২১ অক্টোবর ২০১৮

জ ল জ উ দ্ভি দ

শ্রাবণী মুকুল
-

স্পিরুলিনা

স্পিরুলিনা হলো অতি ক্ষুদ্র নীলাভ সবুজ শৈবাল। এটি সাধারণত পানিতে জন্মে। সামুদ্রিক শৈবাল নামেই বেশি পরিচিতি। বর্তমানে কৃত্রিম জলাধারে বাণিজ্যিক উৎপাদন হচ্ছে। এতে রয়েছে প্রচুর প্রোটিন, ভিটামিন, লৌহ ও একাধিক খনিজ পদার্থ। সাধারণ খাদ্য হিসেবে তো বটেই, নানা রোগ নিরাময়ে মূল্যবান ভেষজ হিসেবে দেশে-বিদেশে স্পিরুলিনার প্রচুর চাহিদা রয়েছে। স্পিরুলিনা একটি শক্তিবর্ধক সম্পূরক খাদ্য। প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ প্রকৃতির আশ্চর্য খাবার স্পিরুলিনা। স্পিরুলিনার গুণাগুণ অনেক। বিশেষ করে প্রচুর ভিটামিন, লৌহ ও নীলাভ সবুজ রঙ থাকার কারণে স্পিরুলিনায় রয়েছে নানা ধরনের রোগ প্রতিরোধক উপাদান। স্বাদ ও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াহীন স্পিরুলিনা নিয়মিত সেবন করলে দৈনন্দিন পুষ্টি চাহিদা পূরণ করে পুষ্টিহীনতা, রক্তশূন্যতা, রাতকানা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, আলসার, বাত, হেপাটাইটিস ও ক্লান্তি দূর হবে। বিসিএসআইআরের বিজ্ঞানীরা ৬০ জন আর্সেনিকোসিস রোগীর ওপর স্পিরুলিনা নিয়ে গবেষণা চালান। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ১০ গ্রাম করে স্পিরুলিনা খাওয়ালে প্রায় চার মাস পর রোগী সম্পূর্ণরূপে সুস্থ হয়ে যায়।

 

হেলেঞ্চা

হেলেঞ্চা এক প্রকার সপু®পক জলজ উদ্ভিদ। এর অনেক নাম। স্থানবিশেষে একে কেউ কেউ হিঞ্চা, হেলচি, তিতির ডগা, তিতির শাক বা তিতা ডাঁটা নামে বলে থাকে। সংস্কৃত ভাষায় একে হিমালোচিকা বলে। এর ইংরেজি নাম ঊহযুফৎধ, ইঁভভধষড় ংঢ়রহধপয, ঐবষধহপযধ ইত্যাদি। বৈজ্ঞানিক নাম ঊহযুফৎধ ভষঁপঃঁধহং. এটি অংঃবৎধপবধব পরিবারের অন্তর্গত। এটি কাদাপানিতে জন্মে। দেখতে অনেকটা মালঞ্চ শাকের মতো হলেও এর পাতার কিনারা সূক্ষ্ম খাঁজকাটা এবং স্বাদ খানিকটা তিতা। হেলেঞ্চার আদি নিবাস বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার ও শ্রীলঙ্কা হলেও ক্রান্তীয় অঞ্চলে একই ধরনের জলবায়ু আছে এমন অনেক দেশেই এটি দেখতে পাওয়া যায়। হেলেঞ্চা মূলত: জলাশয়, ডোবা, নর্দমা, পুকুরের ধারে এবং অগভীর পানিতে বা ভেজা মাটিতে জন্মে। এদের কাণ্ডে বহু শাখা থাকে। কাণ্ডের প্রতিটি গাঁট থেকে শেকড় বের হয়। হেলেঞ্চা গাছ ৩০ থেকে ৬০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। পত্রফলক বল্লমাকৃতির। এর সূক্ষ্ম খাঁজকাটা পাতা ২.৫ থেকে ৭.৫ সেন্টিমিটার লম্বা হয়। শীতকালে গাছের শীর্ষে ছোট সাদা ফুল ফোটে।
বৈজ্ঞানিক গবেষণাতেও হেলেঞ্চার যথেষ্ট গুণাগুণ পাওয়া গেছে। এতে শতকরা ২.৯ ভাগ প্রোটিন,০.২ ভাগ ফ্যাট, ৫.৫ ভাগ শর্করা এবং ২.২ ভাগ লবণ আছে। এ ছাড়া আছে প্রচুর ভিটামিন এ। অনেক ঔষধি গুণ থাকায় ভেষজ চিকিৎসায়ও হেলেঞ্চার বেশ ব্যবহার আছে। যেমনÑ এন্টি অক্সিডেন্ট, জীবাণুনাশক, ডায়েরিয়া হ্রাস, কোষ্ঠকাঠিন্য, স্নায়ু উত্তেজনা প্রশমন ইত্যাদি। আমাদের দেশে হেলেঞ্চার শাক ভাজি এবং ঝোল রান্না করে খাওয়া হয়। আবার কোথাও কোথাও ডাল মিশিয়ে বড়া বানিয়েও খাওয়া হয়।

 


আরো সংবাদ