়স্ক পাখির দেহের ওপরটা থাকে কিছুটা লালচে বাদামি। আর অন্যান্যকালে প্রাপ্তবয়স্ক এদের দেহের ওপরটা থাকে গাঢ় বাদামি। আর নিচটা হয় সাদাটে (ফ্যাকাশে)। গলায় ফিতার মতো গাঢ় দাগ লক্ষণীয়। হালকা পীতাভ হলুদ এদের গলা। মুখের দিকে লালচে। মুখের দিক থেকে ঘিয়ে রঙের গলাকে ভিন্ন করেছে সুন্দর একটি কালো রেখা। ওড়ার সময় ডানার নিচের লালচে অংশ দেখা যায়। লেজের শেষাংশ কাটা কাটা বা অসমান। এদের দেহের নিচের অংশ কালচে বাদামি। ডানা সুচালো হলেও তা কালচে বাদামি। লেজ কালো হলেও গোড়া সাদা। কালচে বাদামি চোখ। পা, পায়ের পাতা কালচে। কালো ও হলুদ আঁশের মিশেল রয়েছে অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখির দেহের ওপরের পালকে। গাঢ় বাদামি আঁশের আভা আছে ঘাড় ও গলায়। জানলে অবাক হবে, দেখতে কোনো পার্থক্য নেই এদের স্ত্রী-পুরুষে। এদের বেশি চোখে পড়ে পানির কাছাকাছি অঞ্চলে। বেশি দেখা যায় ভোর ও পড়ন্ত বিকেলে।
এদের প্রজননকাল এপ্রিল থেকে জুন। এ সময় বাসা বানায় খোলা মাঠে ও নদীর চরের বালুতে। অগভীর বাসা বানায় বালু ও পাথুরে মাটি আঁচড়ে। ডিম দেয় দু-তিনটি। ডিমের রঙ বাদামি ও ধূসর। ডিম থেকে ছানা হতে সময় নেয় ২০ থেকে ২০ দিন। সাত থেকে আট বছর এদের আয়ুষ্কাল। ওরিয়েন্টাল প্রেটিন কোলের বৈজ্ঞানিক নাম প্লারিওলা মালদিভারাম।

 


আরো সংবাদ

সকল

যেভাবে গভীর রাতে জামালপুর ত্যাগ করলেন সেই ডিসি (১৮৩৩০)নারী কেলেঙ্কারীর দায়ে সেই জেলা প্রশাসকের ‘ইতিহাস সৃষ্টির মতো’ শাস্তি হচ্ছে (১৫৬৭৭)ইদলিবে মুখোমুখি অবস্থানে তুর্কি ও আসাদ সেনারা : পুতিনকে এরদোগানের জরুরি ফোন (১৫৪৭৮)প্লট চাওয়া নিয়ে যা বললেন রুমিন ফারহানা (১৪৮৯১)জামালপুরের ডিসির কেলেঙ্কারি তদন্তে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ (৯৫৯৩)‘দরকার হলে এদেশে আজীবন থাকবো’ (৮৮৩২)কাশ্মির নিয়ে ক্ষুব্ধ সরকারি কর্মকর্তার পদত্যাগ (৮৭৪৬)ডেঙ্গু রোগীর খাবার নিয়ে রমরমা বাণিজ্য (৮০৬২)কনে ‘কুমারি’ কি না শব্দ উঠিয়ে দেয়ার নির্দেশ (৭৬৬১)কাশ্মিরে উঠেছে ব্যারিকেড, রয়ে গেছে কাঁটাতারের বেড়া (৭২৮৪)



mp3 indir bedava internet