২১ অক্টোবর ২০১৮

শ্রাবণের অশ্রু

-

বৃষ্টি। রিমঝিম বৃষ্টি। ছন্দে ছন্দে টুপ টুপ করে অবিরাম ঝরে পড়া বৃষ্টি। শ্রাবণের অশ্রুধারার বৃষ্টি। আমি ইচ্ছে করে বৃষ্টিতে ভিজে যাই। এ বৃষ্টির ফোঁটা সরাসরি আমার মনে আঘাত করে। যখন অনবরত বৃষ্টি ঝরে তখন আমি ঘরে থাকতে পারি না। বৃষ্টি এলে আমার মন উদাস হয়ে হারিয়ে যায়। আমার মন বৃষ্টির সাথে ভেসে যেতে চায়। আমি ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ি।
একা একা ভিজতে থাকি। শ্রাবণের বৃষ্টিতে ভেজার সময় আমার অজান্তে দু’চোখ বেয়ে অশ্রু নেমে আসে। সেই অশ্রু বৃষ্টির পানির সাথে মিশে গিয়ে একাকার হয়ে যায়। বৃষ্টির জন্য বোঝা যায় না আমার চোখ থেকে যে অশ্রু ঝরে।
অতীতে এমনই বৃষ্টিতে আমি আর নাহিদা খুব শখ করে ভিজতাম। সে দু’হাত আকাশে তুলে আনন্দ করে ভিজত। আমি তার এই আনন্দ দেখতাম। দেখতে দেখতে মুগ্ধ হতাম। বৃষ্টি এলে যেন আমাদের সুখেরা উপচে পড়ত। আমি আর নাহিদা প্রায়ই শ্রাবণের বৃষ্টির অপেক্ষায় থাকতাম। কিন্তু বিধাতার ইশারায় একদিন আচমকা প্রচণ্ড বুকে ব্যথা নিয়ে নাহিদা আমাকে চিরবিদায় জানাল। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে নাহিদা যখন কাতরাচ্ছিল তখনো বাইরে অঝরে বৃষ্টি ঝরছিল। শেষ বিদায় মুহূর্তে নাহিদা আমার হাত চেপে ধরেছিল। আমি পাষাণের মতো জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। আমার মন ছিল বৃষ্টির দিকে। আমি তার দিকে একবারের জন্য হলেও তাকাইনি। আমি তার চোখের দিকে তাকাতে পারিনি! কারণ আমি চাচ্ছিলাম সে যেন আমার চোখের শ্রাবণ দেখতে না পায়!
সেই থেকে আমি একা হয়ে গেলাম। এখনো শ্রাবণ আসে শ্রাবণ যায়। আজ নাহিদা আমার পাশে নেই। তবুও আজো আমি একা একা শ্রাবণের বৃষ্টিতে ভিজতে থাকি...। দু’হাত আকাশে তুলে ভিজতে থাকি। আর অপেক্ষায় থাকি নাহিদার। আমার মনে হয় এই বুঝি নাহিদা এসেও দু’হাত তুলে আনন্দ করবে আর আমার সাথে ভিজবে। কিন্তু আমার অপেক্ষা আর শেষ হয় না। দুচোখের শ্রাবণের অশ্রুও আর থামে না।

 


আরো সংবাদ